12/23/2025
সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো—যাদের এই সুযোগগুলোর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন (আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা অথচ মেধাবী তরুণরা), তারাই এগুলোর থেকে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত।
ইংরেজি দক্ষতার বাধা: কীভাবে ভাষা বাংলাদেশের মেধাবী অথচ দরিদ্র গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে
মূল সমস্যা
বাংলাদেশে বহু মেধাবী গ্র্যাজুয়েট—বিশেষ করে এমবিবিএস ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারদের মতো কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা—জীবনে বড় কিছু করার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকেন শুধুমাত্র ইংরেজি দক্ষতার অভাবে।
তাদের মধ্যে অনেকেই:
শিক্ষাগতভাবে অসাধারণ।
আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল।
কিন্তু উচ্চতর ইংরেজি দক্ষতা (কমপক্ষে C1 লেভেল) না থাকায় আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ, উচ্চশিক্ষা, কিংবা রিমোট চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
এর পরিণতি
যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সুযোগ হাতছাড়া হয়।
অধিকাংশই কম বেতনের চাকরিতে আটকে পড়েন।
দেশের বাইরে যেতে পারলেও ফিরেন না—ব্রেইন ড্রেইনের সমস্যা।
মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয় না—হতাশা তৈরি হয়।
বিশ্বজয়ী স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে পড়ে পুরো একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্ম।
ইংরেজি দক্ষতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে IELTS/TOEFL ছাড়া আবেদনই করা যায় না।
স্কলারশিপ পেতে হলে অনেক সময় C1 (IELTS ৭.৫ +) প্রয়োজন।
অথচ আপনি জানেন কি? Cambridge IELTS-এর ডেটা অনুযায়ী বাংলাদেশে মাত্র ১২% অংশগ্রহণকারী IELTS-এ ৭ স্কোর করতে পারেন, আর Writing-এ ৭ পান মাত্র ৮%।
বাস্তবতা হলো, যাঁরা এই স্কোরে পৌঁছাতে পারেন না—তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখন জনপ্রিয় অনলাইন শিক্ষক বা ইউটিউব ইনস্ট্রাক্টর। এটা তাঁদের অযোগ্যতা নয়, বরং ইংরেজি শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও চর্চার অভাবকে তুলে ধরে।
সবার স্কোরের প্রয়োজন এক নয়—কিন্তু যাঁদের জন্য স্কোরটি বাধ্যতামূলক (যেমন স্কলারশিপ বা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য), তাঁদের জন্য এটি একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অনেক প্রশিক্ষকের মৌলিক গ্রামার বা একাডেমিক রাইটিং জ্ঞানে ঘাটতি থাকায় ছাত্ররাও বিভ্রান্ত হন। ফলে কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কীভাবে বুঝি? তাদের ভিডিও গুলো প্রমাণ রেখে যাচ্ছেন । যাদের রাইটিং স্কোর ভালো দেখান--বলে দিবে কী বলি । ( যারা আমার মাধ্যমে ৮-৮.৫ একজন ৯ পেয়েছেন, আলোচনা করি, দেখাই , তারা ও বলে । জিআরই ভার্বালও তাই )
গবেষণা, একাডেমিক প্রকাশনা, প্রফেশনাল ইন্টারভিউ সবই ইংরেজিতে।
রিমোট কাজ, ফ্রিল্যান্সিং, গ্লোবাল মার্কেট—সবখানেই ইংরেজি ছাড়া টিকে থাকা কঠিন।
বাস্তবতা ও বৈষম্য
সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো—যাদের এই সুযোগগুলোর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন (আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা অথচ মেধাবী তরুণরা), তারাই এগুলোর থেকে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত।
ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়াররাও বিদেশে ভালো পজিশন বা গবেষণার সুযোগ পান না, শুধুমাত্র ইংরেজিতে সাবলীল না হওয়ার কারণে।
সমাধানের দিকনির্দেশনা
১. রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ইংরেজি শিক্ষা প্রসার
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে EAP (English for Academic Purposes) কোর্স বাধ্যতামূলক করা।
স্পোকেন ইংলিশ, একাডেমিক রাইটিং, IELTS প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত করা।
২. ছাত্র-নেতৃত্বাধীন ইংরেজি অনুশীলন প্ল্যাটফর্ম
বিতর্ক ক্লাব, বুক ক্লাব, স্পিকিং ক্লাব চালু করে প্র্যাকটিসের সুযোগ সৃষ্টি।
৩. সরকার/NGO সহায়তা
ভারতীয় মডেলের মতো Spoken English for Employability কর্মসূচি।
অনলাইন কোর্স, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সবার নাগালে ইংরেজি শিক্ষা।
৪. রিমোট কাজ ও স্কলারশিপ দক্ষতা প্রশিক্ষণ
SOP লেখা, স্কলারশিপ আবেদন, রিমোট CV তৈরি, LinkedIn প্রোফাইল মেন্টরিং।
৫. Scholarship Resource Hub
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি Scholarship Writing & Application Center চালু করা উচিত, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে সহায়তা পাবেন।
সব বিষয় একটু সময় নিয়ে করতে হচ্ছে, এতো সময় নেই? চলে আসেন আমাদের কাছে । কী করে দ্রুত করবেন, ক্লাশে শিখতে পারছেন ।
উপসংহার
বাংলাদেশে যে মেধা ও পরিশ্রম আছে, তা যদি সঠিক দিকনির্দেশনা ও ইংরেজি দক্ষতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে দেওয়া যায়—তাহলে একটি প্রজন্মেই বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন ঘটতে পারে।
মেধা কোনো শ্রেণি দেখে আসে না। ইংরেজি দক্ষতা শুধুমাত্র ভাষার বিষয় নয়—এটি বিশ্বের দরজায় কড়া নাড়ার চাবিকাঠি।
আজকের তরুণদের মেধা যদি হারিয়ে যায় কেবল ভাষার অভাবে—তাহলে সেটি একটি জাতির জন্য অপরাধের চেয়ে কম নয়।
আসুন, একসাথে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলি, যেখানে সঠিক শিক্ষা, সঠিক দিকনির্দেশনা, এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা সবার নাগালে পৌঁছায়—বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে দিয়ে, সাম্যের সেতু গড়ে তোলে।
যারা সময় ও সুযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।
আপনি যদি নিজে লড়ে বেরিয়ে এসেছেন, তবে অন্যকে পথ দেখান।
আপনি যদি এখনও পথ খুঁজছেন, আমরা একসাথে শিখতে পারি, এগিয়ে যেতে পারি।
আপনার মতামত দিন—এই সমস্যাটি আপনি কীভাবে দেখেছেন? আপনার কোন অভিজ্ঞতা আছে?
আমাদের পোস্ট শেয়ার করুন, যাতে আরও কেউ অনুপ্রাণিত হতে পারে।
Two courtesy pictures in a school and university library in BD.
Written by Quazi Sir.