31/10/2025
সুদান এক দেশের কান্না, এক মানবতার পরীক্ষা
দূর আফ্রিকার হৃদয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক ক্লান্ত দেশ।সুদান। প্রায় দুই বছর ধরে দেশটি ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জর্জরিত, যেখানে সেনাবাহিনী (SAF) ও প্যারামিলিটারি গ্রুপ (RSF)-এর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সাধারণ মানুষের জীবনকে পরিণত করেছে এক অবিরাম সংগ্রামে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ও হিউম্যান রাইটস অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ২০২৫ সালে শুধু খার্তুম প্রদেশেই প্রায় ৬১,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ২৬,০০০ জন সহিংসতার প্রত্যক্ষ শিকার। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে কিছু এলাকায় হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ, এবং স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে।
এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত, যাদের মধ্যে অর্ধেকই শিশু। জাতিসংঘের World Food Programme (WFP) জানিয়েছে, খাদ্যাভাব ও অপুষ্টির কারণে ৫ লক্ষ ২২ হাজার শিশু মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেক অঞ্চলে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানো কঠিন, কারণ রাস্তা ও বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ত্রাণ কাফেলা সীমিত পরিসরে প্রবেশ করছে, বিশেষত উত্তর দারফুর ও এল ফাশেরের মতো এলাকায়, যেখানে বহু বছর ধরে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
তবুও, অন্ধকারের মাঝে আশার আলো জ্বলছে। UNICEF, WHO, ICRC এবং Red Crescent-এর মতো সংস্থাগুলো সীমিত সম্পদ নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে। UNICEF সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে, তাদের নতুন কনভয় প্রথমবারের মতো দারফুর অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় পৌঁছেছে, যা স্থানীয় শিশুদের জন্য পানীয় জল, চিকিৎসা সহায়তা এবং পুষ্টি সেবা পৌঁছে দিতে পারবে। এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, মানবতার শক্তি কখনো নিভে যায় না। আমরা বাংলাদেশে বসে থাকলেও, আমাদের হৃদয় সেই মায়েদের কান্না আর শিশুদের ক্ষুধার্ত চোখে সাড়া দেয়। এখন সময় এসেছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর দোয়া, সচেতনতা ও বিশ্বস্ত সংস্থার মাধ্যমে সহায়তার হাত বাড়ানোর। কারণ প্রত্যেক জীবন মূল্যবান, আর প্রত্যেক শিশুর হাসি মানবতার জয়।