09/20/2026
মিজান চৌধুরীর মন্তব্য ও সংগঠনকেন্দ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আহমেদ সোহেলের বক্তব্য
আইবিএন রিপোর্ট: গত প্রায় তিন মাস ধরে গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স (GBA) ও বাংলাদেশি আমেরিকান টেক কোয়ালিশন (BATC) কেন্দ্র করে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে ডিপিএ-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রশাসনিক পরিচালক ও BATC-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আহমেদ সোহেল সম্প্রতি বাপসনিউজ ও আইবিএননিউজকে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন।
আহমেদ সোহেল বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তিকে হেয় করা, অপমান করা বা ব্যক্তিগত বিরোধকে জনসম্মুখে নিয়ে আসতে চাইনি এবং এখনো চাই না। কিন্তু যখন কোনো ঘটনা নিয়ে একতরফাভাবে অসত্য, বিভ্রান্তিকর বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচার করা হয়, তখন প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করি।”
তিনি জানান, গত কয়েক মাসে GBA ও BATC-এর সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কার্যক্রম বন্ধ করা, মেসেজ অপশন সীমিত করা এবং অন্যান্য অ্যাডমিনদের অ্যাক্সেস সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে সংগঠন দুটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১ আগস্ট ২০২৬ নিউইয়র্কের এক সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রেসিডেন্ট মিজান চৌধুরী আহমেদ সোহেল, ড. আবু সালেহ ও আজম চৌধুরীকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। সেদিন রাতেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে GBA-এর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। আহমেদ সোহেল জোর দিয়ে বলেন, সেই সংবাদ সম্মেলনেও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা সাবেক প্রেসিডেন্টকে হেয় করার কোনো প্রচেষ্টা করা হয়নি। উদ্দেশ্য ছিল সংগঠনের ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা, ব্যক্তিগত বিরোধ নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে রায়ান তাজ ও তরিকুল ইসলামের উল্লেখ করে আহমেদ সোহেলকে উদ্দেশ্য করে একটি আইনজীবীর নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। নোটিশে BATC-এর প্রতিষ্ঠা ও মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো সংগঠনের প্রতিষ্ঠা, নিবন্ধন, পরিচালনা বা নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রকৃত নথিপত্র, আইনগত নিবন্ধন ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন, কর্পোরেট ডকুমেন্ট ও প্রয়োজনীয় নথি ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় সেগুলো উপস্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কাউকে আইনি ঝামেলায় জড়াতে চাই না এবং আগ বাড়িয়ে কোনো সংঘাতেও যেতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার বা ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে সম্মান ও অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেন, তাহলে আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার আমাদেরও রয়েছে।”
আহমেদ সোহেল গত দুই বছরে মিজান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের প্রতি নিজের সহযোগিতার কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়; বরং বর্তমান পরিস্থিতি কেন তাঁর কাছে দুঃখজনক, সেটি বোঝানো। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—মিজান চৌধুরীর স্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ, বিভিন্ন উদ্যোগে বাংলাদেশের শীর্ষ মিডিয়ার সহযোগিতা নিশ্চিত করা, গুরুতর পায়ের ইনজুরি সত্ত্বেও GBA সম্মেলনে বাংলাদেশে যোগদান, ওয়াশিংটনের সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ের ভূমিকা, নেতিবাচক প্রচারণা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা, উভয় সংগঠনের প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা, স্ত্রীর অভিষেক অনুষ্ঠানের কনভেনিং কমিটির কনভেনার হিসেবে প্রায় ১২০ জন অতিথির উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নিউইয়র্ক সিটি কন্ট্রোলার অফিস থেকে রিকগনিশন সার্টিফিকেট পাওয়ার উদ্যোগে উপস্থিত থাকা।
তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে তাঁকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন অভিযোগ, গুজব ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এমনকি লায়ন্স ক্লাবের একটি গ্রুপেও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে, যেখানে তিনিই মিজান চৌধুরীকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছিলেন।
আহমেদ সোহেল বলেন, “মতপার্থক্য থাকতেই পারে। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও মতভেদ হতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার, গুজব বা অন্যদের সঙ্গে কারও সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা কোনো সুস্থ সংগঠন বা সামাজিক পরিবেশের অংশ হতে পারে না।”
GBA ও BATC-এর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কোনো পক্ষের কথায় অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে ঘটনা, সময়ক্রম, নথিপত্র ও বাস্তব কর্মকাণ্ড নিজেরা বিবেচনা করুন। কোনটি সত্য, কোনটি অতিরঞ্জিত এবং কোনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—তা বোঝার জন্য অন্য কারও নির্দেশনার প্রয়োজন নেই।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত কোনো সংঘাত তিনি চান না। সংগঠনগুলোকে আরও পেশাদার, গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্যও তিনি ভালো কামনা করেন এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন তিনি সুস্থ ও ভালো থাকুন এবং সঠিক পথ দেখান।
শেষে তিনি বলেন, “আমাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত—ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, সত্য প্রতিষ্ঠা; প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার; বিভাজন নয়, ঐক্য; এবং ব্যক্তি নয়, সংগঠনের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।”
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাপসনিউজ সম্পাদক ও আইবিএননিউজ২৪.কম-এর প্রধান সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম খোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইটিভি পরিচালনা ও সিনিয়র সাংবাদিক রিমন ইসলাম। ভিডিও ধারণ করেন ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট ও জেএসএফ-বাংলাদেশ সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে। সাক্ষাৎকার শেষে সাংবাদিকদের নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।