02/12/2025
জিয়াউর রহমান যখন দেশের প্রেসিডেন্ট, ঠিক তখন তারেক জিয়া স্কুলে ভাইভা দিচ্ছেন।
শিক্ষকরা জিজ্ঞেস করলেন— বাবার নাম কী?
তারেক শান্তভাবে বললেন— জিয়াউর রহমান।
শিক্ষকেরা আবার বললেন— প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান?
উত্তরে সে মাথা নেড়ে বলল— হ্যাঁ।
তারপর জিজ্ঞেস করা হলো— তোমার সাথে কে এসেছে?
সে বললো— আমার মা।
বাইরে গিয়ে স্যাররা দেখলেন— খালেদা জিয়া বেঞ্চের ওপর চুপচাপ বসে আছেন।
প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হয়েও নিজের পরিচয় দিয়ে সামান্য সুবিধাটুকুও নেননি।
জিয়াউর রহমান মারা গেলে ঢাকায় তাঁদের কোনো বাড়ি ছিল না।
রাষ্ট্রীয় প্রথা অনুযায়ী— প্রেসিডেন্টের পরিবারকে ক্যান্টনমেন্টে একটি বাড়ি দেওয়া হয়, নামমাত্র মূল্যে; এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।
বছরের পর বছর কেটে গেল…
পরবর্তীতে সেই সাধারণ, বিনয়ী, রাজনীতির বাইরে থাকা বিধবা নারী— খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এলেন।
অন্যদিকে অন্য রাজনৈতিক পরিবারে বড় হওয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা-ও রাজনৈতিক ময়দানে।
কিন্তু ১৯৯১-এ কী হল?
শেখ মজিবুর রহমানের কন্যা হয়েও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা হারলেন সেই “অরাজনৈতিক” পরিবারের নারী— খালেদা জিয়ার কাছে।
জনগণের ভালোবাসায় তিনি হলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
১৯৯৬-এ বিরোধীদলের দাবি মানতে খালেদা জিয়া নিজে দাঁড়িয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করলেন।
তার বিপরীতে পরে ক্ষমতায় গিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সেই বিলই বাতিল করলেন, নিজের অধীনে নির্বাচন করতে চাপ দিলেন।
সেখানেই দুই নেত্রীর চরিত্রের পার্থক্য যেন সবচেয়ে স্পষ্ট।
যমুনা সেতুর কাজ শুরু করেছিলেন খালেদা জিয়া—
উদ্বোধন করলেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, নাম দিলেন নিজের বাবার নামে।
খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ফিরে আসার পরও সেটি পরিবর্তন করলেন না।
কিন্তু ক্ষমতায় এসেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বদলে দিলেন খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজের নাম।
কেন এই প্রতিহিংসা?
খালেদা জিয়ার ওপর যত অন্যায়ই হোক—
তিনি মাথা নত করেননি। সত্যের ওপর অটল ছিলেন, মানুষের ওপর আস্থা হারাননি।
আজও দেশের মানুষ দলমত নির্বিশেষে তাকে ভালোবাসে—
তার মতো দৃঢ়, সহনশীল, জনপ্রিয় নেত্রী আর কোথায়?
আল্লাহ তায়ালা তাকে নেক হায়াত দান করুন।
আর খুব শিগগিরই যেন তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।
আমিন।