30/04/2026
কাহাকে খুঁজিতে আসিয়াছ এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করার আগে কেন যেন মনে হয়েছিল। তখন রাত শেষ, দিনের কেবলমাত্র ঘুম ভাঙছে, সূর্য ওঠেননি। এটি এডিটেড বা এআই প্রযুক্তির ছবি না ডিএসএলএর।
বর্ননাও অনেক লম্বা হয়ে গেলো। জায়গাটা অনেকেই চেনেন, অনেকে হয়তো না। সুসং দুর্গাপুর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার উত্তর প্রান্তে গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা। এই উপজেলার বিজয়পুরে চীনামাটির পাহাড়টি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার মাটি মিহি, কোমাল- ট্যালকম পাউডারের মতো, যা সিরামিক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল। ১৯৫৭ সাল থেকে এই চিনামাটি উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। পাহাড় ও সমভূমি সহ এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৬০০ মিটার। পাহাড় জুড়ে সাদা মাটি ছাড়াও কিছু কিছু জায়গায় লালচে ও অন্য রঙের মাটি ও দেখা যায়। পাহাড় থেকে মাটি কাটায় সেখানে হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে যার পানি কোথাও স্বচ্ছ নীল কোথাও সবুজাভ কোথাও বা একদম লাল। তবে লাল পানি এখন নেই বললেই চলে। শ্বেত শুভ্র চিনামাটির পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে গেছে অপরুপ নীলের উৎস সোমেশ্বরী নদী। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়ের বিঞ্চুরীছড়া, বাঙাছড়া প্রভৃতি ঝরনাধারা ও পশ্চিম দিক থেকে রমফা নদীর স্রোতধারা একত্রিত হয়ে সোমেশ্বরীর সৃষ্টি। দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর ও ভবানীপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীর একপাশে খরস্রোতা বয়ে চলার দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। শীত শুরু হলেই অন্য রূপ ধারণ করে নদী একাংশ যৌবন হারিয়ে প্রায় মরা নদীর মতো হয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সোমেশ্বরী নদী কয়লা, নুড়ি-পাথর ও সিলিকা বালি বয়ে আনে। যারা বালি পাথরের ব্যবসা করেন তারা জানেন এখানকার বালি কতটা কোয়ালিটিফুল আর দামী। কয়লা, নুড়ি-পাথর ও সিলিকা বালিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছে হাজারো মানুষ। গারো, হাজং, কোচ ও ডালু সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখানে বহু বছর ধরে বাঙালীদের সাথে মিলেমিশে বাস করছে। ওখানকার সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রা খুবই সাদাসিধে। দুর্গাপুরের ইতিহাসের গল্প ছবি নিয়ে আরেকদিন।