07/08/2026
যোদ্ধা দেখতে চাইলে যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, প্রবাসীদের দিকে তাকান। কারণ তারা এমন এক যুদ্ধ করে, যেখানে কোনো অস্ত্র নেই, কোনো পদক নেই, কোনো প্রশংসা নেই। আছে শুধু দায়িত্ব, ত্যাগ আর নীরব কষ্ট।
শরীর অসুস্থ, তবুও কাজে যেতে হয়। জ্বর নিয়ে ডিউটি করতে হয়, ব্যথা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। মন ভালো না থাকলেও হাসিমুখে বলতে হয় আমি ভালো আছি। কেউ দেখে না দিনের শেষে তাদের ক্লান্ত শরীরটা। কেউ অনুভব করে না রাতের নিরবতায় বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টগুলো। পরিবারের মানুষগুলো যেন চিন্তা না করে, তাই নিজের কান্নাটাও লুকিয়ে রাখতে হয়।
প্রবাসী মানুষগুলো প্রতিদিন নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাঁচে। ঈদের দিনেও কাজ করে, জন্মদিনে পরিবারের পাশে থাকতে পারে না, মা-বাবার অসুস্থতার খবর শুনেও হাজার মাইল দূরে অসহায়ের মতো বসে থাকে। প্রিয় মানুষগুলোর মুখ দেখার জন্য ফোনের স্ক্রিনই তাদের একমাত্র ভরসা।
তবুও তারা থামে না। কারণ তাদের কাঁধে একটি পরিবারের স্বপ্ন থাকে, বাবা-মায়ের আশা থাকে, ছোট ভাই-বোনের ভবিষ্যৎ থাকে। নিজের সুখ নিজের ইচ্ছা, নিজের ভালো লাগা সবকিছু বিসর্জন দিয়ে তারা শুধু দায়িত্ব পালন করে যায়।
তাই যোদ্ধা দেখতে চাইলে যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, প্রবাসীদের দিকে তাকান। কারণ তারা প্রতিদিন অসুস্থতা, ক্লান্তি, একাকীত্ব আর হাজারো কষ্টের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে।