03/02/2026
জামায়াতের বিরুদ্ধে সবচে বড় অভিযোগ, তারা নবিদের পাপী মনে করে, সাহাবিদের সমালোচনা করে। তাই তারা জাহান্নামি ফেরকা। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আড়াই লাখ সদস্য ও দুই কোটি সমর্থকের কয়জনকে দেখাতে পারবেন, যারা নবিগণকে নিষ্পাপ মনে করে না বা সাহাবিদের আদর্শ মনে করে না।
সর্বপ্রধান অভিযোগের অবস্থাই যদি এমন হয়, তাহলে বিষয়টা বেশ অদ্ভুত না?
আরবের বহু আলিম মনে করে, দেওবন্দিরা কবরপূজারী। অথচ বাস্তবতা তো সকলের জানা। পশ্চিমের অনেকে মনে করে, মুসলিম মানেই টে রো রি স্ট। অথচ এটাও অসত্য বৈ কিছু নয়।
কোনো বৃহৎ গোষ্ঠীকে জাহান্নামের টিকেট দিতে চাইলে অন্তত এর সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মী-সমর্থকের মধ্যে অভিযুক্ত অপরাধের উপস্থিতি থাকা জরুরি। 'ইসমতে আম্বিয়া' ও 'আদালাতে সাহাবা'র অস্বীকারকে যদি মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে এর সত্যতাও তো দেখাতে হবে। এতগুলো মানুষ, যারা অতীত নয়, বরং বর্তমান; যারা কবরে নয়, বরং সম্মুখে উপস্থিত, তাদের প্রশ্ন করলেই তো সহজে জবাব জানা যায়। এতৎসত্ত্বেও মুখস্থ বুলি কপচিয়ে দেদারসে জাহান্নামের টিকেট বিতরণ তো দুঃখজনক।
কয়েক হাজার কওমি আলিম রয়েছে জামায়াতে। এছাড়াও আলিয়া, আজহারি ও মাদানি ধারারও রয়েছে হাজার হাজার আলিম। তাদের কেউই এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতার বই থেকে আকিদা শেখেনি। তারা সকলেই আকিদা শিখেছে নিজ নিজ ধারার পাঠ্যপুস্তক থেকে এবং সালাফে সালেহিনের গ্রন্থাদি থেকে। পরবর্তীতেও সেই আকিদা তারা পাল্টাননি।
আকিদা শুধু ই স লা মি দলেরই না; সবারই থাকে। সে ক্যু দলগুলোরও আকিদা আছে; যেসব আকিদায় কু ফ রও আছে। তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। জামায়াতের আকিদা নিয়েও যত আলোচনা, সব সীমাবদ্ধ কেবল এর প্রতিষ্ঠাতার কিছু উক্তির ভেতরে। অথচ একবার যাচাই করলে চলত, এ সংগঠনের কাউকে আলাদা করে ভিন্ন ধরনের কোনো আকিদা শেখানো হয় কি না, বিশেষত 'ইসমাতে আম্বিয়া' বা 'আদালতে সাহাবা'র বিষয়ে। নিজস্ব আকিদা থাকলে তো আর কওমি, আহলে হাদিস, সুন্নি প্রমুখ দলগুলোর পারস্পরিক আকিদাগত ভিন্নতা সত্ত্বেও সকলে পারত না এখানে একসাথে মিলেমিশে কাজ করতে।
সব দলেরই বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি আছে। যেগুলো বাস্তবেই আছে, তা নিয়ে সমালোচনা করলেই হয়। অযথা মিথ্যাচারের কী দরকার? এখানে সমালোচনার দুয়ার উন্মুক্ত। এমনকি 'ইহতিসাব' নামে আলাদা করে সমালোচনা শোনারও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থা আছে। সমালোচনা না থাকলে পরিশুদ্ধি আসবে কীভাবে? যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনার কোনোই বিকল্প নেই। কিন্তু তা অবশ্যই হতে হবে বাস্তবসম্মত। বাস্তবতা থেকে দূরে, লোকমুখে শুনে বা কল্পনার জগতে রচনা করে ফাও সমালোচনার দ্বারা প্রতিহিংসার চর্চা ও বৃহত্তর ঐক্যে ফাটল ছাড়া আর কীই-বা হবে!
'নেককাজ ও তাকওয়ার পথে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো।' [সুরা মায়িদা: ২] যা কিছু ভালো, তাতে অন্তত পরস্পরকে সহযোগিতা করলে, সমাজে ফুটবে নতুন ভোরের আলো।