29/04/2026
আপনি জানতে চাচ্ছেন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের শেষভাগ ও তার পরবর্তী কী ঘটেছিল।
নবীর শেষ সময়:
মক্কা বিজয়ের পর (৬৩০ খ্রি.) আরবের বিভিন্ন গোত্র দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিদায় হজ সম্পন্ন করেন, যেখানে ‘বিদায় খুতবা’ দেন—যা মানবাধিকার ও ন্যায়ের এক চিরন্তন ঘোষণা। মদিনায় ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ৬৩ বছর বয়সে (১১ হিজরি, ৮ জুন ৬৩২) ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুশয্যায় শেষ কথা ছিল: “আমি আমার প্রভুর দিকে যাচ্ছি।” তাঁকে তাঁর নিজ ঘরেই জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তার পর কী হলো (নবীর পরবর্তী যুগ):
১. খিলাফতের সূচনা: সাহাবীরা আবু বকর (রা.)-কে প্রথম খলিফা নির্বাচিত করেন। তিনি মিথ্যা নবী ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালান এবং কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন।
২. উমর (রা.)-এর শাসন: পরবর্তীতে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) খলিফা হন। তাঁর সময়ে সিরিয়া, মিশর, পারস্য বিজিত হয় এবং ইসলামী সাম্রাজ্য দ্রুত বিস্তৃত হয়।
৩. উসমান ও আলী (রা.)-এর যুগ: পরে উসমান (রা.) কুরআনের মানক কপি তৈরির ব্যবস্থা করেন, আর আলী (রা.)-এর শাসনামলে অভ্যন্তরীণ ফিতনা দেখা দেয়।
৪. ইসলামের স্থায়ী রূপ: নবীর জীবন ও বাণী হাদীস ও সীরাত সাহিত্যে সংকলিত হয়। তাঁর আদর্শ পরবর্তী শতাব্দী ধরে সমগ্র বিশ্বে ইসলাম প্রচারের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
সংক্ষেপে, নবীর ইন্তেকালের পর তাঁর রেখে যাওয়া কুরআন ও সুন্নাহের ভিত্তিতে ইসলাম বিশ্বের একটি প্রধান ধর্মে পরিণত হয়।