13/05/2026
৫ই আগস্ট গণভবন কান্ডের সমীকরণটা সহজ ছিলো না।
বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর লেখা এবং ভিডিও বক্তব্য থেকে জানা কিছু কথা বলি।
৪-৫ আগস্টে যখন সারা দেশের মাদ্রাসাগুলো এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকে জুলাই জ*ঙ্গিদেরকে ঢাকায় জড়ো করা হচ্ছিলো, তাদের পেছনে থাকা গুপ্ত নেতাদের মূল লক্ষ্য ছিলো দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। শেখ হাসিনা নিজেও সেই সম্ভাবনার কথা জানতেন। তিনি শুধু এটা জানতে পারেননি যে, সেনাবাহিনীর প্রধান অংশটি নীরব ক্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তারা জঙ্গিদেরকে ঢাকা দখল এবং গণভবন আক্রমণে কোন বাধা দেবে না।
কিন্তু সারা দেশের সাধারণ অরাজনৈতিক জনগণও যখন জুলাই প্রতারকদের গুজব আর মিথ্যাচারে লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে শেখ হাসিনার পতন দাবি করছিলো, যখন গণভবন আক্রমণের প্রস্তুতি চলছিলো, তিনি তখন ভেতরে ভেতরে অভিমানে নীল, ভীষণভাবে মর্মাহত।
যে দেশটার জন্য নিজের সারাটা জীবন বিলিয়ে দিলেন, সেই দেশের অকৃতজ্ঞ মানুষেরা তাঁকে এই প্রতিদান দিচ্ছে?
—এমনটাই হয়তো তিনি ভাবছিলেন।
প্রচন্ড বেদনাহত শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট সকাল থেকে জেদ করেছিলেন, তিনি কোথাও যাবেন না।
"ওরা আমাকে মেরে ফেলতে চায়? ওরা আসুক। আমি কোথাও যাবো না।"
তিনি যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা! পাহাড়ের মতো ব্যক্তিত্ব আর বুক ভরা সাহস নিয়ে তিনি চলেন।
দেশ-বিদেশ থেকে ফোন আসছিলো৷ তাঁর পরিবারের লোকেরা বারবার অনুরোধ করছিলেন গণভবন ছেড়ে যেতে।
সেটা না করলে শেখ হাসিনা একা নন, তাঁর কাছের মানুষেরা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত লোকজনও আক্রমণের শিকার হবেন— এই আশঙ্কার কথা যখন তাঁকে জানানো হলো, অবশেষে তিনি বললেন, "তাহলে আমাকে টুঙ্গিপাড়ায় রেখে এসো।"
সেনাবাহিনী প্রধানের অজ্ঞাতসারে, এই বাহিনীরই কিছু দায়িত্বশীল অফিসারের উদ্যোগে সেদিন বিমানে চড়িয়ে তাঁকে ভারতে নিরাপদে রেখে আসা হয়, যে পরিকল্পনার কথা শেখ হাসিনা জানতেন না (যেমনটা বোধ করি জানতেন না খোদ সেনাবাহিনী প্রধানও)।
শেখ হাসিনা যখন শেষ মুহূর্তে হেলিকপ্টারে পা রাখছিলেন, তখনও তিনি জানতেন যে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন।
মোদ্দা কথা, ৫ই আগস্ট দেশ ছাড়ার কোন ইচ্ছা এই বাংলাদেশ অন্তপ্রাণ মানুষটির ছিলো না।
৫ই আগস্টের ঘটনাবলীর এই অংশটি জুলাই জঙ্গিরা আর তাদের অনুসারী লো-লাইফ লালবদররা চেপে যায়। তারা এখনো নির্লজ্জের মত ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে চলে, "শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।"
৫ই অগাস্টের এই ঘটনাপ্রবাহ আবার তুলে আনলাম কেন?
গত দুই দিনে কারিনা কায়সার ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে লালবদরদের কান্নাকাটি দেখে।
একবার কল্পনা করুন তো।
৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার জেদের জয় হয়েছে। তিনি গণভবন ছেড়ে কোথাও যাননি।
অন্যদিকে সেনাবাহিনীর বিশ্বাসঘাতক অংশটির মদদে যেমনটা আমরা দেখেছি, তা-ই হয়েছে। অর্থাৎ, উন্মত্ত জুলাই জঙ্গিরা গণভবনে ঢুকে গেছে।
তারা পূর্ব পরিকল্পনামতো দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হত্যা করেছে।
(লিবিয়ার গাদ্দাফি, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, ইত্যাদি জাতীয়তাবাদী নেতাদের পরিণতির কথা মনে পড়ে কি?)
তারপর জুলাই জঙ্গিরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করে জিহাদে বিজয়ী পক্ষের আনুষ্ঠানিকতার নিয়ম অনুযায়ী গনিমতের মাল হিসেবে বঙ্গভবনের সমস্ত জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
এবার সেখানে উপস্থিত কারিনা কায়সার আর তার বাবা কায়সার হামিদকে ভাবুন। তারা উন্মত্ত জুলাই জঙ্গিদের সাথে ঠিক একই সময়ে গণভবনে গিয়েছিলো কেন? তামাশা দেখতে?
বাস্তবে যেটা হয়েছে, তারা যখন ল্যাপটপ, প্রিন্টার, হ্যান্ডব্যাগ হাতিয়ে নিচ্ছিলো, ঠিক সেই মুহূর্তেই সেখানেই– মাত্র কয়েক মিটার দূরে— গণভবনের বারান্দায় নারীর অন্তর্বাস উঁচিয়ে উল্লাস করছিলো জুলাই জঙ্গিরা।
সেদিন যদি শেখ হাসিনাকে জোর করে গণভবন থেকে সরানো না হতো, তাহলে গণভবনের বারান্দায় নারীর অন্তর্বাস নয়, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করে সেই রক্তাক্ত অস্ত্র উঁচিয়ে উল্লাস করতো জুলাই জঙ্গিরা। আর তার প্রত্যক্ষদর্শী এবং accomplice হতো কায়সার পরিবার।
আর সেখানে উপস্থিত কারিনা কায়সার হয়তো পরে তার সোশ্যাল হ্যান্ডেলে ভিডিও কনটেন্ট বানিয়ে বলতো— "আমরা তো আসলে শেখ হাসিনাকে খুন করায় জড়িত ছিলাম না। আমি আর আমার বাবা শুধু শেখ হাসিনাকে একটু চড়-ঘুষি-লাথি ইত্যাদি মেরে চলে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জুলাই যোদ্ধা বীর ভাইয়েরা আমাদেরকে তার গায়ে হাত দেওয়ার সুযোগ দিলো না। ওরা নিজেরাই শেখ হাসিনাকে হত্যা করলো। আমরা তারপর কিছু গনিমতের মাল লুট করে বেরিয়ে এলাম।"
মনে রাখবেন, যারা সেই মুহূর্তে জঙ্গিদের সাথে গণভবনে উপস্থিত ছিলো, তারা প্রত্যেকে একই মাত্রার অপরাধী। তাদের লক্ষ্য ছিলো দেশের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করা। সেটা করতে না পেরে, শুধু লুটপাট করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিলো তাদেরকে।
সেদিন শুধুমাত্র সেনাবাহিনী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে গণভবন থেকে সরিয়ে দিয়েছিলো বলে, সেদিন প্রধানমন্ত্রী খুন হওয়া থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন বলে ৫ই আগস্ট গণভবনে লুটপাটকারীদের অপরাধ লঘু হয়ে যায় না। কায়সার হামিদের চুরি কোন সাধারণ ল্যাপটপ, প্রিন্টার আর হ্যান্ডব্যাগ চুরি নয়। সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলো শুধুমাত্র দেশদ্রোহী, খুনি মানসিকতার লোকজন।
It was no joke. It was a failed attempt to murder.
আর সম্ভাব্য ভিকটিম ছিলেন স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী।
কায়সার হামিদ আর কারিনা কায়সারদের অপকর্মের ইনটেনশন পরিস্কার হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা লালবদরদের প্রতি আবারও ঘৃণা — অন্যথায় যারা দেশে শিশুমৃত্যুর মহামারী থেকে শুরু করে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন, মার্কিন গোলামি চুক্তি, ইত্যাদি আর কোন বিষয়ে মুখ খোলে না।