24/01/2026
লুৎফুজ্জামান বাবর ১৭ বছর জেলে ছিলেন। তার স্ত্রী বেঁচে ছিলেন, সম্মানের সাথেই বেঁচে ছিলেন। তিনি আত্মহত্যা করেননি। কেন?
সহজ উত্তর—তার হাতে টাকা ছিল। বৈধ বা অবৈধ, সেটা এখানে মুখ্য নয়; মুখ্য হলো টিকে থাকার সামর্থ্য।
একই সমাজে আরেকজন নারী—মাত্র ২২ বছরের—স্বামীর অনুপস্থিতিতে ১১ মাসেই জীবনের আশা ছেড়ে দিলেন। প্রশ্নটা স্বামী নয়। প্রশ্নটা অর্থ।
স্বামী ছাড়া ১৭ বছর বাঁচা যায়, কিন্তু টাকা ছাড়া ১১ মাসও নয়—এটাই এই রাষ্ট্রের নগ্ন সত্য।
টাকা না থাকলে শুরু হয় প্রতিদিনের হয়রানি।
কোর্টে উকিলের চেতনা কাজ করে না,
মোহরীর সহানুভূতি বিক্রি হয়,
জেল পুলিশ, কোর্ট পুলিশ—কারও হৃদয় গলে না।
টাকা না দিলে স্বামীর মুখ দেখা যায় না,
একজন আসামি বাবা তার সন্তানকে কোলে নিতে পারে না।
মাসে মাসে “জেলখানা পিসি” দিতে হয়—না দিলে শাস্তি নীরব, কিন্তু ভয়ংকর।
২২ বছরের একজন নারী এই টাকা কোথায় পাবে?
এখানে নারী আত্মহত্যা করে দুর্বলতার কারণে নয়,
সে আত্মহত্যা করে অর্থহীনতার রাষ্ট্রীয় নির্যাতনে।
চেতনার বুলি পেটে ভাত দেয় না,
স্লোগান সন্তানকে খাওয়াতে পারে না,
আর নৈতিক ভাষণ জেলের লোহার দরজা খোলে না।
স্বামী ছাড়া বাঁচা যায়—
কিন্তু টাকা ছাড়া এই দেশে একজন নারীকে শেষ পর্যন্ত মরতেই হয়।