18/02/2026
রামাদান এই শব্দটা শুনলেই আগে মনে হতো ঘরের উষ্ণতা, আম্মুর হাতের ইফতার, আর পরিবারের সাথে এক টেবিলে বসে থাকা। কিন্তু এবার রামাদানটা অন্যরকম। আমি পোল্যান্ডে, একা একজন আন্তর্জাতিক ছাত্র, পরিবার থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে।
এখানে সেহরির সময় কেউ ডাক দেয় না। অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙে, অন্ধকার ঘরে একা বসে তাড়াহুড়ো করে কিছু খেয়ে নিই। সেই পরিচিত কণ্ঠটা নেই "আরেকটু খেয়ে নাও, সারাদিন তো না খেয়ে থাকতে হবে।” শুধু নীরবতা আর নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ।
সারাদিন রোজা রেখে ক্লাস করি, তারপর পার্ট-টাইম জব এ যেতে হয়। শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়, মাথা ঝিমঝিম করে, তবুও থামার সুযোগ নেই। অন্যরা যখন পানি খায়, কফি খায়, আমি শুধু চুপচাপ তাকিয়ে থাকি। কেউ জানে না, এই হাসির পেছনে কতটা ক্লান্তি, কতটা ত্যাগ লুকিয়ে আছে।
কাজের শেষে যখন বাসায় ফিরি, তখন ইফতারের সময় হয়ে যায়। ছোট্ট একটা রুম, একটা প্লেট, আর আমি একা। না আছে আম্মুর হাতের সেই পরিচিত স্বাদ, না আছে পরিবারের সাথে বসে দোয়া করার সেই মুহূর্ত। ফোনে ভিডিও কল দেই, সবাইকে দেখি কিন্তু ছুঁতে পারি না। তখন বুকের ভেতরটা হঠাৎ করে ভারী হয়ে যায়। মনে হয়, দূরত্বটা শুধু কিলোমিটারে না, অনুভূতিতেও।
ইফতারের সময় পানি খেয়ে দোয়া করি, কিন্তু চোখের পানি আগে চলে আসে। কেউ দেখে না, কেউ বুঝে না, এই একাকী রামাদান কতটা কঠিন।
তারপরও রোজা রাখি। কাজ করি। হাসি। কারণ জানি, আল্লাহ সব দেখছেন। এই কষ্ট, এই একাকীত্ব, এই ত্যাগ সবকিছুই একদিন মূল্য পাবে। হয়তো এই দূর দেশের রামাদানটাই আমাকে আরও শক্ত করে দিচ্ছে, আমাকে শিখাচ্ছে ধৈর্য আর বিশ্বাসের আসল মানে।
আমি শুধু অপেক্ষা করছি আবার একদিন সেই রামাদান আসবে, যেখানে ইফতারের টেবিলে আমি একা থাকব না। আম্মু পাশে থাকবে, আব্বু দোয়া করবে, আর আমি বুঝব এই সব কষ্টের পেছনে একটা সুন্দর কারণ ছিল।
এই দূর দেশের নীরব রামাদান আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের, কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী রামাদান।
#আহলান_সাহলান