09/10/2025
🎶 আমার মিউজিক ভাবনা 🎧
✍️ আবুল আলা মাসুম
রিসেন্ট কয়েকটি ইসলামি গানের মিউজিক্যাল আসরে আমার বসার সুযোগ হয়েছে। এখানে বসে আমি আমার আত্মিক অবস্থা অবজারভ করছিলাম।
১- চমতকার আয়োজনের মধ্যেও আমি নিসংগতা ফিল করছিলাম।
২- চমতকার আলোকসজ্যা আমাকে বিমোহিত করার পরিবর্তে বিষণ্ণ করে তুলছিল।
৩- চমতকার গায়কি ছাপিয়ে আমার হৃদয়ের আধ্যাত্মিক নদীর তীর বাদ্যের রিদম তালে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছিল।
৪- আমি আমার হৃদয়ের আধ্যাত্মিক শক্তির পতন অনুভব করছিলাম।
৫- ৩টি আসরে বসার পরবর্তী সময়ে স্প্রিচুয়াল পতনের প্রভাব আমার হৃদয়ে বেশ কিছু দিন ধরে অবস্থান করেছে।
৬- এই আয়োজকদের মধ্যে কিছু বাড়াবাড়ি রকমের আবেগ, অযৌক্তিক যুক্তি আছে যা সত্যিই বিপদজনক।
আমি মিউজিককে তাহাজ্জুদ নামাজের সাথে একত্রিত করছি না। কিন্তু এর প্রভাব আমার আত্মিক শুদ্ধতা নষ্ট করেছে।
বাংলাদেশের ইসলামি গানের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথমত ৩ প্রকারের গান এখন পর্যন্ত রিলিজ হয়েছে।
১. নন মিউজিক্যাল।
এই ধারার গানে সর্বোচ্চ হাল্কা ডিলে, রিভাব, ডিকে ব্যবহার হয়েছে। মরহুম কবি মতিউর রহমান মল্লিক ভাই এর নিজ কণ্ঠের কিছু এলবাম তো সরা্সরি টেপ রেকর্ডারে রেকর্ড করা হয়েছিল। সে রেকর্ডে রাস্তার গাড়ির হর্ণও আমরা শুনতে পেয়েছি।
২. ভোকাল ভার্শন।
ভোকাল ভার্শন নামে যে সকল গান প্রথম দিকে নির্মিত হয়েছিল সেগুলিতে রিদম করে তাল ঠিক রেখে ভয়েজ রেকর্ড শেষে রিদম ফেলে দেয়া হত। ব্যাক ইন্ডে পিয়ানো বা সফট সাউন্ড ইফেক্ট ব্যবহার করা হত।
অধুনা যে সকল ভোকাল ভার্শন তৈরি হচ্ছে তার অধিকাংশ গানে ব্যাক ইন্ডে বেজ গিটার থেকে শুরু করে সকল টাইপ ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু পরিমাণটা নিয়ন্ত্রিত এবং রিদমটা নেই। এর সাথে তারা ভিজুয়ালে বাদ্যযন্ত্র পরিহার করছেন।
কেউ কেউ কণ্ঠ দিয়ে রিদম তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। কেউ জিকির এর মাধ্যমে রিদম করেছেন। বর্তমানে কোনো রাখ ঢাক ছাড়াই দেদারছে হিউজ মিউজিক ইউজ হচ্ছে ভোকাল ভার্শনের ব্যাকইন্ডে।
৩. মিউজিক্যাল।
টোটাল মিউজিক ব্যবহার করে ইসলামি গান নির্মাণ হয়েছে। এ জাতীয় গানে রাখঢাক ছাড়া ব্যাপক মিউজিক আয়োজন ছিল।
ইসলামিক গানের ইন্ডাস্ট্রির এই ৩ জোনরার গান থেকে "নন মিউজিক্যাল" গান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে টিকতে পারেনি। ৩য় জোনরার "টোটাল মিউজিক্যাল" গান দালিলিক ভাবে, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং শ্রোতাদের গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ডে অপাংতেও প্রমাণিত হয়েছে।
২য় জোনরা অর্থাৎ "ভোকাল ভার্শন" গান এর ধারাটাই দালিলিক, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং শ্রোতাদের গ্রহণযোগ্যতার ৩টি মানদন্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে।
গানের শ্রোতাগণই মূলত গানের ক্রেতা। তারা যা গ্রহণ করেন সেটাই ব্যবসা সফল। বিজনেস যুক্ত হলে সে শিল্প সার্ভাইভ করে যায়। বিজনেস না থাকলে সেটা গচ্চা দিয়ে দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখা যায় না যদি না ডোনেশান বা স্পন্সর না পাওয়া যায়।
ইসলামি গানের ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার জায়গাটি হল এ বিষয়ে কোন রিসার্চ না থাকা। এখানে না আছে ক্রেতা এনালাইসিস আর না আছে কন্টেন্ট এনালাইসিস। কাস্টমার ফোকাস নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। দেদারসে প্রডাক্ট তৈরি হচ্ছে আর দেদারছে রিলিজ হচ্ছে।
এখানকার ইসলামি গানের ধারার শ্রোতাগণ নিজেরা সারাদুনিয়ার যা খুশি তাই দেখুক বা শুনুক না কেন ইসলামি কথা মালায় তারা মিউজিক গ্রহণ করেনি। সাংগঠনিক কথামালা বা হামদ-নাতে মিউজিক ভালোভাবে নেয়নি। এই জোনরাতে যারাই কাজ করেছেন তারা সকলেই অর্থনৈতিক ভাবে লুজার হয়েছেন।
ধর্মীয় আলোচনা বাদ দিয়ে বিজনেস আলোচনাতে এলেও মিউজিক্যাল গানের খানা এই শ্রোতাদের কাছে নেই এটা প্রমাণিত সত্য। ফলে ইসলামি গানে এখন পর্যন্ত যারা মিউজিক করেছেন তাদের অধিকাংশই আবার ভোকাল ভার্শনে ফিরে এসেছেন।
এখানকার সবচেয়ে বড় আর একটি সংকট হল, পরমত অসহিষ্ণুতা। নিজের মতকে অপরের অপর চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা। এই অনিসলাম চর্চা ইসলামিস্টদের ভ্রাতৃত্বের সীসা ঢালা প্রাচীরকে তালপাতার বেড়া বানিয়ে দিয়েছে।
মিউজিক এমন কোন ফরজ বিধান নয় যে তাকে জোর করে বাস্তবায়ন করতে হবে। বরং এর বিরুদ্ধে আলেমদের ঐক্যমত রয়েছে। শ্রোতাদের নেতিবাচক মনোভাব এখানে প্রকট। সুতরাং এ বিষয়টিকে বুদ্ধিমত্তার সাথে হ্যান্ডেল করা বাঞ্ছনীয়।
যারা মিউজিক এর পক্ষে বলছেন তাদের কাছে কিছু দলিল আছে। কথা বলার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের নমনীয় হয়ে কথা বলা উচিত। একজন দায়ীর দায়িত্ব তথ্য পৌছে দেয়া। বাধ্য করার জন্যে আল্লাহ আমাদের দায়িত্ব দেন নাই।
মিউজিকের কারণে ইসলামপন্থীদের মাঝে রাজনৈতিক সম্পর্কে অবনতি ঘটছে। ইসলামী গানে মিউজিক ব্যবসায়িক বা অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে।
যারা মনে করেন মিউজিক হালাল তারা দয়া করে এই ঘারানার কোন শিল্পীকে দিয়ে গান করাবেন না। আপনারা মেইন স্ট্রিমে চলে যান। মেইন স্ট্রিমের আর্টিস্ট দিয়ে ইসলামি গান করান। এতে কয়েকটি লাভ হতে পারে-
-১ সেই আর্টিস্ট ও তাদের ফ্যান ও ফলোয়ারদের মিউজিক বিষয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।
-২ তারা যে লিরিক নিয়ে কাজ করছে সেগুলি কথার কারণেই ইসলামে নিষিদ্ধ। সেগুলির মাধ্যমে অশ্লীলতার প্রচার ও প্রসার হচ্ছে। আপনি শুদ্ধ কথার লিরিক তাদের মাধ্যমে তাদের শ্রোতাদের কাছে পৌছে দিতে পারেন।
-৩ তারা যে গান করছে তার অধিকাংশ গানের জন্ম হয়েছে নিষিদ্ধ পল্লীতে। যেমন কোনো এক মেয়ের প্রতি ক্রাস থেকে জন্ম হয়েছে সাদা সাদা কালা কালা। কোনো মুসলিম ক্রাস খাইতে পারে না।
কিংবা লেচুর বাগান। নারীদেহের বয়স ভিত্তিক বেড়ে ওঠার অশালীন ভাবনার থেকে যার উতপত্তি। এগুলি জন্ম কোনো ভালো দৃষ্টিকোণ থেকে হয় নি। এখানে শুদ্ধ লিরিক প্রচার আপনার একটি উদ্দেশ্য হতে পারে।
-৪ ইসলামি গানের শিল্পীর অধিকাংশ ফ্যান ফলোয়ার জাশি কিংবা কওমী অংগণের মানুষ। তাদেরকে মিউজিক শিখাইয়া লাভের চেয়ে লস বেশি। এই লস যেমন শ্রোতাদের তেমনি ইনভেস্টরদের।
-৫ বিদেশি ভাষায় গান করেন। যেখানে ইসলামি গানের লিরিক নেই। তাদের প্যাকেটে আপনি শুদ্ধ কথা মালা তাদের কাছে পৌছে দিন।
-৬ মাজারে চলে যান। সেখানের গানে শিরক আছে। শিরক মুক্ত গান তাদের কাছে পৌছে দেন।
-৭ মিউজিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে ইসলামিক গানের শিল্পীদের কোনো ফ্যান ফলোয়ার তৈরি হয় নাই। তাই এই শিল্পীদের ব্যবহার করে ঐ ঘারানায় কোনো তথ্য আপনি পৌছাতে পারবেন না। বিষয়টি যত্নসহকারে উপলব্ধি করবেন।
-৮ আপনি যাই জোনরাতে কাজ করবেন সেখান থেকে শিল্পী সংগ্রহ করবেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ মিউজিক নিজ দায়িত্বে করবেন। আসমানের মালিকের সামনে যে দিন দাড়াবেন সেদিন দেয়ার মত জবাব আপনার কাছে আছেত?