12/11/2025
আজ রাজশাহীর তানোরে গভীর গর্তে পড়ে ছোট্ট শিশু সাজিদের মৃত্যুর খবর শুনে মনটা ভেঙে গেল।
মাত্র দুই বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে আমরা হারালাম—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
যার জমিতে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য গর্ত খোঁড়া হয়েছিল, তিনি সেই গর্ত ঠিকমতো ভরাট না করে বছরের পর বছর খোলা অবস্থায় ফেলে রেখেছিলেন।
একটা ঢাকনা দেওয়া বা গর্তটি বন্ধ করার মতো সাধারণ দায়িত্ব পালন না করায় আজ একটি পরিবার চিরদিনের জন্য শোকের সাগরে ডুবে গেল।
এমন বোকামি, অবহেলা আর উদাসীনতার কারণে আর কত নির্দোষ প্রাণ হারাতে হবে?
আমি সাজিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
আল্লাহ ছোট্ট সাজিদকে জান্নাত নসিব করুন।
এবং আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কঠোর শাস্তির দাবি জানাই—যাতে ভবিষ্যতে এমন নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ—
আপনার এলাকায় যদি কোনো খোলা গর্ত, গভীর নলকূপের ছিদ্র, ম্যানহোল বা বিপজ্জনক স্থান চোখে পড়ে, দয়া করে অবহেলা করবেন না।
প্রশাসনকে জানান, স্থানীয়দের সতর্ক করুন।
এক মুহূর্তের অসতর্কতা একটি জীবন কেড়ে নিতে পারে।
সাজিদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
বাংলাদেশে অবহেলিত নলকূপের গর্ত: দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি
বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় নলকূপ খননের পর গভীর গর্তগুলো খোলা অবস্থায় থাকে—যা মানুষের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন গর্তে পড়ে শিশু আহত বা নিহত হওয়ার ঘটনা আমাদের কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে।
কারা জানাবে এই বিপজ্জনক গর্তগুলোর কথা?
যেসব এলাকায় এ ধরনের গভীর নলকূপের গর্ত রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে অবিলম্বে জানানো উচিত—
• স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভাকে
• স্থানীয় প্রশাসন (উপজেলা নির্বাহী অফিস/ডিসি অফিস)
• পানি উন্নয়ন বোর্ড বা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে
• থানা প্রশাসনকে
স্থানীয় প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।
দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন
যারা এসব নলকূপ খনন করেছে এবং দায়িত্বহীনভাবে গর্ত খোলা রেখে গেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নলকূপ খননকারীদের দায়িত্ব—
• গর্ত সম্পূর্ণ ব্লক করে দেওয়া
• জায়গা সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা
• বিপদ সংকেত বা সতর্কতা চিহ্ন স্থাপন করা
এই কাজগুলো তারা না করলে সরাসরি অবহেলার দায়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।
গর্তগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ ও চিহ্নিতকরণ জরুরি
প্রতিটি গভীর গর্তকে—
• পার্মানেন্টভাবে ব্লক করতে হবে
• চারপাশে সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপন করতে হবে
• হলুদ/লাল রঙের ব্যানার বা টেপ লাগিয়ে দিতে হবে
• যাতে স্থানীয় মানুষ, বিশেষত শিশু, সচেতন হয়ে চলে
জনসচেতনতার গুরুত্ব
শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, স্থানীয় মানুষের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। যে কেউ এমন বিপজ্জনক গর্ত দেখলে প্রশাসনকে জানাতে হবে এবং আশেপাশের মানুষকে সতর্ক করতে হবে। কারণ একটি অসতর্কতার কারণে একটি জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।