01/26/2026
বাগেরহাটে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের জীবনে ঘটে গেল এক গভীর হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। এমন এক ঘটনা, যা রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতা, অমানবিকতা ও স্বৈরাচারিতার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করেছে। যেখানে “মৃত শিশু দেখা করতে গেছে, তার জীবিত পিতার সাথে”। এই দৃশ্য কাঁদিয়েছে পুরো দেশকে।
ঘটনার পেছনের কাহিনি আরও মর্মান্তিক। শুধুমাত্র ছাত্রলীগ করার অপরাধে গত ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে পুলিশ ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে। তখন থেকেই সে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে। গ্রেপ্তারের সময় তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। সন্তান জন্ম নেয় বাবার জেলে যাওয়ার পর। বাবার মুখ না দেখা অবস্থায় ৯ মাস কেটে যায় শিশুটির।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্তানের জন্মের পর সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ অন্তত পাঁচবার শিশুটিকে নিয়ে কারাগারের গেটে গিয়েছিলেন। প্রতিবারই আশা ছিল, আজ হয়তো বাবা সন্তানকে কোলে নিতে পারবে। কিন্তু প্রতিবারই তাকে আবার “শো অ্যারেস্ট” দেখিয়ে জেলে নেওয়া হয়। সেই অপমান, সেই হতাশা, সেই অপেক্ষা ধীরে ধীরে ভেঙে দেয় একজন মাকে।
শেষ পর্যন্ত সব আশা ভেঙে দিয়ে, রাষ্ট্রের নগ্ন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিমান বুকে ধারণ করেই কানিজ তার ৯ মাসের শিশুকে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এখানেই অমানবিকতা শেষ হয়নি। সাদ্দামের পরিবার তার স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করেন। সরকার সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।
কানিজের ভাই শাহ নেওয়াজ আমিন শুভ বিবিসি বাংলাকে বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে জেল সুপার, জেলার পর্যন্ত ঘুরেও তারা কোনো সহানুভূতি পাননি। পরিবারকে শুধু বলা হয়, “লাশ নিয়ে যশোর যান, পাঁচ মিনিট সময় পাবেন, হাউকাউ করবেন না।”
একজন মানুষ। একজন স্বামী। একজন বাবা। সে যদি বড় অপরাধীও হয়, তবুও কি স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় দাঁড়ানোর অধিকার তার ছিল না। কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া কি এত বড় অপরাধ ছিল।
যারা বলে শত্রুর সাথেও ইনসাফ করবে, তাদের এই ইনসাফ কোথায়। এই রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতা শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো জাতির বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যে রাষ্ট্র একজন বাবাকে শেষ বিদায়ে দাঁড়াতে দেয় না, সে রাষ্ট্র আর মানুষের নয়, ক্ষমতার। সাদ্দামের স্ত্রী ও শিশুর খুনি এই রাষ্ট্র। ইতিহাস এই নিষ্ঠুরতাকে ক্ষমা করবে না, আর প্রকৃতি একদিন অবশ্যই এর বিচার করবে। (কপি-এ আরাফাত)