09/23/2026
https://www.facebook.com/share/p/1Hs92Pxgf1/
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে পাসপোর্ট নবায়ন: ২০২৬ সালে যা যা লাগবে
নিউইয়র্কে বসে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা নতুন করে পাসপোর্ট করতে হলে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি। বিশেষ করে ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়ায় অনলাইনে আবেদন, অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য এবং পরিচয়পত্রসহ নির্দিষ্ট কিছু নথি জমা দিতে হয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন।
অনলাইনে আবেদন করতে হবে
ই-পাসপোর্টের জন্য প্রথমে epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন শেষ করার পর পূরণ করা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্যসহ আবেদন-সারাংশের প্রিন্ট কপি কনস্যুলেটে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ শুধু অনলাইনে আবেদন করলেই প্রক্রিয়া শেষ হয় না; নির্ধারিত কাগজপত্রসহ কনস্যুলার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।
যেসব কাগজপত্র সাধারণত লাগবে
বর্তমান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর মূল বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং তার একটি কপি সঙ্গে রাখতে হবে। এর পাশাপাশি পরিচয় প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) কপি অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি জমা দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে Dual Citizenship Certificate-এর কপি দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানের প্রমাণ হিসেবেও প্রয়োজনীয় নথির কপি দিতে হবে। এর মধ্যে Valid Visa, Green Card অথবা Work Permit প্রযোজ্য হতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত কিছু সরকারি নথি প্রয়োজন হতে পারে।
হারানো পাসপোর্ট হলে নিয়ম আলাদা
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে সাধারণ নবায়নের কাগজপত্রের পাশাপাশি নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে করা Police Report-এর কপি জমা দিতে হবে। আবার বিয়ে, তালাক বা বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য থাকলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে Marriage Certificate/Nikahnama অথবা Divorce Letter-এর কপি দিতে হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া Student ID-এর কপি প্রয়োজন হতে পারে। ছয় বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে বর্তমান নির্দেশনায় ধূসর ব্যাকগ্রাউন্ডে ল্যাব-প্রিন্ট করা ৩টি সাম্প্রতিক 3R সাইজের ছবি চাওয়া হয়েছে।
মূল কাগজ জমা দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা
কনস্যুলেটের বর্তমান ই-পাসপোর্ট নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে মূল কাগজপত্র জমা না দিতে। প্রয়োজনীয় কাগজের কপি জমা দিতে হবে এবং মূল নথি যাচাইয়ের প্রয়োজনে সঙ্গে রাখা নিরাপদ। কাগজপত্র যাচাইয়ের পর প্রয়োজন মনে করলে কনস্যুলেট আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে ডাকতে বা অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে।
কত বছরের পাসপোর্ট পাওয়া যায়?
নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ থেকে ১০ বছর হতে পারে। তবে ১৮ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী আবেদনকারীরা ৪৮ পৃষ্ঠার এবং ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট পাবেন বলে নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
ফি কীভাবে দিতে হবে?
কনস্যুলেটের বর্তমান ই-পাসপোর্ট পেজে বলা হয়েছে, প্রযোজ্য ফি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে পরিশোধ করা যায়। তবে ফি-এর পরিমাণ আবেদনকারীর বয়স, পাসপোর্টের ধরন ও প্রযোজ্য সেবার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে কনস্যুলেটের সর্বশেষ ফি-তালিকা দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কনস্যুলেটের পুরোনো ওয়েবপেজে MRP পুনঃইস্যুর জন্য ১১০ ডলার সাধারণ এবং ২২০ ডলার এক্সপ্রেস ফি ও পুরোনো পেমেন্ট পদ্ধতির তথ্য দেখা যায়। কিন্তু ই-পাসপোর্টের বর্তমান সরকারি পেজে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডে ফি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই পুরোনো MRP-সংক্রান্ত তথ্যকে ২০২৬ সালের ই-পাসপোর্টের বর্তমান ফি হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
কনস্যুলেটে যাওয়ার আগে আরেকটি বিষয় মনে রাখুন
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটের বর্তমান সেবা-সময়ের তথ্য অনুযায়ী, নথি জমা দেওয়ার সময় সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। নথি/সেবা গ্রহণের সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা। শনিবার ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটি।
নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের অধিক্ষেত্রের মধ্যে নিউইয়র্ক ছাড়াও নিউ জার্সি, নিউ হ্যাম্পশায়ার, কানেকটিকাট, ভারমন্ট, রোড আইল্যান্ড, মেইন ও ম্যাসাচুসেটস রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের আওতায় কনস্যুলার সেবা নিতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে আবেদন না করে আগেই প্রক্রিয়া শুরু করা। কারণ আবেদন যাচাইয়ের সময় কনস্যুলেট প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজপত্র বা ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার চাইতে পারে। তাই আবেদনকারীর NID/জন্মনিবন্ধন, বর্তমান পাসপোর্ট, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানের প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা সময় ও ঝামেলা দুটোই কমাতে পারে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সরকারি ওয়েবসাইটে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত ই-পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা-সংক্রান্ত তথ্য।
ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিউইয়র্কের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ফি, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা সেবার নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
#নিউইয়র্ক #বাংলাদেশকনস্যুলেট #ইপাসপোর্ট