30/07/2026
ক্ষমতার মোহ,💵 নষ্ট রাজনীতি আর সাধারণ যুবসমাজকে বলিদান দেওয়ার খেলা!😭
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কি কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্ল্যাটফর্মের ইজারা নেওয়া সম্পত্তি ছিল? না! এটা ছিল পুরো দেশের আপামর ছাত্র-জনতার রক্তে ভেজা আন্দোলন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ কিছু লোভী ও অতি উৎসাহী রাজনীতিক নিজেদের একক কৃতিত্ব জাহির করতে গিয়ে পুরো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলছে। শুধু হবিগঞ্জ বা সিলেট নয়, সারা দেশজুড়ে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দল ও শীর্ষ নেতাদের নিয়ে যেভাবে লাগামহীন কটূক্তি ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হচ্ছে—তা কোনো সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না। কাউকেই সম্মান না করার এই বেয়াদবি সংস্কৃতি আজ দেশকে কোন ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে?
এই উসকানিমূলক বক্তব্য আর হঠকারী রাজনীতির খেসারত দিতে গিয়ে এক তরুণ তার মূল্যবান চোখ হারিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ব্যাপার হলো—আজ খবরের কাগজে দেখলাম, সেই চোখ হারানো ছেলেটিকে হাসপাতালে দেখতে তার নিজের বাবা-মা পর্যন্ত যায়নি! একটু ভেবে দেখুন, কতটা অবাধ্য ও বেপরোয়া হলে বাবা-মা পর্যন্ত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না! হয়তো বাবা-মা নিষেধ করেছিল এই বয়সে রাজনীতি না করে পড়াশোনার টেবিলে মনোযোগী হওয়ার জন্য, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করার জন্য। সেই নিষেধ অমান্য করার জেদেই কি আজ এই পরিণতি? সন্তানের এমন ধ্বংসাত্মক পথে যাওয়া দেখে কোন বাবা-মার বুক ফেটে রক্ত না ঝরবে? অথচ সেই বাবা-মায়ের কষ্টের কথা না ভেবে, উল্টো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য অন্যের ঘাটে দোষ চাপানোর পুরোনো নাটক শুরু হয়েছে!
আজকের যুবসমাজকে সুকৌশলে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে:
পড়ালেখার বারো বাজছে: তরুণ প্রজন্ম আজ পড়ালেখায় মনোযোগ না দিয়ে শুধু শর্টকাটৈ কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখে এবং পরীক্ষায় "অটো পাস" চায়। বাবা-মা, শিক্ষক কিংবা এলাকার মুরুব্বিদের সম্মান করার ন্যূনতম সংস্কৃতিটুকুও আজ তাদের মাঝে নেই।
উসকানি: হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, নাহিদ ইসলাম—যাদের অনেকে মেম্বার হওয়ারও যোগ্য ছিল না, অতীতে যাদের ঠিকমতো পড়াশোনা করার টাকা জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হতো, আজ তারা কোথায় পৌঁছে গেছে একটু ভেবে দেখুন! জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ওপর ভর করে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির প্রশ্রয়ে আজ তারা নিজেদের সবকিছুর কর্তাব্যক্তি মনে করছে। তারা কি এমন বিশাল কেউ ছিল যে তাদের মুখের কথায় পুরো বাংলাদেশের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল? আজ এই ধরনের কিছু নেতার ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও বেয়াদবিপূর্ণ বক্তৃতার কারণে সাধারণ তরুণদের রক্ত গরম করে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে তামাশা: তাদের ধারণা, যখনই ডাকবে মানুষ আবার তাদের কথায় অন্ধের মতো জীবন দিতে রাস্তায় নেমে আসবে। কিরে ভাই, সাধারণ মানুষের কি খেয়ে আর কোনো কাজ নাই? আপনারা ক্ষমতার মসনদে বসবেন, কোটি কোটি টাকার মালিক হবেন, আর সাধারণ মানুষ আপনাদের রাজনৈতিক সিঁড়ি হতে গিয়ে বারবার রক্ত দেবে, চোখ হারাবে, পঙ্গুত্ব বরণ করবে?
আঠারো মাস দেশ চালিয়েও যাদের লোভ, আর শেষ হয়নি, তারা আজ নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অবুঝ তরুণদের বলি দিচ্ছে। এভাবে প্রবীণ ও দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিকে অসম্মান করে অহংকার দেখালে জনগণ তা বেশি দিন সহ্য করবে না। বরং এই লোভ, হঠকারিতা আর বেয়াদবির কারণেই দিনশেষে দেশ আবার অস্থিতিশীল হবে, আর সেই সুযোগে ঠিকই পুরোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি সুযোগ বুঝে ফিরে আসবে!
সময় এসেছে হুঁশ হওয়ার। জনগণের এই বুকফাটা ক্ষোভ আর অভিশাপে একদিন এই হঠকারী ও লোভী রাজনীতি ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। বেয়াদবি আর ক্ষমতার মোহে যারা সাধারণ যুবসমাজকে এভাবে ধ্বংস করছে, ইতিহাস তাদের কখনো ক্ষমা করবে না!✅