04/09/2026
সেদিন আমাদের অ্যানিভার্সারি ছিলো। আমাদের অ্যানিভার্সারি ডিসেম্বরে। সে সময় পুরোটাই স্নোয়ে ঢাকা থাকে সুইডেন। যতদূর মনে পড়ে সেদিন আমাদের উইকডে ছিলো।
উইকেন্ডও বেশ দূরে।
কলম: Manira Sultana Papri
কিন্তু আমরা দিনটাকে অপচয় করতে চাইনি।
আসলে আমাদের জীবনে যেরকম অনেক লিমিটেশন্স আছে, ঠিক সেরকম ভাবে আমরা আমাদের জীবনকে উপলক্ষ গুলো কেউ বের করে নেই।
জন্মদিন হোক অ্যানিভার্সারি হোক, কিংবা যেকোনো বিশেষ দিন, সেই দিনটাকে বিশেষ করে তুলি আসলে আমরা।
আপনি খেয়াল করে দেখুন, আমাদের দেশে যখন কোন কারণে ঈদের চাঁদ দেখা যায় না, চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তই কিন্তু ঈদ।
মানে আমরা মানুষেরা সিদ্ধান্ত নিলেই সেই স্বাভাবিক দিনটা আনন্দের দিন হয়ে উঠতে পারে।
কোন একটা দিনকে অর্থ দেই আসলে আমরা। আবেগ দেই আমরা। বিশেষত্ব দেই আমরা।
আবার কোন একটা বিশেষ দিনকে জাস্ট আর দশটা দিনের মতো আমরাই বানিয়ে ফেলি।
মাঝে মাঝে ভাবি জীবন কি?
অনেক কিছু সাথে তুলনা করা যায়।
জীবন মূলত একটা জার্নি।
কখনো আরামদায়ক ট্রেন জার্নি মনে হয়।
কখনো ব্রেক বিহীন সাইকেল জার্নি মনে হয়।
যখন ভালো থাকি তখন ট্রেন জানি মনে হয়।
আর যখন ভালো থাকি না তখন সাইকেলের উপরে চড়ে আছি মনে হয়।
মনে হয় এই সাইকেলের ব্রেক আমার হাতে নেই।
সাইকেলের উপরে আমার চড়েই থাকতে হবে। সাইকেলের উপর চড়ে থাকতে হলে আমাকে প্যাডেল দিতে হবে।
মোটকথা টিকে থাকতে হলে থামা যাবেনা।
আর যখন ভালো থাকি কখন মনে হয়
জীবন একটা ঝিকি ঝিকি ট্রেন জার্নি।
সে ট্রেন জার্নিতে কত সহযাত্রীর সাথে দেখা হয়।
কারো কারো সাথে কিছুদূর একসাথে যাওয়া হয়।
জানা পরিচয় হয়। ঘনিষ্ঠতা হয়।
তারপর যে যার স্টেশনে নেমে পড়ে।
একা একা। আরেকজনকে একা রেখে।
অন্য কোন গন্তব্যে।
আবার কখনো কখনো অন্য কোন যাত্রী
সবচেয়ে লম্বা সময়ের সহযাত্রী হয়।
দুজনের গন্তব্য একই স্টেশনে হয়।
তাই সে সহযাত্রীর সাথে সময়টাকে
যতটা সম্ভব উপভোগ্য করে তোলার চেষ্টা করে দুজনেই।
আর তারই একটা চেষ্টা হচ্ছে কোন কোন দিনকে
বিশেষভাবে উদযাপন করার চেষ্টা।
আই টোটালি আন্ডারস্ট্যান্ড, বছরের পর বছর ঘুম থেকে উঠে সেইম মানুষের চেহারা দেখা একটু কঠিন।
কখনো কখনো বোরিং।
আমার ধারনা ঐশ্বরিয়া রাই কিংবা অড্রে হেপবার্ন বা টম ক্রুজ, ব্রাড পিটের পাশে যে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন,
তাদের কাছে এই বিশেষ সুন্দর মানুষগুলোও তাদের
চেহারার বিশেষত্ব হারায়।
আসলে লম্বা একটা বিবাহিত জীবনে, চেহারার সৌন্দর্য বলে তেমন কিছু থাকে বলে আমি মনে করি না।
নরওয়েতে দুবার গেছি।
দম বন্ধ করা কিছু জায়গা আছে, যে জায়গাগুলো দেখে মনে হয়, এই জায়গা পৃথিবীর ভেতরে না।
এটা অন্য কোন গ্রহে নিশ্চয়ই।
মনে হয় যে এরকম একটা জায়গায় পারতাম তাহলে আমার জীবনটা জানি কেমন হতো।.
তারপর দেখলাম এই জায়গায় মানুষ থাকে।
এই দম বন্ধ করা সুন্দর দৃশ্য দেখেও কেউ ঘুম থেকে উঠে
টয়লেটে যায়। এখানেও মানুষের মন খারাপ হয়।
এখানেও মানুষ ঝগড়া করে।
কারণ এই বিশেষ সুন্দর জায়গাটাকে প্রতিদিন দেখে দেখে
তার চোখ মন এবং অনুভূতি অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
তাই আমার কাছে সুইডেন, আপনার কাছে বাংলাদেশ,
আর নরওয়েইজিয়ান ব্লু ফিয়র্ডের পাশে যে ঘুম থেকে উঠে
তার কাছে প্রতিটি সকাল একই রকম।
আমার এবং আপনার মতই।
কারণ হচ্ছে অভ্যস্ততা।
যে অভস্ত্যতা বিবাহিত জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু এবং কখনো কখনো আঠা।
শত্রু কারণ অভ্যসের কারণে পাশের মানুষটাকে আমরা গ্রান্টেড ধরে নেই। তাকে তো পেয়েই গেছি। তাকে আর উইন করার কিছু নেই।
তাই তার প্রতি মনোযোগ, এফোর্ট পাতা কি সারপ্রাইজ করার কোন ইচ্ছেই আমাদের আর থাকে না।
আর আঠাই কারণেই, কারণ এরকম অনেক দম্পতি আছে, যারা একে অপরকে ভালো না বেসে, শ্রদ্ধা না করে, কোন সম্পর্ক ছাড়াই শুধুমাত্র অভ্যস্ততার কারণে এক ছাদের নিচে থেকে যাচ্ছে বছরের পর বছর।
এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কিছু হতে পারে না।
যাদেরকে এ জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখবেন।
আর এরকম জীবন যদি কাটাতে না চান, তবে মাঝে মাঝে নিজেদের সম্পর্কগুলোতে একটু ঝাল মশলা দেবেন।
একটু চাট মসলা, একটু বিট নুন, কখনো তেতুলের চাটনি
যাতে এই লম্বা জার্নি টা বোরিং না লাগে।
ফাঁকিবাজি কম করবেন।
গিফট দিতে হবে বলে, একটু এফোর্ট দিতে হবে বলে,
একটু খরচা হবে বলে, একটু সময় দিতে হবে বলে
"বুড়ো হয়েছো এখন আবার এসব কিসের ঢং"
বলে এড়িয়ে যাবেন না।
মনে রাখবেন আপনার পার্টনার ভালো না থাকলে আপনিও ভালো থাকতে পারবেন না।
বিবাহিত জীবন মানে মেস বাড়ি না। যে আপনার ইচ্ছে হলো আপনি শুধু নিজের মশারিটা টাঙিয়ে নিজের বিছানাটা গুছিয়ে শুয়ে পড়লেন,
বাকি অন্য রুমমেটদের কি হলো তাতে আপনার কিছু আসে যায় না।
বিবাহিত জীবনে আপনার পার্টনারের ভালো বা মন্দে আপনার অনেক কিছু আসে যায়।
সে আপনি যেমন মানুষই হোক না কেন ভালো বা মন্দ।
আপনার পার্টনার ভালো না থাকলে আপনি ভালো থাকবেন না।
তাই বিবাহিত জীবনে ছোট ছোট উপলক্ষ গুলোকে
বিশেষ বানিয়ে নিন যাতে জীবনে একটু টক ঝাল মিষ্টি থাকে।
ভালো থাকুন অন্যকেও ভালো রাখুন।
(পোস্ট শেয়ার করতে পারেন কিন্তু কপি করবেন না!)