16/08/2026
শেষ চিঠি
বৃদ্ধ মানুষটি প্রতিদিন বিকেলে একই বেঞ্চটায় এসে বসতেন। হাতে থাকত একটা পুরোনো চিঠি, আর চোখে থাকত অপেক্ষা।
পার্কের সবাই তাঁকে চিনত। কেউ জানত না, তিনি কার জন্য অপেক্ষা করেন।
একদিন এক ছোট্ট ছেলে সাহস করে জিজ্ঞেস করল,
— “দাদু, আপনি প্রতিদিন এখানে এসে কী করেন?”
বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন,
— “অপেক্ষা করি।”
— “কার জন্য?”
তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
— “আমার মেয়ের জন্য।”
ছেলেটি অবাক হয়ে বলল,
— “আপনার মেয়ে কি দূরে থাকে?”
বৃদ্ধ চিঠিটা হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে বললেন,
— “হ্যাঁ… অনেক দূরে।”
তারপর চিঠিটা খুলে দেখালেন। চিঠির তারিখ ছিল ১৫ বছর আগের।
ছেলেটি অবাক হয়ে বলল,
— “দাদু, এত বছর পরও আপনি অপেক্ষা করছেন?”
বৃদ্ধ চোখ মুছে বললেন,
— “বাবা, মা-বাবার কাছে সন্তানের ফিরে আসার জন্য কোনো অপেক্ষাই দীর্ঘ নয়।”
পরদিনও তিনি সেই বেঞ্চে বসেছিলেন।
তার পরের দিনও।
কিন্তু একদিন আর এলেন না।
ছেলেটি অনেক খোঁজ করে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখল, টেবিলের ওপর সেই পুরোনো চিঠিটা রাখা।
চিঠির শেষ লাইনে লেখা—
“বাবা, আমি হয়তো তোমার কাছে ফিরতে পারিনি। কিন্তু বিশ্বাস করো, প্রতিদিন তোমার কথা মনে পড়ে।”
ছেলেটি চিঠিটা বুকে জড়িয়ে কাঁদতে লাগল।
আর সেদিন সে একটা কথা বুঝেছিল—
কিছু মানুষ আমাদের জীবনে না থাকলেও, তাদের অপেক্ষা আর ভালোবাসা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়।
তাই বাবা-মাকে সময় থাকতে ভালোবাসুন।
কারণ পৃথিবীতে অনেক কিছু হারিয়ে ফিরে পাওয়া যায়,
কিন্তু হারানো সময় আর ফিরে পাওয়া যায় না। ❤️🥀
— ভালোবাসার মানুষগুলোকে অবহেলা করবেন না।