01/06/2026
আমরা বেশিরভাগ সময় এমন নাটক, সিনেমা বা গল্প দেখতে পছন্দ করি যেগুলোর সাথে আমাদের নিজের জীবনের কোনো না কোনো মিল থাকে। কারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যায় এমন বিষয়গুলোর প্রতি বেশি আবেগ অনুভব করে।
কিন্তু খুব অদ্ভুত হলেও সত্যি, অনেক সময় এই ধরনের গল্প বা দৃশ্য আমাদের নিজের স্মৃতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। কিছুদিন পরে যখন আমরা অতীতের কোনো ঘটনা মনে করি বা অন্য কাউকে বলি, তখন বাস্তবে যা ঘটেছিল আর সিনেমা বা নাটকে দেখা ঘটনাগুলোর কিছু অংশ একসাথে মিশে যেতে পারে। তখন আমরা এমন কিছু বিষয়ও সত্যি বলে মনে করতে শুরু করি, যেগুলো আসলে ঠিক সেভাবে ঘটেনি।
ধরুন, একদিন আপনার স্বামী খুব রেগে গিয়ে আপনাকে মারার জন্য হাত তুলেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মারেননি। ঘটনাটি আপনাকে খুব কষ্ট দিয়েছিল। শুধু কষ্টই না, আপনার আত্মসম্মানেও আঘাত করেছিল। এই স্মৃতি মনে হলেই আপনার ভেতরে রাগ, ভয় বা দুঃখ তৈরি হতো।
স্বাভাবিকভাবেই মানুষ এমন কষ্টের স্মৃতি এড়িয়ে চলতে চায়। তাই আপনি হয়তো ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিয়েছিলেন এবং ঘটনাটি ভুলে থাকার চেষ্টা করেছিলেন।
এর অনেকদিন পরে আপনি “থাপ্পড়” সিনেমাটি দেখলেন। এরপর আরও কিছুদিন পরে যখন আপনি ঘটনাটি মনে করলেন বা কাউকে বলতে গেলেন, তখন আপনার মনে হতে পারে যে আপনার স্বামী আপনাকে সত্যিই চড় মেরেছিলেন। যদিও বাস্তবে তিনি মারেননি।
এমনটা হওয়া খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ আমাদের মস্তিষ্ক স্মৃতি মনে করার সময় একধরনের প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় “Source Monitoring” বলা হয়।
সহজভাবে বললে, আমাদের মস্তিষ্ক যখন কোনো পুরোনো ঘটনা মনে করতে চায়, তখন সেটি বিভিন্ন স্মৃতি, অনুভূতি, আশেপাশের ঘটনা, দেখা দৃশ্য, শোনা কথা এবং আবেগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে— কোনটা সত্যিই আমার জীবনে ঘটেছিল।
সমস্যা হলো, একই ধরনের স্মৃতিগুলোর মধ্যে অনেক তথ্য একে অপরের সাথে মিলে যায়। তখন মস্তিষ্ক কখনো কখনো বাস্তব অভিজ্ঞতা আর বাইরে থেকে দেখা দৃশ্যের পার্থক্য ঠিকভাবে করতে পারে না। ফলে কিছু ভুল তথ্যও আসল স্মৃতির অংশ হয়ে যেতে পারে।
এই কারণেই আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি যে আমরা আমাদের মস্তিষ্ককে কী ধরনের জিনিস বারবার দেখাচ্ছি বা ভাবছি। বিশেষ করে যাদের জীবনে আগে থেকেই কোনো ট্রমাটিক বা কষ্টের স্মৃতি আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কিছু সিনেমা, নাটক বা কনটেন্ট পুরোনো মানসিক আঘাতকে আবারও জীবন্ত করে তুলতে পারে এবং সেই কষ্টকে আরও গভীর করে দিতে পারে।