14/04/2025
Finally Reached the 100K USD club in Upwork!
মার্চের ২৬/২৭ তারিখেই দুপুর বেলা এক সাথে দুইটা নিউজ পাই, একটা গুড নিউজ আরেকটা ব্যাড নিউজ!
Bad news was FB id suspended !
Good news was my life time earnings in Upwork reached 100k USD!
২০১৫/২০১৬ সালে যখন ফ্রিলানিং ক্যারিয়ার শুরু করি তখন দেখতাম কমিউনিটির বড় বড় ভাই ব্রাদাররা ১০০/২০০/৩০০k এর ক্লাবে। তখন ভাবতাম ইনশাআল্লাহ আমিও একদিন 100k ক্লাব রিচ করব! যদিও unofficially এটা অনেক আগেই হয়ে গেছিল কিন্তু একজন ফ্রিলান্সার হিসেবে একটা নির্দিষ্ট মার্কেটপ্লেসে অফিসিয়ালি রিচ করতে পারাটাও আমার কাছে অনেক বড় কিছু!
তবে Delhi এর আগ্রা তাজমহল থেকে Madrid এর রোমান রয়েল ক্যাসেল, Mirpur স্টেডিয়াম থেকে Bercelona এর ক্যাম্প ন্যু কিংবা ঢাকার হাতিরঝিল থেকে Switzerland এর Luzern অব্দি পৃথিবীর যতগুলা দেশ ঘুরে দেখার এচিভমেন্ট আনলক করছি সব গুলাই অপূর্ণ অপূর্ণ লাগছিল! কারণ আমার ব্যক্তিগত আয়রোজগার দিয়েই আমি দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াই।
জীবনে তেমন বড় কোন এচিভমেন্ট নাই তবে কেউ জিজ্ঞেস করলে আমি বলব আমার ১০ বছর ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ারের এচিভমেন্ট এর লিস্টে সবার উপরে থাকবে আমার upwork এর লাইফ টাইম আর্নিং 100K USD!
আজকের এই জায়গায় আসাটা আমার জন্য মোটেও সহজ কোন কাজ ছিল না। শুনতে যতটা মুখরোচক মনে হলেও। জীবনের এই স্টেজে সত্যিই সবাইকে অনেক স্ট্রাগল করতে হয়! আমরা শুধু সফলতার গল্প গুলাই শুনি। কিন্তু এর পিছনে কত শত নির্ঘুম রাত হতাশা ব্যর্থতা ছিল তা কেউ শুনে না বা শুনতে চায় না!
কেউ যখন বলে আমি ফ্রিলান্সিং করব আমাকে শেখান আমি কাউকে মোটিভেট করি না। এর সব থেকে বড় কারন-
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন educated person এর একাডেমিক ক্যারিয়ার শেষ করে প্রফেশনাল ফিল্ডে এসে এক্সপেক্টিং স্যালারি থাকে ২০/৩০ হাজার আর এই ২০/৩০ হাজার টাকা আয়ের জন্য সময় ব্যয় হয় on an average 15 বছর।
আর মাত্র ৩ মাসের একটা ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করে আপনি এক্সপেক্ট করেন ঘরে বসে লাখ টাকা ইনকাম! এটা সম্ভব না।
আমিও এমনটা কোনদিন ভাবি নাই।
পোস্টের প্রতিটা ছবি আর তার ক্যপ্সহন সাক্ষী আমার এই গত হওয়া ১০ টা তা বছরের।
আমি এই দিন গুলা প্রায়ই মনে করে নিজেকে নিজের অণুপ্রেনা দেই। আমি সব সময় বলতাম নিজের চাইতে বড় মোটিবেশন কেউ হতে পারে না। ইটস ট্রু!!!
সাল যখন ২০১৫ স্কুল জীবন শেষ করে সবাই কলেজ লাইফে তখন আমার সামনে আসে ভয়াবহ এক সংকট।
সংকট এতটাই প্রকট ছিল আমাকে বেছে নিতে হতো একটা অপশন হয় পরাশুনা নয়তো দায়িত্ব।
আমার ওই বয়সী সবাই বলা যায় উরন্চণ্ডী হয়ে ঘুরে বেড়ায় কিন্তু আমার বেলায় একটু ভিন্ন ছিল। সম্ভব ছিল না।
নটর ডেম কলেজ, ময়মনসিংহ শাখায় এডমিশন পাই। কিন্তু যেতে পারিনি কারণ আমার ফ্যামিলি তখন দুই ভাগ এর খরচ বহন করতে হবে বাবার।
স্যাক্রিফাইস করে দিলাম তাদের দিকে তাকিয়ে দেশে সনামধন্য কলেজ নটরডেম।
বন্ধুর মামা Ashikur Rahman Mohin পরামর্শে চলে গেলাম Technical Education ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ নিজের পছন্দের সাবজেক্ট Architecture এ পড়ার জন্য। মানতে কস্ট হলেও মেনে নিয়েছিলাম তখন।
সেই সাথে শুরু হইল জীবন যুদ্ধ।
আমি কখনোই নিজের অতীত ভুলি না। আজকের আমি এই আমি এমনি এমনি হয়ে যাই নাই। আমাকে প্রতিনিয়ত নিজেকে নিজের পোড়াইতে হইছিল।
যেই সময়টা আমার দিনের শুরু হতো টিউশন দিয়ে আর দিনের শেষ হতো টিউশন দিয়ে। দিনের মধ্য ভাগের অল্প সময় টুকুতে করতাম নিজের কলেজ।
আমার মনে পড়ে ঘর্মাক্ত আমি সন্ধায় কলেজ শেষে করে। কলেজ থেকে বের হয়ে ফিরতি পথে শার্ট চেঞ্জ করে চলে যেতাম টিউশন এর বাসায়। বের হয়ে বাসায় আসতে আসতে রাত ১১টা বেজে যেত।
নিজেকে বসবার ফুরসত দিতাম না।
নিজের ইনকাম এর টাকায় ব্রডব্যান্ড কানেকশন নিয়েছিলাম। টার্গেট ছিল নিজেকে কিছু একটাতে স্কিল ডেভলপ করতেই হবে।
সারাদিনের স্ট্রেস,ক্লাস, টিউশন শেষে সেই রাত ১১/১২ টা থেকে শুরু করে মধ্য রাত অব্দি চলত। দিনের পর দিন রাতের পর রাত নিজেকে ডেভলপ করি একটু একটু করে।
তবে এসব এর জন্য যেটা হয় আমি আমার বন্ধু-পরিজন সব ত্যাগ করে দেই। কোন প্রকার ফ্যামিলি ফাংশনে যাইনি। কত গুলা ভাই বোনের বিয়েতেও যাই নিই। ফলে যেটা হয় অনেকের থেকে দূরে সরে যাওয়া। দীর্ঘদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজি বা আউটিং এ না যাওয়াতে যেটা হয় বন্ধুদের মাঝেও আমার দূরত্ব হয়। সবাই ঘুরতে যায় আমি যেতাম না।সব দেখতাম আর ভাবতাম সময় একদিন ভালো আসবে।
সাল ২০১৬ তে আমি প্রথম কাজ পাই 5$ এর অস্ট্রেলিয়ান ক্লাইন্ট।
আমি কাউকে চিনতাম না জানতাম না ফেসবুকে তখন।কোন কমিউনিটি চিনতাম না। একটু যে হেল্প নিব তারও কোন সুযোগ ছিল না।
সমস্যা বাধে আউট অফ সিলেবাস প্রশ্ন আশায়। আমার কোন অভিজ্ঞতা ছিল না প্রিন্টিং এর ব্যাপারে। কিন্তু কাজ ছিল প্রিন্ট মিডিয়ার। সেই কাজ ডেলিভারি করতে আমার সময় লেগেছিল ৭ দিন। ক্লাইন্ট ভদ্রলোক অসম্ভব ভালো বিধায় আমাকে সময় দিয়েছিল এবং আমাকে সাপোর্ট করছিল খুব। এর পর সেই থেকে শুরু!! কোথাও থেমে থাকতে হয় নি। alhamdulillah
সময় এর সাথে সাথে একটু একটু করে সামনে আগাতে থাকি কিন্তু তখনো পুরাপুরি মাইলফলক ছুতে পারি নি। নিজের পড়াশুনার দায় দায়িত্ব এতো কিছুর পরেও আমি বসে থাকি নি। একই ধরে পড়াশুনা নিজের ডেভেলপমেন্ট টিউশন গুলা ধীরে ধীরে কমিয়ে দিয়ে একটা AD agency তে জবের অফার পাই ডিজাইনার হিসেবে। সাল তখন ২০১৭!
সেখানে শুরু হয় নতুন চ্যালেঞ্জ! আমি নিজেকে কখনোই আরাম প্রিয় অবস্থায় রাখি নাই। নিজেকে জানার নিজেকে আরও বেশি করে গ্রো করার জন্য job তা নিয়েই নেই। তবে সেটা পার্ট টাইম ছিল। ছবিতে আমার সেই মুহূর্তের অবস্থা গুলা ক্যাপশন সহ দেয়া আছে।
আমি জানি প্রতিদিন ভাতের বাটি হাতে নিয়ে ঢাকার রাস্তায় একটা প্রাইভেট জব হোল্ডার এর মানুষ এর কী নিদারুণ স্ট্রিম রোলার চলে শরীর এর উপর দিয়ে।
৬ মাসের সেই job তা ছেড়ে দিলাম সেইসময় কারণ ততদিনে আমি পুরুদুস্থর ফ্রিল্যান্সিং এ মন দেই বলে লেভেল ২ এর সেলের হয়ে যাই Fiverr এ। তা ছাড়া ইজ্রাইলি কোম্পানি হয়াতে সেই মারকেটপ্লেস এক মুহূর্তেই ছেড়ে দেই!
২০১২ সালের বিল্ড করা ডুয়েল কোর এর পিসি আর মনিটর এর ডিসপ্লে ইস্যু নিয়ে সেই অবস্থাতেই ধ্বজভঙ অবস্থাতে মাসে ৫/৬ ডিজিট এর ইনকাম জেনারেট করতেছিলাম। এর পর যখন আমার পুরা পিসি ICU তে গেল নতুন করে পিসি বিল্ড করি ১ লাখ টাকায়। এইসব কিছুই নিজের টাকায় সম্ভব হচ্ছিল। সাল তখন ২০১৭ এর শেষ দিকে।
সেই সাথে Upwork এও পুরোদুস্থর কাজ শুরু করি।
১০০০০ ডলার যখন ইনকাম ক্রস করি তখন ছোট টেবিল থেকে তখন বিশাল ৫ ফিতের কাস্টমাইজ টেবিল বানাই, পোর্টেবিলিটির জন্য গেমিং ল্যাপটপ কিনি দেড় লাখ টাকায়।
২০১৮ সালে কাজ করতে করতে পা রাখলাম upwork top rated এর ক্লাবে। সাথে পেলাম বিশাল এক মিলিয়ন ডলার এর কমিউনিটি গ্রুপ। যেখানে আমি ছিলাম সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কারণ আমার আগেও মিলিয়ন ডলার কামানো মানুষ আছে সেই গ্রুপে।এই মানুষ গুলার সানিধ্যে এসে নিজেও অনেক লাকি ফিল করি মাঝে মাঝে।
তবে সব কিছুর পরেও আমার এই জার্নির শুরুর দিকে যে মানুষটা ছিল যার হাতে আমি ডিজাইন শিখি তিনি ছিলেন Emrul Kaesh ভাই। ভাই জানেন কত কত রাত হতাশা ভর করত। হাতিরঝিলের প্রতিটা ব্রিজ জানে ভাই এর সাথে পরামর্শ নিতে নিতে কত কত বার হাটসি আমি ভাই এর সাথে। কৃতজ্ঞ ভাই 💙
সাথে ছিল আরো দুইটা মানুষ বন্ধু Abid Zaman আর একটা গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিল যাকে সবাই জানে অনলাইন জগতের “ফাহিম” সে এখন দুনিয়াতে নাই। এখনো মনে পড়ে কত কত রাত দুইজন মিলা স্কিল ডেভেলপ নলেজ শেয়ার করতাম। এখন এখন দুনিয়াতে নাই তবে তার জন্য আমার মন থেকে দোয়া থাকে সব সময়
এত কিছুর পরেও আর্কিটেকচার এর মতো একটা রিচ সবজেক্টে নিজের সময় দিয়ে ডিপ্লোমাও শেষ করে আসি ২০১৯/২০ সালে।
কাজের সুবাদে দিনকে দিন নিজের আপগ্রেড এর সাথে সাথে কাজেরও ধরন বদলে যাচ্ছিল দেখে আমাকেও আমার গ্যাজেড আপগ্রেড করত হচ্ছিল। নিয়ে নিলাম একটা ২ লাখ টাকার workstation laptop.
Nomads life lead করার স্বপ্ন ছিল অনেক আগ থেকেই, তাই করোনার সময় থেকেই নিজেকে গুছানো শুরু করি একটু একটু করে।
দেশ ছেড়ে দেশের বাহিরে যাব। দুনিয়া দেখতে। এই সাহস তা আসলে নেয়ার পিছনে আমার পিছনে ফেলে আসা বছর গুলা আমার অনুপ্রেরণা ছিল বলতে গেলে। কারণ এক হাতে নিজের পরিবার অন্য হাতে নিজের ক্যারিয়ার সব সামলিয়ে এই স্টেপটা আমার জন্য তো নই আমার বয়সী কোন পরিবার এর বড় সন্তান নেয়ার সাহস করবে না। কিন্তু সেই সাহস তাও নিয়ে ফেলি!
আল্লাহ সহায়ও ছিলেন বলা যায় ইউরোপের মাটিতে পা দেয়ার টিকেট পেয়ে গেলাম। চলে আসলাম পড়াশুনার জন্য ইউরোপে।
এর পর ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের আজকে অব্দি একে একে ইন্ডিয়া, সুইডেন ,পোল্যান্ড,জার্মানি,পর্তুগাল,স্পেন,
ইতালি, সুইজ্যারল্যান্ড ঘুরে ফেলি!!
জীবন সুন্দর অনেক। এই বিশাল জার্নিতে অনেক মানুষ সাথে ছিল, কেউ কেউ থেকে গেছে কেউ কেউ ছেড়ে গিয়েছে। যারা ছেড়ে গিয়েছে তাদের জন্য কৃতজ্ঞতা আর যারা এখনো পাশে আছেন তাদের জন্য অবিরাম ভালোবাসা।
এখনো প্রতিটা মুহূর্ত নিজেকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এর মাঝে দিয়ে যেতে হয়, হচ্ছে, হবে।
এই কথাগুলা যখন বলছি তখন আমি ইউরোপের একটা দেশ পোল্যান্ড থেকে বলছি। বছরের একেকটা মাস আমি এখন একেক দেশে ঘুরে বেড়ায়ে কাটাই আর Travel Vlogging করে বেরাই Life of Tanver
তবে alhamdulillah সব কিছুর পরেও নিজের আর বাবা মায়ের প্রতিটা স্বপ্ন পূরণ করতে পারছি!