Sahih Muslim TV

Sahih Muslim TV Sahih Muslim TVকোরআন ও সহীহ সুন্নাহে গড়ুর আপন?

07/03/2026

কেন মুসলিম শাসকের আনুগত্য করতে হবে?

إن الله يرضى لكم ثلاثاً: أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئاً، وأن تعتصموا بحبل الله جميعاً ولا تفرقوا، وأن تناصحوا من ولاه الله أمركم

আল্লাহ তোমাদের উপর তিনটি ব্যাপারে খুশী হন: (১) তোমরা কেবলমাত্র আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁর সংগে কাউকে শরীক করো না। (২) তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুত ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং আর বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ো না (৩) আল্লাহ যাদেরকে তোমাদের উপর শাসন ক্ষমতা দান করেন, তাদেরকে সু-পরামর্শ দিবে।[1] এ তিনটি বিষয়ের সম্পূর্ণ অথবা আংশিক লঙ্ঘন করার কারণে মানুষের দীন ও দুনিয়াবী বিষয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়.

(সহিহ মুসলিম হা/১৭১৫)

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ) [النساء: 59]

হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের (সূরা আন নিসা ৪:৫৯)।

اسمعوا وأطيعوا، إلا أن تروا كفراً بواحاً عندكم عليه من الله برهان

তোমরা শাসকের কথা শ্রবণ করবে ও তার অনুগত থাকবে কিন্তু যদি স্পষ্ট কুফরী দেখ, তোমাদের কাছে আল্লাহর তরফ থেকে যে বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান, তাহলে আলাদা কথা।[4]
শাসক কুফরী ব্যতীত অন্যান্য অবাধ্যতায় লিপ্ত হলেও তার কথা শ্রবণ করতে হবে ও তার অনুগত থাকতে হবে, যদি তার নের্তৃত্ব ও তার প্রতি অনুগত থাকা মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর হয়। তবে ফাসিকী শাসকের উপরই বর্তাবে🖤

সহিহ বুখারী হা/৭০৫৬ , সহিহ মুসলিম হা/১৭০৯।

أطع وإن أخذ مالك وضرب ظهرك

যদিও তোমার ধনসম্পদ হরণ করে এবং তুমি প্রহৃত হও তবুও তুমি তার অনুগত থাকো।[1] কেননা ফাসিকীর দিক বিবেচনায় তার আনুগত্যের মাধ্যমে মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষাই প্রাধান্য পাবে। শাসকের আনুগত্য করা তার অবাধ্য কাজের চেয়ে কল্যাণকর। শাসকের বিরোধিতা করা তার আনুগত্যের চেয়ে বেশি মারাত্নক। কেননা তার বিরোধিতার কারণে রক্তপাত ঘটা, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়াসহ ঐক্য বিনষ্ট হতে পারে।
সহিহ মুসলিম হা/১৮৪৭🖤

বর্তমান শাসকদের নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কথোপকথন...!!!

১) শাসক জালেম হলে আমরা কিভাবে তার থেকে রেহাই পাব??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে তার শাসকের কাছে থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখে সে যেন ধৈর্য ধরে।" -(বুখারী/৩৮৭০)

২) কিন্তু সে তো শরীয়ত মোতাবেক শাসন করে না!!
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার পরে এমন কিছু শাসক হবে যারা না আমার হেদায়াত মানবে আর না আমার সুন্নাত- আর তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক থাকবে যারা মানব দেহে শয়তানের অন্তর লালন করবে. আমি বললাম:হে আল্লাহর রাসূল, এরকম সময়ে আমি কি করব?? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি শাসকের কথা শুনবে ও মানবে, যদিও সে তোমাকে মেরে তোমার সম্পদ দখল করে নেয়..তথাপিও তুমি তার আনুগত্য করবে.. -(মুসলিম/১৮৪৭)

৩) শাসক তো আমার সবকিছু নিয়ে নিল!!আমাকে সে কষ্ট দিচ্ছে!!
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি শাসকের কথা শুনবে ও মানবে, যদিও সে তোমাকে মেরে তোমার সম্পদ দখল করে নেয়.তথাপিও তুমি তার আনুগত্য করবে.-(মুসলিম/১৮৪৭)

৪) কিন্তু সে তো আমাদের সবকিছু নিয়ে জুলুম করছে, আমাদের বঞ্চিত করছে ?
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তাদের হক তোমরা ঠিক ঠিক দাও আর তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাও.. -(বুখারী/৩৬০৩)

৫) আচ্ছা সে যদি আমাকে আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কোনো কাজ করার কথা বলে??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আল্লাহর আনুগত্য মূলক বিষয়েই কেবল অনুসরণ.(বুখারী/৭২৫৭)

৬) আমি যদি তাকে উপদেশ দিতে চাই ??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "যে শাসককে উপদেশ দিতে চায়, সে যেন প্রকাশ্যে না বলে বরং তার হাত ধরে গোপনে বলে। গ্রহণ করলে তো হলোই, না হলে সে তার দায়িত্ব পালন করেছে.. -(কিতাবুস সুন্নাহ/১০৯৭; ছহীহ)

৭) গোপনে উপদেশ দেয়ার সময় সে যদি আমাকে হত্য| করে??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "শ্রেষ্ঠ শহীদ হলো: হামযা বিন আব্দুল মুত্তালিব এবং ঐ ব্যক্তি যে শাসককে ভালো-মন্দের উপদেশ দিল আর শাসক তাকে হত্য| করে দিল. -(হাকেম, ৩/২১৫; সিলসিলাহ ছহীহাহ/৩৭৪)

৮) আর আমাকে যদি হত্য| না করে??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "সর্বোত্তম জিহাদ হলো, জালেম শাসকের সামনে হক কথা বলা. -(আবূ দাঊদ/৪৩৪৪; ছহীহ)

৯) আমি প্রকাশ্যে বললে সমস্যা কি, সে তো আমাকে জুলুম করেছে??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে জামাত থেকে বিঘত পরিমাণ বের হয়ে যাবে, সে যেন ইসলাম থেকেই বেরিয়ে গেল (খারেজী হয়ে গেলো) -(তিরমিযী/২৮৬৩; ছহীহ)

১০) আমি মিছিল করার সময় সরকার যদি আমাকে হত্য| করে??
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: এই অবস্থায় যারা মারা যায়,তারাই তো নিকৃষ্ট নিহত.-(ইবনু মাজাহ/১৭৬; হাসান ছহীহ)

১১) তাহলে শেষমেশ কি দাঁড়ালো?এটাই কি তাহলে (حسن الخاتم) উত্তম সমাপ্তি??(কণ্ঠে অসন্তুষ্টির ছাপ)
> তিনি বললেন:খারিজীরা (বিদ্রোহিরা) তো জাহান্নামের কুকুর -(ইবনু মাজাহ/১৭৩; ছহীহ)

১২) এখন তাহলে আমাদের করণীয় কি??
>তিনি জবাবে বললেন: "নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে (অন্যায়) প্রাধান্য দেখতে পাবে। তো তখন তোমরা আমার সাথে হাউযে কাউছারে দেখা হওয়ার আগ পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরবে. -(বুখারী/৩৭৯২)

১৩) ঠিক আছে, আমি মিটিং মিছিল করলাম না, কিন্তু আমি যে তাকে গালি দিতে পছন্দ করি!!
>তিনি উত্তর দিলেন: যে শাসককে অপমান করল,আল্লাহ তাকে অপদস্থ করবেন.. -(তিরমিযী/২২২৪; হাসান)

১৪) ঠিক আছে, আমি মিছিলও করব না,গালিও দিব না। তবে সে যে আমার নেতা তাও আমি স্বীকার করব না!!
>তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি কোনো প্রকার আনুগত্যের শপথ (বায়আত) ছাড়াই মারা গেল,সে যেন জাহিলী মৃত্যু বরণ করল..-(মুসলিম/১৮৫১)

১৫) কিন্তু সে তো জোর করে ক্ষমতা হাতিয়ে নিয়েছে??
> তো তিনি বললেন:আমি তোমাদের তাকওয়া এবং নেতার আনুগত্যের ওছিয়্যাত করছি। সে নেতা যদিওবা হাবশী দাস হয়.-(আবু দাঊদ/৪৬০৭; ছহীহ)

[নোট: ইসলামী বিধান মতে দাস কখনো স্বাধীনদের উপর কর্তৃত্ব করতে পারে না-তাই এই হাদীসে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, কোনো দাসও যদি ক্ষমতা দখল করে তাকেও অনুসরণ করতে হবে -অনুবাদক]

১৬) কিন্তু এটা তো নির্ঘাত জুলুম!!আর সে তো ক্ষমতা পাওয়ার হকদার না!!
> আল্লাহ তাআলা বলেন: "বল, হে আল্লাহ, তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দাও, আবার যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা ছিনিয়ে নাও. -(সূরা আলে ইমরান:২৬)

১৭) কিন্তু অনেক শায়খ তো শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলে!!
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:তারা জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে ডাকতে থাকবে। যে তাদের ডাকে সাড়া দিবে, তাকেই তারা জাহান্নামে ফেলে দিবে. -(বুখারী/৩৬০৬)

১৮) তাহলে এসব শায়খদের যারা অনুসরণ করে ও এরকম সংগঠনের যারা সদস্য, তারা কি করবে??
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তুমি সব দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও- একটি গাছের শিকড় আঁকড়ে ধরে মরতে পারলে তাও ভালো.-(বুখারী/৩৬০৬)

১৯) ঠিক আছে, আমি সব দল‌ থেকে আলাদা হয়ে যাব, কিন্তু আমার বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকে আমি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাব বা তাদের পক্ষে সরকারের বিরোধিতা করব!!
>তিনি উত্তরে বললেন: তুমি বাড়িতে থেকে নিজের জিহ্বা সংযত রাখ,তুমি যা (শরীয়ত) জান,সে অনুযায়ী আমল কর। আর না জানা বিষয় ছেড়ে দাও-নিজেকে নিয়ে চিন্তা কর, জনগণের ব্যাপারটা ছেড়ে দাও. -(আবু দাঊদ/৪৩৪৩; ছহীহ)

২০) তা এইসব ফিতনা থেকে দূরে থাকার ছওয়াব কি?
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "ফিতনার সময় ইবাদত করা আমার কাছে হিজরত করার মতই.. -(মুসলিম/২৯৪৮)

২১) কিন্তু পরিবর্তনটা আসবে তাহলে কিভাবে??
>আল্লাহ তায়ালা বলেন: "কোনো জাতি নিজে নিজে পরিবর্তন হওয়ার আগ পর্যন্ত আল্লাহ তাদের পরিবর্তন করেন না.-(সূরা আর-রা'দ:১১)

২২) এতসব দলীল-আদিল্লা থেকে যে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার কি হবে??
>আল্লাহ তায়ালা বলেন: আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো,সে তো স্পষ্টই বিভ্রান্ত -(সূরা আহযাব:৩৬)

২৩) এখন আপনি আমাকে কিসের উপদেশ দেন?
>আল্লাহ তাআলা বলেন: "বিচার-ফয়সালার জন্য যখন মুমিনদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়,তখন তো তারা এটাই বলবে যে, আমরা শুনলাম ও মানলাম। আর এরাই তো সফলকাম. -(সূরা নূর:৫১)

২৪) দোয়া করেন আল্লাহ যেন আমাকে ক্ষমা করেন!!(কণ্ঠে অনুশোচনার সুর)
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:-বান্দা যখন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে যায়,আল্লাহ তখন তাকে ক্ষমা করেন -(বুখারী/২৬৬১)

07/03/2026

কেন মুসলিম শাসকের আনুগত্য করতে হবে?

إن الله يرضى لكم ثلاثاً: أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئاً، وأن تعتصموا بحبل الله جميعاً ولا تفرقوا، وأن تناصحوا من ولاه الله أمركم

আল্লাহ তোমাদের উপর তিনটি ব্যাপারে খুশী হন: (১) তোমরা কেবলমাত্র আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁর সংগে কাউকে শরীক করো না। (২) তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুত ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং আর বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ো না (৩) আল্লাহ যাদেরকে তোমাদের উপর শাসন ক্ষমতা দান করেন, তাদেরকে সু-পরামর্শ দিবে।[1] এ তিনটি বিষয়ের সম্পূর্ণ অথবা আংশিক লঙ্ঘন করার কারণে মানুষের দীন ও দুনিয়াবী বিষয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়.

(সহিহ মুসলিম হা/১৭১৫)

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ) [النساء: 59]

হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের (সূরা আন নিসা ৪:৫৯)।

اسمعوا وأطيعوا، إلا أن تروا كفراً بواحاً عندكم عليه من الله برهان

তোমরা শাসকের কথা শ্রবণ করবে ও তার অনুগত থাকবে কিন্তু যদি স্পষ্ট কুফরী দেখ, তোমাদের কাছে আল্লাহর তরফ থেকে যে বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান, তাহলে আলাদা কথা।[4]
শাসক কুফরী ব্যতীত অন্যান্য অবাধ্যতায় লিপ্ত হলেও তার কথা শ্রবণ করতে হবে ও তার অনুগত থাকতে হবে, যদি তার নের্তৃত্ব ও তার প্রতি অনুগত থাকা মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর হয়। তবে ফাসিকী শাসকের উপরই বর্তাবে🖤

সহিহ বুখারী হা/৭০৫৬ , সহিহ মুসলিম হা/১৭০৯।

أطع وإن أخذ مالك وضرب ظهرك

যদিও তোমার ধনসম্পদ হরণ করে এবং তুমি প্রহৃত হও তবুও তুমি তার অনুগত থাকো।[1] কেননা ফাসিকীর দিক বিবেচনায় তার আনুগত্যের মাধ্যমে মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষাই প্রাধান্য পাবে। শাসকের আনুগত্য করা তার অবাধ্য কাজের চেয়ে কল্যাণকর। শাসকের বিরোধিতা করা তার আনুগত্যের চেয়ে বেশি মারাত্নক। কেননা তার বিরোধিতার কারণে রক্তপাত ঘটা, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়াসহ ঐক্য বিনষ্ট হতে পারে।
সহিহ মুসলিম হা/১৮৪৭🖤

বর্তমান শাসকদের নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কথোপকথন...!!!

১) শাসক জালেম হলে আমরা কিভাবে তার থেকে রেহাই পাব??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে তার শাসকের কাছে থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখে সে যেন ধৈর্য ধরে।" -(বুখারী/৩৮৭০)

২) কিন্তু সে তো শরীয়ত মোতাবেক শাসন করে না!!
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার পরে এমন কিছু শাসক হবে যারা না আমার হেদায়াত মানবে আর না আমার সুন্নাত- আর তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক থাকবে যারা মানব দেহে শয়তানের অন্তর লালন করবে. আমি বললাম:হে আল্লাহর রাসূল, এরকম সময়ে আমি কি করব?? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি শাসকের কথা শুনবে ও মানবে, যদিও সে তোমাকে মেরে তোমার সম্পদ দখল করে নেয়..তথাপিও তুমি তার আনুগত্য করবে.. -(মুসলিম/১৮৪৭)

৩) শাসক তো আমার সবকিছু নিয়ে নিল!!আমাকে সে কষ্ট দিচ্ছে!!
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি শাসকের কথা শুনবে ও মানবে, যদিও সে তোমাকে মেরে তোমার সম্পদ দখল করে নেয়.তথাপিও তুমি তার আনুগত্য করবে.-(মুসলিম/১৮৪৭)

৪) কিন্তু সে তো আমাদের সবকিছু নিয়ে জুলুম করছে, আমাদের বঞ্চিত করছে ?
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তাদের হক তোমরা ঠিক ঠিক দাও আর তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাও.. -(বুখারী/৩৬০৩)

৫) আচ্ছা সে যদি আমাকে আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কোনো কাজ করার কথা বলে??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আল্লাহর আনুগত্য মূলক বিষয়েই কেবল অনুসরণ.(বুখারী/৭২৫৭)

৬) আমি যদি তাকে উপদেশ দিতে চাই ??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "যে শাসককে উপদেশ দিতে চায়, সে যেন প্রকাশ্যে না বলে বরং তার হাত ধরে গোপনে বলে। গ্রহণ করলে তো হলোই, না হলে সে তার দায়িত্ব পালন করেছে.. -(কিতাবুস সুন্নাহ/১০৯৭; ছহীহ)

৭) গোপনে উপদেশ দেয়ার সময় সে যদি আমাকে হত্য| করে??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "শ্রেষ্ঠ শহীদ হলো: হামযা বিন আব্দুল মুত্তালিব এবং ঐ ব্যক্তি যে শাসককে ভালো-মন্দের উপদেশ দিল আর শাসক তাকে হত্য| করে দিল. -(হাকেম, ৩/২১৫; সিলসিলাহ ছহীহাহ/৩৭৪)

৮) আর আমাকে যদি হত্য| না করে??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "সর্বোত্তম জিহাদ হলো, জালেম শাসকের সামনে হক কথা বলা. -(আবূ দাঊদ/৪৩৪৪; ছহীহ)

৯) আমি প্রকাশ্যে বললে সমস্যা কি, সে তো আমাকে জুলুম করেছে??
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে জামাত থেকে বিঘত পরিমাণ বের হয়ে যাবে, সে যেন ইসলাম থেকেই বেরিয়ে গেল (খারেজী হয়ে গেলো) -(তিরমিযী/২৮৬৩; ছহীহ)

১০) আমি মিছিল করার সময় সরকার যদি আমাকে হত্য| করে??
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: এই অবস্থায় যারা মারা যায়,তারাই তো নিকৃষ্ট নিহত.-(ইবনু মাজাহ/১৭৬; হাসান ছহীহ)

১১) তাহলে শেষমেশ কি দাঁড়ালো?এটাই কি তাহলে (حسن الخاتم) উত্তম সমাপ্তি??(কণ্ঠে অসন্তুষ্টির ছাপ)
> তিনি বললেন:খারিজীরা (বিদ্রোহিরা) তো জাহান্নামের কুকুর -(ইবনু মাজাহ/১৭৩; ছহীহ)

১২) এখন তাহলে আমাদের করণীয় কি??
>তিনি জবাবে বললেন: "নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে (অন্যায়) প্রাধান্য দেখতে পাবে। তো তখন তোমরা আমার সাথে হাউযে কাউছারে দেখা হওয়ার আগ পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরবে. -(বুখারী/৩৭৯২)

১৩) ঠিক আছে, আমি মিটিং মিছিল করলাম না, কিন্তু আমি যে তাকে গালি দিতে পছন্দ করি!!
>তিনি উত্তর দিলেন: যে শাসককে অপমান করল,আল্লাহ তাকে অপদস্থ করবেন.. -(তিরমিযী/২২২৪; হাসান)

১৪) ঠিক আছে, আমি মিছিলও করব না,গালিও দিব না। তবে সে যে আমার নেতা তাও আমি স্বীকার করব না!!
>তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি কোনো প্রকার আনুগত্যের শপথ (বায়আত) ছাড়াই মারা গেল,সে যেন জাহিলী মৃত্যু বরণ করল..-(মুসলিম/১৮৫১)

১৫) কিন্তু সে তো জোর করে ক্ষমতা হাতিয়ে নিয়েছে??
> তো তিনি বললেন:আমি তোমাদের তাকওয়া এবং নেতার আনুগত্যের ওছিয়্যাত করছি। সে নেতা যদিওবা হাবশী দাস হয়.-(আবু দাঊদ/৪৬০৭; ছহীহ)

[নোট: ইসলামী বিধান মতে দাস কখনো স্বাধীনদের উপর কর্তৃত্ব করতে পারে না-তাই এই হাদীসে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, কোনো দাসও যদি ক্ষমতা দখল করে তাকেও অনুসরণ করতে হবে -অনুবাদক]

১৬) কিন্তু এটা তো নির্ঘাত জুলুম!!আর সে তো ক্ষমতা পাওয়ার হকদার না!!
> আল্লাহ তাআলা বলেন: "বল, হে আল্লাহ, তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দাও, আবার যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা ছিনিয়ে নাও. -(সূরা আলে ইমরান:২৬)

১৭) কিন্তু অনেক শায়খ তো শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলে!!
> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:তারা জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে ডাকতে থাকবে। যে তাদের ডাকে সাড়া দিবে, তাকেই তারা জাহান্নামে ফেলে দিবে. -(বুখারী/৩৬০৬)

১৮) তাহলে এসব শায়খদের যারা অনুসরণ করে ও এরকম সংগঠনের যারা সদস্য, তারা কি করবে??
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তুমি সব দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও- একটি গাছের শিকড় আঁকড়ে ধরে মরতে পারলে তাও ভালো.-(বুখারী/৩৬০৬)

১৯) ঠিক আছে, আমি সব দল‌ থেকে আলাদা হয়ে যাব, কিন্তু আমার বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকে আমি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাব বা তাদের পক্ষে সরকারের বিরোধিতা করব!!
>তিনি উত্তরে বললেন: তুমি বাড়িতে থেকে নিজের জিহ্বা সংযত রাখ,তুমি যা (শরীয়ত) জান,সে অনুযায়ী আমল কর। আর না জানা বিষয় ছেড়ে দাও-নিজেকে নিয়ে চিন্তা কর, জনগণের ব্যাপারটা ছেড়ে দাও. -(আবু দাঊদ/৪৩৪৩; ছহীহ)

২০) তা এইসব ফিতনা থেকে দূরে থাকার ছওয়াব কি?
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "ফিতনার সময় ইবাদত করা আমার কাছে হিজরত করার মতই.. -(মুসলিম/২৯৪৮)

২১) কিন্তু পরিবর্তনটা আসবে তাহলে কিভাবে??
>আল্লাহ তায়ালা বলেন: "কোনো জাতি নিজে নিজে পরিবর্তন হওয়ার আগ পর্যন্ত আল্লাহ তাদের পরিবর্তন করেন না.-(সূরা আর-রা'দ:১১)

২২) এতসব দলীল-আদিল্লা থেকে যে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার কি হবে??
>আল্লাহ তায়ালা বলেন: আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো,সে তো স্পষ্টই বিভ্রান্ত -(সূরা আহযাব:৩৬)

২৩) এখন আপনি আমাকে কিসের উপদেশ দেন?
>আল্লাহ তাআলা বলেন: "বিচার-ফয়সালার জন্য যখন মুমিনদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়,তখন তো তারা এটাই বলবে যে, আমরা শুনলাম ও মানলাম। আর এরাই তো সফলকাম. -(সূরা নূর:৫১)

২৪) দোয়া করেন আল্লাহ যেন আমাকে ক্ষমা করেন!!(কণ্ঠে অনুশোচনার সুর)
>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:-বান্দা যখন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে যায়,আল্লাহ তখন তাকে ক্ষমা করেন -(বুখারী/২৬৬১)

26/02/2026

শাইখ প্রফেসর ড: আসাদুল্লাহ আল গালিব (হাফিয্বাহুল্লাহ) সম্পর্কে....

শাইখ ড: ইমাম হোসেন (হাফিয্বাহুল্লাহ)

মুন্সী এবার পালাবে কোথায়?
10/02/2026

মুন্সী এবার পালাবে কোথায়?

18/12/2025

এক জুম্মার দিন তাকে গুলি করা হল আর তার পরের জুম্মার রাতে সে দুনিয়া থেকে বিদায় নিল, এটি মৃত্যুর উত্তম লক্ষন ,
ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না আলাইহি রাজিউন

হাদি ভাই আমার তোমার রক্ত আমরা বিথা যেতে দিব না,(ইনশাআল্লাহ)
18/12/2025

হাদি ভাই আমার তোমার রক্ত আমরা বিথা যেতে দিব না,(ইনশাআল্লাহ)

❤️
14/12/2025

❤️

হাদি আবার ফিরবে,তুমি কে আমি কে?
14/12/2025

হাদি আবার ফিরবে,
তুমি কে আমি কে?

06/08/2025
27/06/2025

যু/দ্ধে জয়ী হওয়ার পর খা/মি/নী

20/01/2023

বাংলাদেশে ৬০ লক্ষ হাদিসের হাফেজ পাওয়া গেছে

Address

Kuala Lumpur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sahih Muslim TV posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Sahih Muslim TV:

Share

Category