26/04/2026
পহেলা বৈশাখ আসতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি,আমরা বন্ধুরা মিলে পহেলা বৈশাখে একটা অনুষ্ঠান করব তার তোরজোর চলছে,সকাল বেলা দোকান খুলে বসছি, দোকানে দুইজন মহিলা কাস্টোমার আসল বোরখা পরা আমাদের গ্রামেই মেয়ে ওরা দুই বোন বড় জনের নাম বৃষ্টি ছোট্ট জনের নাম মেঘলা, আসছে মোবাইল সার্ভিসিং করতে, মোবাইল সার্ভিসিং করতে করতে পহেলা বৈশাখের দাওয়াত দিলাম, বৃষ্টি বলল আমরা থাকতে পারব না স্বামীর বাড়ি চলে যাব, ফোন দিয়েন চেষ্টা করব আসার জন্য,আমি বললাম আপনার নাম্বার তো নেই,আমি বললাম আমার নাম্বার নিয়ে যান,বলল না আপনিই আমার নাম্বার রাখেন, নাম্বার দিয়ে চলে গেল,মেয়েটাকে ছোট থেকেই আমি খুব পছন্দ করতাম পরীর মত সুন্দর, স্মার্ট, এর আগ বৃষ্টির সাথে কখনও কথা হয়নি আমার, দুই দিন ভাবলাম ফোন দিব কি দিব না,কি না কি ভাববে,চিন্তা করলাম একটা মিস কল দিয়ে দেখি কোন সারা পাই কি না,মিস কল দেওয়ার সাথে সাথে ফোন দিয়েছে, আমি কেটে দিয়ে ফোন দিলাম পরিচয় তেমন দিতে হল না এমনিতেই চিনল,মনে হল বৃষ্টি আমার অপেক্ষায়ই ছিল,অনেক মিনিট কথা বলার পর কেঁদে ফেলল, বলল আমি খুব বড় একটা সমস্যা পড়েছি, আমি বললাম কি হয়ে বলবেন,গড় গড় করে বলতে শুরু করল মনে হল আমি ওর যুগ যুগ আগের চেনা কেউ কোন সংকোচ করল না,,,বলল আমি একজনের প্রেমের পড়ছি কিন্তু সে আমাকে পাত্তা দিচ্ছে না, আমি চুপ হয়ে গেলাম কি বলব বুঝতে পারছি না,বলল দয়া করে আমার সংসার টা একটু বাচান,আমি ওকে ভুলতে পারছি না,সবাই জেনে গেলে আমার সংসার টা নষ্ট হয়ে যাবে,আমি ওর জন্য পাগল হয়ে গেছি,আমি বললাম আমি কি করতে পারি আপনার জন্য, বলল আমি ছেলেটা নাম্বার দিচ্ছি আপনি একটু বলেন আমাকে ফোন দিতে,আমি কি বলল বুঝতে পারছি না, যাকে আমি ছোট সময় থেকে পছন্দ করি সে অন্য জনের সাথে কথা বলবে সেটা আমার মাধ্যমে মেনে নিতে খুব কষ্ট হল,কষ্ট যতই হোক বৃষ্টির হাসি দেখতে চাই আমি, ছেলেটা ফোন দিলাম বিস্তারিত বললাম ছেলেটা শিক্ষিত ভদ্র মনে হল, ছেলেটা বলল দেখেন ভাই আমি একটা এনজিও কর্মী বৃষ্টি আমার সদস্য সেই হিসাবে ১৫/১৬ দিন কথা বলছি এর মধ্যে ও পাগলামি শুরু করছে আমার গার্লফেন্ড আছে আমি সাত বছর হল রিলেশন আছি, আমি সেই মেয়েকেই বিয়ে করব,আর বৃষ্টি বিবাহিত দুইটা বাচ্চা আছে আমি কি করব বলেন,বললাম ভাই ওর সাথে কয়েক মিনিট কথা বলেন অনেক অনুরোধ করার পর রাজি হল,কিন্তু ফোনে টাকা নেই,আমি বললাম টাকা আমি রির্চাজ করে দিচ্ছি আপনি তবু একটু কথা বলেন,তখনকার সময় ৪৯ টাকার অফার ছিল, আমি ৪৯ টাক রির্চাজ করে দিলাম, ছেলে আমার কথা অনুয়ায়ী কয়েক মিনিট কথা বলল,এই ভাবেই পরিচয় হল আমাদের, বলল এই নাম্বারে ইমু আছে এড করেন, আমি নাম্বার সেভ করলাম ইমু চলে আসল, শুরু হল চ্যাটিং,, কথা বলা,সারাক্ষণ চলত,,মাঝে মাঝে যখন ছেলেটা কথা বলত তখন আমি ৪৯ টাকা রির্চাজ করে ছেলেটাকে অনুরোধ করতাম ৪/৫ মিনিট কথা বলত,বাকি সময় আমরা দুইজন কথা বললাম দিনরাতে কমপক্ষে ২০ ঘন্টা কথা বলতাম, চ্যাটিং ফোন কল মিলিয়ে,, আস্তে আস্তে ছেলেটার কথা কম বলত,স্বাভাবিক হতে শুরু করল,, ঠিক আমি যেমন টা চেয়েছিলাম আমাদের মাঝে বন্ধু টা তেমনই শুরু হল,খুশি হাসি খুশি থাকতাম দুইজন। এর মাঝে আমার মনে হল আমি ডুবতে শুরু করিছি,ওকে বললাম বৃষ্টি ভারতের একটা বাংলা ছবি আছে নাম মানিক জিৎ এর ছবির মানিক, জিৎ মানিকের অভিনয় করতে করতে মানিক হয়ে যায় আমিতো মানিক হয়ে যাচ্ছি, তুমি পএক জায়গায় পড়েছিলে আমি তুললাম আমি পড়ে গেলে কে তুলবে, আমার এখান থেকে বের হওয়া দরকার বৃষ্টি বলল না আমরা সারাজীবন এইভাবেই থাকব কেউ কাউকে ছেড়ে যাব না,আরও হাজার হাজার কথা... হয় সব সময়। কোন ভাবেই ও আমাকে একমিনিটের জন্য দুরে যেতে দেয় না,,তখন বুঝলাম ও ডুবতে করেছে,এই ভাবে চলতে চলতে দুইজনের ডুবে গেছি কখন বুঝতেই পারিনি এত মায়া এত মমতায় পরিপূর্ণ একটা সম্পর্ক হল কল্পনাও করা যায় না,ঠিক চাওয়ার চেয়ে বেশি,, হঠাৎ একদিন আমি ঢাকায় গেলাম একটা কাজে, সারা রাস্তা কথা বলতে বলতে গেলাম, রাতেও কথা বললাম কিন্তু রাতে প্রতিদিনের মত সময় দিতে পারলাম না কারণ আমি যে জায়গায় ছিলাম রাতে সেখানে বেশি কথা বলার পরিবেশ ছিল না, যতটা কথা বললাম রুমের বাহিরে এসে,রাতে আমি ঘুমিয়ে গেলাম তেমন একটা ঘুম হল না আমার, ভোরে উঠলাম, মোবাইলের ডাটা চালু করলাম কোন এসএমএস নেই আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম প্রায় এক বছর হয়েছে এমন তো কখনও হয় নাই আমি ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন প্রায় ৮/১০ এসএমএস পাই প্রতিদিন একদিন ও মিস হয় না,আমি ওর আগে একদিন এসএমএস করতে পারি না,কি হল বুঝতে পারছি না,ফোন দিলাম যাকে আমি কখনোই ফোন আগে দেওয়ার সুযোগ পাইনি তাকে আজ আমি ফোন দিলাম ফোন ধরে না,আমি তারাতাড়ি রওনা দিলাম না খেয়েই সারা রাস্তা ফোন দিতে দিতে আসছি ফোন ধরছে না,চিন্তা আরও বেড়ে গেল,বাড়ির ১২ কিঃমিঃ দুরে একটা উপজেলা শহর আছে সে আসলাম সকাল ৯ টা বাজে তখন, ভাবলাম মুখটা ধুয়ে নাস্তা করি কাছাকাছি আসছি যেহেতু , নাস্তা নিয়ে বসছি নাস্তা আর ভিতরে যায় না, হাত পা থর থর করে চাপছে আমার,ফোন দিতেই আছি একটু পর পর,হঠাৎ ফোন ধরল, ধরে বলল এত ফোন দিচ্ছি কেন যে কথা ও কোন দিন বলে নাই,আমি বললাম কি হয়েছে তোমার ফোন দিচ্ছি ধর না,বলল আমি সমস্যায় আছি আর তোমার সাথে কথা বলতে পারব না,তুমি আর আমাকে ফোন দিও না,আমি বললাম কি হয়ে বল, বাড়িতে সমস্যা আর কথা বলব না,এটা বলে ফোন কেটে দিল,আমার সারা শরীল অভাস হয়ে গেল,উঠে দাড়াতেও পারছি না,নাস্তা রেখেই চলে আসলাম সরাসরি দোকানে, সারাদিন আর কোন কিছু ভাল লাগছে না,মাঝে মাঝে চোখ দিয়ে নিজের অজান্তেই পানি চলে আসছে,সারাদিন আর ফোন দিলাম না,আর কোন কিছু খেলামও না,এশার আযানের পর আর থাকতে পারলাম আমি, আবার ফোন দিলাম ফোন ব্যস্ত, বার বার দিতে লাগলাম ফোন ব্যস্ত ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যস্ত, তখন আমার মাথায় আর কোন কিছু কাজ করছে না, আমি পরিপুর্ণ একজন পাগলের মত হয়ে গেছি,সারাদিন না খাওয়া প্রচুর শীত,শরীর থর থর করে চাপছে, ফোনে দিতে দিতে একটা সময় কল ডুকল কিন্তু ফোন ধরে না বার বার দিতে দিতে একবার ধরল, ধরেই বলল ফোন দিস কেন বলছি না আর কথা হবে না,আমি বললাম কি হয়ে তোমার বল,বলে কিছু না,আমি বললাম এত রাতে কার সাথে কথা বল, এখন তো অনেক রাত প্রায় ১২ টা বাজে,বলল চাচি শাশুড়ি ফোন দিয়েছিল, আমি বললাম তোমার ফোনে তো টাকা নেই তাহলে এত কথা বলব টাকা পেলে কিভাবে, বলল চাচি শাশুড়িই ফোন দিয়েছিল, আমি বললাম এমন কোন চাচিশাশুড়ি তোমার তার ফোনে এত টাকা থাকে তোমাকে তো আমিই রির্চাজ করে দই ৪৯ টাকা করে সেই টাকায় তো এত কথা বলা যাবে না,তাও আজ রির্চাজ করে দেই নাই,সাত পাঁচ বুঝ দিয়ে কেটে দিল,শুরু হল আমার জীবনের মৃত্যুর যন্ত্রণা, #আজ প্রথম (১)পার্ট অনেক গুলো পার্ট হবে,,১৫ বছরের কাহিনি মানুষ কিভাবে প্রয়োজনে প্রিয় বানায় বলব,দয়া করে শেয়ার করবেন,যাতে আমার মত বোকা কেউ আর না হয়,, #