Ashik blogs

Ashik blogs থাকবো আমি সবার পাসে

13/10/2023

নিজের বিয়ে করা বউকে স্পর্শ করার অপরাধে যেদিন বাসর ঘরে চরম অপমান সহ্য করতে হয়েছিল সেদিনও আমি চুপ করেছিলাম। অনেক ভালোবাসা নিয়ে যখন মেয়েটার হাতে হাত রেখেছিলাম তখন মেয়েটা তাঁর হাত সরিয়ে নিয়ে বলেছিলো,

"আপনাদের মতো ছেলেদের লজ্জা বলতে কোনো কিছু নেই। মেয়ে দেখলে নিজেদেরকে ঠিক রাখতে পারেন না। ভালো ভাবে যে মেয়েটাকে চেনেন না,জানেন না। সে মেয়েটার অনুমতি না নিয়েই তাঁর হাতে হাত রেখে ফেললেন। তাকে ভোগ করার জন্য উঠেপড়ে লাগলেন। আচ্ছা বলেন তো বিয়ের আগের আমার সাথে আপনার তেমন কোনো পরিচয় হয়েছে কি? যে পরিচয়ে আপনি লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে আমার হাতে হাত রেখেছেন? আপনি আমাদের অনেক বড় উপকার করেছেন। সেটা আমরা কোনোদিন ভুলবো না। কিন্তু তাই বলে বাবা যখন বলল আমার কথা তখনই বিয়ে করতে রাজী হয়ে গেলেন? একটা বারও আমার কথা ভাবলেন না? আমার আপনাকে পছন্দ হবে কিনা এটা চিন্তা করলেন না? আপনি আমাকে ভুলেও স্পর্শ করার চেষ্টা করবেন না। আমি আপনাকে কোনোদিন নিজের স্বামী হিসেবে মেনে নিবো না। আপনি আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছেন।"

কথাগুলো যখন নাদিয়া বলেছিলো তখন আমি নীরবে কিছুক্ষণ অনেক অপরাধী চোখে তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তারপর বাহিরে গিয়ে অঝড় ধারায় চোখের পানি ফেলেছিলাম।

কিছুদিন পরে নাদিয়ার এক চাচাতো বোনের বিয়েতে যাই। সেখানে পরিবারের সবার সাথে যখন কথা বলছিলাম তখন নাদিয়া আমার একটা কথায় রাগ করে ফেলে। সেই রাগে সে সেখান থেকে চলে আসে। সবার অনুরোধে আমি পেছন থেকে নাদিয়াকে আটকানোর জন্য তাঁর হাত ধরে ফেলি। আমি ভেবেছিলাম বিয়ে বাড়িতে এতো মানুষের সামনে সে আমাকে কিছু বলতে পারবে না। হয়তো পরে বলবে। তাই তাকে আটকানোর জন্য তাঁর হাত ধরলাম। কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিলো। আমি যখন পেছন থেকে নাদিয়ার হাত ধরলাম তার এক সেকেন্ড পরেই নাদিয়া আমার গালে একটা থাপ্পড় মারলো। সেদিন আমি সত্যি বোবা হয়ে গিয়েছিলাম। কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। বিয়ে বাড়ির সবাই নাদিয়ার ব্যবহারে অনেক অবাক হলেও আমি হয়নি। কারণ ভুলটা আমারই ছিলো। তাঁর অনুমতি ছাড়া তাকে স্পর্শ করেছি। এর শাস্তি আমি পেয়েছি। লজ্জা,ঘৃণায় চুপ করে সেখান থেকে চলে আসি আমি।

ফুটপাত দিয়ে উদেশ্যেহীন ভাবে হাঁটতে থাকি আর নিজের অতীতটাকে ভাবতে থাকি।

আমার জীবনে দুঃখের তুলনায় সুখের পরিমাণ খুবই নগন্য। দশ বছর বয়সে যখন আমার মা মারা যান সেদিনই আমার জীবন থেকে সুখ নামক জিনিসটা চিরতরে হারিয়ে যায়। নাদিয়াকে পেয়ে ভেবেছিলাম আমার দুঃখের অধ্যায় শেষ হয়েছে,হারিয়ে যাওয়া সুখ আবার আমার জীবনে ফিরে এসেছে। কিন্তু সুখ ফিরে আসেনি। বরং দুঃখ গুলো সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস এর মতো হানা দিয়েছে।

মা মারা যাওয়ার পরের দিনই বাবা বিয়ে করে নিয়ে আসেন। প্রথম প্রথম নতুন মা পেয়ে আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন পর সে খুশি আর থাকলো না। আমি বুঝতে পারলাম আমার নতুন মা কারো সাথে সবসময় কথা বলেন। একদিন সাহস করে বাবাকে কথাগুলো বললাম। সেদিন বাবা কিছু বলেনি। শুধু বলেছিলো তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করো না। পড়াশোনায় মনোযোগ দাও।

তার কিছুদিন পরেই আমার নতুন মায়ের ছোট বোন আমাদের বাড়িতে আসে। একদিন ভুল করে আমি তাকে ভেজা কাপড়ে দেখে ফেলি,তখন আমার বয়স ছিলো তেরো বছর। তখন তখনই আমি তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। কারণ সে আমার থেকে বয়সে প্রায় ছয় সাত বছরের বড়। আমি তাকে বলি আমি ইচ্ছে করে আপনার সামনে আসিনি। তারপরেও আমি ক্ষমা পাইনি।

দুইদিন পর যখন বাবা বাসায় আসলেন তখন মা কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলো,
"তোমার ছেলে লুকিয়ে লুকিয়ে আমার বোনকে গোসল করা অবস্থায় দেখেছে,আজকে আবার ভেজা কাপড়ে দেখেছে। আমি যদি ওর নিজের মা হতাম তাহলে কি আমার বোনের সাথে এই নোংরা কাজটা করতে পারতো? বল তুমি।"

বাবা মায়ের চোখের পানি বিশ্বাস করেছিলো কিনা জানি না। আমাকে শুধু বলেছিলো এসব করেছিস নাকি?

আমি বলেছিলাম ভুল করে ভেজা কাপড়ে দেখে ফেলেছি। তবে..

কিছু বলার আগেই বাবা আমাকে লাঠি দিয়ে পিটাতে পিটাতে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলো। আমি মায়ের বোনকে গোসল করা অবস্থায় দেখিনি এইটুকু বলার সুযোগও বাবা আমাকে দিয়েছিলেন না। সেদিন মায়ের পা ধরে কান্না করেছিলাম,বলেছিলাম।
" আমাকে বাসা থেকে বের করে দাও সমস্যা নেই। আমি খুশি মনেই চলে যাবো। কিন্তু এরকম খারাপ একটা অপবাদ আমাকে দিও না।"
কেউ আমার কথা শোনে নি সেদিন। খালি হাতে বাসা থেকে বের হয়ে এসেছিলাম।

তেরো বছর বয়স থেকেই আমার জীবন যুদ্ধ শুরু হয়। মামাদের বাড়িতে এক বছরের মতো ছিলাম। সেখানে বেশিদিন টিকতে পারিনি।
মাঝেই মাঝেই বাবার কাছ থেকে আমি টাকা নিতাম। বাবার কাছ থেকে টাকা নিতে অনেক খারাপ লাগতো। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য টাকার দরকার। আমি যখন বাবার কাছ থেকে টাকা নিতাম তখন নিজের প্রতি অনেক ঘৃণা হতো। যারা আমাকে এতো অপমান করলো আজ তাদের কাছেই আমাকে হাত পাততে হচ্ছে।

হঠাৎ করেই দেখলাম একটা রিকশা আমার পাশে এসে থামলো। চেয়ে দেখলাম তানিয়া। এই মেয়েটা আমার জীবনের অনেক মূল্যবান জায়গায় জুড়ে রয়েছে। ভার্সিটিতে একমাত্র এই মেয়েটার সাথেই আমি মিশতাম, কথা বলতাম। আমার সাথে কেউ মিশতে চাইতো না। কারণ আমার টাকা ছিলো না,স্মার্ট ছিলাম না,ছাত্রও ভালো ছিলাম না। সবসময় একা একাই থাকতাম। কিন্তু আমার একাকিত্বটাকে কিছুটা হলেও দূর করেছিলো তানিয়া নামের মেয়েটা।

আমিনুল তুমি? রিকশায় উঠে এসো।

সরি তোমার বিয়েতে আসতে পারিনি।
- ইটস ওকে।
- তোমার বউ কোথায়?
- বাসায়।
- তোমার বউকে বলো ভালো করে রান্না বান্না করতে। বলো তোমার আরেকটা বউ আসছে।

তানিয়ার কথা শুনে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। তাকে নাও বলতে পারবো না। আবার বাসায় নিয়ে যেতেও পারবো না।

কিছুক্ষণ পর যখন তানিয়া বলল,
"আজ না। অন্য একদিন আমি আর আমার স্বামী তোমার বাসায় গিয়ে তোমার বউকে দেখে আসবো। আজ তুমি আমার বাসায় যাবে।"

তখন প্রশান্তির একটা শ্বাস নিলাম। কারণ আমি ভেবেছিলাম তানিয়া হয়তো আমার বাসায় যাবে।

তানিয়ার বাসায় গিয়ে কেনো জানি খুব খারাপ লাগলো। তবে তানিয়া আর তানিয়ার হাসবেন্ডকে দেখে অনেক ভালো লাগলো। কারণ তারা আমার সামনেই দুজন দুজনের হাত ধরে বসে ছিলো। এটাই হয়তো স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা।

আফসোস,নাদিয়া যদি একটু মায়া নিয়ে কখনো এক সেকেন্ড এর জন্যও আমার হাতটা ধরতো। তাহলে হয়তো আমার জীবনের সমস্ত বেদনা আমি ভুলে যেতাম।

আজ নাদিয়ার জন্মদিন। জন্মদিনে আমার কোনো বন্ধুকে সে দাওয়াত দেয়নি। সে হয়তো আরও খুশি হতো যদি তাঁর জন্মদিনে আমি না থাকতাম। কিন্তু সবার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছে।

এমন তো হতে পারতো। নাদিয়া আমাকে পাশে নিয়ে কেক কাটতো। আমি তাঁর হাত ধরে তাকে কেক কাটাতাম। প্রথম আমাকে সে খাইয়ে দিতো। তারপর দুষ্টুমি করে আমি তার নরম গালে একটু ছুঁয়ে দিতাম। কিন্তু এরকম কিছুই হলো না। নাদিয়া তাঁর বান্ধবীদের সাথে নিয়ে কেক কাটছে। সে আমাকে তাঁর পাশে ডাকেনি। আমিও ইচ্ছে করে যাইনি।

হঠাৎ করে শুনতে পেলাম নাদিয়া কিছু বলছে।

"পৃৃথিবীর সব পুরুষই এক। যখন তারা বউ এর ভালোবাসা পাই না তখন তারা অন্য মেয়ের কাছে ভালোবাসা খোঁজে। কোনো কোনো পুরষতো আবার বউ এর সাথে বিছানায় শুতে না পেরে বাহিরের মেয়েদের সাথে রিকশায় চিপাচিপি করে ঘুরে বেড়ায়। আবার তাঁর সাথে তাঁর বাসায়ও যায়।

আমি যখন বুঝতে পারলাম কথাগুলো নাদিয়া আমাকে উদ্যশে করে বলছে। তখন আর ঠিক থাকতে পারলাম না। সবার সামনে নাদিয়ার নরম গালে কষে একটা চড় বসিয়ে দিলাম। চড় খেয়ে সে মাটিতে পড়ে যায়।

"তোমার মনমানসিকতা যে এতোটা নিচু জানতাম না। না জেনে তুমি একটা মেয়ে সম্পর্কে এতো বাজে কথা বলতে পারলে? আসলে তোমার ভিতরটা পঁচে গেছে। তোমার শুধু বাহিরের দিকটাই সুন্দর। ভিতরে অনেক আবর্জনা জমে গেছে। যদি পারো ভিতরটাকে সুন্দর করো।"

(চলবে♥ হ্যাপি রিডিং❤️)ধন্যবাদ আপনাকে💖, উৎসাহিত করার জন্য🙏, পেজে লাইক👍 দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন💯

#গল্পঃ_মনের_মানুষ
পর্ব: ০১
লেখাঃ আমিনুর রহমান

(তিন পর্বে সমাপ্ত হবে গল্পটা। সবাই রেসপন্স করবেন কমেন্টে। 🍁আগামীকাল🔗 একই সময়ে পরবর্তী পর্ব পড়তে পেজটি 👍লাইক করুন আর Follow করুন!! ❤️হ্যাপি রিডিং❤️)

নিবেদিতা ❤️👉 Taking over BD 👈

ছেলেকে দেওয়া একজন আদর্শ বাবার উপদেশঃ১. জুতা সেলাই বা রং করতে চাইলে মেরামতকারীর দোকানের সামনে পা বাড়িয়ে দিও না, বরং জুতাট...
03/10/2023

ছেলেকে দেওয়া একজন আদর্শ বাবার উপদেশঃ
১. জুতা সেলাই বা রং করতে চাইলে মেরামতকারীর দোকানের সামনে পা বাড়িয়ে দিও না, বরং জুতাটা খুলে নিজে একবার মুছে দিও।

২. কখনও কাউকে কামলা, কাজের লোক বা বুয়া বলে ডেকো না। মনে রেখো তারাও কারো না কারো ভাই, বোন, মা, বাবা। তাদেরকে সম্মান দিয়ে ডেকো।

৩. বয়স, শিক্ষা, পদ বা পদবীর দিক দিয়ে কেউ ছোট হলেও কখনও কাউকে ছোট করে দেখ না। নইলে তুমি ছোট হয়ে যাবে।

৪. পড়াশুনা করে জীবনে উন্নতি করো, কিন্তু কারো ঘাড়ে পা দিয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করো না।

৫. কাউকে সাহায্য করে পিছনে ফিরে তাকাইও না, সে লজ্জা পেতে পারে।

৬. সব সময় পাওয়ার চেয়ে দেয়ার চেষ্টা করো বেশি । মনে রেখ, প্রদানকারির হাত সর্বদা উপরেই থাকে।

৭. এমন কিছু কর না যার জন্য তোমার এবং তোমার পরিবারের উপর আঙুল ওঠে।

৮. মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছো, তাই দায়িত্ব এড়িয়ে যেও না।

৯. তোমার কি আছে তোমার গায়ে লেখা নেই। কিন্তু তোমার 'ব্যবহার' বলে দিবে তোমার পরিবারের অবস্থান কোথায় ?

১০. কখনও মার কথা শুনে বউকে এবং বউয়ের কথা শুনে মাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিও না। কাউকে ফেলতে পারবে না।

১১. কারও বাসায় নিমন্ত্রন খেতে গেলে বাসায় দু-মুঠো ভাত খেয়ে যেও। অন্যের পাতিলের ভাতের আশায় থেক না।

১২. কারো বাসার খাবার নিয়ে সমালোচনা করো না। কেউ খাবার ইচ্ছে করে স্বাদহীন করার চেষ্টা করে না।

১৩. বড় হবার জন্য নয়, মানুষ হওয়ার জন্য চেষ্টা কর।

১৪. শ্বশুর কিংবা শাশুড়িকে এতটা সম্মান দিও, যতটুকু সম্মান তোমার বাবা-মাকে দাও। এবং তাদের প্রতি এমন আচরন কর, যাতে করে তাদের মেয়েকে তোমার বাড়ি পাঠানোর জন্য উতলা থাকে।

১৫. সব সময় ভদ্র ও নম্রভাবে চল এবং সেভাবে কথা বল। কিন্তু অন্যায়ের সাথে আপোষ কর না।

30/09/2023

ডেলিভারীর পর যখন জ্ঞান ফিরে তখন রূপন্তির শ্বাশুড়ি মা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন,

--- আল্লাহর রহমতে তোর একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে রে মা।

ওর মা অপর পাশে বসে শুকনো হাসলেন। বাবা হয়তো বাইরে ডাক্তারের সাথে কথা বলছে। বাবু কোলে নিয়ে ওর ননদ রাহা উৎফুল্ল হয়ে বলল,

--- ভাবি দেখো কেমন ড্যাব ড্যাব করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। একেবারে ভাইয়ার মতো হয়েছে। ভাইয়া,,,,,,

শ্বাশুড়ি মা রাহাকে ধমক দিয়ে বলে, বেশি কথা না বলে বাচ্চাটাকে রূপন্তির কাছে দে। ও একটু ছুঁয়ে দেখুক ওর মেয়েকে। রূপন্তি তোর মেয়েকে খাওয়া।

অথচ সে তাকিয়ে আছে দরজার পানে। কাঙ্খিত মানুষটাকে দেখার জন্য। তাকে হতাশ করে শুধু তার বাবাই আসলেন কেবিনে। আচ্ছা মানুষটার কাছে তার অতীত এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে নিজের ঔরসজাত সন্তানকেও দেখতে আসলো না৷ তাকে না হয় ভালো নাই বা বাসে তাই নিজের মেয়েটাকেও দেখতে আসলো না৷ এসব কথা ভেবে বাবার দিকে তাকিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে দিলো সে। বাবা তার হাত ধরে বললো,

--- আমাকে মাফ করে দিস মা। আমি ভুল মানুষের হাতে তোকে তুলে দিয়েছি। এই নিয়ে হাজার বার কল করেছি রাফাতকে। সে একবারো রিসিভ করে নাই। একজন অসহায় মায়ের কথা চিন্তা করে আমি তোর জীবনটাকে শেষ করে দিলাম।

ওর মা শব্দহীন কান্না করছে। বাবার কথায় ভেতরে তোলপাড় চলছে রূপন্তির । ওর জীবনটা কেন এভাবে অবহেলায় জর্জরিত হলো? এসব কথাই ভাবছে সে।

এইদিকে এসব কথা শুনে রূপন্তির শ্বাশুড়ি আর ননদ কেবিন থেকে বের হয়ে গেলেন। তিনি রাহা কে বললেন,

--- ফোন কর রাফাতকে। অনেক হয়েছে আর না। ওই মেয়েটার জন্য সে রূপন্তিকে এভাবে অবহেলা করতে পারে না।

রাহা দুইবার কল করে রাফাত এর নাম্বারে। কিন্তু সে কেটে দিয়েছে।

তিনি আবার কেবিনে গিয়ে রূপন্তির হাত ধরে বলে,

--- পারলে এই বুড়ো মানুষটাকে মাফ করে দিস। ছেলের ছন্নছাড়া জীবন কোনো মা মেনে নিবে না। ওর সুখের কথা চিন্তা করে তোকে বউ করে এনেছিলাম। ভাবিনি সে অতীত থেকে বের হতে পারবে না। তুই তোর মেয়েটাকে নিয়ে নিজের বাড়ি চলে যাস।

বলেই চলে গেলো বাড়িতে। সেখানে গিয়ে দেখেন রাফাত উপুর হয়ে শুয়ে ঘুমোচ্ছ। কোনো কিছু না ভেবেই রাফাতকে টেনে তুলে ঠাস ঠাস করে দুটো চড় দিলেন। রাফাত অবাক হয়ে ওর মা কে দেখছে।

তিনি চেচিয়ে বললেন,

--- যে মেয়েটাকে এতো ভালোবাসার পরও তোমাকে বিয়ে করার ৩ দিন পর আরেকজনের হাত ধরে চলে গেছে তার জন্য নিজের জীবন নষ্ট করছিস।আর যে মেয়েটা তোর একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন হাজার অবহেলা পেয়েও মাটি কামড়ে পড়ে ছিলো তার কোনো দাম নাই? হাসপাতালে নিজের নবজাতক মেয়েটাকে অন্তত দেখতে যেতে। তোমার কথা চিন্তা করে করে আমি ওই মেয়েটার জীবন নষ্ট করে দিলাম। তোর অতীত এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ হলে আরেকটা নতুন প্রান কেন দুনিয়ায় আনলি?? মনে রাখবি হাতের পাঁচটা আঙুল সমান না।

রাহা বলে,

--- ভাইয়া তুমি আমার অনেক বড় ভয়ে তোমার দিকে তাকিয়ে কথা বলতাম না।কিন্তু আজ বাধ্য হচ্ছি ভাইয়া দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝতে হয়। দাঁত পড়ে গেলে সেই দাঁত স্বর্ণ দিয়ে বাঁধাইলেও লাভ হবে না।এখনো সময় আছে। নিজের #সুখের_খনি হাত ছাড়া করো না। রাহা আর ওর মা চলে গেলো।

নিজের মেয়ে হয়েছে শুনে মুচকি হাসলো সে। রাফাতের ছোটবেলা থেকেই বাচ্চা পছন্দ। ছোট ছোট হাত পা তার ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকা খুব মিষ্টি লাগে তার কাছে।তানিয়াকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো সে। বিয়ের ৩ দিন পর আরেকজনের হাত ধরে পালিয়ে গিয়েছিল সে। ৬ মাস পরে ডিবোর্স পেপার আর একটা চিঠি পাঠায়। চিঠিতে লেখা ছিলো,

--- "রাফাত আমি ভেবেছিলাম তুমি খুব বিত্তবান। তোমার এটিটিউড চলাফেরা এমনটাই মনে হয়েছিল। বিয়ের দিন তোমার বাড়িতে পা দিয়ে আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আমি ল্যাক্সারিয়াস লাইফ চেয়ে ছিলাম। তোমার সাথে থাকা আমার সম্ভব না। বিয়ের মাস খানিক আগে একজনের সাথে পরিচয় হয়। সে আমাকে বিয়ের কথা বলেছিল।ভেবেছিলাম তুমি তার থেকেও বিত্তবান। সেজন্য তাকে আমি রিজেক্ট করেছি। তার হাত ধরেই পালিয়ে এসেছি। তার যথেষ্ট সম্পদ আছে। বিত্তবান সে। দয়া করে সাইন করে আমাকে মুক্তি দিও।"

চিঠি পড়ে সাথে সাথে সে সাইন করে দিয়েছিল। ভালোবাসা আর মেয়েদের উপর থেকে তার বিশ্বাস উঠে গিয়েছিল। তার কাছে মেয়ে মানে অর্থলোভি। তার বাঁচার ইচ্ছেটাও মরে গিয়েছিল। শুধু মা আর বোনের কথা চিন্তা করে ছন্নছাড়া জীবন পার করতো। আজ মেয়ে হয়েছে শুনে বাঁচার ইচ্ছে জাগছে। আচ্ছা তার ওই ছোট্ট মেয়েটা কার মতো হয়েছে? রাহাকে জিজ্ঞেস করবে?

বিয়ের ৪ মাস পরে প্রচন্ড এক ঝড়ের রাতে রাফাত রূপন্তিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বললো,

--- একটু ভালোবাসবে আমাকে? আমি যে ভালোবাসার কাঙ্গাল। আমি একটু ভালোবাসা চাই।

বিয়ের পর এটাই তাদের প্রথম কাছে আসা ছিলো। একজন আরেকজনকে ছুঁয়ে ছিল খুব গভীরভাবে। সকাল বেলা বিছানা ছেড়ে উঠতে গিয়ে নিজের অবস্থা দেখে আর সদ্য গোসল করে আসা রূপন্তির গলায় চিহ্ন দেখে বুঝতে বাকি ছিলো না রাতে কি হয়েছিল। খুব চেচিয়ে ছিলো রূপন্তির উপর। রূপন্তির বুঝতে বাকি নেই যে রাতে রাফাত ড্রাংক ছিলো। কারণ প্রথম রাতেই বলেছিল তার থেকে যেন রূপন্তি দূরে দূরে থাকে। সে মেয়েদের বিশ্বাস করে না। এরপর মাস দুয়েক পরে জানতে পারে তার ভেতরে আরেকটা অস্তিত্বের কথা। ভেবেছিলো খবরটা শুনে রাফাত খুশি হবে। এবার সে সুখের মুখ দেখবে কিন্তু খবরটা শুনে রাফাত শুধু ওহ বলেছিল। ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো মেয়ের কান্নার শব্দে।
হাসপাতাল থেকে বাড়ি আসছে আজকে ২ মাস। রাফাত একবার দেখতেও আসে নাই কলও করে নাই। ওর শ্বাশুড়ি রোজ খবর নেয়। মেয়েকে খাওয়াচ্ছিলো রুপন্তি, ওর মা এসে বললো নিচে একজন ওর সাথে দেখা করতে এসেছে। এই ঝড় বৃষ্টির রাতে কে আসলো দেখা করতে সেটা ভাবতে ভাবতে মেয়েকে দোলনায় রেখে নিচে গেলো সে। মানুষটাকে দেখে চমকে উঠলো সে। কেমন বিধ্বস্ত অবস্থায় কাকভেজা হয়ে বাবার সামনে মাথা নিচু করে বসে আছে সে। রূপন্তির বাবা রূপন্তিকে দেখে বললো,

--- তোমাকে সে নিতে এসেছে। তোমার কি মতামত??

--- তুমি যা বলবে তাই হবে। কখনো তোমার কথার অবাধ্য আমি হইনি।

--- তোমার স্বামী আমাকে বাবা সন্তানের ভালোবাসা বুঝাচ্ছে। অথচ সে জানে না তোমার মা যখন তোমাকে পেটে নিয়ে প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল আমি তখন নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কষ্ট কমানোর জন্য দোয়া করছিলাম। সবার আগে আমি তোমাকে কোলে নিয়ে ছিলাম। তোমরা সন্তানের বাবা মা হয়েছো দেখো কি করবা। আর ওকে ফ্রেশ হতো বলো। না হলে ঠান্ডা লেগে যাবে। হাজার হউক বন্ধুর ছেলে তার ওপর আবার মেয়ের জামাই।
ফ্রেশ হয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে তার সে কি কান্না। দুই ঘন্টা হয়ে গেছে এখনো মেয়েকে কোল থেকে নামায় নাই।

রাত ১২ টা!
মেয়েকে বিছানায় শুইয়ে রাফাত বারান্দায় গেলো রূপন্তির কাছে। অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলতে লাগলো,

--- আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইবো না। সেই মুখ আমার নেই। আমাকে একটা সুযোগ দেওয়া যায় না? শুধু একটা সুযোগ। রূপন্তিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আবার বলে, আমার #সুখের_খনি নীড়ে রেখে আমি মরীচিকার পিছনে ছুটেছি। আমি তোমাদের নিয়ে বাঁচতে চাই।

রাফাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে সে বলে,

--- প্রেগন্যান্সির সময়টা প্রত্যেকটা মেয়ে তার প্রিয় মানুষটাকে কাছে চায়। তাকে একটু সাহস দিবে ভরসা দিবে। নির্ঘুম রাতগুলো তার সঙ্গ দিবে। কিন্তু আমি সেই মানুষটাকে পাশে পাইনি। সে তার অতীত নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। হাসপাতালেও আমি তার অপেক্ষায় ছিলাম ভেবেছিলাম সে আসবে আর বলবে, কিছু হবে না তোমার আমি আছি তো। তুমি আর আমাদের সন্তান সুস্থ ভাবে আসবে। কিন্তু সে আসে নাই। শারীরিক কষ্টের থেকে মানসিক যন্ত্রণা বেশি অনুভব করেছিলাম। আমি সেই দিনগুলো ফিরে পাবোনা।

রাফাত হাঁটু গেড়ে বসে রূপন্তির পেট জড়িয়ে বললো,

--- আমি বেস্ট বাবা আর বেস্ট হাসবেন্ড হয়ে দেখাবো। আমার মেয়েটার দিকে তাকিয়ে একটা সুযোগ দাও। মানুষই তো ভুল করে । ভুল সংশোধনের সুযোগ দাও। তোমার যদি মনে হয় আমি তোমাকে অবহেলা করছি সেদিন আমাকে ছেড়ে দিও। শেষবার একটা সুযোগ চাইছি প্লিজ।
পরদিন বাবা মার থেকে বিদায় নিয়ে রূপন্তি চলে গেলো শ্বশুর বাড়ি। রাহা তো ভাইয়ের মেয়েকে পেয়ে খুশিতে ডগমগ করছে। রাফাত ঘুমোচ্ছে এসে। আর রূপন্তি রান্না ঘরে গেলো শ্বাশুড়ির কাছে। তিনি রূপন্তিকে দেখে বলে,

--- আমি খুব খুশি হয়েছি তুই ফিরে এসেছিস। বুঝলি রূপু দুরত্বে গুরুত্ব বাড়ে যদি সে তোকে ভালোবাসে। রাফাত যে তোকে ভালোবাসে বুঝতে পারে নাই। যখন দুরত্ব বাড়লো তখন বুঝলো। পরশু দিন এসে আমাকে বলে তার স্ত্রী আর মেয়েকে এনে দিতে। স্ত্রী আর মেয়েকে আর অবহেলা করবে না। তাদের খুব প্রয়োজন নাকি তার। শূন্যতা আর অপরাধবোধ তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। তাকে বললাম যে, ওরা তোমার প্রয়োজন নাকি প্রিয়জন?? প্রিয়জন হলে ক্ষমা চেয়ে ফিরিয়ে আনো আর প্রয়োজন হলে দরকার নাই। ছেলেটা আমার আঁচল দিয়ে চোখ মুছে বলে, ওরা শুধু আমার প্রিয়জন না একান্ত আপনজন। প্রিয়জন বলেই ওদের প্রয়োজন। আমার মেয়েটাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে আদর করতে ইচ্ছে করে। ওরা ফিরে আসবে তো?? সেজন্য বলেছি দেরি না করে নিয়ে এসো তাদের। যদিও তোর বাবার সাথে আমি আগেই কথা বলেছিলাম। অনেক বুঝানোর পরে ওনি মানলেন।

--- তাই তো বলি বাবা চুপচাপ আসতে দিলো কেন।

--- তোর শ্বশুর বেঁচে থাকলে এমনটা হতো না। মজার ব্যপার কি জানিস?? আমি যে রোজ তোকে কল করতাম রাফাত আমার পাশে বসে থাকতো।

রাতের খাবার শেষ করে মেয়েকে কোলে নিয়ে রুমে গিয়ে দেখে রাফাত ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছে। তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, আমরা মা মেয়ে কোথায় থাকবো?

--- কেন বিছানায়।

--- আর আপনি কোথায় শোবেন?

--- আমিও বিছানায় থাকবো। একবার ভুল করেছি আর করবনা। হয়তো দেড় বছরের সময়টা আমি ফিরিয়ে দিতে পারবো না আমি চেষ্টা করবো এর থেকে ভালো মুহূর্ত তোমাকে দেওয়ার জন্য। আমি তোমার কাছে চির কৃতজ্ঞ তুমি যে আমাকে একটা সুযোগ দিয়েছো। তুমি যেদিন মন থেকে আমাকে কাছে ডাকবে সেদিন আমি তোমার কাছে যাবো। সেদিনই বুঝবো তুমি আমাকে ক্ষমা করেছো।এখন ঘুমিয়ে পড়ো। যেকোনো একপাশে আমার জন্য জায়গা রাখলে হবে।

বারান্দায় গেলো সে।রূপন্তি মেয়ে কে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। মধ্যরাতে বারান্দা থেকে রুমে এসে স্ত্রী আর মেয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে দুজনের কপালে চুমু দিয়ে বলল, আমার ুখের_খনি। আমার আবার বেঁচে থাকার কারণ। ভুল করেছি মরীচিকার পিছনে ছুটে। আর সে পথে যাবো না। তোমাদের নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করবো। মেয়ের অন্য পাশে শুয়ে পড়লো।

-------- #সমাপ্ত

#অণুগল্প
ুখের_খনি
#সংগৃহীত

24/09/2023

finally আমি তোর পিছু ছেড়ে দিয়েছি 😭তুই কি মনে করিস তুই ছাড়া আমি থাকতে পারবো না আরে পাগলি তুই ছাড়া ও আমি থাকতে পারি কারণ কি জানিস তুই নিজেই আমাকে পাথর করে দিয়েছিস হাহ এখন আর তোর জন্য চোখের😭 কোনে পানি আসে না আর না তোর জন্য কষ্ট হচ্ছে এখন আমি ছিল মোডে আছি হাহা হিহি
ভালোবাসার মতো ভালোবাসিলে তারে কি গো ভুলা যায়
আরে কি গান বলতেছি আমি ও হাহ
একলা জীবন অনেক ভালোরে বন্ধু এখন আমি সুখে আছি বেশ
মজা করে লিখা
এএম আশিক

19/09/2023

••• স্ত্রীর সাথে মিলনের জন্য কি তাঁর অনুমতি নেয়া প্রয়োজন ?

*** মহানবী সা: বলেছেন “ স্বামী যখন তাঁর স্ত্রীকে দৈহিক প্রয়োজনে আহবান করবে, সে যেনো স্বামীর কাছে অত্যন্ত দ্রুত চলে আসে । এমনকি সে রান্না ঘরে রুটি পাকানোর কাজে ব্যস্ত থাকলেও ।”

সুনানে তিরমিযি ১১৬০
ছহীহুল জামে ৫৩৪

*** মহানবী সা: বলেছেন “ যে স্ত্রী স্বামীর ডাকে সাঁড়া না দেয় এবং স্বামী রাগান্বিত অবস্হায় সারারাত একাকী কাটায়, সে স্ত্রীর উপর ফিরিশ্তারা সকাল পর্যন্ত লা’নত দিতে থাকে ।”

ছহীহুল বোখারি ৫১৯৩
ছহীহ মুসলিম ১৪৩৬
সুনানে আবু দাউদ ২১৪১
নাসাঈ

*** মহানবী সা: বলেছেন “ তিন ব্যক্তির নামাজ তাঁদের মাথা অতিক্রম করেনা অর্থাৎ কবুল হয়না । তন্মধ্যে একজন হলেন অবাধ্য স্ত্রী , যে স্বামীর ডাকে সাঁড়া দেয়না এবং স্বামী রাগান্বিত অবস্হায় ঘুমায় ।”

তাবরানী ১০৮৬
সুনানে তিরমিযি ৩৬০
হাকেম
সিলসিলা ছহীহা ২৮৮

*** মহানবী সা: বলেছেন “ স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে নফল রোজা রাখা যাবেনা এবং স্বামীর অপছন্দ ব্যক্তিকে ঘরে প্রবেশ করানো যাবেনা ।”

ছহীহুল বোখারি ৫১৯৫
ছহীহ মুসলিম ২৪১৭
দারেমী ১৭২০
সিলসিলা আহাদিসুস ছহীহা ৩৯৫

*** মহানবী সা: বলেছেন “ পরকালে আল্লাহপাক স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ স্ত্রীর দিকে তাকাবেন না ।”

নাসাঈ কুবরা ৯১৩৫
বাযযার ২৩৪৯
তাবরানী
হাকেম ২৭৭১
বাইহাক্বী ১৪৪৯৭
সিলসিলাহ ছহীহা ২৮৯

*** মহানবী সা: বলেছেন “ কোন স্ত্রী যদি তাঁর স্বামীর অধিকার সম্পর্কে জানতো, দিনে বা রাতের খাবার শেষ করে স্বামীর পাশে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতো ।”

ছহীহুল জামে ৫২৫৯
তাবরানী

*** মহানবী সা: বলেছেন “ স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীর জন্য জান্নাত হারাম ।”

মুসনাদে আহমদ ১৯০০৩
নাসাঈ
হাকিম
বায়হাক্বী

*** মহানবী সা: বলেছেন “ যে স্ত্রী তাঁর স্বামীকে কষ্ট দেয়, জান্নাতের হুরেরা বলেন “ তোমার স্বামীকে কষ্ট দিওনা । তিনি তোমার কাছে সাময়িক মেহমান মাত্র । তোমাকে ছেড়ে অচিরেই আমাদের কাছে ফিরে আসবে ।”

তিরমিযি ১১৭৪
ইব্নে মাজাহ ২০১৪

*** মা- বাবা সহ সকলের মৃত্যুতে শোক পালন হচ্ছে মাত্র ৩ দিন পর্যন্ত । পক্ষান্তরে স্বামীর মৃত্যুতে শোক পালন করতে হবে ৪ মাস ১০ দিন ।

সূরা আল বাক্বারা ২৩৪
ছহীহুল বোখারি ১২৮০
ছহীহ মুসলিম ৩৮০২

13/09/2023

#কিসের_পিছুটান

# ২ ও শেষ।

আমি সরাসরি পুলিশ স্টেশনে চলে গেলাম। আমার ছোটবেলার বন্ধু রাকিব আজ আমাদের থানার ওসি। তাই চিন্তা করলাম ঝামেলা শেষ করতে বেশি বেগ পেতে হবেনা। থানায় এসেই রাকিব আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো....
_দোস্ত এতোদিন পর তোর সাথে দেখা। থানায় আসলি কেন? তুই বললেতো আমিই তোর বাসায় চলে যেতাম। কতদিন আমার মনি মুক্তা রাজকন্যা দুটোকে দেখা হয়না। কোন সমস্যা হইছে?
আমি শান্ত ভ/ঙ্গি/তে বললাম,,,
_হুম
_কী বলিস। আচ্ছা তুই এখানে বস। চা খেতে খেতে কথা বলি।
_না চা খাবোনা এখন। পরে একদিন।
_ওকে বল কী সমস্যা?
আমি শুরু থেকে আজকের চিঠির কথা পর্যন্ত বললাম। দেখলাম আমার কথাগুলো শুনে রাগে বোধহয় ওর চোখ লাল হয়ে গেছে,,,
_কী বলিস এগুলা। আমরা সব ফ্রেন্ডরা ভাবতাম তুই সবচেয়ে বউ পাগলা আর তন্নীকে দেখে আমাদের বউরা হিংসা করে আমাদের বলতো দেখেছো মারুফ ওর বউকে কত ভালোবাসে যা বলে তাই কিনে দেয়। আর পরিশেষে তন্নী কীনা সামান্য এক উসিলায় এমন ন্যা/ক্কার/জনক কাজ করলো? ভাবতেই অবাক লাগছে। আমার বউ এমন করলে ডাইরেক্ট খু/ন করে ফেলতাম।
_না অত সিরিয়াস বিষয়ে যাওয়া যাবেনা। এমন কাজ করবো যাতে তন্নী ওর ভুল বুঝতে পারে এবং সারাজীবন এই ভুলের গ্লানি বয়ে বেড়ায়।
_বুঝলাম। কিন্তু তুই কী করতে চাচ্ছিস?
_আমি এমন কিছু চাচ্ছি যাতে সাপও ম/র/বে কিন্তু লাঠি ভা/ঙ্গবেনা। আমি যদি সরাসরি তন্নীকে শা/স্তি দিতে চাই তাহলে ও ভাববে প্রতিশোধ নিচ্ছি তখন ওর ঘৃণাটা থাকবে আমার উপর আর নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্য করবে না। তাই চাচ্ছি তন্নী যে ছেলেটার সাথে পালিয়েছে সেই ছেলেকে ধরে জেলে ঢুকাতে। আর মামলা দিবি স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা চুরির মামলা। কারণ এমনিতেও তন্নী ঐ ছেলের কথাতেই এগুলো চুরি করেছে। আর এখানে আমার কোন হাত থাকবেনা। এরপরেরটা পরে বলবো।
_আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু ছেলেটাকে চিনবো কীভাবে আর ধরবো কীভাবে?
_সেই ব্যবস্থাও আমি করেছি।
এই বলে মোহন ছেলেটার ফেইসবুক আইডিটা রাকিবকে দিলাম।
_তুই নিশ্চিত থাক আমি তোর সাথে আছি।
_ধন্যবাদ দোস্ত।
এই বলে রাকিবের সাথে কোলাকুলি করে বিদায় নিলাম।
এখন আর কিছুই ভালো লাগেনা। তন্নীকে এতো ভালোবাসলাম আর যা চাইতো তাই দিতাম অথচ ও সামান্য একটা উসিলায় আমাকে ছেড়ে চলে গেল। আমার মেয়ে দুটোর কথা একবারও ভাবলোনা? আমার খুব কাদতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কোন এক সত্ত্বা যেন আমায় বার বার বাধা দিচ্ছে কাদতে।

দুদিন পর রাকিবের ফোন...
_হ্যালো
_হ্যা দোস্ত মোহন হা/রা/ম/জা/দা/রে ধরছি।
_ওহ। কিছু বলছে?
_হুম। এটাতো একটা বাটপার। ও হলো একটা চক্রের সদস্য। দুইটা পা/ছায় দিলাম সব গড়গড় করে বলে দিলো।
আমি উৎফুল্ল হয়ে বললাম,,,
_চ/ক্র মানে? খুলে বলতো।
_ওদের একটা চক্র আছে যেখানে ওরা ঐসব মেয়ে আর মহিলাদের টার্গেট করে যাদের স্বামীরা প্রবাসী অথবা দুরে থাকে। তারপর তাদের প্রেমের জালে ফাসিয়ে এবং পরবর্তীতে বিয়ের প্রোলোভন দেখিয়ে তাদের সকল স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় এবং যখন এগুলো শেষ হয় যায় তখন তাদেরকে ছেড়ে দেয়।
_এতো দেখছি মেঘ না চাইতেই জল। আচ্ছা তোর কাজ শেষ তুই এখন চ/ক্রের অন্য সদস্যদের ধরার চেস্টায় থাক। ধন্যবাদ দোস্ত আমার এতো বড় একটা উপকার করার জন্য।
_এটা আমার দায়িত্ব।
_ওকে রাখি।

আমার আজকে অনেক খুশি লাগছে। কারণ তন্নী এখন বুঝতে পারবে কারো সাথে ধো/কাবা/জি করলে সেটা নিজের দিকেই ইউটার্ন করে কোন একসময় ফিরে আসবে। আজ আমি অনেক খুশি। বাবা মা বোন ও মেয়েদের নিয়ে আজ রেস্টুরেন্টে গেলাম। সবাই আমার কাজে অবাক হলেও কিছু বলছেনা। এতোদিন কারো মুখেই হাসি দেখিনি। তাই সবার মুখে হাসি ফুটানোর জন্যই ছোট খাটো একটি পার্টি।

পাঁচ দিন পর....
হঠাৎ অচেনা একটি নাম্বার থেকে কল আসলো। এরকম অনেক কলই আসে বিভিন্ন ক্লা/য়েন্টদের।আমি কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে চিরচেনা কন্ঠস্বরের শব্দতর/ঙ্গ/টা কানের মধ্যকর্ণে আঘাত করলো। যেই আওয়াজটা আগে আমার নিকট মধুর থেকেও মিষ্টি লাগতো আজ সেটা করলার থেকেও তিতার মতো লাগছে....
_কেমন আছো?
_কেন ফোন দিয়েছো?
_অধিকার আছে তাই ফোন দিয়েছি।
_হাহাহাহাহাহা। অধিকার? কোন অধিকারের কথা বলছো? ন/ষ্টা/মি করার পর এখন অধিকার খাটাতে এসেছো?
_বিশ্বাস করো আমি ভাবতে পারিনি এমন কিছু হবে। মোহন নাকি একটা চক্রের সদস্য। আমাকে ধোকা দিয়ে সব সোনা আর টাকা নিয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে ওকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। আমি ভালো নেই এখন। আমাকে মাফ করে দাও।
_ওকে মাফ করে দিলাম যাও। আর কিছু বলার আছে?
_প্লিজ আমার কথাটা বোঝার চেস্টা করো। আমি আবার ফিরে আসতে চাই তোমার নিকট। আমি এখানে ভালো নেই। কান্না (করতে করতে)
_তুমি এখন এই কথা বলার সাহস পাও কীভাবে সেটাই বুঝিনা। একটা ছেলের সাথে ন/ষ্টা/মি করে বের হয়ে গেছো তখনতো বাপ দাদার সব মানসম্মানই খেয়েছো। এখন আমার মেয়েদের আর পরিবারকে নিয়ে কস্ট টাকে ভুলার চেস্টা করছি আর তুমি কীনা আবার ফিরে আসতে চাইছি। আহ বছরের সেরা জোকসটা আজ শুনলাম।
_প্লিজ আগের সব ভুলে যাও। আমি তোমাদের বাড়ির কাজের লোকের মতো থাকবো তবুও আমাকে ফিরিয়ে নাও।
_এই আবদারটা ফোনে করেছো তাই বেঁচে গেছো। যদি সামনে কথাটা বলতে তাহলে আমার বসুন্ধরা মার্কেট থেকে কেনা জুতাটা তোমার গালে আদর করেই ছিড়ে ফেলতাম।
_এই কথা বলতে পারলে? তুমি আমাকে ভালোবাসোনা। (কান্নারত অবস্থায়)
_ভালোবাসতাম। কিন্তু যে দাত থাকতে দাতের মর্যাদা বুঝে না। আর মর্যাদা না বুঝে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারে তাকে ততটুকুই ঘৃণা করা যায় যার বেশি ঘৃণা কারো মনে জন্ম নেয়না।
_প্লিজ। এরকম কথা বলোনা। তুমিইতো আমাকে সময় দিতেনা। তাইতো এরকম করলাম।
_থা/পরা/ইয়া তোর দাত ফালাইয়া দিমু।আমি যে দেশবিদেশে এতো কস্ট করি সেটা কার জন্য। যদি টাকা ইনকাম না করতাম তাহলে তোর এতো আবদার কে পূরণ করতো। তোর কোনো চাওয়া অপূর্ণ রাখিনি আর তুই এখন সময় না দেওয়ার উসিলা দেস? তোর মতো উচ্চাকা/ঙ্ক্ষি/দের এই অবস্থা হবে সেটা আমার আগেই ভাবা উচিৎ ছিল। আর শোন তোর মতো আমার এতো শা/রী/রি/ক চাহিদা নেই। আমি চিন্তা করেছি আর বিয়ে করবোনা বরং আমার মেয়েদের নিয়েই ভালো থাকবো। তোকে আমি অনেক বড় শাস্তি দিতে পারতাম। কিন্তু এটা নারীসমাজের মাঝে পরিপূর্ণ দৃষ্টান্ত হবেনা। বরং তারা দেখুক যে অবহেলার উসিলায় যদি স্বামীর সংসার ছেড়ে দেয় তাহলে তাদের শেষ পরিণতি কী হয়? শাস্তি কিংবা খু/ন হলো সাময়িক সময়ের জন্য। কিন্তু তোর থেকে মানুষ আজীবন শিক্ষা নিবে। আর এখন তোকে কোনো রিকশাওয়ালাও গ্রহণ করবেনা শুধু বনের হিং/স্রপ্রাণীরা ব্যতীত। পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই যে মুক্তা পেয়েও সেই মুক্তায় সামান্য ক্ষয় দেখে ভালো মুক্তার আশায় ক্ষয়কৃত মুক্তাটি ফেলে দেয় তার ভাগ্যে ঝিনুকের খোসাও জোটে না।
তন্নী শুধুই কাদছে। জানি ওর কিছু বলার নেই।
আমি কলটি কেটে দিলাম। আর ভাবছি অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল করলে তাকে ক্ষমা করা যায় কিন্তু ইচ্ছাকৃতভুল ক্ষমার অযোগ্য।
হঠাৎই আমার ছোট মেয়েটা ডাক দিলো।
_বাবা খেলবেনা?
আমার সকল ভাবনার সমাপ্তি ঘটিয়ে বললাম,,,
_হ্যা মা চলো।
কারণ এখনতো আমিই ওদের বাবা আমিই ওদের মা।

সমাপ্ত

সবাই গল্পের নতুন পেজ ফলো করুন 𝐓𝐨𝐫𝐢𝐪𝐮𝐥 𝐈𝐬𝐥𝐚𝐦 シ︎

12/09/2023

আমার স্ত্রী তন্নী এক ছেলের সাথে পালিয়েছে। তাও আবার খালি হাতে নয় বরং বাসায় যত টাকা আর গয়না ছিলো সব নিয়ে পালিয়েছে।
খবরটি প্রথমে আমাকে দেয় আমার ছোট বোন মাহি। ফোনে ওর মুখ থেকে একথা শুনেই আমি ওকে ধমক দেই। পরবর্তীতে আমার মা ওর থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে আমাকে বলে যে তন্নী আলমারীর ভিতর যা মূল্যবান জিনিস ছিলো কিছু খালি রাখেনি।
আমি একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে চাকরি করি। এই সুবাদে আমাকে বিভিন্ন দেশেই ভ্রমন করতে হয়। বর্তমানে আমি মালয়েশিয়াতে অফিসের এক ক্লায়েন্টের সাথে চুক্তি করতে এসেছি। এর মধ্যেই শুনি এই কথা।
প্রথমে মাহির কথা শুনে বিশ্বাস হচ্ছিল না। কিন্তু একে একে সব আত্মীয়স্বজন যখন ফোন দিয়ে তন্নীর কথা জিজ্ঞেস করছিলো তখন আর বিশ্বাস না করে পারলামনা।
বাবা মায়ের পছন্দেই তন্নীকে বিয়ে করি। আমাদের দুটো মেয়েও আছে মনি ও মুক্তা। ওদের বয়স যথাক্রমে ৮ বছর ও ৫ বছর। তন্নী খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী মেয়ে। পাশের বাড়ীর ভাবিদের নিকট নতুন কোনো গয়না কিংবা ড্রেস দেখলেই সেটা ও না কেনা পর্যন্ত ক্ষান্ত হবেনা। একারণে বাবা মা আমাকে প্রায়ই বকাঝকা করে যে তন্নীকে আমি শাষন করিনা কেন? এতো কাপড় আর গয়না থাকতেও তন্নীর এতো কিছু কেনা লাগে কেন?আমি আমার মেয়েদের আর তন্নীকে খুব ভালোবাসতাম। তাই বাবা মায়ের বকাঝকা শোনা সত্ত্বেও তন্নীর কোন আবদার অপূর্ণ রাখতামনা।
তন্নী এমন কেন করলো আমি বুঝতে পারছিনা নাকি অন্য কোন কাহিনী আছে? একজন মা তার স্বামীর কথা না ভাবলেও অন্তত তার সন্তানের কথা ভেবেতো দুরে চলে যাওয়ার কথানা।
মনি ও মুক্তা দেখতে তন্নীর মতোই সুন্দরী রাজকন্যার মতো হয়েছে। এমন সুন্দর দুটি ফুলকে রেখে তন্নী কীভাবে চলে যেতে পারলো?
আমি আর এক মুহুর্ত দেরী না করে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ঐদিনের ফ্ল্যাটেই ঢাকাতে চলে আসলাম। অন্যান্য সময় এয়ারপোর্টে আসলে তন্নী, আমার বোন মাহি আর আমার দুই মেয়ে মনি মুক্তা পিক করতে আসতো। কিন্তু আজ মাহি বাদে আর কাউকে দেখছি না। আমি প্লেইনে অবস্থানের সময়ও মনে হচ্ছিল তন্নী আমাকে পিক করতে আসবে। কাউকে অধিক ভালোবাসলে যা হয় আরকি। কিন্তু এখন শুধু মাহিকে দেখে তন্নীর প্রতি অবিশ্বাসটা ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছিল।
অন্যসময় বিদেশ থেকে আসলে আমার বোন উৎফুল্ল সহকারে আমার হাত ধরে বলতো ভাইয়া কী এনেছো। কিন্তু আজ মাহির মুখে কোন কথা শুনছি না। আমাকে দেখেই ও আমার সাথে এয়ারপোর্টের বাহিরে হাটা ধরলো।বাড়িতে ফেরার সময় সম্পূর্ণ রাস্তায় মাহি একটি কথাও বলেনি।
বাসায় এসে মনে হচ্ছে কোন ভুতূড়ে বাড়িতে এসেছি। পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ। কিছুক্ষন পর বাবা মা তাদের রুম থেকে বেরিয়ে আসলেন। মনি মুক্তার কথা জিজ্ঞেস করতেই মা বললেন,,,
_ওরা ঘুমাচ্ছে।
হঠাৎ মা আবার বলে উঠলেন,,,
_বলেছিলাম আগেই বউকে বেশি আহ্লাদ দিস না। এখনতো দেখলি বেশি আহ্লাদের ফল। ছি ছি ছি। শেষ পর্যন্ত ওমন ফুটফুটে মাইয়াগুলা রাইখা পোলাগো লগে পলাইলো? মান সম্মান পুরা ডুবাইয়া দিছে। আমাগো বংশের এতো নাম কাম সব এক নিমিষেই শেষ।
আমি কিছু বলছিনা চুপচাপ দাড়িয়ে আছি। বাবা আর মাহিও চুপ। মা আবার বলা শুরু করলেন,,,
_এই মাইয়ারে আমি আগে থিকাই সন্দেহ করছিলাম যে ছ্যাড়াগো লগে ইটিশপিটিশ করে। কত ভালো ফ্যামিলি দেইখা বিয়া করাইলাম। আর মাইয়া এমন জানলে বিয়ার আগেই অপমান কইরা আইতাম।
_আচ্ছা মা তুমি বুজলে কীভাবে যে তন্নী ছেলেদের সাথে পালাইছে?
_এইডাতো দুধ খাওয়া বাচ্চারাও বুজবো। এমনে গেলে একটা কথা আছিলো। কিন্তু আলমারির সব টাকা আর গয়না লইয়া গেছে। কেউ কেউ কী এমনি এমনি এগুলা নিয়া পালায়? আর তাছারা তোর শ্বশুড় বাড়ি কল দিছি তারাও কইছে যে তাদের বাড়ি যায়নায়।
মায়ের কথাগুলোতে যুক্তি আছে তন্নীর পালানোর ব্যাপারে।
বাবা বললেন,,,
_তোর শ্বশুরকে এগুলো বলার পরেতো সে উল্টো আমাদের হুমকি দিচ্ছে যে আমরা নাকি তোর বউরে গুম করে দিয়েছি। তারপর সব প্রমাণ দেওয়ার পর উল্টা মাফ চাইতে আসছে আবার বলে কীনা মেয়ে ত্যাজ্য করে দিছে। এখন আমাদের মান সম্মান খাইয়া উল্টা সান্ত্বনা দিতে আসছে।
আমি আর কোন কথা না বলে সরাসরি রুমে চলে আসলাম। আমার দুই মেয়ে মনি মুক্তার নিষ্পাপ চেহারা দেখে মনে কিছুটা শান্তি আসলো। আমি এখনো বাবা মায়ের কথা বিশ্বাস করতে পারছিনা। তন্নী কেন এমন কাজ করবে এসব ভাবতে ভাবতে কাপর পাল্টাচ্ছি হঠাৎ মানিব্যাগটা নিচে পরে যায়। মানিব্যাগটা উঠাতে গিয়ে খাটের নিচে একটা কাগজের দিকে চোখ যায়। কৌতুহলবসত কাগজটা হাতে নিতেই দেখি একটা চিঠি। এটা যে তন্নীর হাতের লেখা সেটা বুঝতে আর বাকী রইলনা। আমি পড়া শুরু করলাম,,,

প্রিয় মারুফ
আমাকে মাফ করে দিও। তুমি সারাদিন কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতে। এদেশ সেদেশ ঘুরে বেড়াতে কিন্তু আমার একাকিত্বটা কখনো বুঝতে পারলেনা। তোমার কাজের চাপ এতোছিল যে একমাস পর পর মাত্র দুতিনদিন আমায় সময় দিতে। এটা আমার জন্য যথেষ্ট ছিলনা। কিন্তু আমার এই একাকিত্বের সময় মোহন ছেলেটি আমাকে অনেক সময় দিতো। আমি মনের অজান্তেই মোহনকে ভালোবেসে ফেলেছি।তাই মোহনের সাথে ভালো থাকার জন্য আমি বাধ্য হয়েছি গহনা আর টাকা নিতে। আমি ভালোবাসার কাঙ্গাল তাই সব মায়া ত্যাগ করে আমি চলে যাচ্ছি। আমায় খোজার বৃথা চেস্টা করোনা। মনি মুক্তাকে দেখে রেখো। আর আমাকে ক্ষমা করে দিও।
ইতি
তোমার অপ্রিয়
#তন্নী

চিঠিটা পড়ার পর মনে হচ্ছিল আমার বুক থেকে কেউ কলিজাটা ছিড়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমি কার জন্য এতো কস্ট করে টাকা ইনকাম করলাম। আর সে কীনা সামান্য একটা উসিলায় আমার বিশ্বাস ভেঙ্গে চলে গেল?
এর শেষটা আমি দেখেই ছাড়বো। ভাবছি কী করা যায়? তখনি আমার মনে পরলো তন্নীর ফেইসবুক আইডিতো আমার ইমেইল দিয়েই খোলা। তাই আমি আর দেরি না করে ইমেইল দিয়ে তন্নীর আইডিটা লগ ইন করলাম। লগ ইন করেই আমার চোখ ছানাবড়া। সব বিশ্বাসকে পেছনে ফেলে আমি সেই কাঙ্ক্ষিত ছেলেটির আইডি খুজে পেলাম। ওরা কীভাবে পালাবে আর কোথায় যাবে সব কিছুই মেসেন্জারে দেওয়া আছে। আমি সরাসরি পুলিশ স্টেশনে চলে আসলাম...
এবার আমার পালা,,,

(চলবে)

#কিসের_পিছুটান

পর্বঃ ১

01/09/2023

রিক্সা চালাই। বিয়ে করেছিলাম আজ থেকে এক বছর আগে।আমার মতই এক গরীবের মেয়েকে বউ করে এনেছিলাম আমি।

অভাবের সংসারটা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়েছিলো ও।বুঝতে পারি বউ আমায় খুব ভালবাসে।

আমি যখন রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরি,ও আমার জন্য গোছলের পানি তুলে দেয়।মাঝেমাঝে আমিও অবশ্য তুলে দেই।

বাড়িতে কারেন্ট নাই,খেতে বসলে ও পাখা দিয়ে বাতাস করে।

গরমের রাতে দুজনে অদল বদল করে পাখা দিয়ে বাতাস করি,ভবিষ্যৎটাকে সাজানোর গল্প করি দুজনে।

গল্প করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে যেতাম বুঝতে পারতামনা।

রিক্সায় বড়বড় সাহেবরা তাদের বউকে নিয়ে উঠত।

দুজনে মিলে অনেক গল্প করত। সাহেবদের কাছে শুনতাম তারা যেদিন বিয়ে করেছে সেদিন আসলে তারা নাকি অনুষ্ঠান, পার্টি না কি জানি করে,

এই সব আমার জানা নেই। যখন শুনতাম আমারো ইচ্ছে করত বউকে একটা শাড়ী কিনে দিতে।বউকে যে খুব ভালবাসি আমি।

কিন্তু পারিনা।অভাবের সংসার, দিন আনি দিন খাই।তাই একটা মাটির ব্যাংক কিনেছিলাম।

ওটাতে রোজ দুচার টাকা করে ফেলতাম।

দেখতে দেখতে অভাবের সংসারে আজ একটা বছর হয়েগেল।

আজ সকালে রিক্সা নিয়ে বের হবার আগে বউ যখন রান্না ঘরে গেল তখন বউকে না জানিয়ে লুকিয়ে রাখা মাটির ব্যাংকটা বের করে ভেঙ্গে দেখলাম সেখানে প্রায় ৪৮০ টাকা হয়েছে।

বাসা থেকে বের হবার আগে বউকে বলেছিলাম, আজ বাড়িতে ফিরতে দেরী হবে। বউ মাথা নাড়ে,বলে ভালো কইরা থাকবেন।

চলেগেলাম রিকশা নিয়ে। সারাদিন রিক্সা চালিয়ে সন্ধ্যা সাতটায় মার্কেটে গিয়েছিলাম বউয়ের জন্যে একটা শাড়ী কেনার জন্য। আজরাতে বউকে দিব।

ঘুরে ঘুরে অনেক শাড়ীই দেখছিলাম,পছন্দ হয় কিন্তু দামের জন্য বলতে পারিনা।

অবশেষে দোকানীকে বললাম,

ভাই এই কাপড়টার দাম কত

১৫০০ টাকা।

আমার কাছে তো আছে মাত্র ৪৮০ টাকা।তাই ফিরে আসলাম।

মার্কেট থেকে বের হয়ে বাহিরে বসে থাকা দোকানদারদের থেকে ৪৮০ টাকায় একটা শাড়ী কিনে নিয়ে বাড়িতে চলে আসি।

মাঝেমধ্যে ভাবি,এই দোকান গুলো যদি না থাকত,তাহলে কত কষ্ট হত আমাদের মত গরিবদের।

ফুরফুরে মেজাজে বাড়িতে ঢুকলাম। অনেকদিন পর বউকে কিছু একটা দিতে পারব,ভাবতেই বুকটা খুশিতে ভরে উঠছে বারবার।

রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পরার ভান করে শুয়ে আছি।

বারটা বাজার অপেক্ষায় চোখ বন্ধ করে আছি। কল্পনার জগতে ভাসছিলাম,বউকে দেবার পর বউ কি বলবে
কতটা খুশি হবে

__ রাত বারটা বেজে গেল।বউকে ডেকে তুললাম। ডেকে তুলে বউয়ের হাতে শাড়ীটা তুলে দিয়ে বললাম, বউ আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী।

আজকের তারিখে তুমি আমার এই কুড়ে ঘরটাতে এসেছিলে।

আমার পক্ষথেকে তোমার জন্য এই ছোট্ট উপহার।

বউ শাড়িটা বুকে জড়ায়,চোখ দিয়ে পানি ঝরতে থাকে ওর।

তারপর উঠে গিয়ে ট্রাঙ্কটা খুলে শাড়িটা রেখে দেয়।

তারপর কি যেন বের করে। আমি উকি মেরে দেখার চেষ্টা করেও দেখতে পাইনা।

বউ ট্রাঙ্কটা বন্ধ করে আমার হাতে একটা লুঙ্গি দিল।কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম আমি।

কারন টাকা পেল কোথায়
জিজ্ঞাসা করলাম,

টাকা পেলে কোথায় তুমি

অনেকদিন আগে থেকে প্রত্যেকদিন একমুঠ করে চাল খাবারের চাল থেকে আলাদা করে জমিয়ে রাখতাম।জমিয়ে জমিয়ে কিছুদিন আগে পাশের বাসার ভাবির কাছে বিক্রি করে দিছি।

সেই টাকা দিয়ে লুঙ্গি কিনছি।ভাবছিলাম আজকে দিব, আপনি তো এসেই ঘুমিয়ে পরলেন।তাই ঠিক করছিলাম কাল সকালে দিবো।

আমি কিছু বলতে পারলামনা।শুধু লুঙ্গিটা উল্টিয়েপাল্টিয়ে দেখছিলাম।

তারপর বললাম,শুনছি বড় সাহেবরা নাকি বিয়ের দিন তারিখে কেক কাটে।

বউ বলে,আমাদের কি অত টাকা আছে

বাসায় মুড়ি আছে।

আছে।

যাও সরিষার তেল দিয়ে মুড়ি নিয়ে এসো।সাথে একটা কাঁচামরিচ আর একটা পিয়াজ আনিও।

আচ্ছা দাড়ান আনতেছি। টিনের ফাক আর জানালা দিয়ে চাঁদের আলো আসতেছে।দুজন জানালার পাশে বসে মুড়ি খাচ্ছি,

আমাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী পালন করছি __ ছোট ছোট গিফট আর অফুরন্ত ভালবাসায় বেঁচে থাকুক আমাদের মত রিকশা ওয়ালাদের জীবন..........(সমাপ্ত)

Address

Riyadh

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ashik blogs posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share