All world's news

All world's news This is the fast delivery world news This news carries on the world most creativity & important
breaking news and a*o more

18/11/2023

05/11/2023

Hi everyone! 🌟 You can support me by sending Stars - they help me earn money to keep making content you love.

Whenever you see the Stars icon, you can send me Stars!

03/11/2023

news

27/10/2023

Breaking news

 #১৭৫৭ সালে অপরিনামদর্শী সিরাজউদ্দৌলার পতনের আগ পর্যন্ত সুবা বাংলা ছিল গোটা দুনিয়ার মধ্যে ঐশ্বর্যশালী একটি দেশ। তখনকার অ...
29/04/2023

#১৭৫৭ সালে অপরিনামদর্শী সিরাজউদ্দৌলার পতনের আগ পর্যন্ত সুবা বাংলা ছিল গোটা দুনিয়ার মধ্যে ঐশ্বর্যশালী একটি দেশ। তখনকার অনেক ইউরোপিয়রা বলেছেন, বাংলার মানুষের প্লেটে কম করেও তিন ধরনের পদ বা খাবার থাকত। ঘি, মাখন খাওয়া তাদের জন্য সাধারণ বিষয় ছিল। তাদের গায়ে যে পোষাক ছিল তা ইউরোপিয়ানদের কাছে ভাবনারও অতীত। বাংলার পন্য নিয়ে বাংলার বণিকরা তখন পূর্বদেশ মানে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত পৌছে যেতো।

নবাবের পতনের পর তিন দফা নতুন নবাব প্রতিস্থাপনের পর মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও ওড়িশার খাজনা উঠানোর বিষয়টি মাত্র লাখ দেড়েক রূপিতে কিনে নেন রবার্ট ক্লাইভ। এরপর রবার্ট ক্লাইভ হিসাব করে দেখান, দেড় লাখ রূপি দেবার পরও কোম্পানির প্রায় ১৬ লাখ রূপি। বাস্তবে সেটি কোটি রূপিতে ছাড়িয়ে যায়।

তো, এরপর থেকে ফসলে, পন্য উদ্বৃত্ত একটি জনপদ রাতারাতি শশ্মান হয়ে যায়। সব থেকে বেশি সংকটে পড়ে ঢাকা। একটা বাণিজ্যিক শহর গোরস্তানে পরিণত হয় ব্রিটিশ অত্যাচারে। কোম্পানির হাতে রাজস্ব উত্তোলনের দায়িত্ব থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব উত্তোলন শুরু হয়। বাংলা ১১৭৬ সাল আর ১৭৭০ ইংরেজি। সিরাজের পতনের মাত্র ১৩ বছরের মাথায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা যায়। সোনার বাংলা গোরস্থানে পরিণত হয়। এই দুর্ভিক্ষে ১ কোটি লোক মারা যায়। এটা দুনিয়ার নিকৃষ্টতম দুর্ভিক্ষ। দুর্ভিক্ষের কারণ ফসল উৎপাদন কম নয়, দুর্ভিক্ষের কারণ সে বছর মাত্রাতিরিক্ত খাজনা আদায়। যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো তার আগের বছর আদায়কৃত রাজস্ব ছিল দেড় কোটি রূপি। আর যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো সে বছর আগের বছরের তুলনায় ৫ লাখ ২২ হাজার রূপি বেশি আদায় হয়েছিল।

ঢাকার মসলিনের কদর ছিল আকাশ ছোঁয়া। ব্রিটেন থেকে কোম্পানি কলের তৈরি কাপড় আনলেও সেটা এখানে চলত না। তারপর তারা আমাদের তাঁতীতের হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত কেটে দেয় যাতে তারা মসলিন বুনতে না পারে।

গোটা মুঘল আমলে সুবা বাংলা ১৯টি, পরে ৩৪টি ছোট ছোট নবাব ও রাজাদের অধীনে শাসন হয়েছে। সেই শাসনের বেশিরভাগ সময় মুঘল শাসনের বিষয়টি অনেক আলগা ছিল। বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে ছিল ২৩০ বছর। এই ২৩০ বছরে বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়নি। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম হেরে যাবার পর দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানী কিনে নেয় কোম্পানি। এরপর মাত্র ৬ বছরের মাথায় ১৭৭০ সালে বা বাংলা ১১৭৬ সনে দুর্ভিক্ষ হয় যাতে মারা যায় ১ কোটি মানুষ। এটা নির্মম, ভয়াবহ উপনিবেশিক শোষনের ফল।

কোম্পানির শাসন ও ব্রিটেনের শাসনের মধ্যে কত লোককে তারা জোরপূর্ব দাস বানিয়েছে সেই হিসাব নতুন করে আমাদের নেয়া দরকার।
১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময়ের দিকে যে দুর্ভিক্ষ হয় তাতে বাংলার ৩০ লক্ষ লোক না খেয়ে মারা যায়। এই দুর্ভিক্ষ কিন্তু ফসল উৎপাদন কম হয়েছিল সে কারণে না,বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলা থেকে সব খাদ্য শস্য ব্রিটেনে নিয়ে মজুদ করা হচ্ছিল। যুদ্ধে যেখানে মাত্র ৪০ হাজার ব্রিটিশ সৈন্য লড়ছিল সেখানে ভারতীয় সৈন্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার। ভারতীয়রা মরেছেও যুদ্ধের ময়দানে অকাতরে।

দুর্ভিক্ষের অশনি সংকেত বেজে উঠার আগে বিষয়টি তৎকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে জানানো হয়েছিল, তখন রাজা ছিলেন ষষ্ট জর্জ, মানে দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা। চার্চিল নিকৃষ্ট উত্তর দিয়েছিল।
একটা সোনার দেশকে মৃতপুরি বানালো যে ব্রিটেন, ব্রিটেন উপনিবেশবাদ, তারই প্রতিকী চিহ্ন বহন করতেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন। পরিণত বয়সেই মারা গেছেন। যে কোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক। কিন্তু রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে পূর্ববঙ্গের মানুষের শোকটা তার রক্তের সাথে বেঈমানি। বাহাদুর শাহ পার্ক নামে ঢাকায় একটা পার্ক আছে। ওখানে ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতাকার্মী বিপ্লবীদের লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।সিরাজউদ্দৌলার লাশ শহরে টেনে হিঁচড়ে নেয়া হয়েছিল।

আমি ইতিহাসের ছাত্র। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ডকুমেন্ট নাড়াচাড়া করলে অপ্রকৃস্থ হয়ে যাই। ব্রিটিশ শোষণ থেকে মুক্তির জন্য অকাতরে জীবন দিয়েছেন তরুন যুব শ্রমিক কৃষক। সেই বিপ্লবীদের বড় অংশ বাংলাদেশের। আমাদের পূর্বপুরুষ তাদের জীবন বাজি রেখে,ভয়াবহ ইন্টারোগেশনের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। আর আমরা আজ সেই ঔপনিবেশিক শোষনের চিহ্নের জন্য কাঁদছি। কী ভয়াবহ! কি বিশ্বাসঘাতকতা।

আন্দামানের জেলগুলোতে থাকা আমাদের বিপ্লবীদের দীর্ঘশ্বাস বাংলাদেশের আকাশে মেঘ হয়ে আসুক।

(সংগৃহীত)

১৭৫৭ সালে অপরিনামদর্শী সিরাজউদ্দৌলার পতনের আগ পর্যন্ত সুবা বাংলা ছিল গোটা দুনিয়ার মধ্যে ঐশ্বর্যশালী একটি দেশ। তখনকার অনে...
15/09/2022

১৭৫৭ সালে অপরিনামদর্শী সিরাজউদ্দৌলার পতনের আগ পর্যন্ত সুবা বাংলা ছিল গোটা দুনিয়ার মধ্যে ঐশ্বর্যশালী একটি দেশ। তখনকার অনেক ইউরোপিয়রা বলেছেন, বাংলার মানুষের প্লেটে কম করেও তিন ধরনের পদ বা খাবার থাকত। ঘি, মাখন খাওয়া তাদের জন্য সাধারণ বিষয় ছিল। তাদের গায়ে যে পোষাক ছিল তা ইউরোপিয়ানদের কাছে ভাবনারও অতীত। বাংলার পন্য নিয়ে বাংলার বণিকরা তখন পূর্বদেশ মানে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত পৌছে যেতো।

নবাবের পতনের পর তিন দফা নতুন নবাব প্রতিস্থাপনের পর মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও ওড়িশার খাজনা উঠানোর বিষয়টি মাত্র লাখ দেড়েক রূপিতে কিনে নেন রবার্ট ক্লাইভ। এরপর রবার্ট ক্লাইভ হিসাব করে দেখান, দেড় লাখ রূপি দেবার পরও কোম্পানির প্রায় ১৬ লাখ রূপি। বাস্তবে সেটি কোটি রূপিতে ছাড়িয়ে যায়।

তো, এরপর থেকে ফসলে, পন্য উদ্বৃত্ত একটি জনপদ স্রেফ শশ্মান হয়ে যায়। সব থেকে বেশি সংকটে পড়ে ঢাকা। একটা বাণিজ্যিক শহর গোরস্তানে পরিণত হয় ব্রিটিশ অত্যাচারে। কোম্পানির হাতে রাজস্ব উত্তোলনের দায়িত্ব থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব উত্তোলন শুরু হয়। বাংলা ১১৭৬ সাল আর ১৭৭০ ইংরেজি। সিরাজের পতনের মাত্র ১৩ বছরের মাথায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা যায়। সোনার বাংলা গোরস্থানে পরিণত হয়। এই দুর্ভিক্ষে ১ কোটি লোক মারা যায়। এটা দুনিয়ার নিকৃষ্টতম দুর্ভিক্ষ। দুর্ভিক্ষের কারণ ফসল উৎপাদন কম নয়, দুর্ভিক্ষের কারণ সে বছর মাত্রাতিরিক্ত খাজনা আদায়। যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো তার আগের বছর আদায়কৃত রাজস্ব ছিল দেড় কোটি রূপি। আর যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো সে বছর আগের বছরের তুলনায় ৫ লাখ ২২ হাজার রূপি বেশি আদায় হয়েছিল।

ঢাকার মসলিনের কদর ছিল আকাশ ছোঁয়া। ব্রিটেন থেকে কোম্পানি কলের তৈরি কাপড় আনলেও সেটা এখানে চলত না। তারপর তারা আমাদের তাঁতীতের হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত কেটে দেয় যাতে তারা মসলিন বুনতে না পারে।

গোটা মুঘল আমলে সুবা বাংলা ১৯টি, পরে ৩৪টি ছোট ছোট নবাব ও রাজাদের অধীনে শাসন হয়েছে। সেই শাসনের বেশিরভাগ সময় মুঘল শাসনের বিষয়টি অনেক আলগা ছিল। বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে ছিল ২৩০ বছর। এই ২৩০ বছরে বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়নি। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম হেরে যাবার পর দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানী কিনে নেয় কোম্পানি। এরপর মাত্র ৬ বছরের মাথায় ১৭৭০ সালে বা বাংলা ১১৭৬ সনে দুর্ভিক্ষ হয় যাতে মারা যায় ১ কোটি মানুষ। এটা নির্মম, ভয়াবহ উপনিবেশিক শোষনের ফল।

কোম্পানির শাসন ও ব্রিটেনের শাসনের মধ্যে কত লোককে তারা জোরপূর্ব দাস বানিয়েছে সেই হিসাব নতুন করে আমাদের নেয়া দরকার।
১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময়ের দিকে যে দুর্ভিক্ষ হয় তাতে বাংলার ৩০ লক্ষ লোক না খেয়ে মারা যায়। এই দুর্ভিক্ষ কিন্তু ফসল উৎপাদন কম হয়েছিল সে কারণে না,বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলা থেকে সব খাদ্য শস্য ব্রিটেনে নিয়ে মজুদ করা হচ্ছিল। যুদ্ধে যেখানে মাত্র ৪০ হাজার ব্রিটিশ সৈন্য লড়ছিল সেখানে ভারতীয় সৈন্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার। ভারতীয়রা মরেছেও যুদ্ধের ময়দানে অকাতরে।

দুর্ভিক্ষের অশনি সংকেত বেজে উঠার আগে বিষয়টি তৎকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে জানানো হয়েছিল, তখন রাজা ছিলেন ষষ্ট জর্জ, মানে দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা। চার্চিল নিকৃষ্ট উত্তর দিয়েছিল।
একটা সোনার দেশকে মৃতপুরি বানালো যে ব্রিটেন, ব্রিটেন উপনিবেশবাদ, তারই প্রতিকী চিহ্ন বহন করতেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন। পরিণত বয়সেই মারা গেছেন। যে কোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক। কিন্তু রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে পূর্ববঙ্গের মানুষের শোকটা তার রক্তের সাথে বেঈমানি। বাহাদুর শাহ পার্ক নামে ঢাকায় একটা পার্ক আছে। ওখানে ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতাকার্মী বিপ্লবীদের লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।সিরাজউদ্দৌলার লাশ শহরে টেনে হিঁচড়ে নেয়া হয়েছিল।

আমি ইতিহাসের ছাত্র। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ডকুমেন্ট নাড়াচাড়া করলে অপ্রকৃস্থ হয়ে যাই। ব্রিটিশ শোষণ থেকে মুক্তির জন্য অকাতরে জীবন দিয়েছেন তরুন যুব শ্রমিক কৃষক। সেই বিপ্লবীদের বড় অংশ বাংলাদেশের। আমাদের পূর্বপুরুষ তাদের জীবন বাজি রেখে,ভয়াবহ ইন্টারোগেশনের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। আর আমরা আজ সেই ঔপনিবেশিক শোষনের চিহ্নের জন্য কাঁদছি। কী ভয়াবহ! কি বিশ্বাসঘাতকতা।

আন্দামানের জেলগুলোতে থাকা আমাদের বিপ্লবীদের দীর্ঘশ্বাস বাংলাদেশের আকাশে মেঘ হয়ে আসুক। এই কেতাদুরস্ত ফ্যাশনাবেল প্রজন্ম তার রক্ত দিয়ে পান করুক স্কচ।
বিদায় প্রেতাত্মা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

১৭ টি দেশ এখন দেউলিয়ার ঝুকিতে!জাম্বিয়া দেউলিয়া হয়েছে। শ্রীলংকায় চলছে তুলকালাম।  কিছুদিন আগে ফিচ রেটিং প্রকাশিত হয়েছে। সে...
13/07/2022

১৭ টি দেশ এখন দেউলিয়ার ঝুকিতে!

জাম্বিয়া দেউলিয়া হয়েছে। শ্রীলংকায় চলছে তুলকালাম। কিছুদিন আগে ফিচ রেটিং প্রকাশিত হয়েছে। সেটি নিয়ে একটি ছোট লেখাও দিয়েছি। ফিচ রেটিং এ ১৭ টি দেশকে দেউলিয়া হবার ঝুকিতে রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তুরস্কের কথা না বললেই নয়। জুন ২৩ তারিখে সর্বশেষ রিপোর্টে দেশটির নেট ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ নেমে এসেছে মাত্র $৭.৩৮ বিলিয়ন ডলারে। অর্থনীতিতে ইগো চলেনা। তুরস্কের ক্ষেত্রে কথাটি প্রযোজ্য। ২০২১ এর মে মাসে তুরস্কের রিজার্ভ ছিল $৮৮ বিলিয়নের বেশি। ২০২২ এর মে মাসেও গোল্ড রিজার্ভ সহ দেশটির রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৪১.৫ বিলিয়ন ডলারে। সর্বশেষ জুনের ১৭ তারিখের তথ্য অনুযায়ী বিগত ২০ বছরের ভেতর সর্বনিম্ন অবস্থানে এখন তুরস্কের রিজার্ভ। তুরস্কের CDS ( Country Default Swaps) স্কোর ৮৩৭ বেসিস পয়েন্ট যা দেশটির ১৯ বছরের ভেতর সর্বোচ্চ। সর্বশেষ ২০০৩ সালে এরকম পরিস্থিতি দেখেছিল তুরস্ক। ২০০৮ এর বিশ্ব মন্দায় CDS পয়েন্ট এত বেশি ছিলনা।

শ্রীলংকার ক্ষেত্রে দেউলিয়া হবার পেছনে যেমন বন্ড গুলির ম্যাচিউরিটি দায়ি ছিল ঠিক তেমনি তুরস্কের ঋনের বৃহৎ অংশ এখন এই বন্ড। সবথেকে বেশি মাথাব্যথার কারন ও এই বন্ড। ১০ বছর মেয়াদি ডলার বন্ড ইয়েল্ড এখন ১০.৬%!

লিরাকে সাপোর্ট দিতে গিয়ে তুরস্ক গত ডিসেম্বর মাস থেকে এই পর্যন্ত প্রায় $৩০ বিলিয়ন ডলার বাজারে ছেড়েছে। এতে রিজার্ভ দ্রুত কমেছে। ২০১৯-২০ সালেও টার্কিস কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফরেক্স মার্কেটে হস্তক্ষেপ করে $১২৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছিল। কৃত্রিমভাবে লিরার মান ধরে রাখতে গিয়ে চরম মূল্য দিতে হয়েছে তুরস্ককে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলা চলে। ২০২১ সালে লিরার মান ৪৪% পড়ে যায়। মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়ায় ৭৩.৫%। ২০২২ সালে এখন পর্যন্ত লিরা মান হারিয়েছে ২৪%। সর্বশেষ রিজার্ভ এমন অবস্থায় পৌছেছে যে দেশটি এখন দেউলিয়ার ঝুকিতে।

একি অবস্থায় রয়েছে মিশর। বিগত দুই মাস ধরেই দেশটির ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ নিম্নমুখী। জুলাই ৭ তারিখে রিজার্ভ নেমে হয়েছে $৩৩.৩৭ বিলিয়ন।

রাশিয়ার ক্ষেত্রে অবস্থাটা ভীন্ন। রাশিয়ার পর্যাপ্ত ডলার থাকার পরো ডেট সার্ভিসিং করার সুযোগ পাচ্ছে না নিষেধাজ্ঞার জন্য। বলা যেতে পারে দেশটিকে অনেকটা জোর করে দেউলিয়া তকমা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। রাশিয়াও ফিচ এর চিহ্নিত ১৭ দেশের তালিকায় রয়েছে।

অন্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, ঘানা, লেবানন, তিউনিসিয়া, সুরিনাম, এল সালভাদর, বেলিজ, ইকুয়েডর, তাজিকিস্তান, ভেনিজুয়েলা, ইউক্রেন, বেলারুশ।

রাশিয়া ইউক্রেন ও বেলারুশ মূলত রুশ ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি ভিক্টিম। বর্তমান যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকলে দেউলিয়া হবার তালিকা আরো দীর্ঘ হবে।

বাংলাদেশের রিজার্ভ আকুর পেমেন্ট দেয়ার পর $৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের যেকোন মূল্যে রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে হবে। বর্তমানে ডলারের রিজার্ভ কমে যাবার পেছনে মূল কারন হল উচ্চ মূল্যের এলএনজি, তেল। দৈনিক বিপিসিকে লোকসান গুনতে হচ্ছে ১০০ কোটি টাকার বেশি। $৩.৫ ডলারের এলএনজি $৪০ ডলারেও পাওয়া যাচ্ছেনা। কয়লার দাম ও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তেল, এলএনজি ও গ্যাস আমদানি কমানো এখন রিজার্ভ ধরে রাখার প্রধান সাময়িক উপায়। এই মুহুর্তে বড় ধরনের ঝুকি এড়াতে ব্যাক্তিগত গাড়ি চলাচল সীমিত করা যেতে পারে। এতে তেলের ব্যাবহার ও চাহিদা কমবে। কিছুটা হলেও গ্লোবাল প্রাইস শক নিতে পারবে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ ও এলএনজির ক্ষেত্রে এখন প্রায়োরিটি হতে হবে শিল্প। শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হলে আমাদের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে যা আমাদের রিজার্ভের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যেকোন মূল্যে শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুত সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা যাবেনা। জরুরি সেবা যেমন হাসপাতাল বাদে অন্যান্য অফিস গুলির কর্মঘন্টা কমিয়ে আনার কথা আলোচনা হচ্ছে। এটা হলে চাহিদা কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস বা তেল আমদানি কিছুটা কমানো যাবে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক BRPD সার্কুলারের মাধ্যমে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে বিলাস দব্য, ইলেকট্রনিক আইটেমে ১০০% নিজস্ব উৎস হতে মার্জিন নিশ্চিত করার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। নিত্য পণ্য বাদে অন্য পণ্যে ৭৫% মার্জিন সংরক্ষনের কথা বলা হয়েছে। এতে আমদানির চাপ কিছুটা কমবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনভাবের পূর্ন ঝুকি এড়ানো যায়না। আমাদের রপ্তানি পণ্যের প্রধান গন্তব্য ইউরোপ ও আমেরিকা। ইউরোপের ইকোনমি কলাপ্স করলে আমাদের শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে। রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে রিজার্ভের উপর সৃষ্ট চাপে টাকার মান আরো কমবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কেট ইন্টারভেনশন করার মত পর্যাপ্ত ডলার আমাদের নেই। এরকম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এই মুহুর্তে করাও ঠিক হবেনা।

অপচয় রোধ ছাড়া গতান্তর নেই। মিতব্যয়ী হওয়া ছাড়া আর যে উপায় আছে সেটি হল বিশ্বকে অবরোধের কবল থেকে উদ্ধার করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা।



অন্য লেখা: https://www.facebook.com/Agnostic.wasimahin

 #নিহত ফায়ার ফাইটার ও পুলিশ সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁদের পরিবারকে আল্লাহ ভালো রাখুন, আমিন। কোন দেশের যুদ্ধ...
05/06/2022

#নিহত ফায়ার ফাইটার ও পুলিশ সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁদের পরিবারকে আল্লাহ ভালো রাখুন, আমিন। কোন দেশের যুদ্ধ ও শান্তিকালীন উদ্ধার সক্ষমতা নির্ভর করে সে দেশের ফায়ার সার্ভিস কতটা দক্ষ ও পেশাদার তার উপর। আজকে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের যোদ্ধারা সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে নিজেদের জীবন দিয়ে পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন। হাসপাতালে যারা লড়ছেন তাদের ধৈর্য ও সুস্থতা কামনা করি।

কর্তৃপক্ষ সেখানে মজুদ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কেমিক্যাল সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করেনি, করলে হতাহত আরো কম হতো ও আরো অগ্নিনির্বাপণ কাজ নিরাপদ হতো বলে মনে হয়।

কেমিক্যালের সংস্পর্শে যেন কেউ না যায় সেজন্য প্যারামিটার সিকিউরিটির জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, সেই সাথে ফায়ার ফাইটাইটার সাথে সেনাবাহিনীর বিশেষ দল আগুন নেভানোর কাজ করছে। স্থানীয় সকলকে অতি উৎসাহী মনোভাব ত্যাগ করে বাহিনীকে তাদের কাজ করতে দিন।
হাসপাতাল গুলোতে অহেতুক ভিড় না করার জন্য অনুরোধ রইল। পর্যাপ্ত সহায়তা এবং চিকিৎসা সামগ্রী আছে। শুধু মাত্র কাছাকাছি থাকা নেগেটিভ গ্রুপের রক্তদাতারা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে হাসপাতালে যেতে পারেন।

নিরাপদ থাকুন।।

বাংলাদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া! ইউক্রেন নয়, রাশিয়াই গত মার্চে বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধিতে’ হামল...
25/05/2022

বাংলাদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া!

ইউক্রেন নয়, রাশিয়াই গত মার্চে বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধিতে’ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের সংসদ সদস্য (এমপি) ইউলিয়া ক্লিমেনকো।সন্ধ্যায় সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) এক আলোচনায় তিনি এ দাবি করেন। ইউক্রেনের এমপি ইউলিয়া ক্লিমেনকো বলেন, ইউক্রেন ওই জাহাজে হামলা চালায়নি। হামলা হয়েছে মিসাইলের মাধ্যমে। সেসময় উড়িষা উপকূলে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ছিল না।

দ্য কারলাইল গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেভিড এম রুবেনস্টেইনের সঞ্চালনায় ওই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলোচক হিসেবে ইউক্রেনের ওই এমপি ছাড়াও ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহিরয়ার আলম, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান বিল কিটিং ও হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টের ফিউচার ডিপ্লোমেসি প্রজেক্টের সিনিয়র ফেলো পলা জে. ডোব্রিনস্কি।

ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবে বাংলাদেশ একবার পক্ষে ভোট দিলেও দুইবার ভোটদানে বিরত থেকে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এর কারণ জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়—এই পররাষ্ট্রনীতি থেকেই বাংলাদেশ এ অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ বন্ধ হওয়া উচিত। এই যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে খাদ্যপণ্য সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে সঞ্চালক জানতে চান, বাংলাদেশের জনগণের কত শতাংশ ইউক্রেনকে আর কত শতাংশ রাশিয়াকে সমর্থন করে। প্রতিমন্ত্রী জবাব দেন, এটি বলা কঠিন।

ইউক্রেনের এমপি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট খাদ্যসংকটে যদি বাংলাদেশিরা মারা যায়, তবে কি তারা এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন করবে। জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশিরা না খেয়ে মরবে না। হয়তো বেশি দামে খাদ্যপণ্য কিনতে হবে।

দুনিয়ার সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হল অবকাঠামো বিনিয়োগ! তাও সেটা যদি হয় চীনের বিনিয়োগ তাহলে তো কথায় নাই! ইউটিউব সাজেশনে এ...
21/05/2022

দুনিয়ার সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হল অবকাঠামো বিনিয়োগ! তাও সেটা যদি হয় চীনের বিনিয়োগ তাহলে তো কথায় নাই!

ইউটিউব সাজেশনে একটি ভিডিও সামনে এলো। ভিডিওর শিরোনাম এমন " কিভাবে ভারত চীনের কূটকৌশল নস্যাৎ করে দিল"।

আগ্রহ নিয়ে দেখলাম পুরাটা। পুরো ভিডিও জুড়ে দেখলাম চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নিয়ে কিভাবে চীন বিশ্বকে কব্জা করছে সেটার ব্যাখ্যা দেয়া। সেই সাথে স্ট্রিং অব পার্লস থিওরি। শ্রীলংকা, জিবুতি, পাকিস্তানের বন্দর উন্নয়ন করে কিভাবে ভারত মহাসাগরে চীনের আধিপত্য বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চলছে সেটার সুবিস্তারিত ব্যাখ্যা। কিভাবে চীন চাইলেই ভারত মহাসাগরে ট্রেড রুটগুলিতে ব্লক করে দিয়ে ভারতকে কব্জা করতে পারে অথবা গুরুত্বপূর্ণ মালাক্কা প্রণালী সহ অন্যান্য প্রণালীগুলির নিয়ন্ত্রন নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ন্ত্রন করছে সেটা ভিডিওগ্রাফিক সুন্দর উপস্থাপনা।

এর বিপরীতে মোদি কিভাবে ইরানের বন্দর করছে, ওমানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও মঙ্গোলিয়ার সাথে সম্পর্ক গভীর করে চীনের হুমকি নস্যাৎ করে দিয়েছে সেটার চমৎকার ব্যাখ্যা।

ইন্টারেস্টিং লেগেছে ভিডিওটা।

এবার আমার নিজস্ব মত দিয়ে শুরু করি।

চীন বিশ্বের পিপিপি হিসাবে বৃহৎ অর্থনীতি হিসাবে প্রথম। নোমিনাল হিসাবে দ্বিতীয়। বিশ্বের প্রায় সবদেশের কাঁচামালের প্রধান যোগানদাতা চীন। এমনকি ভারতের ক্ষেত্রেও। সমস্যা হল চীন যখন তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ অন্যদেশে বিনিয়োগ শুরু করল তখন।

আগে সারাবিশ্বের দেশগুলির ঋন বা বিনিয়োগ সবকিছুর প্রধান নিয়ন্ত্রণ ছিল আমেরিকার হাতে। স্পেসিফিক বলতে গেলে আমেরিকা নিজে এসবের মধ্যে নেই। এতে ঝামেলা অনেক। এজন্য বিশ্বের গরীব দেশগুলির উপর শর্ত আরোপ সাপেক্ষে অর্থায়ন করতে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ এর মত সংস্থার সৃষ্টি করেছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে বিশ্ব ব্যাংক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু রাজিনৈতিক ভাবে আমেরিকা চাইছে না এমন কোন সিদ্ধান্ত নিলেই স্পষ্ট হয় বিশ্বব্যাংকের আসল রুপ। হ্যা। এটা সত্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন গরীব দেশের জন্য বেশ সাশ্রয়ী। সাধারনত মুনাফার হার ১.৫% নিচে থাকে। তবে এলডিসি থেকে উত্তোরনের পর ধীরে ধীরে এই হার বাড়তে থাকে। ব্যাবসাও শুরু হয়।

তবে এটা মনে করার কোন মানে নেই যে বিশ্বব্যাংকের ১% এর সাশ্রয়ী ঋন পাওয়া খুব সহজ। এর জন্য আপনার দেশের সরকারকে ঋন পেতে অনেক শর্তের বাস্তবায়ন করতে হয়। না পারলে ঋন নেই।

একটা ছোট উদাহরন হল বাংলাদেশের আদমজী জুট মিল। বিশ্ব ব্যাংক যখন পাট খাতের ভবিষ্যত নেই বলে আদমজী বন্ধ করতে বলল ঠিক তখনি তারা ভারতে পাট খাতে বিশাল ঋন ছাড় করে। পরিনতি কি হল জানেন? বাংলাদেশ সারাবিশ্বে সোনালী পাট উৎপাদনে ছিল প্রথম। পাটজাত পণ্য উৎপাদনেও ছিল প্রথম। কিন্তু ধীরে ধীরে বাংলাদেশ সোনালী আঁশের একছত্র রাজত্ব হারিয়ে ফেলে। এখন এই দুটি শিরোপা আমাদের প্রতিবেশিদের হাতে।

আবার ধরুন অনেকক্ষেত্রে শর্ত দিবে এমন যে ঋন কৃষি খাতে ঋন দিবে কিন্তু দেশের বাজেটে কৃষিখাতে ভর্তুকি তুলে নেয়ার ব্যাপারে একটা রোডম্যাপ বাতলে দিবে। অর্থাৎ একটি দেশের বাজেট প্রনোয়ন থেকে শুরু করে মুদ্রানীতি নির্ধারন, ফিসকাল পলিসি নির্ধারন সহ নানা ভাবে শর্ত থাকবে। শুধু এসব নয়। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন নীতি নির্ধারনে তাদের চাপ থাকে।

যেহেতু বিকল্প ফান্ডিং এর উৎস নেই তাই দেশগুলিকে বাধ্য হয়েই বিশ্ব ব্যাংকের ফান্ড পাবার আশায় অনেক কিছুই করতে হয়। আর একটি দেশের উপর বিশ্বব্যাংকের এই নিয়ন্ত্রণ পরোক্ষভাবে পশ্চিমা দেশগুলির নিয়ন্ত্রনের সামিল। সরাসরি আপনি আমেরিকা বা পশ্চিমা অন্য দেশকে দুষতে পারবেন না। দুষবেন বিশ্বব্যাংককে।

ভ্যাজাল শুরু দৃশ্যপটে যখন চীন উপস্থিত হল। মোটামুটি অভ্যন্তরীণ এসব নানাবিধ শর্ত বাদেই চীন আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলিতে ফান্ডিং করতে শুরু করল। চীনের ভুল হল চীন নিজেদের দেশের নাম ব্যাবহার করে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেল অবকাঠামো কাজগুলির ক্ষেত্রে চীনের প্রতিষ্ঠান কাজ পাচ্ছে। এতে বিশ্ব ব্যাংকের মনোনিত অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ পাবার সুযোগ আর পাচ্ছে না। চীনের ফান্ডিং এর বড় ঝুকি হল, ঋন বা বিনিয়োগ পাওয়া চীন এতটায় সহজ করেছে যে এর সুযোগ কিছু কিছু দেশ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় খাতে ঋন নেয়া শুরু করেছে। তবে চীন জাত ব্যাবসায়ী। চীনের যেসব প্রতিষ্ঠান ঋন দিবে তাদের স্বার্থ চীন দেখে সবার আগে।

তবে অর্থের উৎসে বিশ্বে বড় রকমের পরিবর্তনে পশ্চিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রন চুড়ান্তভাবে খর্ব হয়। আর এর পর থেকেই পশ্চিমা মিডিয়া সারাবিশ্বে শুরু করে চীনা বিনিয়োগ বিরোধী প্রচারনা।

একটা উদাহরন দেয়া যাক। সম্প্রতি শ্রীলংকা দেউলিয়া ঘোষনার পর পুরো দোষ চাপানো হয়েছে চীনের ঘাড়ে। অথচ মিডিয়া প্রকাশ করেনি আসলে কি কারনে শ্রীলংকা এই পরিস্থিতিতে পড়ল। শ্রীলংকার মোট বিদেশি ঋনের ২০% এর কাছাকাছি ঋন বিশ্বব্যাংক থেকে নেয়া। চীনের কাছে দেশটির ঋন ৪% এর কম। শ্রীলংকা যে কারনে বড় রকমের ঝুকিতে পড়েছে সেটি হল সভেরেইন বন্ড ইস্যু করে। বন্ডের মাধ্যমে শ্রীলংকা ৯%-১০% রেটেও ঋন নিয়েছে। আর এই বন্ড সিস্টেমের বড় সমর্থক কিছু বিশ্ব ব্যাংক।

বাংলাদেশের উদাহরন দিলে বিষয়টা কিছুটা পরিস্কার হবে। পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক ২০১১ সালে যখন অর্থায়নের চুক্তি করে তখন শর্তের বোঝা কম চাপায়নি। এরপর অর্থায়ন বন্ধ করে দিলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের একটা অংশ এমনকি আন্তর্জাতিকভাবেও বিভিন্ন ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছিল ১৮০ কোটি ডলারের বন্ড ইস্যু করে টাকা সংগ্রহের। আর এক্ষেত্রে সুদের হার হত ৮% থেকে ১০% পর্যন্ত। ভাগ্যভাল যে আমরা সার্বভৌম বন্ডের প্যাড়ায় ঢুকিনি।

এরপর বিদেশি উৎস থেকে অর্থ না নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু বিভাগ থেকে ১.২% রেটে ৩৫ বছর মেয়াদের ঋন নেয়া হয়।

এবার আগের প্রসঙ্গে আসি। চীনের লক্ষ্য প্রাচীন সিল্ক রোড চালু করে আবারো এশিয়ার দেশগুলির ভেতর বাণিজ্যিক অবকাঠামো শক্তিশালী করা। আর এটা করতেই তারা বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করছে। চীনের এই বিনিয়োগকে ভীতিকর ভাবে উপস্থাপন করে বাংলাদেশ সহ অনেক দেশকেই সতর্ক করা হচ্ছে। এরকম মুহুর্তে আমার প্রশ্ন, বন্দর করলে, বা সড়ক অবকাঠামো শক্তিশালী করলে এত ভয় কেন? আতঙ্কিত কেন সারা বিশ্ব?

প্রশ্ন করাটা কি অস্বাভাবিক? আফ্রিকান দেশগুলির ডাইমন্ড সহ অন্যান্য খনিতে শ্রমিকদের খাটিয়ে পশ্চিমা দেশগুলি বড়লোক হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক খনির মালিকানা নিজ দেশে রাখার জন্য শর্ত দিয়েছে এরকমটা আমার জানা নেই। দেশগুলি গরীব। যুগের পর যুগ ধরে বিশ্বব্যাংকের এত এত সাহায্যের পরো দেশগুলিকি নিজেদের পায়ে দাড়াতে পেরেছে? এই দেশগুলি তাদের সড়ক বা অন্য অবকাঠামো বিনিয়োগ করলেই বিশ্ব ব্যাংকের অনীহা থাকে অর্থায়নে। এর কারন কি হতে পারে? এমন কি হওয়া সম্ভব যে এসব দেশ তাদের বর্তমান অবস্থা থেকে মুক্তি পেলে এদের উপর নিয়ন্ত্রন কমে যাবে? অথবা যদি বর্তমান অবস্থা থেকে উন্নত হয় তবে দেশটির ঋনের নিয়ন্ত্রন শুধু এবং শুধুমাত্র বিশ্ব ব্যাংকের হাতেই থাকবে?

একটা সড়ক, বা বন্দর করলে এখানে সামরিক হুমকিটা আসলে কোথায়? এমনতোনা যে আমেরিকার যতগুলি মিলিটারি বেইজ আছে তার থেকে চীনের বেইজ বেশি। অথবা চীন সড়ক ও বন্দর করার সময় চুক্তি করে সেখানে মিলিটারি বেইজ বানিয়েছে।

আসল কথা হল, বিশ্ব বাণিজ্যে চীনের নিয়ন্ত্রন এমন অবস্থানে রয়েছে যে এসব বন্দর বা সড়ক অবকাঠামো ব্যাবহার না করেই চীন চাইলে সাপ্লাই চেইন ভেঙ্গে দিতে পারে। চীন মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধে প্রমাণ হয়েছে যে মার্কিন কোম্পানিগুলি কতটা বিপদে পড়েছিল। এজন্য তো চীনকে বন্দর ব্যাবহার করতে হয়নি। হয়েছে কি? চীন যখন AIIB ব্যাংক গঠন করে তখনো পশ্চিমারা আতঙ্কিত হয়েছিল যে এটা হয়ত বিশ্বব্যাংকের প্রতিপক্ষ হবে। এরকম চিন্তার ভিত্তি কি সেটা বুঝতে রকেট সাইন্টিস্ট হওয়া জরুরি না।

তাহলে অবকাঠামো বিনিয়োগে ভীতি ছড়ানোর পেছনে প্রকৃত অর্থে অন্য উদ্দেশ্য আছে কি?

লেখাটার উদ্দেশ্য ছিল মুলত রাশিয়া, চীন ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সহজ বিশ্লেষন। লেখা ঘুরে অন্য দিকে চলে গেছে। পরবর্তী লেখায় এই টপিকে লিখব ইনশাল্লাহ।



To find out other writings :

https://www.facebook.com/Agnostic.wasimahin/

♦জিডিপির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হলে উন্নয়নমুখী প্রকল্প সীমিত আকারে হলেও বাস্তবায়ন আবশ্যক। দেশের উন্নয়নমুলক মেগাপ্রজেক্ট...
19/05/2022

♦জিডিপির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হলে উন্নয়নমুখী প্রকল্প সীমিত আকারে হলেও বাস্তবায়ন আবশ্যক।



দেশের উন্নয়নমুলক মেগাপ্রজেক্ট গুলো উদ্ধোধনের আগে আগেই অনলাইনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে স্লিপার সেল।মুলত,পদ্মা সেতু,কর্নফুলি টানেল,মেট্রোরেল,রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মত প্রকল্পগুলো উদ্ধোধনের আগেই এসব প্রকল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে

এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর রেল লিংক প্রকল্প বন্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি চক্র।যার পালে হাওয়া দিচ্ছে দেশেরই কিছু পত্রিকা এবং মিডিয়া হাউস।

বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা নতুন কিছু নয়,এর আগে ইরাক,আফগানিস্তান,সিরিয়ায় অস্থিরতা থাকলেও তা তেলের বাজার ছাড়া তেমন কোন উত্তাপ ছড়ায়নি।

কিন্ত সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ উত্তাপ ছড়িয়েছে পুরো বিশ্বেই।অন্যদিকে তেলের বাজারে অস্থিরতা উত্তাপ ছড়িয়েছে দেশের পাওয়ার সেক্টরেও।গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে যেতে শুরু করায় গৃহস্থালির গ্যাসকে ব্যবহার করা হচ্ছে শিল্পকারখানায়।অন্যদিকে,গ্যাস ভিত্তিক পাওয়ার প্লান্টগুলোতে গ্যাস নিয়ে সমস্যা রয়েছে।

আগামী ৩-৪ বছর পর গ্যাস সংকটের ফলে অনেক গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকেই বন্ধ করতে হবে।যদিও বর্তমান মহাপরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্য,সৌদি আরব থেকে গ্যাস আমদানি করে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুতকেন্দ্র করাকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।সৌদি আরব,কাতার,আরব আমিরাতের মত দেশগুলি বাংলাদেশের পাওয়ার সেক্টরে ভবিষ্যতে ৫ বিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট আনতে চাইছে।যার মাঝে শুধু সৌদি বিনিয়োগই হলো ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রাসংগিক ভাবে হিসেব করলে কোন জাতীয় মিডিয়াই গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধী নয়।কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ সরে এসেছে যা স্বস্তির খবর।কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম এখনো স্টাবল না।তেলের দামের মাঝেই অনেকটা বাধ্য হয়ে আমদানী নির্ভর ফার্নেস তেল পুড়িয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে বাংলাদেশ।যার মাশুল দিতে হচ্ছে রাষ্ট্রকে

সোলার কিংবা বায়ু বিদ্যুৎ এখনো বাংলাদেশের জন্য না।পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার হয়ে চীন থেকে বিদ্যুৎ আনার প্রস্তাব থাকলেও মিয়ানমারের অস্থিতিশীলতা এবং মিয়ানমারের অনীহা বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে।

অন্যদিকে,নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আনার ক্ষেত্রেও ভারতের অনীহা রয়েছে।বাংলাদেশ এবং নেপাল বিদ্যুৎ বিনিময়ে রাজী হলেও ভারতের বিভিন্ন যুক্তি এবং রাজ্য এবং মন্ত্রণালয়ের ঘোরাঘুরিতেই প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়েছে।

এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কে সাদাহাতির সাথে তুলনা করে চীনের উদ্দ্যোগে দ্বিতীয় পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবও উথাপন করা হয়েছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি লং টার্ম ইনভেস্টমেন্ট। জার্মানী,ফ্রান্স,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর মত দেশ পারমাণবিক কেন্দ্র ফেজ আউট করার বড় কারণ তাদের অন্যান্য ফসিল ফিউল কিংবা রিনিউয়েবল বিদ্যুৎকেন্দ্র করার মত জমি এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিদ্যমান।কিন্তু এমন সুবিধা এখনো কিংবা অদূর ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পক্ষে অর্জন করা সম্ভবপর নয় কেননা তা ইকোনমিক্যালি ফিজিবল নয়।

অন্যদিকে,পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের সবচাইতে বড় অসুবিধা এর নির্মাণের সময়কাল এবং ব্যয়।তার জন্যই ৬-১০ বছর ব্যয় করে বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মিত হওয়ার পর তার আয় আসতেই আরো ১০-১২ বছর সময় লেগে যায়।প্রথম উৎপাদিত বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি মুল্য বেশী হলেও ইনিসিয়াল ফেজের পর সে বিদ্যুতই ২-৩ টাকা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ইউনিটপ্রতি মাত্র ১ টাকাতেও পাওয়া সম্ভব।

ইকোনমিক্যালি গ্যাস কিংবা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র স্বল্পমেয়াদে কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ব্যবহার সম্ভব নয়।সে হিসেবে একমাত্র পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রেই বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যত বিদ্যমান।

বিগত কয়েকবছরের প্রকল্পের হিসেব নিকেশ করলে দেখা যায় চীন এবং রাশিয়ার অর্থায়ন কিংবা তত্বাবধানে নির্মিত প্রকল্পগুলোকেই সর্বাপেক্ষা বেশী প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।সিলেট,চট্টগ্রাম কিংবা কুমিলা বা রাজশাহী-রংপুরের মানুষ পদ্মা সেতুতে না চড়লেও তাদেরকেও এ পদ্মা সেতুর ট্যাক্সের ভার বহন করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে,টাইম ইজ মানি এ প্রবাদকে ভুলে গিয়ে কিছুক্ষেত্রে প্রায় একই খরচে ঘন্টাব্যাপী ফেরী যাত্রাকেই ভাল বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করতে টোল নিয়েও সমালোচনা করা হচ্ছে।অথচ,পদ্মা নদী পার হওয়া প্রায় সকলেই জানে পদ্মা সেতুর গুরুত্ব কতটা।

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ঈদ করতে যাওয়া,চাকুরীর পরীক্ষা দিতে না পারা,কিংবা চিকিৎসা না পাওয়া ঘাটে আটকে থাকা অসুস্থ বাবার সন্তানই জানে পদ্মা সেতুর গুরুত্ব কতটা।।পদ্মা সেতুর সাথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রকল্প নেয়া এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরী।

মনে রাখতে হবে,রাষ্ট্রের যেসব কার্যক্রম সরাসরিভাবে জিডিপিতে ভুমিকা রাখে সেসব কাজের বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরী।চট্টগ্রাম - কক্সবাজার দুই লেন হাইওয়ে কিংবা কুমিল্লা হয়ে সিলেটের টু লেন হাইওয়ের জন্য এখনো কর্মঘন্টার ক্ষতি হয়েই যাচ্ছে।হিসেব করলে যা বাৎসরিকভাবে সড়ক কিংবা সেতু করবার ক্ষতির চাইতে কম নয়।

দ্রুততম সময়ে পন্য পরিবহন দেশের জিডিপিতে সরাসরিভাবে ভুমিকা রাখে।অন্যদিকে,প্রকল্প বাস্তবায়ন স্বচ্ছ হলে তা একাধারে যেমন প্রকল্প কেন্দ্রিক চাকুরীর সুযোগ সৃষ্টি করে তেমনিভাবে এলাকাভিত্তিক জিডিপির মান বৃদ্ধি করে।উদাহরণস্বরুপ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেন হওয়ার ফলে জাপান সরকার বিনামুল্যে অনেক পরিবারকেই রাইস কুকার,টিভি,ফ্রিজ নেয়ার জন্য অনুদান দিয়েছিল।কেননা নতুন রাস্তাঘাট অভ্যন্তরীণ একটি বাজার সৃষ্টি করে।

জনসংখ্যা বাংলাদেশের জন্য এক অংশে আশীর্বাদ,এক অংশে অভিশাপ।বাংলাদেশের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বড় ভুমিকা রাখে ডেমোগ্রাফিক পপুলেশন।এবং প্রকল্পগুলোর সফতাও করে এই জনসংখ্যা

অন্যদিকে,দেশের স্বার্থে প্রকল্প নিতেই হবে।যতদিন ইটের পর ইট কিংবা ইস্পাতের উপর ইস্পাতের জোড়া লাগবে ততদিনই অর্থনীতি সচল থাকবে।যেদিন প্রকল্পের দরকার পড়বে না সেদিনই বুঝতে হবে হয় আপনি প্রকল্প নেয়ার কিংবা জিডিপির চরম সীমায় উপনীত হয়েছেন এবং এর পর থেকে আপনার জিডিপি কমবে,হয়ত জীবনযাত্রার মান বাড়বে কিংবা সামগ্রিক জিডিপি কমতেই হবে।জাপান এর প্রকৃষ্ট উদাহরন।জিডিপি বাচাতে একদিন বাংলাদেশকেও বিদেশে বিনিয়োগ করতে হবে।কেননা,সচল টাকাই টাকা আনে,অলস টাকা নয়।চীন একদিনেই অর্থনীতির পাওয়ার হাউস হয়নি।নিজের দেশের ইনফ্রাস্ট্রাকচার নির্মাণ শেষে তা বিদেশে বিনিয়োগ করেছে।আর বাংলাদেশকে আজ হউক কিংবা কাল সে পথে হাটতেই হবে।এটিই অর্থনীতির নীতি

দেশের জনগনের ভাগ্য পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থানের নিমিত্তে প্রকল্প চলমান থাকা বাধ্যতামূলক এবং এর বিকল্প কিছু নেই।অর্থনীতি একটি চলমান বিষয়।এবং অর্থনীতিকে চলমান রাখতে হলে প্রকল্প নেয়াই জরুরী।যেদিন অর্থনীতির এই ভাংগা গড়া বন্ধ হবে সেদিন বুঝতে হবে হয় অর্থনীতি তার চূড়ান্ত কিংবা চরম অবনতির সীমায় উপনীত হয়েছে এবং এটিই অর্থনীতির চরম শিক্ষা।ব্যাংকে টাকা অলস থাকাও যেমন শংকার তেমনি টাকার অভাব থাকাও শংকার।

আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার বিকল্প নেই।এবং এটিই চূড়ান্ত বাস্তবতা।



এবার আসুন দেখে আসি পদ্মা সেতুর ইতিহাস,এর ষড়যন্ত্র নানান সমালোচনা সব ছাপিয়ে কিভাবে নির্মাণ সম্পন্ন হলো কোটি মানুষের স্বপ্...
19/05/2022

এবার আসুন দেখে আসি পদ্মা সেতুর ইতিহাস,এর ষড়যন্ত্র নানান সমালোচনা সব ছাপিয়ে কিভাবে নির্মাণ সম্পন্ন হলো কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিনাঞ্চলেরই নয় পুরো দেশের স্বপ্নের একটি পদ্মা সেতু।তিলে তিলে করে গড়ে তুলতে হয়েছে এই সেতুকে।শুরু থেকেই এই সেতুর পথচলা মসৃণ ছিলো না।

সর্বপ্রথম ১৯৯৮-১৯৯৯ সালে বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা সেতুর সম্ভাব্যতা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করান সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। ২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মা সেতু নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু পরবর্তী ১৩ বছরে আর কেউ একটা সিমেন্টও কিনে নাই পদ্মা সেতুর জন্য।

২০০১ সালের অক্টোবরে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় লাভ করেন।কোন অগ্রগতি না করেই ২০০৫-এ পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১২,০০০/- কোটি টাকা। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বমোট নির্মাণ ব্যয় ১০,০০০/- কোটি টাকায় সীমিত রাখার পরামর্শ প্রদান করেন।🙃আর এতে আরেক দফায় বন্ধ হয়ে যায় পদ্মা সেতুর উঠে দাড়ানোর পথ।

তারপর ক্ষমতা আসে সেনাশাসিত ফখরুদ্দীন সরকারের হাতে। ২০০৭ সালে তারা ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা দিয়ে পদ্মা সেতু বানানোর প্রকল্প পাস করেন।কিন্তু আর আগায় নেই সেই পদ্মা সেতুর কাজ।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠনের পর আবারও পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।সরকারের পরিকল্পনা ছিল বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। ২০১১ সালের ২৮ শে এপ্রিল বিশ্ব ব্যাংকের সাথে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তি সই হয়। ১৮ মে জাইকার সঙ্গে, ২৪শে মে আইডিবির সঙ্গে এবং ৬ জুন এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ঐ বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে।কিন্তু এখানে হাস্যকর কথাটা হচ্ছে আপনি আমাকে টাকাই ছাড় করেন নাই, আর ছাড় না করতেই দুর্নীতি হয়ে গেলো।তারপর কানাডার আদালত প্রমান করল কোন দুর্নীতি হয় নাই।আপনি আবারোও মাথায় নেন, যেখানে টাকাই ছাড় করা হয় নাই কিভাবে দুর্নীতি করবে কিভাবে?আসলে এখানে যে দেশী বিদেশি ষড়যন্ত্র হয়েছে এটা কারো অজানার কথা নয়।এদিকে আর কথা নাইবা বাড়ানো হলো।

আবারো থেমে গেলো পদ্মা সেতুর উঠে দাঁড়ানো।

এখানে একটু বলে নেই কিভাবে ১০ হাজার কোটি টাকার সেতু আজকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সর্বমোট বাজেট ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা হয়ে গেলো।

আপনি জানেন কি পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাম পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প।
পদ্মা সেতুর মূল কাজ পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে মূল সেতু, নদীশাসন, দুই তীরে দুটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ, নির্মাণ অবকাঠামো তৈরি। মূল সেতুর কাজ করছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। নদীশাসনের কাজ পেয়েছে চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন। দুই তীরে সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণকাজ করছে বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড।

মূল পদ্মা সেতুর ব্যয় কত জানেন?মূল সেতুর কাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ১২ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা।ওই যে ১০ হাজার কোটি টাকা করতেন না এটাই সেটা। এটা বেড়েছে এর সাথে রেল লাইন যুক্ত হওয়াতে। মানে প্রথমে এক তলা বিশিষ্ট সেতু হলেও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতল পদ্মা সেতু বানাতে নির্দেশ দেন।যাতে করে নিচ দিয়ে রেল চলতে পারে।যা শুরুতে ছিলো না।তার জন্য পিলার নক্সা সব কিছু আবার পরিবর্তন করা লেগেছে। ফলে এইখানে মূল পদ্মা সেতুর ব্যয় ধার্য করা হয় ১২ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা।

মূল সেতু ছাড়া নদী শাসন কাজের চুক্তিমূল্য ৮ হাজার ৯৭২ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা। সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার বাস্তব কাজের অগ্রগতি শতভাগ সম্পন্ন করেই ফেলছে আমাদের দেশীয় আবদুল মোনেম লিমিটেড। এ খাতে বরাদ্দ ১ হাজার ৪৯৯ দশমিক ৫১ কোটি টাকা।এছাড়াও সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়া, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, ও পরিবেশ খাত এবং পরামর্শক, সেনা নিরাপত্তা, ভ্যাট, আয়কর, যানবাহন, বেতন, ভাতাদিসহ অন্যান্যসহ এসব খাতে ৭ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ ৪ হাজার ৩৪২ দশমিক ২৬ কোটি টাকা।

পরামর্শক, সেনা নিরাপত্তা, ভ্যাট, আয়কর, যানবাহন, বেতন, ভাতাদিসহ অন্যান্য খাতে খরচ ২ হাজার ৮৮৫ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা।

বিভিন্ন কারণে আরো ভূমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে,নদী শাসনের ব্যয় বেড়ে গেছে আর এতে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের খরচ বেড়েছে।আর এমন ভাবে খবর হয়েছে যে ,১০ হাজার কোটি টাকার সেতু ৩০ হাজার কোটিতে চলে গেছে।আপনাকে আবারো জানাইয়া দেই, মূল সেতুর কাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ১২ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা।এই টাকা বাড়ে নাই নাই।

খরচের কথা বলে ফেললাম এই টাকা তো বিশ্ব ব্যাংক দেয় নাই, আসলো কোথা থেকে?

বিশ্বব্যাংকের কথিত দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাংকের মন রক্ষার্থে নানান ব্যবস্থা নেয়। বাধ্য হয়ে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল যদিও দুর্নীতির কোন প্রমাণ পায়নি।ততকালীন যোগাযোগমন্ত্রী জনাব আবুল হোসেনকে ইস্তফা দিতে বললে তিনি ইস্তফা দেন। সচিব মোশারফ হোসেন ভুঁইয়াকে বদলি করা হয়। প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলামকে অপসারণ করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান টিম গঠন করে। পরবর্তীতে সাত জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়।

এতোসব ব্যবস্থা নিলেও বিশ্বব্যাংক সন্তুষ্ট হয়নি। তারা ২০১২ সালের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে ঋণচুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। বিশ্বব্যাংককে অনুসরণ করে জাইকা, এডিবি ও আইডিবি ঋণচুক্তি বাতিল করে দেয় ।আবারো পদ্মা সেতুর উঠে দাড়ানোর পথ বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে কানাডার আদালতে মামলাও করে কিন্তু সেইসকল মামলায় হেরে যায় বিশ্বব্যাংক।১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ আদালত অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে মামলা খারিজ করে দেয় এবং অভিযুক্তরা খালাস পায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ জুলাই ২০১২ খ্রিস্টাব্দে মহান জাতীয় সংসদের অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মিত হবে। প্রধানমন্ত্রী একটা বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিলেন যে—না, পদ্মা সেতু আমাদের টাকায় হবে এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা এটার তদারকির দায়িত্বে থাকবে। যেখানে আমাদের জ্ঞানের অভাব আছে, অভিজ্ঞতার অভাব আছে সেখানে আমরা বিদেশিদের আনব।যেমন কথা তেমন কাজ।

শুরু হয় দেশবাসীর বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের কাজ।আন্তর্জাতিক টেন্ডারে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড কাজ পায়। ১৭ জুন ২০১৪ তারিখে সেতু কর্তৃপক্ষ চায়না ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানিকে সেতু নির্মাণের জন্য ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচন করে।

তারা ২০১৪ সালের ২৬শে নভেম্বর থেকে কাজ শুরু করে। সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয় ২০১৭ সালের ৩০শে সেপ্টম্বর।এর মধ্যেও মাঝের পিলারে নদীর তলদেশের নানান পরিবর্তনে পিলারেরও আবারো পরিবর্তন আসে।বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয় মালামাল রাখার ইয়ার্ডে। পদ্মা সেতুর বেশ কিছু রেলওয়ে স্ল্যাব নদী গর্ভে হারিয়ে যায় সর্বানাশা পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে।

তারপর করোনা শুরু হলে কাজ আরো এক দফায় থমকে যায়। সর্বশেষ স্প্যান ১০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে পদ্মা সেতুর ১২ ও ১৩ তম পিলারে ৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পুরো পদ্মা সেতু।

টাকা আসলো কোথা থেকে? এবং টোল কেন দেয়া লাগবেঃ
উপরের এসব কাজের জন্য টাকা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হলেও এজন্য ব্যয়িত অর্থ ঋণ হিসেবে দিয়েছে তারা। এ ঋণ সুদসহ ৩৫ বছরে সেতু বিভাগকে ফেরত দিতে হবে।

এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুদান রয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। সেতু বিভাগকে আসল হিসাবে ২৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিতে হবে। এর সঙ্গে বাড়তি ১ শতাংশ হারে সুদ গুনতে হবে। অর্থাৎ সুদে-আসলে পরিশোধ করতে হবে ৩৬ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা।অর্থাৎ এই টাকা শোধ করার জন্যই টোল দেয়া লাগবেই।

ধরেন সরকার টোল নিল না। এতে করে যান বাহন ফ্রিতে চললো,এতে আপনার লাভটা কি?

আপনি ১০ টা ট্রাকের মালিক হোন, তাহলে আপনার লাভ। কারণ টোল দেয়া লাগবে না, রমরমা ব্যবসা চলবে। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ যার জীবনে পদ্মাসেতু ব্যবহার না করে উত্তরবঙ্গে যাওয়া লাগবে না, তার কি উপকার হলো?মানে সে শুধু উত্তরবঙ্গেই আসা যাওয়া করে থাকে, তার তো পদ্মা সেতু ব্যবহার করা লাগছে না।

তার তো অপকারই হলো,কারণ পদ্মা সেতু করতে তার ভ্যাট ট্যাক্স তো দেয়া লাগছে।

পদ্মাসেতু ব্যবহারকারীরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবে, আর আপনি শুকিয়ে যেন না মরেন সেজন্য সরকার টোল আদায় করবে।সেটা দেশের মানুষের মাঝে বিভিন্ন ভর্তুকি দেয়ার মাধ্যমে বা যেকোন ভাবে সবার উপকার করবে অন্য কোন প্রকল্প নেয়ার মাধ্যমে।

আর সর্বশেষ এপ্রিল ২০২২ সালে পদ্মা সেতুতে কার্পেটিংয়ের (পিচ ঢালাই) কাজ শেষ হয়েছে।সব কিছু ঠিক থাকলে জুন মাসেই পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার কথা রয়েছে।টোলও ধার্য করে দেয়া হয়েছে, এখন আর পেছনে না তাকিয়ে পদ্মা সেতু আমাদের অর্থনীতি কোথায় নিয়ে যাবে সেসব নিয়ে ভাবেন।আর এর সফলতা কামনা করেন।

Address

Riyadh
12211

Telephone

+966596464683

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when All world's news posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to All world's news:

Share

Category