05/23/2026
কনফিউজড নেতৃত্ব!
-মতিউর রহমান লিটু
হাসিনা আমলের অবৈধ ২০১৮সালের সংসদ নির্বাচনটায় অংশ নিলেন, পরিস্থিতির কারণে জাস্ট একদিন আগে আবার বয়কট করলেন, ৬টি আসন জোর করে জিতে আসলো কিন্তু একমাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাদেরকে হাসিনার সংসদে যোগ দিতে বললেন!
আপনার একক সিদ্ধান্তে দলীয় নেতাদের কিংকর্তব্য বিমূঢ় করে দিলেন! এমনকি মির্জা ফকরুল ইসলাম আপনার এই সিদ্ধান্ত মানতে পারলেননা, তিনি সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কিন্তু বাকি ৫জন আপনার নির্দেশনা মেনে হাসিনার সংসদে যোগ দিলেন।
৫বছর এমপি হিসাবে থাকলেন, হাসিনার দেয়া সকল সুযোগ সুবিধা নিলেন। তাহলে নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে কেন নির্বাচন বয়কট করে অন্যান্য নেতাদের এমপি হতে দিলেননা? কেন হাসিনাকে আরো ৫বছর টিকে থাকতে দিলেন? নির্বাচন বয়কট করা বাকি নেতাদের কেন বাড়িতে থাকতে দিলেননা? তাদেরকে বনে জঙ্গলে এমনকি ধান খেতে ঘুমাতে হলো? কেন?
হাসিনার অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে জুলাই আন্দোলন হলো, হাসিনা পালিয়ে গেলো, দেশের সংবিধান, রাজনীতির ধরণ পরিবর্তনের ওয়াদা করলেন। জুলাই সনদ মেনে নিলেন, গণভোটে অংশ নিলেন কিন্তু ক্ষমতায় এসেই ১৪শ শহীদ, ২৪হাজার পঙ্গুর সাথে ধোঁকাবাজি করে গণভোটের রায় অস্বীকার করা শুরু করলেন! কিন্তু কেন?
প্রায় ৮কোটি মানুষ প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে বিএনপির রাজনীতি করে, দলের জন্য জীবন উৎসর্গ করে কাজ করে। অথচ আপনারা মনে যা চায় সেভাবেই রাজনীতি করেন! কোন দূরদর্শিতা নাই, সাধারণ মানুষকে পণ্য হিসাবে ব্যবহার করেন!
আমরা যারা পশ্চিমা বিশ্বে বসবাস করি তারা হয়তো আপনাদের অবুজ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে পারি কিন্তু যারা দেশের মাটিতে আপনাদের নির্দেশের গোলাম হয়ে রাজনীতি করে তাঁদেরকেতো সামান্যতম সম্মানও করেন না কিন্তু কেন?
দেশের রাজনীতির ঐতিহাসিক পরিবর্তনের আশায় আমরা সর্বাত্বক চেষ্টা করে দলকে ক্ষমতায় আনতে পারলেও নতুন কোন পরিবর্তন আনতে পারলাম না! এটাই দুঃখ, এটাই কষ্ট রয়ে গেলো অন্তরের গহীনে!
শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি বলে জীবনের মহামূল্যবান সময়টুকু দলের পিছনে ব্যয় করেছি কিন্তু কষ্ট, হতাশা ও দুঃখ পাওয়া ছাড়া অন্যকিছু আপাদত আর কিছু দেখতে পাইনা!
আপনার জ্ঞাত কিংবা অজ্ঞাত কারণে বেশকিছু সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, আসল সিন্ডিকেট লন্ডনী দের দখলে থাকার কারণে দেশের মানুষ খুব একটা ভালো নেই!
আমার তিতা কথা শুনতে চাইলে মন খারাপ হতে পারে কিন্তু দলের ভবিষ্যৎ ভালো হতে পারে।
তাই দূরে ঠেলে দিলেও ক্ষতি নেই আর কাছে টেনে নিলেও অভিমান করবোনা!
শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়াকে নিজের জীবনের চেয়েও ভালোবাসি। তাই চোখ খুলে আপনার দিকে তাকিয়ে আছি, সেই সাথে শুভ কামনা করছি- সুন্দর একটি বাংলাদেশ দেখার প্রত্যাশায়!