24/09/2022
সর্বপ্রথম বেগম রোকেয়া মুসলিম নারীদেরকে পড়াশোনার জন্য ঘরের বাহিরে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। রোকেয়া এই কাজটি পোশাকের মাঝে থেকেই করেছেন এবং সফলতা অর্জনও করেছেন।নারী শিক্ষার জন্য নারীদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে রোকেয়াকে স্কিন গেঞ্জি পরিধান করতে হয়নি,মাথার ঘোমটা ফেলতে হয়নি,হাতাকাটা ব্লাউজ পরিধান করতে হয়নি,শর্ট প্যান্ট পরিধান করতে হয়নি।তিনি শালীন পোশাকের মাঝে থেকেই বাঙালি মুসলিম নারীদেরকে ঘরের বাহির করে নারী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি পোশাকের মাঝে থেকেই নারীবাদী আন্দোলন করতে পেরেছিলেন।তিনি পোশাকের মাঝে থেকেই ধর্মীয় কুসংস্কার ভাঙতে সক্ষম হয়েছিলেন।তার অবদানের কথা আজ মুসলিম নারীরা ভুলে গিয়েছেন।
রোকেয়া পর্দার বিষয়ে অকাট্য যুক্তি দিয়ে লিখেছেন--
"আমি অনেক বার শুনিয়াছি যে আমাদের “জঘন্য অবরোধ প্রথা” ই নাকি আমাদের উন্নতির অন্তরায় । উচ্চ শিক্ষা প্রাপ্ত ভগ্নীদের সহিত দেখা সাক্ষাৎ হইলে তাঁহরা প্রায়ই আমাকে “বোরকা” ছাড়িতে বলেন । বলি উন্নতি জিনিসটা আসলে কি? তাহা কি কেবল বোরকার বাহিরেই থাকে? যদি তাই হয় তাহলে জেলেনী, চামারিনী, ডুমিনী, প্রভৃতি স্ত্রীলোকেরা আমাদের অপেক্ষা অধিক উন্নতি লাভ করিয়াছে।”
বোরকা বা পর্দা বা শালীন পোশাককে অনেকে পিছিয়ে পড়ার জন্য দায়ী বলে মনে করেন।তাদের উদ্দেশ্যে রোকেয়া জবাব দিয়েছেন---
“পৃথিবীর অসভ্য জাতিরা অর্ধ- উলঙ্গ অবস্থায় থাকে । ইতিহাসে জানা যায়, পূর্বে অসভ্য বৃটেনরা অর্ধনগ্ন থাকিত। ঐ অর্ধনগ্ন অবস্থার পূর্বে গায়ে রঙ মাখিত । ক্রমে সভ্য হইয়া তাহারা পোশাক ব্যবহার করতে শিখিয়াছে ।”
বোরকাকে অনেকে ভারি পোশাক হিসাবে অভিযোগ করায় তিনি লিখেছেন---
“অনেকে বোরকাকে ভারি বলিয়া আপত্তি করেন । কিন্তু তুলনায় দেখা গিয়েছে ইংরাজ মহিলাদের প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড হ্যাট অপেক্ষা আমাদের বোরকা অধিক ভারি নহে ।”
সত্যিকারের পর্দার মর্মার্থ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি লিখেছেন---
“পর্দা অর্থে তো আমরা বুঝি গোপন করা বা হওয়া, শরীর ঢাকা ইতযাদি-কেবল অন্তপুরের চারি- প্রাচীরের ভিতর থাকা নহে । এবং ভালমতে শরীর আবৃত না করাকেই ‘বে-পর্দা’ বলি।যাহারা ঘরের ভিতর সম্মুখে অর্ধ-নগ্ন অবস্থায় থাকেন, তাঁহাদের অপেক্ষা যাহারা ভালোমতো পোশাক পরিয়া মাঠে বাজারে বাহির হন, তাঁহাদের পর্দা বেশি রক্ষা পায় ।”
“আমরা অন্যায় পর্দা ছাড়িয়া আবশ্যকীয় পর্দা রাখিব। প্রয়োজন হইলে অবগুণ্ঠনসহ (বোরকা) মাঠে বেড়াইতে আমাদের আপত্তি নেই। স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য শৈলবিহারে বাহির হইলেও বোরকা সঙ্গে থাকিতে পারে। বোরকা পরিয়া চলাফেরায় কোনো অসুবিধা হয় না। তবে সে জন্য সামান্য রকমের একটু অভ্যাস চাই, বিনা অভ্যাসে কোন কাজ হয়?”
আসলে বর্তমানে পর্দা বা পোশাক নিয়ে যে রাজনীতি চলছে তা এক দুরভিসন্ধিমূলক প্রচেষ্টা মাত্র। উন্নতি আর স্বাধীনতা থাকে মানুষের চিন্তা শক্তিতে, পোশাকে নয়।
তথ্য সূত্রঃ বোরকা, মতিচূর, প্রথম খণ্ড, রোকেয়া রচনাবলি।