28/09/2025
আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের বুক জুড়ে অনেক ছায়া আর অনেক অন্ধকার। সেই ছায়াঘেরা অন্ধকারের এক অধ্যায় আমরা ইচ্ছে করে ভুলে থেকেছি, অথবা আমাদের ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমার পরের ফিকশন ফিরবে সেই অধ্যায়ে—১৯৭১ সালের বিহারি গণহত্যা।
আমাদের পুর্বপুরুষেরা একটা বিশাল ভুল করেছিলো। আওয়ামী লীগকে এই গণহত্যার দায়ে কখনো দাঁড় করানো হয়নি। অথচ বিহারি জেনোসাইড ছিল ইতিহাসের চোখে এক নিখাদ গনহত্যা, ক্লাসিক সংজ্ঞা মেনে চলা এক গণহত্যা।
আমাদের সেই ভুলের দায় মেটানোর পথ একটাই—কথাকে, শিল্পকে, কল্পনাকে কাজে লাগিয়ে এমন এক কালচারাল এসেট গড়ে তোলা, যা বিশ্বসংস্কৃতির ভাণ্ডারে স্থান করে নিতে পারে।
এই ফিকশনে আমি সেই চেষ্টাই করেছি। আশা করি জানুয়ারিতে বইটি আপনাদের হাতে পৌঁছে দেয়া যাবে।
এই ফিকশনে পাঠক শুধু এক অচেনা সত্যের মুখোমুখিই হবেন না—আমার ফিকশন লেখার দক্ষতার উন্মতিও হয়তো বুঝতে পারবেন। আমি ফিকশন লিখছি, কারণ, কাজটা আমি পছন্দ করি আর এর ভেতরেই ধরতে চাই আমাদের সম্মিলিত ইতিহাসের, শোক, রক্ত ও প্রশ্নের এক দীর্ঘ ধ্বনি।
তবে এখানেই শেষ নয়। এই বই শেষ হলে আবার ফিরব ১৯৭১-এ, আরেকটি এমন বিষয় নিয়ে, যার বিস্ফোরণমুখী অভিঘাতে চেতনা শিবিরের আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে। এখনই বিষয় বলছি না। তবে জানি, সে বই প্রকাশের দিন বাজ নেমে আসবে তাদের সমস্ত ন্যারেটিভের উপর।
চেতনা শিবির তার পলিটিক্যাল ন্যারেটিভ নির্মানে কখনো বাংলা ভাষার খাঁচা ভেঙে বেরোতে পারেনি। তারা তাদের স্লোগানকে বিশ্বের ভাষায় রূপান্তরিত করতে পারেনি, পারবেও না। আমি পারব ইনশাআল্লাহ। আমি লিখব পশ্চিমাদের ভাষায়, পশ্চিমাদের ঢঙে, তাদের প্যারাডাইমের মধ্যে থেকে।
হাসিনা আমাকে দেশ থেকে নির্বাসিত করেছে। কিন্তু এই নির্বাসনই আমার শক্তি। দূরত্বই দিয়েছে দৃষ্টি। এই দূরত্ব থেকেই আমি লিখব, সৃষ্টি করব, এবং আমাদের সত্যকে পৌঁছে দেব বিশ্বের দরজায়।
এই ফিকশন সেই যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ...।