08/08/2026
পর্তুগালের গর্ব "কর্ক সংগ্রহ" - একটি সম্মানজনক টেকনিক্যাল কাজ*
পর্তুগালের বিস্তীর্ণ মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা কর্ক ওক গাছগুলো শুধু গাছ নয়, এগুলো দেশটির অর্থনীতি আর ঐতিহ্যের প্রতীক। আর এই গাছের ছাল সংগ্রহের কাজটি হলো এক বিশেষ টেকনিক্যাল পেশা। যার নাম *"Descortiçador"*। এই কাজ যে কেউ ইচ্ছা করলেই করতে পারে না। আগে শিখতে হয়, তারপর করতে হয়।
দুইজন শ্রমিক মিলে কত নিখুঁতভাবে গাছ থেকে পুরো ছালটা তুলে আনছেন। এটা কোনো সাধারণ কাজ না।
প্রথমে বিশেষ কুড়াল দিয়ে গাছের গায়ে দাগ কাটতে হয়। তারপর আস্তে আস্তে ছাল আলগা করে একটা আস্ত চাদরের মতো নামাতে হয়। জোরে চাপ দিলে গাছের ভিতরের অংশ কেটে যাবে, আর গাছ মরে যাবে। তাই হাতের কাজে অভিজ্ঞতা আর ধৈর্য দুটোই লাগে। একজন নতুন লোককে এই কাজ শিখতে ২-৩ বছর একজন ওস্তাদের সাথে কাজ করতে হয়।
সময় ও বেতন:*
এই কাজ সারা বছর হয় না। প্রকৃতি শুধু *জুন, জুলাই আর আগস্ট* এই ৩ মাসের জন্য অনুমতি দেয়। এই সময়ে গাছের ছাল সবচেয়ে নরম থাকে, তাই সহজে তোলা যায়।
কষ্টের বিনিময়ও ভালো। একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান *৮ ঘন্টা কাজ করে ১৬০ ইউরো* আয় করেন। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ২,২৫০০ টাকা*। এই ৩ মাসে অনেকেই বছরের বড় অংশের আয় করে ফেলেন।
*৩. কাজের গুরুত্ব:*
এই ছাল থেকেই তৈরি হয় ওয়াইনের কর্ক, জুতা, ব্যাগ, ফ্লোরিং সহ দামি দামি জিনিস। মজার বিষয় হলো, গাছ কাটা হয় না। একটা কর্ক ওক গাছ ২০০ বছর পর্যন্ত বাঁচে এবং প্রতি ৯ বছর পর পর নতুন ছাল দেয়। তাই একে "পরিবেশবান্ধব পেশা" ও বলা যায়।
পর্তুগালের কর্ক সংগ্রহ কাজটি কেবল শারীরিক শ্রম না, এটা একটা শিল্প। রোদ, ঘাম আর দক্ষতা মিশে এই কাজে। যারা এই কাজ করে তারা শুধু শ্রমিক না, তারা প্রকৃতি আর ঐতিহ্যের রক্ষক।
আমাদের মতো প্রবাসীরা যখন এই স্কিল শিখে সম্মানের সাথে কাজ করে, তখন দেশের নামও উজ্জ্বল হয়।
এটা কষ্টের কাজ, কিন্তু সম্মান আর উপার্জন দুটোই আছে।