02/07/2025
বাংলাদেশে পিআর সিস্টেম নির্বাচন হলে কেমন হবে?
ধরা যাক, জাতীয় সংসদে মোট আসন = ৩০০টি
এখন নির্বাচনে ভোটের ফলাফল এমন:
A-দলের ভোট পেয়েছেন ৪৬% আসন পাবেন ১৩৮টি।
B-দলের ভোট পেয়েছেন ৩৫% আসন পাবেন ১০৫টি।
C-দলের ভোট পেয়েছেন ১০% আসন পাবেন ৩০টি।
অন্যান্য ভোটের হার ৯% আসন২৭টি
🔸 এই পদ্ধতিতে সংসদে বড় দল একচ্ছত্র ক্ষমতা পায় না, বরং সব দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।
🔸 সংসদে আলোচনা-বিতর্ক ও জোট গঠন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পিআর সিস্টেমের বাংলাদেশে সম্ভাব্য সুফল:
১, একক আধিপত্য কমে যাবে, বহুদলীয় অংশগ্রহণ বাড়বে।
২, সংখ্যালঘু দল ও নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।
৩, রাজনৈতিক মেরুকরণ কমে যাবে।
৪, ভোট নষ্ট কম হবে: যে ভোটদাতা হেরে যায়, তাদের ভোটও প্রতিনিধিত্বে রূপ নেয়।
৫. নমিনেশন বাণিজ্য থাকবেনা!
৬. দল চাইলে দেশবরেণ্য উচ্চ শিক্ষিত সৎ যোগ্য দলের ত্যগী নেতা নেত্রী ব্যক্তিবর্গকে সিলেকশন করে সংসদে কথা বলার জন্য পাঠাতে পারে!
চ্যালেঞ্জ বা সমস্যাসমূহ:
১, সংবিধানে বড় ধরনের সংশোধনী দরকার।
২, বড় দল এই পদ্ধতিতে আগ্রহী নাও হতে পারে, কারণ এতে তারা আসন হারাতে পারে।
৩, ভোটারদের নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন হবে।
৪.আওয়ামী লীগ/১৪ দলের ২০-২৫% ভোট আছে তাহলে কি আওয়ামী লীগ আবার ৬০/৭০ সীট পেয়ে সংসদে যাবে! দেশে যদি ফ্রি এন্ড ফেয়ার ইলেকশনের আয়োজন হয় তাহলে আইনগত সুযোগ সুবিধা সকল দল ও পক্ষের জন্য সমান হবে!
৫. আবার ভোটের মাঠে আওয়ামিলীগ ও ১৪দলের কমপক্ষে ৫০টি আসন প্রায় নিশ্চিত আছে যেখানে জামায়াত বি এন পি সহ সকল ইসলামপন্থী এক জোট নাহলে আওয়ামিলীগকে হারানো সম্ভব নয়!
তাহলে বুঝাগেল আওয়ামী ফ্যসিবাদকে বাংলাদেশের মাটি থেকে স্থায়ী ভাবে দাফন করতে হলে বি এন পি জামায়াত + ইসলাম পন্থীদের মজবুত ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এখনো অটুট আছে!
সৌ এখন বি এনপি জামায়ত পরস্পরের বিরুদ্ধে যা শুরু করে দিয়েছে এতেও সেই ঘুরে ফিরে আওয়ামিলীগের লাভ হচ্ছে !
৬. স্বতন্ত্র প্রার্থী বলতে কিছু থাকবেনা, ভোটারদেরকে কোন না কোন দলের মার্কায় ভোট দিতে হবে।
প্রযুক্তিগতভাবে ও সাংবিধানিকভাবে সম্ভব,
তবে এর জন্য দরকার—
১, রাজনৈতিক সদিচ্ছা
২, সংবিধান সংশোধন
৩, সচেতনতা ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি
পিআর সিস্টেম বাংলাদেশে চাইলে চালু করা সম্ভব,
এবং এটি গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে পারে। তবে বাস্তবে এটি কার্যকর করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃঢ় সংকল্প ও জনচাপ প্রয়োজন।পিআর পদ্ধতিতে আগামীর নির্বাচন যেমন ইতিহাস সৃষ্টি করবে, তেমনি প্রত্যেকটা জনগনের ভোটের যথাযথ মূল্যয়নও হবে। তার একটি গ্রহনযোগ্য প্রমাণ নিম্নে পেশ করা হল।
পি আর পদ্ধতি না থাকাতে অতীতে সকল দলই কম বেশী ক্ষতির মুখে পড়েছিলো বিশেষ করে বি এন পি!
২০০৮ সালের নির্বাচনে:
* আওয়ামীলীগ আসন পেয়েছিল ২৩০ টি।
বিএনপি আসন পেয়েছিল ৩০ টি।
* আওয়ামীলীগ মোট ভোট পেয়েছিল ৩,৩৮,৮৭,৪৫১।
বিএনপি মোট ভোট পেয়েছিল ২,২৯,৬৩,৮৩৬।
* আওয়ামীলীগের ভোটের শতকরা হার ৪৯%।
বিএনপির ভোটের শতকরা হার ৩৩.২০%।
২০০৮ সালের নির্বাচন যদি পিআর পদ্ধতিতে হিসাব করা হয় তাহলে-
আওয়ামীলীগ আসন পায়- ১৪৭ টি। (৪৯%)
বিএনপি আসন পায় প্রায়- ১০০ টি। (৩৩.২০)
২০০৮ সালের নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে না হওয়ায়-
বিএনপি ১০০টি আসনের পরিবর্তে মাত্র ৩০টি আসন পায়।
অপরদিকে আওয়ামীলীগ ১৪৭ টি আসনের স্থলে ২৩০ টি আসন পায়।
এই বিশাল বৈষম্যের অবসান হোক।
আগামীর সংসদে ছোট ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত হোক।
আর কোন ফ্যাসিস্ট এর জন্ম না হোক