
20/08/2025
বিনম্র শ্রদ্ধা!বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট ল্যাফটেনেন্ট মতিউর রহমান।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান কর্মরত ছিলেন পাকিস্তানের বিমান বাহিনীতে। ১৯৭১ সালে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। ২৫শে মার্চ পাকিস্তানিদের অত্যাচার ,গনহত্যা নির্যাতন দেখে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হয়েও অসীম ঝুঁকি ও সাহসিকতার সাথে ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খুলেন ৷ যুদ্ধ করতে আসা বাঙালি যুবকদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকলেন ৷ মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে গড়ে তুললেন একটি প্রতিরোধ বাহিনী ৷ কর্মস্থল পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে যুদ্ধের জন্য বাংলাদেশের বিমান বাহিনী শক্ত করার জন্য তিনি একটি বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করতে থাকেন।
২০ আগষ্ট-১৯৭১,শুক্রবার। সকালে করাচির মৌরিপুর বিমান ঘাঁটিতে তারই এক ছাত্র রশীদ মিনহাজের কাছ থেকে একটি প্রশিক্ষণ বিমান ছিনতাই করেন। কিন্তু রশীদ এ ঘটনা কন্ট্রোল টাওয়ারে জানিয়ে দিলে অপর চারটি জঙ্গি বিমান মতিউরের বিমানকে ধাওয়া করে। এ সময় রশীদের সাথে মতিউরের ধ্বস্তাধস্তি চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রশীদ ইজেক্ট সুইচ চাপলে মতিউর বিমান থেকে ছিটকে পড়েন এবং বিমান উড্ডয়নের উচ্চতা কম থাকায় রশীদ সহ বিমানটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। যখন বিমানটি বিধ্বস্ত হয় তখন ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩ মিনিট দূরত্বে ছিল। মতিউরের সাথে প্যারাসুট না থাকাতে তিনি নিহত হন। তাঁর মৃতদেহ ঘটনাস্থল হতে প্রায় আধ মাইল দূরে পাওয়া যায়। তাঁকে করাচির মাসরুর বেসের চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।কবরে লিখে রাখা হয়, "জাতীয় গাদ্দার"।
আর রশিদকে দেওয়া হয় পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব 'নিশান-ই-হায়দার'।
অসাধারণ সাহস ও বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ সরকার মতিউর রহমানকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০০৬ সালে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে কবরস্থ করা হয়।স্বাধীন মাতৃভূমি নিজে দেখে যেতে না পারলেও বাংলাদেশ নামক দেশটি যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জন্ম লাভ করেছিল, তিনি ছিলেন সেই সব বীরদের অন্যতম।
আজ ২০ই আগস্ট। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী। আজকের এই দিনে তাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।