04/02/2026
♦️বাবার শেষকৃত্যের পরের দিন সকাল ৯টার জন্য আমি তাঁর কুকুরটিকে মেরে ফেলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করেছিলাম। নিজেকে বলেছিলাম, আমি ওর প্রতি একটা দয়া করছি।
বাবা চলে গেছেন।
আর ব্রুটাস—একটি বলিষ্ঠ, ধূসর-সাদা হাস্কি, যার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ ও চিন্তাশীল এবং যার মধ্যে ছিল এক শান্ত দৃঢ়তা—তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন শোক একটি শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল দেহের ভেতরে বাসা বেঁধেছে। সে সাবধানে চলাফেরা করছিল, সবসময় চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকত। তার চোখ বারবার সামনের দরজার দিকে চলে যাচ্ছিল।
অপেক্ষা করছে।
সবসময় অপেক্ষা করছে।
🌿সান দিয়েগোতে আমার পরিপাটি, হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন-শাসিত কনডোতে আমি ওরকম একটা কুকুরকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম না। কঠোর নিয়মকানুন। কোনো বড় জাতের কুকুর রাখা যাবে না। আমার ফ্লাইট ধরার ছিল, কাজের ডেডলাইন ছিল, এবং আমার জীবনে এমন কোনো জায়গা ছিল না একজন সক্রিয়, বুদ্ধিমান সঙ্গীর জন্য, যার আরামের চেয়ে সংযোগের প্রয়োজন ছিল বেশি।
🌿আমার বাবা, রেমন্ড কোল, একজন স্নেহপ্রবণ মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত ডকশ্রমিক, যার হাতে ছিল কড়া পড়া এবং যার নীরবতা এতটাই ভারী ছিল যে তা পুরো ঘর ভরে ফেলত। তিনি বিশ্বাস করতেন যে অনুভূতি ব্যক্তিগত—এমন কিছু যা গিলে ফেলতে হয় এবং ভেতরে লুকিয়ে রাখতে হয়। তিনি কাউকে জড়িয়ে ধরতেন না। তিনি আড্ডা দিতেন না। লোকেরা তাকে কঠোর মনে করত। আমি উনিশ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়েছিলাম এবং তাকে ছাড়া কীভাবে বাঁচতে হয় তা শিখেছিলাম।
তার ছোট উপকূলীয় বাড়িতে ফিরে আসাটা আমার কাছে একজন অপরিচিতের জীবনে অনুপ্রবেশ করার মতো মনে হচ্ছিল। ব্রুটাস প্রবেশপথে শুয়ে ছিল, খালি জায়গাটা পাহারা দিচ্ছিল। যখন সে আমাকে দেখল, তার লেজটা একবার নড়ল—ধীরে এবং সযত্নে।
তার কলার থেকে একটি পুরোনো চামড়ার থলি ঝুলছিল। আঁচড় কাটা, রোদে বিবর্ণ, হাতে সেলাই করা।
আমি সেদিকে খুব একটা মনোযোগ দিইনি।
🌿"চলো, ব্রুটাস," পরের দিন সকালে আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, গলায় দড়িটা লাগাতে লাগাতে।
"চলো যাই। শেষবারের মতো একটু হেঁটে আসি।"
আমি ভেবেছিলাম বাড়ির চারপাশটা ঘুরব। একটা সমাপ্তি। একটা চূড়ান্ত বিদায়।
কিন্তু ব্রুটাসের অন্য পরিকল্পনা ছিল।
বাইরে পা রাখার মুহূর্তেই সে আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে গেল। টানছিল না—বরং পথ দেখাচ্ছিল। সে আমাকে সোজা হারবার স্ট্রিট ধরে নিয়ে গেল, কফি শপের পাশ দিয়ে, পার্কের পাশ দিয়ে, এবং একটি ছোট অটো গ্যারেজের সামনে এসে থামল।
সে বসল।
অপেক্ষা করল।
তেলের দাগ লাগা জাম্পস্যুট পরা একজন মহিলা বাইরে বেরিয়ে এলেন এবং তাকে দেখে থমকে গেলেন।
"ওহ... আরে, বন্ধু," তিনি নরম সুরে বললেন, হাঁটু গেড়ে বসে। তিনি তার পকেট থেকে ভাঁজ করা টাকা বের করে থলিটার মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন। তারপর তিনি ব্রুটাসের কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে রাখলেন। আমি আমার ঘড়ির দিকে তাকালাম। “আমি দুঃখিত—এটা কী?”
সে চোখ তুলে তাকাল, চোখ ভেজা।
“তোমার বাবা ওকে দিয়ে পাঠাতেন। প্রতি শুক্রবার। বলতেন, ব্রুটাস তার চেয়েও ভালো কথা শোনে।”
সে কান্নার মধ্যেই হেসে ফেলল।
“ওই টাকাটা দিয়ে একা মায়েদের গাড়ি ঠিক করতে সাহায্য করা হতো। তোমার বাবা চাননি তার নাম এর সাথে জড়াক।”
আমার বুকটা ভার হয়ে গেল।
ব্রুটাস আবার নড়ে উঠল।
পরের গন্তব্য—প্রাথমিক স্কুলের কাছের বাসস্টপ।
এক কিশোরী একা দাঁড়িয়ে ছিল, হুডিটা শক্ত করে পরা, কাঁধ দুটো টানটান। ব্রুটাসকে দেখামাত্রই সে ভেঙে পড়ল। হাঁটু গেড়ে বসে তার গলা জড়িয়ে ধরল। ব্রুটাস তার পাশে একদম স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল—যেন সে জানত যে কখনও কখনও নীরবতাই সবচেয়ে বড় অবলম্বন।
বাস ড্রাইভার ফিসফিস করে আমাকে বলল,
“সে ওর জন্য অপেক্ষা করে। গত বছর মেয়েটিকে খুব বাজেভাবে উত্ত্যক্ত করা হয়েছিল। তোমার বাবা জিজ্ঞেস করেছিলেন, ব্রুটাস ওকে সাহস জোগাতে ওর সাথে হেঁটে যেতে পারবে কিনা।”
সে থলির দিকে মাথা নাড়ল।
“কখনও কখনও এর ভেতরে দুপুরের খাবারের টাকা থাকত। কখনও কখনও একটা চিরকুট থাকত, যাতে লেখা থাকত, ‘তুমি আজকের দিনের চেয়েও বেশি শক্তিশালী’।”
ঠিক তখনই আমি বুঝতে পারলাম।
ওই থলিটা শুধু জিনিস রাখার জায়গা ছিল না।
ওটা ছিল একটা ভাষা।
আমার বাবা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলতে জানতেন না।
তাই তিনি একজন হাস্কিকে শিখিয়েছিলেন তার হয়ে কথাটা বলতে।
আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটলাম।
একজন ডিনারের রাঁধুনি, যিনি বাড়িভাড়া দিতে সাহায্য পেতেন।
একজন প্রাক্তন সৈনিক, যার মুদি দোকানের জিনিস দরকার ছিল কিন্তু চাইতে পারতেন না।
একজন লাইব্রেরিয়ান, যিনি নিজেকে শান্ত করার জন্য জোরে জোরে পড়ার সময় ব্রুটাসকে তার পাশে বসতে দিতেন।
একটি শহর, যা নীরবে জুড়ে ছিল এমন একটি কুকুরের মাধ্যমে যাকে মানুষ প্রায়ই ভুল বুঝত
এবং একজন মানুষের মাধ্যমে, যিনি তাকে কখনও বিচার করেননি।
🟠সূর্যাস্তের সময়, আমরা বাড়িতে ফিরে এলাম।আমি পশুচিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করে দিলাম।
থলিটা খোলার সময় আমার হাত কাঁপছিল।
ভেতরে একটা ভাঁজ করা নোটবুকের কাগজ ছিল। হাতের লেখাটা অমসৃণ। এবড়ো খেবড়ো। আমার বাবার হাতের লেখা।
—যদি তুমি এটা পড়ছ, তাহলে আমি চলে গেছি।
ব্রুটাসকে আটকে রেখো না। সে বিপজ্জনক নয়।
সে আমার সেই অংশটা, যে ভালোবাসতে জানতো।
আমি কথায় ভালো ছিলাম না। সে ছিল।
যদি এটা তুমি হও, বাবা, আমি আশা করি সে তোমাকে তা দেখিয়েছে যা আমি পারিনি।
ওর যত্ন নিও। সে সবার যত্ন নিতো।
— বাবা
😢আমি ব্রুটাসের গলার কাছে মুখ গুঁজে দিলাম এবং গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাঁদলাম। আমি বাড়িটা বিক্রি করিনি।
আমি দূরে চলে গেছি।
আমার কনডোটা আর নেই।
প্রতিদিন সকাল ৮টায়, আমি আর ব্রুটাস হারবার স্ট্রিটে হাঁটি।
আমি শুধু একটা হাস্কি কুকুরকে হাঁটাচ্ছি না।
আমি একটা ঐতিহ্য বহন করছি।
আমরা একটা কোলাহলপূর্ণ পৃথিবীতে বাস করি—সবাই চায় তাকে দেখা হোক, অনুসরণ করা হোক, প্রশংসা করা হোক।
কিন্তু আসল প্রভাব হয় নীরব।
এটা একটা শক্তিশালী, সংবেদনশীল হৃদয়ের কুকুর।
একটি চামড়ার থলিতে ভাঁজ করা একটি নোট।
একজন মানুষ যিনি কখনো ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলেননি, কিন্তু প্রতিদিন এই কথাটাই বোঝাতেন।
মানুষকে বোঝানোর জন্য আপনার চলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না যে তারা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
আর যদি আপনি এটা বলতে না জানেন—
তবে আপনার নিজের মতো করে লেজ নাড়ার উপায় খুঁজে নিন। 🐾