14/07/2026
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবুবকর ছিদ্দীক্ব (রাঃ)-এর একজন গোলাম ছিল। তিনি তার জন্য রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি তার রাজস্ব হতে খেতেন। একদিন সে কিছু সম্পদ নিয়ে আসে এবং তিনি সেখান হতে কিছু খান। তখন গোলাম তাঁকে বলল, আপনি এ খাদ্য সম্পর্কে কি জানেন? তিনি বললেন এ কেমন খাদ্য? গোলাম বলল, আমি জাহেলী যুগে গণকী করতাম। আমি মানুষকে ধোঁকা দিতাম। ঐ সময়ের এক লোকের সাথে দেখা হলে সে আমাকে এ খাদ্য প্রদান করে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তখন আবুবকর ছিদ্দীক্ব (রাঃ) মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে সব বমন করে দিলেন (বুখারী, মিশকাত হা/২৭৮৬)।
হাদীসটি ইসলামের ইতিহাসের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং শিক্ষণীয় একটি ঘটনা বর্ণনা করে। এটি সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৩৮৪২) এবং মিশকাতুল মাসাবীহ (হাদীস নং ২৭৮৬) সহ অন্যান্য হাদীসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
এই মহান ঘটনাটি থেকে আমাদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও সারসংক্ষেপ রয়েছে:
১. হালাল উপার্জনের প্রতি কঠোর সতর্কতা
হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) না জেনে ওই খাবারটি খেয়েছিলেন, তাই আল্লাহর দরবারে তিনি গুনাহগার হতেন না। তা সত্ত্বেও, যখনই তিনি জানতে পারলেন যে খাবারের উৎসটি ছিল 'গণকী' বা জ্যোতিষবিদ্যার মতো একটি হারাম ও প্রতারণামূলক কাজ, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা শরীর থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এটি হালাল রুজি ভক্ষণের প্রতি তাঁর চরম তাকওয়া (আল্লাহভীতি) ও সতর্কতার প্রমাণ।
২. জাহেলী যুগের কুসংস্কার ও গণকের উপার্জন
ইসলামে গণকের পেশা, জ্যোতিষবিদ্যা এবং এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ এতে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ধোঁকা দেওয়া হয়। গোলামটি জাহেলী যুগে (ইসলাম গ্রহণের আগে) এই কাজ করেছিল, যার পারিশ্রমিক সে পরবর্তীতে পেয়েছিল।
৩. অনিচ্ছাকৃত ভুলের সংশোধন
মানুষ হিসেবে আমাদের অজান্তে কোনো ভুল বা হারাম খাবার পেটে চলে যেতেই পারে। তবে জানার সাথে সাথেই নিজের সাধ্যমতো তা সংশোধন করা এবং আল্লাহর কাছে তাওবা করাই হলো মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
সংক্ষিপ্ত শিক্ষা:
এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, কেবল নিজের উপার্জনের উৎসই নয়, বরং আমরা যা খাচ্ছি বা গ্রহণ করছি, তার পেছনের উৎসটি কতটা স্বচ্ছ—তা নিয়েও আমাদের সচেতন থাকা উচিত। আত্মশুদ্ধি এবং তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে হলে সন্দেহজনক ও হারাম খাবার বর্জন করা অপরিহার্য।