12/08/2026
🎬🎞️ সেদিন কি রাজ কাপুর অনুগ্রহের ভারে ঝুঁকেছিলেন হাজি মাস্তানের সামনে? 🎞️🎬
বলিউডের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন আজকের নয়। বম্বের সিনেমা যখন কর্পোরেট অর্থের নাগাল থেকে অনেক দূরে, তখন ছবির পেছনের টাকা আসত নানা অন্ধকার পথ ঘুরে। প্রযোজক, পরিবেশক, ব্যবসায়ী—কোনও না কোনও সূত্র ধরে অন্ধকার জগতের হাত পৌঁছে যেত স্টুডিয়োর দরজায়। তাই ‘সিনেমা’ আর ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’—দুটি আলাদা জগত হয়েও একে অন্যের ছায়া এড়িয়ে চলা মুশকিল ছিল।
সেই ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত একটি ঘটনা হল—রাজ কাপুর ও হাজি মাস্তানের সম্পর্ক। এর পেছনে ছিল এমন এক ছবি যা এই সম্পর্কের পালে হাওয়া লাগানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।
সেই ছবিতে দেখা যায়, হাজি মাস্তানের সামনে ঝুঁকে পা ছোঁয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন রাজ কাপুর। ব্যাস! ছবিটি প্রকাশিত হতেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এক গুঞ্জন। বলা হল, মেরা নাম জোকার-এর বিপর্যয়ের পর রাজ কাপুর আর্থিক সংকট এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে তাঁকে পরবর্তী ছবি ববি বানাতে আর ধারদেনা চুকাতে হাজি মাস্তানের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।
ঘটনার প্রথম অংশ সত্যি। মেরা নাম জোকার ছিল রাজ কাপুরের স্বপ্নের ছবি। ছবিটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ছয় বছর। রাজ কাপুর নিজে অভিনয় করলেন, পরিচালনা করলেন, প্রযোজনাও করলেন। গল্প লিখলেন খাজা আহমদ আব্বাস। ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭০-এ মুক্তি পেল অস্বাভাবিক রকমের দীর্ঘ—প্রায় চার ঘণ্টার কাছাকাছির সেই বহুল আলোচিত ছবিটি। কিন্তু বিপুল অর্থ, দীর্ঘ নির্মাণপর্ব—সবকিছু উজাড় করে বানানো সেই ছবি বক্স অফিসের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। কাপুর পরিবার পরে জানিয়েছে, ছবিটি শেষ করতে গিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে শুরু করে আর. কে. স্টুডিয়ো, এমনকি রাজ কাপুরের স্ত্রী কৃষ্ণা কাপুরের সোনার গহনাও বন্ধক রাখতে হয়েছিল।
এমন অবস্থায় তাঁর নতুন ছবি ববি-র জন্য কোনও প্রযোজক বা পরিবেশক অর্থ ঢালতে নারাজ ছিল। শোনা যায়, সেই সময় কাণ্ডারী হিসেবে তাঁর প্রিয় অভিনেতাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন হাজি মাস্তান। তাঁর টাকাতেই নাকি তৈরি হয়েছিল ববি। এমনকি পরিবেশকদের উপর প্রভাব খাটিয়ে তিনি ছবিটিকে সর্বভাবে সাফল্যমণ্ডিত করতে সাহায্য করেছিলেন। তবে এই ঘটনার সপক্ষে কোনও প্রমাণ না থাকলেও আজও লোকমুখে ঘুরে বেড়ায় এই ঘটনাটি, যাকে আরও উসকে দিয়েছে হাজি মাস্তানের সামনে ঝুঁকে পড়া রাজ কাপুরের সেই ছবি।
পর্দার আড়ালে সেদিন কী হয়েছিল তা আজ আর জানা সম্ভব নয়। কিন্তু কাপুর পরিবারের সদস্য কুনাল কাপুর জানিয়েছেন, মেরা নাম জোকার-এর ব্যর্থতার পর পরিবেশকেরা রাজ কাপুরকে যখন টাকা দিতে চাইছিলেন না, তখন তাঁর বাবা শশী কাপুর দিল্লি-উত্তরপ্রদেশের ববি-র পরিবেশনা স্বত্ব আগাম ৮ লক্ষ টাকায় কিনে নেন। সেই চুক্তি দেখেই অন্যান্য পরিবেশকদের আস্থা ফেরে।
তাহলে হাজি মাস্তানের সঙ্গে জড়িয়ে যে গল্প, তার কোনও ভিত্তি নেই?
নিশ্চিত আছে। রাজ কাপুরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল—এমন উল্লেখ বহু পুরনো সূত্রে রয়েছে। হাজি মাস্তান নিজেও পরে দাবি করেছিলেন, রাজ কাপুরের আর্থিক দুরবস্থার কথা জেনে তিনি তাঁকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ কাপুর সেই টাকা বৈধ উপায়ে আসে না বলে নিতে অস্বীকার করেন।
আর সেই বিখ্যাত ছবিতে রাজ কাপুরের মাথা নোয়ানোর ব্যাখ্যাও হাজি মাস্তান অন্যভাবে দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, রাজ কাপুর তখন মদ্যপ ছিলেন এবং মুহূর্তের ভারসাম্য হারানোর সময় ক্যামেরায় ছবিটি ধরা পড়ে।
কী সত্যি আর কী গুজব, তার প্রমাণ আজ আর নেই। কিন্তু যা রয়ে গেছে, তা হলো সেদিনের সেই ছবি। যেখানে এক ফ্রেমে বন্দি হয়েছে ভারতীয় সিনেমার ‘শোম্যান’ আর অন্যদিকে বম্বের অন্ধকার জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ডন। সেই ফ্রেমই দিনের পর দিন জন্ম দিয়ে যাবে নতুন নতুন গল্পের।
এখন আপনারাই ঠিক করুন—সেদিন রাজ কাপুর মদ্যপ অবস্থায় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন, নাকি অনুগ্রহের ভারে ঝুঁকে গিয়েছিলেন? আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য অবশ্যই কমেন্টস বক্সে জানতে ভুলবেন না।
কলমে: সৈকত বিশ্বাস
ছবিটি AI দ্বারা নির্মিত
#সৈকত_বিশ্বাস ©️ #কথোপকথন #বংDoze
পেজটি ভালো লাগলে লাইক ও ফলো করে আমাদের উৎসাহ দিন। আর শেয়ার করে অন্যদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন।
#রাজকাপুর #হাজিমাস্তান #মেরানামজোকার #ববি #বলিউড #আন্ডারওয়ার্ল্ড #বলিউডইতিহাস #মুম্বই #রাজকাপুরেরগল্প
——————————————————————-
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ:
© বংDoze © সৈকত বিশ্বাস — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এই লেখার কোনো অংশ অনুমতি ছাড়া কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। ব্যবহার করতে চাইলে লেখক ও পেজের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
——————————————————————-