12/06/2026
একটি পডকাস্টে জিয়াউক হক বলেছেন,অনেকে হয়তো ভাবেন ডিজিটাল ব্যবসা মানেই শুধু অ্যাপ বানানো। কিন্তু শপ-আপ প্রমাণ করে দিয়েছে, বড় স্বপ্ন আর সঠিক এক্সিকিউশন থাকলে বাংলাদেশ থেকেই গ্লোবাল সাম্রাজ্য গড়া সম্ভব!
শপ-আপ শুরু থেকেই বাজারের সেরা ট্যালেন্টদের হায়ার করেছে এবং তাদের কোম্পানির মালিকানার অংশ (ESOP) দিয়েছে।যখন একজন এমপ্লয়ি নিজেকে মালিক মনে করে, তখন কোম্পানির গ্রোথ কেউ আটকাতে পারে না!
কোভিডের সময় যখন সব লজিস্টিক বন্ধ, তখন শপ-আপ-এর 'রেডএক্স' (RedX) দাপিয়ে বেড়িয়েছে এবং মাত্র ৪ মাসে মার্কেট লিডার হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যখন ইনভেস্টমেন্ট বন্ধ হচ্ছিল, তারা তখন নিজেদের প্রফিটেবল করে তুলেছে।
শপ-আপ-এর 'মোকাম' (Mokam) সরাসরি ফ্যাক্টরি থেকে পণ্য মুদি দোকানে পৌঁছে দিচ্ছে, মাঝখানের সব মিডল-ম্যান বাদ দিয়ে।অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য, ঢাকার মেজরিটি পাঙ্গাস মাছ এখন মোকাম সরবরাহ করে এবং শুধু এই এক সেক্টর থেকেই তাদের বাৎসরিক আয় প্রায় হাজার কোটি টাকা!
শপ-আপ এখন আর শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নেই। তারা সৌদি আরবের কোম্পানির সাথে মার্জার করে ১২০০ কোটি টাকার ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে এসেছে।কাতার ও কুয়েতের ফান্ডও এখন তাদের সাথে। সরিষার তেল আর মুড়ি এক্সপোর্ট দিয়ে শুরু হলেও তাদের ভিশন এখন পুরো মিডল-ইস্ট এবং আফ্রিকার মার্কেট দখল করা।
- আমরা গর্ব করি ১৮ কোটি মানুষের, কিন্তু আমরা আসলে 'ম্যান-পাওয়ার' না হয়ে 'ম্যান-লায়াবিলিটি' হয়ে যাচ্ছি কারণ আমাদের অধিকাংশ খাদ্যপণ্য (চিনি ৯৯%, গম ৯৫%, ভোজ্য তেল ৯০%+) আমরা আমদানি করি!
- কেন আমরা শুধু বিদেশের রাস্তা পরিষ্কার করব? কেন আমরা স্কিলড কেয়ারগিভার, অটোমোবাইল মেকানিক বা জাপানিজ/অ্যারাবিক ভাষা শিখে ডিসিশন-মেকিং পজিশনে যাব না?
আমাদের দেশে জুট, লেদার আর আরএমজি-র মতো গোল্ডমাইন আছে, অথচ আমরা বিলিয়ন ডলারের ব্র্যান্ড বানাতে পারছি না কারণ আমাদের মেধাবীরা শুধু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়, ডিজাইনার বা উদ্যোক্তা না।
ব্রিটিশ আর পাকিস্তানিদের শোষণে আমরা বড় স্বপ্ন দেখা ভুলে গিয়েছিলাম। এখন সময় এসেছে সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার।১৫-৩০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বদলে যাবে, যদি আমরা শুধু লোকাল না, গ্লোবাল ভিশন নিয়ে কাজ করি।
লেখা- Arisa Chowdhury