28/05/2026
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনাদের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য বাণিজ্যিক মোবাইল লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে নজরদারি ও টার্গেট করার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন ওয়াইডেন প্রকাশিত এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) স্বীকার করেছে যে তারা “শত্রুপক্ষের বাণিজ্যিক লোকেশন ডেটা ব্যবহারের” বিষয়ে একাধিক হুমকি রিপোর্ট পেয়েছে। CENTCOM-এর দায়িত্বপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী রয়েছে, যেখানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।
আইনপ্রণেতারা বলছেন, এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যে সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা মার্কিন সেনাদের বাণিজ্যিক ডেটা ব্যবহার করে নজরদারি করা হয়েছে। তাদের মতে, স্মার্টফোন থেকে সংগ্রহ করা লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে সেনাদের অবস্থান, চলাফেরা এবং দৈনন্দিন রুটিন শনাক্ত করা সম্ভব। এসব তথ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ কিংবা গোয়েন্দা তৎপরতায় কাজে লাগানো হতে পারে।
স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ও অনলাইন সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে এই তথ্য ডেটা ব্রোকারদের কাছে বিক্রি করা হয়, যারা আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে তা সরবরাহ করে। বহুদিন ধরেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য এই ডেটা বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এখন এটি জাতীয় নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে পুরোনো ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৬ সালে একটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিরিয়া পর্যন্ত বিশেষ বাহিনীর গতিবিধি ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়েছিল। সম্প্রতি Wired এবং জার্মান কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ডেটা ব্রোকারদের কাছ থেকে পাওয়া কোটি কোটি লোকেশন ডেটা বিশ্লেষণ করে জার্মানিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটির আশপাশের মানুষের চলাচলও প্রকাশ করেছে।
আইনপ্রণেতারা পেন্টাগনকে পরামর্শ দিয়েছেন সামরিক ডিভাইসে বিজ্ঞাপন আইডি বন্ধ করা, যুদ্ধক্ষেত্রে ফোনের লোকেশন শেয়ারিং নিষ্ক্রিয় করা এবং গুগল ক্রোমের পরিবর্তে আরও গোপনীয়তাকেন্দ্রিক ব্রাউজার ব্যবহার করতে। তবে গুগলের মালিক প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট দাবি করেছে, ক্রোমে “শিল্পখাতের শীর্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা” রয়েছে এবং তারা ডেটা ব্রোকারদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতির পক্ষেও কাজ করছে।