Mix video398

Mix video398 কারো উপর প্রতিশোধ নেওয়ার আনন্দ কয়েকদিন থাকে, কিন্তু কাউকে ক্ষমা করার আনন্দ আজীবন থাকে।

আপনি জানতে চাচ্ছেন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের শেষভাগ ও তার পরবর্তী কী ঘটেছিল।নবীর শেষ সময়:মক্কা বিজয়ের পর (৬৩০ খ্রি.)...
29/04/2026

আপনি জানতে চাচ্ছেন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের শেষভাগ ও তার পরবর্তী কী ঘটেছিল।

নবীর শেষ সময়:
মক্কা বিজয়ের পর (৬৩০ খ্রি.) আরবের বিভিন্ন গোত্র দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিদায় হজ সম্পন্ন করেন, যেখানে ‘বিদায় খুতবা’ দেন—যা মানবাধিকার ও ন্যায়ের এক চিরন্তন ঘোষণা। মদিনায় ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ৬৩ বছর বয়সে (১১ হিজরি, ৮ জুন ৬৩২) ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুশয্যায় শেষ কথা ছিল: “আমি আমার প্রভুর দিকে যাচ্ছি।” তাঁকে তাঁর নিজ ঘরেই জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তার পর কী হলো (নবীর পরবর্তী যুগ):
১. খিলাফতের সূচনা: সাহাবীরা আবু বকর (রা.)-কে প্রথম খলিফা নির্বাচিত করেন। তিনি মিথ্যা নবী ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালান এবং কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন।
২. উমর (রা.)-এর শাসন: পরবর্তীতে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) খলিফা হন। তাঁর সময়ে সিরিয়া, মিশর, পারস্য বিজিত হয় এবং ইসলামী সাম্রাজ্য দ্রুত বিস্তৃত হয়।
৩. উসমান ও আলী (রা.)-এর যুগ: পরে উসমান (রা.) কুরআনের মানক কপি তৈরির ব্যবস্থা করেন, আর আলী (রা.)-এর শাসনামলে অভ্যন্তরীণ ফিতনা দেখা দেয়।
৪. ইসলামের স্থায়ী রূপ: নবীর জীবন ও বাণী হাদীস ও সীরাত সাহিত্যে সংকলিত হয়। তাঁর আদর্শ পরবর্তী শতাব্দী ধরে সমগ্র বিশ্বে ইসলাম প্রচারের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

সংক্ষেপে, নবীর ইন্তেকালের পর তাঁর রেখে যাওয়া কুরআন ও সুন্নাহের ভিত্তিতে ইসলাম বিশ্বের একটি প্রধান ধর্মে পরিণত হয়।

29/04/2026

নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল দয়া, সত্যবাদিতা ও ন্যায়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর জন্ম ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশের বনু হাশিম গোত্রে। পিতা আবদুল্লাহ তাঁর জন্মের আগেই মারা যান, মা আমিনা তাকে ৬ বছর বয়সে রেখে যান। এরপর তিনি দাদা আবদুল মুত্তালিব ও চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে বড় হন।

বাল্যকালে তিনি ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) উপাধি লাভ করেন। ২৫ বছর বয়সে ব্যবসায়ী খাদিজা (রা.)-এর প্রস্তাবে তার সাথে বিবাহ করেন, যিনি ছিলেন তাঁর প্রথম ও জীবদ্দশায় একমাত্র স্ত্রী যতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন। ৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে প্রথম ওহী লাভ করেন। এরপর তিনি মক্কায় ১৩ বছর কঠিন প্রতিকূলতার মধ্যেও ইসলাম প্রচার করেন।

৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন, যেখানে তিনি একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলেন। তিনি ক্ষমার অনন্য উদাহরণ রেখে যান—মক্কা বিজয়ের দিন সেই সকল শত্রুকেও ক্ষমা করেছিলেন যারা তাকে বহু বছর নির্যাতন করেছিল। তাঁর চরিত্র ছিল অপরিসীম ধৈর্য, সরলতা ও মানবতার। তিনি বাড়ির কাজে সাহায্য করতেন, অভাবীদের পাশে দাঁড়াতেন, এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মানুষকে এক আল্লাহর পথে ডেকেছিলেন।

সূরা আর-রাদ (১৩ নং সূরা) এর ১১ নং আয়াতের অর্থ ও তাৎপর্য নিচে দেওয়া হলো:আরবি:لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِ...
05/04/2026

সূরা আর-রাদ (১৩ নং সূরা) এর ১১ নং আয়াতের অর্থ ও তাৎপর্য নিচে দেওয়া হলো:

আরবি:
لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ ۗ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ ۚ وَمَا لَهُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَالٍ

উচ্চারণ:
লাহু মুআক্কিবাতুম মিম বায়নি ইয়াদায়হি ওয়া মিন খালফিহি ইয়াহফাজুনাহু মিন আমরিল্লাহ। ইন্নাল্লাহা লা ইউগাইয়িরু মা বিকাওমিন হাত্তা ইউগাইয়িরু মা বিআনফুসিহিম। ওয়া ইজা আরাদাল্লাহু বিকাওমিন সুউআন ফালা মারাদ্দা লাহু। ওয়া মা লাহুম মিন দুনিহি মিওয়ালিন।

বাংলা অর্থ:
"প্রত্যেক মানুষের জন্য তার সামনে ও পেছনে একের পর এক (ফেরেশতা) নিযুক্ত আছে, তারা আল্লাহর আদেশে তাকে পাহারা দেয়। নিশ্চয় আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আর যখন আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের জন্য অকল্যাণ চান, তবে তা ঠেকানোর কেউ নেই। আর তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই।"

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (তাফসীর):

· মুআক্কিবাত (পাহারাদার ফেরেশতা): প্রতিটি মানুষের সঙ্গে দুটি করে ফেরেশতা থাকে (একজন সামনে, একজন পেছনে), যারা আল্লাহর নির্দেশে তাকে বিভিন্ন বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে।
· শর্তহীন ভাগ্য পরিবর্তন নয়: আল্লাহ কোনো জাতির ভালো বা মন্দ অবস্থা বদলান না, যতক্ষণ না তারা নিজেরাই তাদের চিন্তা-আচরণ, বিশ্বাস ও কর্মের পরিবর্তন ঘটায়। এটি কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক নীতি।
· আল্লাহর সিদ্ধান্ত প্রতিরোধহীন: যদি আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়কে শাস্তি দিতে চান, তবে তা রদ করার কেউ নেই। তিনি ছাড়া আর কোনো অভিভাবক বা রক্ষাকারী নেই।

এই আয়াতটি মানুষকে দায়িত্বশীল হতে এবং আত্ম-পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজ ও ব্যক্তিজীবনের উন্নতি সাধনের অনুপ্রেরণা দেয়।

নিচে সূরা আল-‘আনকাবূত (২৯ নং সূরা) এর ৫৫-৫৮ নং আয়াতের আরবি পাঠ, উচ্চারণ, বাংলা অনুবাদ ও ইংরেজি অনুবাদ দেওয়া হলো। এই আয়াত...
22/03/2026

নিচে সূরা আল-‘আনকাবূত (২৯ নং সূরা) এর ৫৫-৫৮ নং আয়াতের আরবি পাঠ, উচ্চারণ, বাংলা অনুবাদ ও ইংরেজি অনুবাদ দেওয়া হলো। এই আয়াতগুলোতে কিয়ামতের দিন শাস্তির ভয়াবহতা, মুমিনদের জন্য আল্লাহর যমীন প্রশস্ত হওয়ার ঘোষণা, মৃত্যুর অনিবার্যতা এবং জান্নাতের উচ্চ কক্ষে মুমিনদের স্থানের সুসংবাদ বর্ণিত হয়েছে।

---

আয়াত ৫৫

আরবি:
يَوْمَ يَغْشَاهُمُ الْعَذَابُ مِن فَوْقِهِمْ وَمِن تَحْتِ أَرْجُلِهِمْ وَيَقُولُ ذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

উচ্চারণ: ইয়াওমা ইয়াগশাহুমুল ‘আযাবু মিন ফাওকিহিম ওয়া মিন তাহতি আরজুলিহিম ওয়া ইয়াকূলু যূকূ মা কুনতুম তা‘মালূন।

বাংলা অনুবাদ: যেদিন তাদেরকে শাস্তি আচ্ছন্ন করবে ওপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে, আর (আল্লাহ) বলবেন, ‘তোমরা যা করতে তা আস্বাদন করো।’

ইংরেজি অনুবাদ: On the Day when the punishment will overwhelm them from above them and from beneath their feet, and He will say, "Taste what you used to do."

---

আয়াত ৫৬

আরবি:
يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ أَرْضِي وَاسِعَةٌ فَإِيَّايَ فَاعْبُدُونِ

উচ্চারণ: ইয়া ‘ইবাদিয়াল্লাযীনা আমানূ ইন্না আরদী ওয়াসি‘আতুন ফা ইয়্যায়া ফা‘বুদূন।

বাংলা অনুবাদ: হে আমার মুমিন বান্দারা, নিশ্চয় আমার যমীন প্রশস্ত; অতএব তোমরা শুধু আমারই ইবাদাত কর।

ইংরেজি অনুবাদ: O My servants who have believed, indeed My earth is spacious, so worship only Me.

---

আয়াত ৫৭

আরবি:
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۖ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ

উচ্চরণ: কুল্লু নাফসিন যাইকাতুল মাওত, সুম্মা ইলাইনা তুরজা‘ঊন।

বাংলা অনুবাদ: প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণকারী; অতঃপর তোমরা আমারই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।

ইংরেজি অনুবাদ: Every soul will taste death. Then to Us you will be returned.

---

আয়াত ৫৮

আরবি:
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُبَوِّئَنَّهُم مِّنَ الْجَنَّةِ غُرَفًا تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ نِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা আমানূ ওয়া ‘আমিলুস সলিহাতি লানুবাওয়ি’আন্নাহুম মিনাল জান্নাতি গুরাফান তাজরী মিন তাহতিহাল আনহারু খালিদীনা ফীহা নি‘মা আজরুল ‘আমিলীন।

বাংলা অনুবাদ: আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, আমি তাদের জান্নাতের উচ্চ কক্ষে স্থান দেব, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত; তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। কতই না উত্তম কর্মঠদের পুরস্কার!

ইংরেজি অনুবাদ: And those who have believed and done righteous deeds – We will surely assign them in Paradise chambers beneath which rivers flow, wherein they will abide eternally. Excellent is the reward of the [righteous] workers.

---

যদি এ আয়াতগুলোর তাফসীর বা বিশ্লেষণ জানতে চান, তবে জানাতে পারেন।

09/03/2026

সূরা লোকমানের ১৬ নং আয়াতটি নিম্নরূপ:

আরবি:
"يَا بُنَيَّ إِنَّهَا إِن تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ فَتَكُن فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَاوَاتِ أَوْ فِي الْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ"

বাংলা উচ্চারণ:
"ইয়া বুনাইয়া ইন্নাহা ইন তাকু মিসকালা হাব্বাতিম মিন খারদালিন ফাতাকুন ফী সাখারাতিন আও ফিস সামাওয়াতি আও ফিল আরদি ইয়া’তি বিহাল্লাহু ইন্নাল্লaha লাতীফুন খাবীরুন"

বাংলা অনুবাদ:
"হে বৎস! নিশ্চয় কোনো কাজ সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা যদি পাথরের ভিতরে বা আকাশে বা যমীনে থাকে, তবে আল্লাহ তা উপস্থিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী, সবকিছু সম্পর্কে অবহিত।"

তাফসীর/ব্যাখ্যা:
এই আয়াতে হযরত লুকমান (আ.) তার সন্তানকে উপদেশ দিচ্ছেন। তিনি বলছেন যে আল্লাহ্ তা'আলা সকল কাজের খবর রাখেন, regardless of how small or hidden it may be. Even if a good or bad deed is equivalent to the weight of a mustard seed and is hidden inside a rock or anywhere in the heavens or the earth, Allah will bring it forth on the Day of Judgment for reckoning. This emphasizes Allah's ultimate knowledge and awareness of everything, encouraging people to always be conscious of their actions.

প্রাসঙ্গিক শিক্ষা:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখতে পারি যে: ১.আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ এবং তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই গোপন নয়। ২.আমাদের প্রতিটি কাজ, regardless of its size, will be accounted for in the Hereafter. ৩.Therefore, we should always strive to do good and avoid evil, no matter how insignificant it may seem.

এই আয়াতটি আল্লাহর无限 জ্ঞান ও পরিশোধনের প্রতি iman বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

সূরা বাকারার প্রথম তিন আয়াত হলো:بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِالٓمٓ (১) ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ ...
01/03/2026

সূরা বাকারার প্রথম তিন আয়াত হলো:

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
الٓمٓ (১) ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ (২) الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ (৩)

বাংলা উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আলিফ-লাম-মীম। (১)
যা-লিকাল কিতা-বু লা- রাইবা ফীহ; হুদাল লিল মুত্তাকীন। (২)
আল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিল গাইবি ওয়া ইউকীমূনাস সলা-তা ওয়া মিম্মা- রাযাকনা-হুম ইউনফিকূন। (৩)

বাংলা অর্থ:
শুরু করছি আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
১. আলিফ-লাম-মীম।
২. এটা সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ।
৩. যারা গায়েবের (অদৃশ্য বিষয়ের) উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।

এই আয়াত তিনটির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:

প্রথম আয়াত: 'আলিফ-লাম-মীম' হচ্ছে হরফ-মুকাত্তা'আত (বিচ্ছিন্ন অক্ষর)। এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। এটি কুরআনের একটি রহস্য এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা কুরআনের অলৌকিকতার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই কিতাব এসব অক্ষর দ্বারাই রচিত, তবুও এর সমতুল্য কিছু পেশ করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব।

দ্বিতীয় আয়াত: এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা কুরআনকে 'লা রাইবা ফীহ' তথা 'নিঃসন্দেহে' বা 'এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই' বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এটি পূর্ণ নিশ্চয়তা ও দৃঢ়তার সাথে বর্ণিত হয়েছে। এই কিতাব 'মুত্তাকীন' অর্থাৎ যারা আল্লাহভীরু ও তাকওয়ার অধিকারী, তাদের জন্য পথনির্দেশ।

তৃতীয় আয়াত: এখানে মুত্তাকীদের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে:
১. তারা গায়েবের (অদৃশ্য বিষয়) প্রতি ঈমান আনে - যেমন আল্লাহ, ফেরেশতা, আখিরাত, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি।
২. তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে - অর্থাৎ যথাযথভাবে সব শর্ত ও রুকনসহ নামাজ আদায় করে।
৩. তারা আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে ব্যয় করে - এতে জাকাত, সদকা ও অন্যান্য দান-খয়রাত অন্তর্ভুক্ত।
৪. (পরবর্তী আয়াতে) তারা আপনার প্রতি এবং পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তাতে ঈমান আনে।
৫. তারা আখিরাতে (পরকালে) নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে।

এই আয়াতগুলোতে কুরআনের মর্যাদা ও মুত্তাকীদের গুণাবলী সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। মুত্তাকীরাই সফলকাম এবং তারাই হেদায়েত লাভ করে।

وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُআপনি সূরা আল-বাকারার ১ম ও ২য় আয়াতের অংশবিশেষ উদ্ধৃত করেছেন। আয়াত দুটি হল:الٓمٓ (১) ذَٰلِكَ ٱل...
24/02/2026

وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ

আপনি সূরা আল-বাকারার ১ম ও ২য় আয়াতের অংশবিশেষ উদ্ধৃত করেছেন। আয়াত দুটি হল:

الٓمٓ (১) ذَٰلِكَ ٱلْكِتَـٰبُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًۭى لِّلْمُتَّقِينَ

উচ্চারণ: "আলিফ-লাম-মীম। জালিকাল কিতাবু লা রাইবা ফীহি, হুদাল লিল-মুত্তাকীন।"

অর্থ: "আলিফ-লাম-মীম। এ সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ।"

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:

১. আলিফ লাম মীম: এটি 'হুরূফে মুকাত্তা'আত' (বিচ্ছিন্ন অক্ষর)। এ ধরনের অক্ষর দিয়ে অনেক সূরা শুরু হয়েছে। এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহই ভালো জানেন। আলেমরা বলেন, এ অক্ষরগুলো কুরআনের অলৌকিকতার দিকে ইঙ্গিত করে যে, এই কিতাব এ অক্ষর দিয়ে গঠিত হওয়া সত্ত্বেও কেউ এর অনুরূপ রচনা করতে পারেনি।

২. জালিকাল কিতাব: 'এ সেই কিতাব' - অর্থাৎ এটি অত্যন্ত মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ।

৩. লা রাইবা ফীহ: এতে কোনো সন্দেহ নেই - এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সত্য গ্রন্থ, এর মধ্যে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা অসত্য নেই।

৪. হুদাল লিল-মুত্তাকীন: এটি তাদের জন্য পথনির্দেশ যারা আল্লাহকে ভয় করে, তাঁকে মাবুদ হিসেবে মেনে চলে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে জীবনযাপন করে।

এই আয়াত দিয়ে আল্লাহ তাআলা প্রমাণ করেছেন যে কুরআন সত্য ও নির্ভরযোগ্য পথনির্দেশ, এবং প্রকৃতপক্ষে তারাই এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে যারা মুত্তাকী (মুমিন ও আল্লাহভীরু)।

08/11/2025
29/10/2025

সূরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَٰجِنَا وَذُرِّيَّـٰتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَٱجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

বাংলা অনুবাদ:
"আর যারাবলে, 'হে আমাদের রব! আমাদেরকে আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির পক্ষ থেকে চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য নেতা বানিয়ে দিন।'"

তাফসীর:
এই আয়াতেআল্লাহ তাআলা তাঁর প্রকৃত বান্দাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণের বর্ণনা দিচ্ছেন। তারা আল্লাহর কাছে দুটি বিশেষ দোয়া করেন:

১. পরিবারের মাধ্যমে চোখের শীতলতা: তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যে তাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি যেন তাদের চোখের শীতলতা ও হৃদয়ের প্রশান্তির কারণ হয়। অর্থাৎ, তাদের পরিবার যেন আল্লাহর অনুগত, নেককার ও ঈমানদার হয়, যাদের দেখলে তারা খুশি হয় এবং যারা দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।

২. মুত্তাকীদের নেতা হওয়ার দোয়া: তারা শুধু নিজেরাই নেককার হওয়ায় সন্তুষ্ট থাকেন না; বরং তারা আরও বেশি আকাঙ্খা করেন। তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যে, তিনি যেন তাদেরকে মুত্তাকী (আল্লাহভীরু) peopleদের জন্য নেতা বা আদর্শ বানিয়ে দেন। অর্থাৎ, মানুষ যেন তাদের কথায়, কাজে ও চরিত্রে অনুপ্রাণিত হয় এবং তারা যেন সৎকাজের দিকে ডাকতে পারে।

এই আয়াতটি মুমিনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন বহন করে। এটি শিক্ষা দেয় যে,

· একজন মুমিনের দোয়া ও চিন্তা শুধু নিজের জন্য সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবার ও সমাজের জন্য প্রসারিত করতে হবে।
· শুধু নিজে নেককার হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং অন্যদের জন্য আদর্শ হয়ে উঠতে চেষ্টা করতে হবে।
· সৎ সন্তান ও পবিত্র পরিবার হলো আল্লাহর এক মহান নেয়ামত, যা তাঁর কাছেই কামনা করতে হয়।

এই দোয়াটি নিয়মিত পড়া এবং এর মর্মার্থকে জীবনে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা উচিত।

29/08/2025

সূরা আল-আনআমের ১৭ নং আয়াতটি নিম্নরূপ:

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ ۖ وَإِنْ يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

বাংলা উচ্চারণ: "ওয়াইইন ইয়ামসাসকাল্লাহু বিদুররিন ফালা কাশিফা লাহু ইল্লা হুওয়া ওয়া ইইন ইয়ামসাসকা বিখাইরিন ফাহুওয়া 'আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।"

বাংলা অনুবাদ: "আর যদিআল্লাহ তোমাকে কষ্ট স্পর্শ করান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমাকে কল্যাণ স্পর্শ করান, তবে তিনি প্রত্যেকটি জিনিসের উপর ক্ষমতাবান।"

---

ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য:

এই আয়াতটি আল্লাহর абсолют ক্ষমতা ও একত্ববাদের উপর জোর দেয়। এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে:

১. কষ্ট বা বিপদ আসলে একমাত্র আল্লাহই তা দূর করতে পারেন:
আয়াতটি teaches that when adversity or hardship strikes, no one except Allah can remove it. This reinforces the concept of Tawheed (monotheism) and encourages believers to turn only to Allah in times of difficulty.

২. কল্যাণ বা ভালো কিছু আসলে তা আল্লাহর ইচ্ছায় ও ক্ষমতায় হয়:
আল্লাহর ক্ষমতা সর্বব্যাপী; তিনি যেকোনো ভালো কিছু দান করতে পারেন এবং তিনি是一切 বিষয়ে的全能।

এই আয়াতটি মানুষকে আল্লাহর উপর পূর্ণ reliance এবং trust রাখতে শিক্ষা দেয়,同時ভাবে এটি shirk (আল্লাহ以外 কাউকে associates করা) থেকে বিরত রাখে।

---

প্রাসঙ্গিক দোয়া:

এই আয়াতের শিক্ষা অনুযায়ী, যে কোনো কষ্ট বা প্রয়োজন时 আল্লাহর কাছে以下 দোয়া পাঠ করা যায়:

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِين "লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বালিমীন。" "আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র, নিশ্চয় আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।" (সূরা আল-আম্বিয়া: ৮৭)

---

পরিশেষে, এই আয়াতটি আমাদেরকে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করার এবং只 তাঁর কাছেই求助 করার গুরুত্ব শেখায়।

Address

Hofuf

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mix video398 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share