27/10/2024
রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা ‘ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ [অর্থ: হে মর্যাদা ও মহানুভবতার অধিকারী] বাক্যটিকে আঁকড়ে ধরে থাকবে।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫২৫; হাদিসটি সহিহ]
৩) খুবই বিনীত ও কাতর কণ্ঠে দু‘আ করা এবং নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করা।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমার রবকে ডাকো বিনীতভাবে/কাতর কণ্ঠে এবং চুপিসারে।’’ [সুরা আ’রাফ, আয়াত: ৫৫]
যাকারিয়্যা (আ.) বলেছিলেন, ‘‘রব আমার, আমাকে একা ছেড়ে দিয়েন না।’’ [সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৯]
৪) দু‘আর মধ্যে আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামত ও নিজ অপরাধের স্বীকৃতি দেওয়া।
সাইয়িদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দু‘আ)-র মধ্যে আমরা এমনটি দেখি, সেখানে বলা হচ্ছে, ‘‘আমার উপর আপনি যে অনুগ্রহ করেছেন, তা স্বীকার করছি এবং আমার কৃত পাপের কথাও স্বীকার করছি।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩০৬]
৫) দু‘আয় কাকুতিমিনতি করতে থাকা এবং সাধ্যানুসারে কান্নাকাটি করা।
নবিজি তাঁর উম্মতের জন্য কাকুতিমিনতি করে দু‘আ করেছিলেন এবং কেঁদেছিলেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৩৮৭]
ইবনু আব্বাস (রা.)-এর মতে, দু‘আর মধ্যে কাকুতিমিনতি করার সময় হাত দুটো চেহারার কাছাকাছি থাকা ভালো। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৯০; বর্ণনাটি সহিহ]
● আরও কয়েকটি সাধারণ আদব, তবে এগুলো খুব জরুরি নয়, উত্তম বটে।
১) প্রথমে নিজের জন্য দু‘আ করা। উবাই ইবনু কা’ব (রা.) বলেন,
নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কারও জন্য দু‘আ করতেন, তখন নিজেকে দিয়ে শুরু করতেন। [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৩৮৫; হাদিসটি সহিহ]
২) সম্ভব হলে প্রথমে অজু করে নেওয়া।
একবার নবিজিকে আবু আমির (রা.)-এর জন্য দু‘আ করতে অনুরোধ করা হলে, তিনি প্রথমে অজু করে নেন, এরপর দু‘আ করেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৪৩২৩]
৩) তিনবার করে বলা (বিশেষত গুরুত্বপূর্ণ কিছু চাওয়ার ক্ষেত্রে)।
ইবনু মাস‘উদ (রা.) বলেন, রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করলে (কখনো) তিনবার করে দু‘আ করতেন, কোনো কিছু (আল্লাহর কাছে) চাইলে তিনবার চাইতেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৪৫৪১]
৪) কিবলামুখী হওয়া। বদর যুদ্ধের দিন নবিজি কিবলামুখী হয়ে খুবই কাতর কণ্ঠে দু‘আ করেছিলেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৪৪৮০]
৫) বেশি বেশি করে চাওয়া। নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
"তোমাদের কেউ যখন (আল্লাহর কাছে) চাইবে, তখন সে যেন বেশি করে চায়। কারণ সে তো তার রবের কাছেই চাচ্ছে!’’ [ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৮৮৯; হাদিসটি সহিহ]
৬) এমন শব্দ ও বাক্য দিয়ে দু‘আ করা, যেটি দিয়ে অনেক ধরনের কল্যাণ কামনা করা যায় (অর্থাৎ ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ ও বাক্য)।
নবিজি এমনটি করতেন। আয়িশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন বাক্যে দু‘আ করা পছন্দ করতেন, যা দ্বারা অনেক বিষয় অন্তর্ভূক্ত থাকতো। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৮২; হাদিসটি সহিহ]
৭) দু‘আর মধ্যে ছন্দময় কথা না বলা। ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন,
রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবিগণ দু‘আর মধ্যে ছন্দময় কথা এড়িয়ে চলতেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩৩৭]
৮) দু‘আর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় শব্দ না বলা, চাইতে গিয়ে সীমালঙ্ঘন না করা। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৮০; হাদিসটি সহিহ]
যেমন: ‘‘হে আল্লাহ! আমাকে জান্নাতের অমুক ফলটা দিয়ো, তমুক জিনিসটা দিয়ো’’ এভাবে না বলে শুধু জান্নাত চাওয়া। কারণ জান্নাতে গেলে তো সবই পাওয়া যাবে।
৯) দু‘আর মধ্যে নিজ পিতা-মাতা এবং সকল মুসলিমদের জন্য দু‘আ করা। [সুরা ইসরা, আয়াত: ২৪, সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১, সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৯]
১০) দু‘আর শেষদিকে আবারও প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করা, অতঃপর নবিজির উপর দরুদ পড়ার মাধ্যমে দু‘আ শেষ করা। [ইমাম ইবনুল কায়্যিম, জালাউল আফহাম, পৃষ্ঠা: ৩৭৫]
এটি দিয়েই শেষ করতে হবে, এমন নয়। মাঝেমধ্যে সুরা ফাতিহার প্রথম আয়াত, কখনো ‘‘ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম’’ কিংবা কখনও ‘‘আমিন’’ বলেও দু‘আ সমাপ্ত করা যায়। তবে, সবসময় নির্দিষ্ট একটি বাক্য দিয়েই দু‘আ শেষ না করে, বৈচিত্র আনা ভালো।
সার্থক মুনাজাত (চতুর্থ পর্বের শেষ অংশ)
• চতুর্থ পর্বের প্রথম অংশ
Nusus