12/01/2026
আমেরিকান বিমানবাহিনীর অত্যন্ত গোপনীয় ও অত্যন্ত দুর্লভ বিমান বোয়িং E-4B নাইটওয়াচ (Boeing E-4B Nightwatch) যাকে ‘কিয়ামতের বিমান’’ বা ‘‘দোজখের বিমান’’** (Doomsday Plane) বলা হয়, তার ৫১ বছর পর হঠাৎ এই উড়ান বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
একই সময়ে ইসরায়েলের হাজার হাজার নাগরিকের মোবাইলে অজানা উৎস থেকে রহস্যময় বার্তা এসেছে, যাতে লেখা:
“আমরা আসছি… মধ্যরাতে আকাশের দিকে তাকাও”
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হয়তো সত্যিটা জানেন, কিন্তু তারা এখনও বলছেন যে তারা জানতে পারেননি কে বা কোথা থেকে এই বার্তাগুলো পাঠিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নম্বরগুলো দেখে মনে হচ্ছে ব্রিটিশ নম্বর, তবে খুব সম্ভবত এগুলো জাল বা স্পুফ করা নম্বর (Spoofed Numbers)।
ইসরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা সম্ভবত মানসিক যুদ্ধ (psychological warfare)-এর অংশ, আর এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি হামলার কোনো প্রমাণ নেই।
এই বার্তাগুলোর পেছনে প্রশ্ন উঠছে—এর পেছনে কি ইরানের সাইবার বাহিনী জড়িত?
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তারা ইসরায়েলের অবকাঠামোতে সাইবার হামলা এবং মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্য করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে খবর।
তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ মেলেনি।
অন্যদিকে, গত কয়েক ঘণ্টায় আমেরিকান সামরিক তৎপরতাও অস্বাভাবিক।
জার্মানি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে C-17 গ্লোবমাস্টার সামরিক পরিবহন বিমানের উড়ান ধরা পড়েছে।
এগুলো সাধারণত ভারী অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যুদ্ধ সরঞ্জাম বহনের জন্য ব্যবহার হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন বিমানের চলাচল সাধারণত বড় কোনো সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
একই সঙ্গে, আকাশ নজরদারি ব্যবস্থা জানিয়েছে যে আমেরিকার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান KC-135 স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার কাতারের আল উদেইদ এয়ারবেস থেকে উড়ে পারস্য উপসাগর ও ইরাকের আকাশে টহল দিয়েছে।
এই বিমানগুলো দীর্ঘদূরত্বের আকাশ হামলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এরা যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানকে আকাশে অনেকক্ষণ ধরে রাখার ক্ষমতা দেয়।
এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে যখন ইকোনমিক টাইমস রিপোর্ট করেছে যে প্রায় ৫১ বছর পর প্রথমবার আমেরিকার ‘‘কিয়ামতের বিমান’’ লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা গেছে।
এই বিমান একটি উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার, যা পারমাণবিক যুদ্ধ বা স্থলভিত্তিক কমান্ড কেন্দ্র ধ্বংস হলে প্রেসিডেন্ট ও উচ্চ সামরিক নেতৃত্বের জন্য ব্যবহারের জন্য তৈরি রাখা হয়। এটি পারমাণবিক ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক হামলা থেকে সুরক্ষিত।
পরে খবরে জানা গেছে, এই উড়ানে আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (Pete Hegseth) এবং ডানপন্থী কর্মী লরা লুমার (Laura Loomer) ও ছিলেন।
সফরের উদ্দেশ্য লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লোকজনের সঙ্গে বৈঠক বলে জানানো হচ্ছে।
যদিও হোয়াইট হাউস বা আমেরিকান বিমানবাহিনী কোনো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেনি, তবু বিশ্বের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই বিমানের হঠাৎ উপস্থিতিকে শুধু কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এগুলো হয় সামরিক মহড়া, রাজনৈতিক চাপ, নয়তো কোনো বড় সম্ভাব্য সামরিক ঘটনার প্রস্তুতি হতে পারে।
এখন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আরও তথ্য বেরোতে পারে।
কিন্তু অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে কিছু একটা বড় ও খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।
আল্লাহ সব নিরীহ মানুষকে দাজ্জালি শক্তির অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন।
--- rekaul sk