26/08/2026
মেয়েদের সবচেয়ে বেশি আদর কখন দরকার, বলুন তো?
অনেকে বলবেন প্রেগন্যান্সির সময়।
আমি বলব, তার চেয়েও বেশি দরকার সন্তান জন্ম দেওয়ার পর।
কারণ একটা শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শুধু একজন মা-ই জন্ম নেয় না, একজন নারীর চেনা জীবনটাও হঠাৎ বদলে যায়। নিজের শরীর, ঘুম, সময়, স্বাধীনতা, অনুভূতি সবকিছু যেন একসঙ্গে ওলটপালট হয়ে যায়। যে শরীরটা এতদিন শুধু তার নিজের ছিল, সেই শরীর একটা নতুন প্রাণকে পৃথিবীতে এনে ক্লান্ত, ব্যথিত, পরিবর্তিত। আর মন? সেও তখন নিজেকে নতুন করে চিনতে শেখে।
অথচ ঠিক এই সময়টাতেই সবার সমস্ত মনোযোগ চলে যায় নতুন শিশুটির দিকে।
বাবু ঠিকমতো খাচ্ছে তো?
ঘুমাচ্ছে তো?
কাঁদছে কেন?
কোলে নাও, সাবধানে রাখো, ঠান্ডা লাগবে না তো?
সবাই শিশুটিকে আগলে রাখে। রাখা উচিতও।
কিন্তু সেই শিশুটিকে পৃথিবীতে আনতে গিয়ে যে মেয়েটা শরীর-মন দিয়ে এত বড় একটা যুদ্ধ পার করে এসেছে, তাকে কে আগলে রাখছে?
আমরা অনেক সময় আমাদের মায়েদের উদাহরণ দিই “আমার মা তো এত কিছু একাই করেছেন, কখনো অভিযোগ করেননি।”
কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখি, আমাদের মায়েরা অভিযোগ করেননি মানেই কি তাঁদের কষ্ট হয়নি?
নাকি তাঁরা তাঁদের সন্তানকে, স্বামীকে কখনো বুঝতেই দেননি, কত রাত তাঁরা নিঃশব্দে কেঁদেছেন, কত ক্লান্তি হাসির আড়ালে লুকিয়েছেন?
নতুন মা হওয়া মানেই শুধু মাতৃত্বের আনন্দ নয়। এর সঙ্গে থাকে ঘুমহীন রাত, হরমোনের বিশাল পরিবর্তন, নিজের বদলে যাওয়া শরীরকে মেনে নেওয়ার লড়াই, অকারণ কান্না, ভয়, একাকিত্ব, উদ্বেগ। কখনো postpartum depression-এর মতো মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যাও। আর বিরল কিন্তু গুরুতর ক্ষেত্রে postpartum psychosis-ও হতে পারে, যার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
তাই সব কষ্টকে “মা হয়েছ, এগুলো তো সহ্য করতেই হবে” বলে স্বাভাবিক করে দেবেন না।
বিশেষ করে স্বামীদের বলি, এই সময়টায় আপনার স্ত্রীকে শুধু সন্তানের মা হিসেবে দেখবেন না। সে এখনও আপনার সেই মানুষটাই। বরং এই মুহূর্তে তার আপনাকে হয়তো জীবনের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।
সন্তানকে সমানভাবে লালন পালনে সাহায্যে করুন।
স্ত্রীকে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিন।
খাবারের খেয়াল রাখুন।
তার শরীর নিয়ে কটাক্ষ করবেন না।
অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ বা সংসারের অশান্তি থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন।
কোনো কারণ ছাড়াই পাশে বসুন।
ভালোবাসা, স্নেহ, যত্নের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।
“বাবু কেমন আছে” প্রশ্নের আগে “তুমি কেমন আছো?” জিজ্ঞেস করুন।
একদিন তার শরীর আবার অনেকটাই আগের মতো হবে। ঘুম ফিরবে। সন্তান বড় হবে। জীবন আবার গুছিয়ে যাবে। সে আবার নিজের মতো করে হাসবে, সাজবে, বাইরে যাবে, নিজের পরিচয়টাও ফিরে পাবে।
কিন্তু এই কঠিন সময়টায় পাওয়া ভালোবাসা যেমন সে সারাজীবন মনে রাখবে, তেমনি অবহেলার দাগও সারাজীবন থেকে যাবে।
তাই নতুন শিশুটিকে যতটা আদর করবেন,
তার মাকে একটু বেশি আদর করুন।
কারণ শিশুটির নিরাপদ পৃথিবীটা শুরু হয় তার মায়ের কাছ থেকে।
আর সেই মায়েরও একটা নিরাপদ জায়গা দরকার,
যেখানে সে দুর্বল হতে পারে, কাঁদতে পারে, বিশ্রাম নিতে পারে এবং নিশ্চিন্তে বলতে পারে - আমাকেও কেউ আগলে রেখেছে। ❤️