25/12/2021
ভূমিকা
সম্মানিত তাওহীদবাদী ভাই ও বোনেরা! মুহতারাম উস্তাদ আবু আনওয়ার আল-হিন্দি হাফিযাহুল্লাহ’র ‘৭১ থেকে ২১: ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ’ গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা পুস্তিকা আকারে আপনাদের সম্মুখে বিদ্যমান। গুরুত্বপূর্ণ এই লেখায় লেখক বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এর প্রতিটি সেক্টরে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতের নানামুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পর্দা উন্মোচিত করেছেন। ভারত কীভাবে এই ভূখণ্ডে নানামুখী আগ্রাসন চালাচ্ছে, সেটি সংক্ষেপে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন। নিঃসন্দেহে এই প্রবন্ধে পাঠক ও পাঠিকাগণ নিজেদের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনাও পাবেন ইনশা আল্লাহ।
এই লেখাটির উর্দু সংস্করণ ইতিপূর্বে ‘জামাআত কায়িদাতুল জিহাদ উপমহাদেশ শাখা’র অফিসিয়াল উর্দু ম্যাগাজিন ‘নাওয়ায়ে গাযওয়ায়ে হিন্দ’ এর গত মে - জুলাই ২০২১ ইংরেজি সংখ্যায় “৭১ সে ২১: বাংলাদেশ তারিখ কে কিস দাওরাহে পার?” ( ۷۱ سے۲۱: بنگلہ دیش تاریخ کے کس دوراہے پر؟) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই লেখাটির মূল বাংলা সংস্করণটি লেখক আমাদের কাছে প্রেরণ করেছেন, যা এখন পুস্তিকা আকারে আপনাদের সম্মুখে বিদ্যমান। আলহামদু লিল্লাহ ছুম্মা আলহামদু লিল্লাহ।
আম-খাস সকল মুসলিম ভাইদের ও বোনদের জন্য এই রিসালাহটি ইনশাআল্লাহ উপকারী হবে। সম্মানিত পাঠকদের কাছে নিবেদন হল- লেখাটি গভীরভাবে বারবার পড়বেন, এবং নিজের করণীয় সম্পর্কে সচেতন হবেন ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ এই রচনাটি কবুল ও মাকবুল করুন! এর ফায়েদা ব্যাপক করুন! আমীন।
আবু যুবাইদা
১৬ই রবিউস সানী, ১৪৪৩ হিজরি
২২শে নভেম্বর, ২০২১ ইংরেজি
২০২১ এর ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাসিনা সরকার যাদের আমন্ত্রন জানায় তাদের মধ্যে প্রধান ছিল গুজরাটের কসাই নরেন্দ্র মোদি। মোদির এ সফরের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবাদ করে। এ প্রতিবাদে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের পাশাপাশি শামিল হয় বিভিন্ন ধর্মনিরপেক্ষ দল এমনকি বামপন্থীরাও। এ থেকেই প্রমাণ হয় বাংলাদেশের হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডার বিরোধিতা কতো ব্যাপক।
প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও হাসিনা সরকার মোদিকে দাওয়াত দিয়ে আনার কারণ স্পষ্ট। বর্তমানে হাসিনা ক্ষমতায় টিকে আছে, মোদির আশীর্বাদে এবং হাজী শরীয়তুল্লাহর মাটিকে হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডার কাছে বর্গা দিয়ে। আবার মোদির জন্যও এই সফরের গুরুত্ব ছিল বহুমাত্রিক। একদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য মতুয়া হিন্দুদের মন জয়ের চেষ্টা চালায় মোদি। অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব রাখা সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে পূজা দিয়ে অখন্ড ভারতের এক প্রতীকী বার্তাও হয়তো দিতে চেয়েছে মোদি। মুশরিক হিন্দুদের কল্পকাহিনী অনুযায়ী–‘দেবতা বিষ্ণু যখন দেবী সতির দেহকে ৫১ টুকরো করে, তখন তার একটি টুকরো পরে এই স্থানে। আর এখানেই গড়ে উঠে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির।
মোদি বিরোধী প্রতিবাদের অগ্রভাগে ছিল বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ তাওহিদি মুসলিমরা। ২৬ শে মার্চ জুমার নামাযের পর কোন দলের ব্যানার ছাড়াই স্বতস্ফূর্তভাবে জাতীয় মসজিদের মুসল্লিরা মোদি ও বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। আর তখনই তাদের উপর আক্রমন শুরু করে হুকুমের গোলাম পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী গুন্ডা বাহিনী। অভূতপূর্ব স্পর্ধা দেখিয়ে তারা সরাসরি মাসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে মুসল্লিদের আঘাত করে। জাতীয় মসজিদের ভিতর টিয়ার গ্যাস এবং গুলি ছুড়ে। মোদির সন্তুষ্টির জন্য বাংলাদেশের প্রধান মসজিদে ঢুকে মুসলিমের উপর আক্রমনের এই নির্মম দৃশ্য থেকে প্রমাণ হয়ে যায় যে বাংলাদেশে এখন হিন্দুত্ববাদের প্রক্সি (proxy) শাসন চলছে। বাংলার মাটি আজ আবারো অবরুদ্ধ। বাংলার নিয়ন্ত্রন আজ আবারো দখলদারের হাতে।
জাতীয় মসজিদের হামলার পর সারা দেশের মুসলিম প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। পরবর্তী ৪৮ ঘন্টায় আলেম-উলামা, তালেবুল ইলম এবং সাধারণ মুসলিম জনতা বিক্ষোভ করে হাটহাজারী, বিবাড়িয়া (যে অঞ্চলের নাম এখন শহীদবাড়িয়া প্রস্তাব করা হয়েছে), মধুপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। সর্বত্র মুসলিমদের উপর হামলা চালায় হুকুমের গোলাম পুলিশ, র্যাব, বিজিবি বাহিনী এবং তাদের সাথে আওয়ামী গুন্ডারা। ভারতের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের আদলে আলেম-ওলামাকে বলপ্রয়োগে এবং ভীতিপ্রদর্শনপূর্বক ‘জয় বাংলা’ এবং ‘জয় বঙ্গন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। সারা দেশে কমপক্ষে ২১ জন মুসলিমকে হত্যা করা হয়। সর্বজনশ্রদ্ধেয় বর্ষীয়ান আলেমরা বুলেটের আঘাতে রক্তাক্ত হন। আহত হন শত শত। গ্রেফতার হন অনেকে। মোদিকে সন্তুষ্ট করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে হাসিনা।
ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে বাংলাদেশের মুসলিমদের উপর পাকিস্তানী বাহিনী হামলার করেছিল। তার ঠিক ৫০ বছর পর ২০২১ সালের ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের মুসলিমদের উপর আক্রমন করে হিন্দুত্ববাদের আজ্ঞাবহ
ডাউনলোড https://www.mediafire.com/file/nduxmzr5wv9dzng/71To21BangladeshAlhikmahmedia.pdf/file