Wisdom Islamic TV

Wisdom Islamic TV Wisdom Islamic TV an online based Education & Dawha channel, USA.

A Sister Concern Of "Wisdom World Peace Foundation" (A Non-Profit Chariatble Organization, USA)
--------------------------------------------
আসসালামুয়ালাইকুম,
আমাদের পেইজ-এ স্বাগতম। "উইজডম ইসলামিক টিভি" একটি অরাজনৈতিক অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা এবং দাওয়াহ চ্যানেল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান 'উইজডম ওয়ার্ল্ড পিস ফাউন্ডেশন' কর্তৃক পরিচালিত। আমাদের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী ইসলাম

ের বাণী ছড়িয়ে দেওয়া, সমাজের প্রচলিত অসঙ্গতি দূরীকরণে উৎসাহিত করণ এবং ইসলামের আলোকে সকলের জন্য অনুপ্রেরণামূলক বিষয়বস্তু তৈরির পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জনগণকে সচেতন ও শিক্ষিত করা।
--------------------------------------------
Assalamualaikum,
Welcome to our page. Wisdom Islamic TV is a non-political online education and dawah channel run by the 'Wisdom World Peace Foundation' a USA based non-profit charity. Our goal is to spread the message of Islam worldwide, to encourage the elimination of the prevailing inconsistencies in society and to create inspirational content for all in the light of Islam, as well as to make people aware and educated for the purpose of establishing peace and harmony in the world.
--------------------------------------------
السلام عليكم،
مرحبا بكم في صفحتنا. Wisdom Islamic TV هي قناة تعليمية غير سياسية عبر الإنترنت وتديرها مؤسسة Wisdom World Peace Foundation ، وهي مؤسسة خيرية غير ربحية مقرها الولايات المتحدة. هدفنا هو نشر رسالة الإسلام في جميع أنحاء العالم ، وتشجيع القضاء على التناقضات السائدة في المجتمع وخلق محتوى ملهم للجميع في ضوء الإسلام وكذلك توعية الناس وتثقيفهم لغرض إحلال السلام والوئام. في العالم.

🐜 পোকামাকড়ের রহস্য: বাদশাহর প্রজ্ঞা ও নীরব সেবা 👑একদা এক বাদশাহর দরবারে রাজ্যের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এম...
01/05/2026

🐜 পোকামাকড়ের রহস্য: বাদশাহর প্রজ্ঞা ও নীরব সেবা 👑
একদা এক বাদশাহর দরবারে রাজ্যের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় এক বৃদ্ধ মহিলা দরবারে এসে ফরিয়াদ জানালেন:

“হে বাদশাহ, আমার আর কোনো অভিযোগ নেই। শুধু একটি অনুরোধ... আমার ঘরে কোনো পোকামাকড় নেই। যদি আপনি দয়া করে পোকামাকড়ের ব্যবস্থা করে দিতেন!”

দরবারে উপস্থিত সবাই হতবাক! মানুষ সাধারণত দরবারে এসে দুঃখ-কষ্ট বা অভাবের কথা জানায়, আর এই বৃদ্ধা কিনা পোকামাকড় চাইছে? বিষয়টি সবাইকে বিস্মিত করল।

বাদশাহ শান্তভাবে তাঁর ফরিয়াদ শুনলেন এবং বললেন: “তুমি তোমার ঘরের ঠিকানা দিয়ে যাও। তোমার ফরিয়াদ পূরণ করা হবে।”

সবাই আরও অবাক হলো। বাদশাহ কি সত্যিই তাঁর ঘরে পোকামাকড় পাঠাবেন?

নিঃশব্দে পূরণ হলো ফরিয়াদ
বাদশাহ তখন তাঁর দাসদের নির্দেশ দিলেন:

“এই বৃদ্ধা বাড়ি পৌঁছানোর আগেই তাঁর ঘরে আটা, দুধ, চিনি, সবজি, মাছ, মাংস—যত রকম খাবার লাগে সব পৌঁছে দাও।”

দরবারে উপস্থিত একজন আর কৌতূহল দমে রাখতে না পেরে বলেই ফেলল: “কিন্তু বাদশাহ, তিনি তো পোকামাকড় চেয়েছিলেন!”

বাদশাহ তখন হেসে বললেন:

“যে ঘরে খাবারদাবারের কিছুই নেই, সেই ঘরে পোকামাকড়ও থাকে না। তার অর্থ, তাঁর ঘর একেবারে খালি। তিনি অভাবের কথা মুখে বলতে পারেননি—কিন্তু ইশারায় বোঝাতে চেয়েছেন।”

বাদশাহর শিক্ষা
তারপর বাদশাহ দরবারের সবাইকে শিক্ষা দিয়ে বললেন:

“যারা দেশ চালায়, যারা একটি পরিবারের প্রধান—তাদের এমন হওয়া উচিত যে আশেপাশের মানুষের কষ্ট তারা যেন না বললেও বুঝতে পারে। কষ্ট মুখে বলে বুঝিয়ে দিতে হয়—এটাই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।”

“আর যার মধ্যে এই উপলব্ধি আছে, সেই-ই প্রকৃত অর্থে বড় হওয়ার যোগ্য। হোক সে একটি ঘরের প্রধান, অথবা একটি দেশের প্রধান।”

শিক্ষা:
প্রকৃত নেতা তিনিই, যিনি মানুষের নীরব ভাষা বোঝেন। মানুষের না বলা কষ্ট উপলব্ধি করার প্রজ্ঞাই হলো শ্রেষ্ঠ গুণ।

আমরা আমাদের খলিফাদের ফিরে পাবোনা, আর আমাদের কপালেও ভালো কিছু নেই হয়ত। আমাদের ইসলামের খলিফারা তাদের প্রত্যেকটা জনগণের খবর...
01/05/2026

আমরা আমাদের খলিফাদের ফিরে পাবোনা, আর আমাদের কপালেও ভালো কিছু নেই হয়ত। আমাদের ইসলামের খলিফারা তাদের প্রত্যেকটা জনগণের খবর এমনভাবে নিতেন, একজন বৃদ্ধ, অন্ধও তাদের চোখ এড়াতো না! আমাদের ইসলামের প্রথম খলিফার আবু বকর (রাঃ) শাসন আমল এমন ছিল যে, তিনি তার জনগণের মধ্যে প্রত্যেকটা লোকের খবর নিতেন।

একদিন উমর (রাঃ) কে কেউ একজন জানালো যে আবু বকর (রাঃ) কে প্রত্যেক দিন ফজরের সালাত শেষ করে মদিনার সীমানার দিকে যান, একটা ছোট বাড়িতে কিছুক্ষণ সময় কাটান। তারপর নিজের ঘরে ফিরে আসেন আবু বকর (রাঃ) কোনোদিন ভুল করেও ওই বাড়িতে গমন বন্ধ হয়না।

তখন উমর রাঃ সিদ্ধান্ত নেন আবু বকর (রাঃ) ওই বাড়িতে কি করেন তিনি একটু দেখে আসবেন।উমর ( রাঃ)ওই বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান সেখানে এক বৃদ্ধা বাস করেন,বৃদ্ধার কেউ নেই তার উপর বৃদ্ধা অন্ধ। উমর (রাঃ) খুব আশ্চর্য হলেন! এই বৃদ্ধার সাথে আবু বকর (রাঃ) কি সম্পর্ক তা জানার জন্য তিনি আগ্রহী হয়ে উঠলেন।

তিনি বৃদ্ধা কে খুব আগ্রহের সাথে জিজ্ঞেস করলেন এই লোক প্রতিদিন আপনার বাড়িতে কি জন্য আসে?
বৃদ্ধা উত্তর দিলেন আল্লাহর কসম আমার জানা নেই, সে প্রতিদিন আসে, আমার ঘর ঝাড়ু দেয়, সবকিছু পরিষ্কার করে, আমার জন্য খাবার তৈরি করে, তারপর আমাকে খাইয়ে চলে যায়।

আবু বকরের মৃত্যুর পর আমিরুল মুমিনিন উমর (রাঃ) ও একইভাবে বৃদ্ধার সেবা আরম্ভ করলেন, কিন্তু হঠাৎ বৃদ্ধা জিজ্ঞেস করলেন তোমার বন্ধু কি মারা গেছে। উমর (রাঃ) অন্ধ বৃদ্ধার কথা শুনে প্রচন্ড অবাক হলেন। তিনি বৃদ্ধা কে জিজ্ঞেস করলেন আপনি কিভাবে বুঝলেন?

বৃদ্ধা জবাব দিলেন তুমি আমার জন্য খেজুর এনেছো, কিন্তু খেজুর গুলোর বীচি ফেলো নি! অথচ এই সামান্য বিষয়টাও তোমার বন্ধুর নজর এড়াতো না! উমর (রাঃ) হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন তার চোখ অশ্রুতে পরিপূর্ণ হয়ে গেলো। তিনি বললেন হে আবু বকর আপনি পরবর্তী খলীফাদের কাজ অত্যন্ত কঠিন করে গেছেন।

শাসকের কাজ হলো জনগণের উপর দায়িত্বশীল থেকর নিরপেক্ষভাবে অধীনস্থের অধিকার আদায়ে কাজ করা, জনগণের জানমালের হেফাজত করা। কিন্তু আমরা কি করি? দুর্নীতি, জোচ্চুরি, এতিমের হক মারা মসজিদের টাকা মেরে খাওয়া। নিজের স্বার্থের জন্য জনগণকে খুন,গুম আর ফাঁসানো।

প্রত্যেকটা জনগণের খবর রাখা তো দূরের কথা জনগণের কিছু থাকলে কিভাবে সেটা কেড়ে নেয়া যায় সেই চিন্তায় আমরা মগ্ন থাকি। ভোট চেয়ে কোনোভাবে গদিতে বসতে পারলে জনগণ কে ভুলে যাই তাদের হক মেরে খেতে শুরু করি। ক্ষমতা একটা দায়িত্ব আর এই দায়িত্বের জন্যও আপনার পরিপূর্ণ হিসাব নেয়া হবে।

কথিত আছে, একবার হযরত মুসা (আ.)-এর কাছে এক অত্যন্ত গরিব লোক এসে অনুরোধ করল, "হে আল্লাহর নবী! আপনি তো কালিমুল্লাহ (আল্লাহর...
01/05/2026

কথিত আছে, একবার হযরত মুসা (আ.)-এর কাছে এক অত্যন্ত গরিব লোক এসে অনুরোধ করল, "হে আল্লাহর নবী! আপনি তো কালিমুল্লাহ (আল্লাহর সাথে কথা বলেন)। দয়া করে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমার রিজিক বাড়িয়ে দেন। আমি খুব কষ্টে দিন পার করছি, প্রায়ই আমাকে না খেয়ে থাকতে হয়।"

মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করলেন। আল্লাহ জানালেন, "হে মুসা! এই লোকটির নসিবে খুব সামান্য পরিমাণ রিজিক লেখা আছে। তাই আমি তাকে অল্প অল্প করে দিই, যাতে তার সারা জীবন চলে যায়।"

লোকটি এ কথা শুনে বলল, "হে নবী! আপনি আল্লাহর কাছে সুপারিশ করুন যেন আমার পুরো জীবনের বরাদ্দকৃত রিজিক তিনি আমাকে একবারে দিয়ে দেন। আমি একবার পেট ভরে খেতে চাই।"

মুসা (আ.) দোয়া করলেন এবং আল্লাহ কবুল করলেন। লোকটিকে তার সারা জীবনের সব রিজিক একসাথে দিয়ে দেওয়া হলো।

রিজিক বা সম্পদ হাতে পেয়েই লোকটি এক আশ্চর্যের কাজ করল। সে সাথে সাথে একটি লঙ্গরখানা (বিনামূল্যে খাওয়ার জায়গা) খুলে দিল এবং ঘোষণা করে দিল—"যার খাবারের ব্যবস্থা নেই, সে এখানে এসে পেট ভরে খেয়ে যাও।"

মুসা (আ.) অবাক হয়ে তাকে বোঝাতে চাইলেন, "তুমি এটা কী করছ? তোমার সব খাবার তো কদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে, তখন তুমি কী খাবে?" কিন্তু লোকটি শুনল না, সে মানুষকে খাওয়াতে লাগল।

এক সপ্তাহ, এক মাস, এমনকি ছয় মাস পরেও মুসা (আ.) দেখলেন যে লঙ্গরখানা চলছেই! খাবার তো শেষ হচ্ছে না, বরং আরও বাড়ছে।

মুসা (আ.) অবাক হয়ে আল্লাহর কাছে জানতে চাইলেন, "হে আল্লাহ! এর ঘটনা কী? তার তো সারা জীবনের সামান্য রিজিক কদিনেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো তা ফুরাচ্ছে না কেন?"

আল্লাহ উত্তর দিলেন:
"হে মুসা! তার ভাগ্যে সামান্যই রিজিক ছিল, যা এতদিনে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমার একটি নিয়ম আছে, 'যে আমার রাস্তায় ১টি খরচ করে, আমি তাকে দুনিয়াতে ১০ গুণ এবং আখেরাতে ৭০ থেকে ৭০০ গুণ বাড়িয়ে দিই।' এই লোকটি আমার রাস্তায় অকাতরে দান করছে, তাই আমিও আমার নিয়ম অনুযায়ী তাকে ১০ গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছি। সে যত খরচ করছে, আমি তার ভাণ্ডার তত বাড়িয়ে দিচ্ছি। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।" (কিসাসুম মিনাত তারিখ)

দান করলে সম্পদ কমে না, বরং বহুগুণে বেড়ে যায়। আল্লাহর পথে খরচ করলে আল্লাহ তার উত্তম প্রতিদান দেন।

শৈশবে যেভাবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ)-এর বক্ষ বিদারণ করা হয়েছিল।🕊️ বক্ষ বিদারণ: মহানবী (সাঃ)-এর পবিত্রতা ও মুজিজা ✨মহ...
01/05/2026

শৈশবে যেভাবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ)-এর বক্ষ বিদারণ করা হয়েছিল।

🕊️ বক্ষ বিদারণ: মহানবী (সাঃ)-এর পবিত্রতা ও মুজিজা ✨

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে চারবার বক্ষ বিদারণের অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। এটি ছিল তাঁর এক স্বতন্ত্র মুজিজা (অলৌকিক নিদর্শন), যা তাঁর আত্মিক ও দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছিল।

১. শৈশবের পবিত্রতা (৪/৫ বছর বয়সে)
যখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দুধমা হালিমা সাদিয়ার তত্ত্বাবধানে ছিলেন, তখন একবার তিনি দুধ ভাইয়ের সঙ্গে জঙ্গলে যান। আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, খেলার সময় জিবরাইল (আঃ) এলেন, তাঁকে ধরে শোয়ালেন এবং তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করে হৃৎপিণ্ড বের করে আনলেন।

জিবরাইল (আঃ) তাঁর বক্ষ থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করলেন এবং বললেন, "এ অংশ শয়তানের।" এরপর হৃৎপিণ্ডটি জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করে যথাস্থানে পুনঃস্থাপন করলেন।

এই বক্ষ বিদারণের রহস্য ছিল—তাঁর কলবকে পবিত্র ও অন্যায় প্রবণতা থেকে মুক্ত করে দেওয়া, যাতে পাপের শেষ চিহ্নও সেই পবিত্র হৃদয়ে অবশিষ্ট না থাকে। শিশুরা দৌড়ে গিয়ে তাঁর দুধ-মা'কে খবর দিলে, সবাই তাঁকে ভয়ে বিবর্ণ অবস্থায় দেখতে পায়।

২. যৌবনের শুদ্ধি (১০/২০ বছর বয়সে)
দ্বিতীয়বার যৌবনের শুরুতে এক ময়দানে জিবরাইল (আঃ) ও মিকাইল (আঃ) তাঁকে শোয়ায়ে বক্ষ বিদারণ করেন। এবার কোনো রক্ত বের হয়নি। এইবার হিংসা-বিদ্বেষকে একটি রক্তপিণ্ডের মতো বের করে ফেলে দেওয়া হয় এবং স্নেহ-মমতাকে রৌপ্যের টুকরার মতো একটি পিণ্ড আকারে অন্তরে প্রবিষ্ট করিয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার ফলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অন্তরে দয়া ও অনুগ্রহ প্রবল হয়ে ওঠে এবং যৌবনের সর্বপ্রকার কু-বাসনা দূর হয়ে যায়।

৩. নবুয়ত ও ওহী গ্রহণের ক্ষমতা
তৃতীয়বার যখন তিনি হেরা গুহায় ছিলেন, তখন বক্ষ বিদারণ করা হয়। এই সময়ের উদ্দেশ্য ছিল—পবিত্র কলব যেন ওহির রহস্য ও আল্লাহর ইলম গ্রহণ এবং বহনে সক্ষম হয়।

৪. মিরাজের প্রস্তুতি
চতুর্থবার মিরাজে গমনের সময় বক্ষ বিদারণ করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল—রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পবিত্র হৃদয় যাতে ফেরেশতাজগতে ভ্রমণ, আল্লাহর নিদর্শন পর্যবেক্ষণ ও আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতার অধিকারী হয়। এ সময় জমজমের পানি দিয়ে তাঁর বক্ষ আবার ধৌত করা হয়।

শিক্ষা:
এভাবে বারবার বক্ষ বিদারণ করে আল্লাহ তাআলা দৈহিক ও আত্মিকভাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বক্ষ উন্মুক্ত ও সম্প্রসারিত করেছেন। এর ফলে তাঁর শরীর ও হৃদয় এমন জ্যোতির্ময় হয়েছিল যে, প্রখর সূর্য কিরণের মধ্যেও তাঁর শরীরের ছায়া পর্যন্ত প্রতিবিম্বিত হতো না। এই অলৌকিক মুজিজা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রিয়তম নবীকে সবকিছুর জন্য প্রস্তুত করার নিদর্শন।

দোয়া কবুলের আশা ও আল্লাহর উপর ভরসা বাড়ায় কুরআনের এমন ১০টি মূল্যবান আয়াত এই পোস্টের প্রতিটি আয়াত আপনার হৃদয়কে স্পর্...
01/05/2026

দোয়া কবুলের আশা ও আল্লাহর উপর ভরসা বাড়ায় কুরআনের এমন ১০টি মূল্যবান আয়াত

এই পোস্টের প্রতিটি আয়াত আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করবে এবং আপনাকে মনে করিয়ে দেবে যে আপনি কখনোই একা নন। দয়া করে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

দোয়া শুধুমাত্র একটি প্রার্থনা নয়—এটি আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি কথোপকথন, এক অদৃশ্য সংযোগ যা আমাদেরকে আল্লাহ্‌র সাথে যুক্ত করে। জীবনের প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি কষ্টে, প্রতিটি আনন্দে—দোয়া আমাদের একমাত্র সত্যিকারের অবলম্বন। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বারবার আমাদের তাঁকে ডাকতে উৎসাহিত করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমাদের ডাকে অবশ্যই সাড়া দেবেন।

আজকের এই পোস্টে আমরা কুরআন থেকে এমন ১০টি আয়াত নিয়ে আলোচনা করব যা আমাদের দোয়া কবুলের আশা বাড়ায়, আল্লাহর উপর ভরসা মজবুত করে এবং আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।

💚 কুরআন থেকে খুঁজে নিন আপনার দোয়ার প্রকৃত শক্তি ও অর্জন করুন অন্তরের প্রশান্তি

১. 🤲 আল্লাহর পক্ষ থেকে দোয়া কবুলের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি
📖 আরবি:
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ
🗣 বাংলা উচ্চারণ (আনুমানিক):
ওয়া ক্বালা রাব্বুকুমু দ'ঊনী আস্তাজিব লাকুম

📝 অর্থ:
তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেছেন, "তোমরা আমাকে আহ্বান করো, আমি অবশ্যই তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।"

✨ অনুপ্রেরণা:
দোয়া কোনো অনিশ্চিত প্রত্যাশা নয়—এটি স্বয়ং আল্লাহর অকাট্য প্রতিশ্রুতি। বান্দা যখন বিনীত হৃদয়ে ডাকে, মহান রব অবশ্যই শ্রবণ করেন। দেরি হতে পারে, কিন্তু কোনো দোয়া কখনো উপেক্ষিত হয় না।
(সূরা গাফির/মুমিন, আয়াত ৬০)


২. 💫 আল্লাহ বান্দার অতি নিকটবর্তী
📖 আরবি:
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ
🗣 বাংলা উচ্চারণ (আনুমানিক):
ওয়া ইযা সাআলাকা ইবাদী আন্নী ফাইন্নী ক্বারীব

📝 অর্থ:
আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন জেনে রাখো—নিশ্চয়ই আমি অতি সন্নিকটে।

✨ অনুপ্রেরণা:
দোয়া করতে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা বিশেষ উপলক্ষের প্রয়োজন নেই। আল্লাহ এতই নিকটে যে, আপনার অন্তরের নীরব আর্তিও তিনি স্পষ্ট শুনতে পান।
(সূরা আল-বাক্বারা, আয়াত ১৮৬)


৩. 🆘 বিপন্ন মুহূর্তে একমাত্র আল্লাহই সাহায্যকারী
📖 আরবি:
أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ
🗣 বাংলা উচ্চারণ (আনুমানিক):
আম্মাইয়্যুজীবুল মুদত্বার্রা ইযা দাআহু

📝 অর্থ:
বরং কে সেই মহান সত্তা, যিনি বিপদাপন্ন ব্যক্তির আকুল আহ্বানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে?

✨ অনুপ্রেরণা:
মানুষ যখন সকল পথ রুদ্ধ দেখে, তখনও আল্লাহর দরজা উন্মুক্ত থাকে। দুর্দশার মুহূর্তে উৎসারিত দোয়া আল্লাহ বিশেষ মমতায় কবুল করেন।
(সূরা আন-নামল, আয়াত ৬২)

৪. 👂 আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা
📖 আরবি:
إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ
🗣 বাংলা উচ্চারণ (আনুমানিক):
ইন্না রাব্বী লাসামীউদ দুআই

📝 অর্থ:
নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সকল দোয়ার শ্রোতা।

✨ অনুপ্রেরণা:
হৃদয়ের অতল গভীর থেকে উচ্চারিত কোনো প্রার্থনাই আল্লাহর কাছে বিলীন হয়ে যায় না। আপনি ফিসফিস করে বললেও তিনি সুস্পষ্ট শুনতে পান।
(সূরা ইব্রাহীম, আয়াত ৩৯)


৫. 🙏 বিনয় ও গোপনীয়তায় দোয়ার নির্দেশনা
📖 আরবি:
ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً
🗣 বাংলা উচ্চারণ (আনুমানিক):
উদ'ঊ রাব্বাকুম তাদার্রুআওঁ ওয়া খুফইয়াহ

📝 অর্থ:
তোমরা বিনীত ভাবে ও গোপনে তোমাদের প্রতিপালককে আহ্বান করো।

✨ অনুপ্রেরণা:
দোয়ার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত থাকে বিনয় ও নম্রতায়। অহংকার পরিত্যাগ করে ভগ্নহৃদয়ে করা প্রার্থনা আল্লাহর কাছে অপরিসীম প্রিয়।
(সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ৫৫)


৬. 💝 আল্লাহর রহমত অত্যন্ত নিকটবর্তী
📖 আরবি:
إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ
🗣 বাংলা উচ্চারণ (আনুমানিক):
ইন্না রাহমাতাল্লাহি ক্বারীবুম মিনাল মুহসিনীন

📝 অর্থ:
নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুগ্রহ সৎকর্মশীলদের অত্যন্ত নিকটে।

✨ অনুপ্রেরণা:
আপনার দোয়া আর আল্লাহর অসীম রহমতের মাঝে কোনো ব্যবধান নেই। সামান্য সৎকর্ম আর আন্তরিকতাই আপনাকে তাঁর করুণার ছায়াতলে পৌঁছে দেয়।
(সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ৫৬)


৭. 🌟 আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া নিষিদ্ধ
📖 আরবি:
لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ
🗣 বাংলা উচ্চারণ (আনুমানিক):
লা তাকনাতূ মির রাহমাতিল্লাহ

📝 অর্থ:
তোমরা কখনো আল্লাহর করুণা থেকে নিরাশ হয়ো না।

✨ অনুপ্রেরণা:
দোয়া কবুল না হওয়ার অনুভূতিই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। আল্লাহ স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন হতাশ হতে। আশা ধরে রাখাই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়।
(সূরা আয-যুমার, আয়াত ৫৩)


৮. ☝️ আল্লাহ দোয়াকারীর ডাকে সাড়া দেন
📖 আরবি:
أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ
🗣 বাংলা উচ্চারণ (আনুমানিক):
উজীবু দা'ওয়াতাদ দা'ই ইযা দাআনি

📝 অর্থ:
আমি প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে।

✨ অনুপ্রেরণা:
আল্লাহ নিজেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি প্রতিটি আহ্বানে সাড়া দেন। আপনার দোয়া যত ছোটই হোক না কেন, তিনি শুনছেন এবং সাড়া দিচ্ছেন। কখনো মনে করবেন না যে আপনার প্রার্থনা অপ্রয়োজনীয়।
(সূরা আল-বাক্বারা, আয়াত ১৮৬)


৯. ⏳ ধৈর্য ও নামাজ দোয়ার শক্তি বাড়ায়
📖 আরবি:
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ
🗣 বাংলা উচ্চারণ (আনুমানিক):
ওয়াস্তাঈনূ বিসসাবরি ওয়াসসালাহ

📝 অর্থ:
তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।

✨ অনুপ্রেরণা:
দোয়ার সাথে ধৈর্য ও নামাজ যুক্ত হলে আল্লাহর সাহায্য অবশ্যম্ভাবী হয়ে যায়। দোয়া থামাবেন না, নামাজ আঁকড়ে ধরুন।
(সূরা আল-বাক্বারা, আয়াত ৪৫)


১০. 🎁 আল্লাহর অনুগ্রহ সীমাহীন
📖 আরবি:
وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا
🗣 বাংলা উচ্চারণ (আনুমানিক):
ওয়া ইন তা'উদ্দূ নি'মাতাল্লাহি লা তুহসূহা

📝 অর্থ:
আর তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তা গুনে শেষ করতে পারবে না।

✨ অনুপ্রেরণা:
আল্লাহ যা দিয়েছেন তা অগণিত, আর তিনি যা দিতে পারেন তা অসীম। দোয়া করার সময় কখনো মনে করবেন না যে আপনি অনেক কিছু চাইছেন। তাঁর ভান্ডার কখনো শেষ হয় না, তাঁর দয়ার কোনো সীমা নেই।
(সূরা ইব্রাহীম, আয়াত ৩৪ / সূরা আন-নাহল, আয়াত ১৮)

💚 শেষ কথা
আপনার প্রতিটি দোয়া আল্লাহর কাছে মূল্যবান। বিশ্বাস রাখুন, আশা হারাবেন না—তিনি অবশ্যই শুনছেন।

📤 শেয়ার করুন যারা হতাশায় আছে তাদের কাছে!

⚠️ এই পোস্টে যে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হয়েছে তা শুধুমাত্র সাধারণ পাঠকদের বুঝার সুবিধার্থে।

👉প্রচেষ্টা কখনো ব্যর্থ হয় না শুধু সময় লাগেআমাদের সবার জীবনেই এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন মনে হয় এত চেষ্টা করলাম, তারপরও কে...
01/04/2026

👉প্রচেষ্টা কখনো ব্যর্থ হয় না শুধু সময় লাগে

আমাদের সবার জীবনেই এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন মনে হয় এত চেষ্টা করলাম, তারপরও কেন হচ্ছে না?

বিশ্বাস করুন, আমি অ্যাপলে কাজ করতে করতে শিখেছি প্রচেষ্টার ফল কখনো শূন্য যায় না। শুধু তার সময়টা আমাদের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মেলে না।প্রতি নতুন ডিভাইস বানানোর ভেতরে হাজারো ভুল, বারবার ভাঙা প্রোটোটাইপ, নিদ্রাহীন রাত… কিন্তু প্রতিটা ব্যর্থতা আসলে ছিল একটি ইঙ্গিত আরো ভালো কিছু আসছে।এটাই মানবজীবনের গল্পও।

আপনার জীবনের স্বপ্ন হোক ক্যারিয়ার, ব্যবসা,ক্রিয়েটিভিটি বা সম্পর্ক যা-ই হোক, প্রচেষ্টা তার নিজের গতিতে ফল আনে। কখনো পথটা দীর্ঘ হয়, কখনো বাঁক বেশি। কিন্তু প্রতিটা পদক্ষেপ আপনাকে আরও দক্ষ, আরও প্রস্তুত করে।

ভাবুন তো গত পাঁচ বছরে আপনি কতটা বদলেছেন!
যে সমস্যাটা এক সময় দেয়ালের মতো মনে হত, আজ সেটা হয়তো আপনার কাছে বাচ্চাদের পাজল সমাধানের মতো সহজ।কেন?কারণ আপনি থামেননি। চেষ্টা করে গেছেন। ছোট ছোট উন্নতির ওপর ভর করে এগিয়ে গেছেন।

সত্যি বলতে কী,জীবন আপনার প্রচেষ্টা ব্যাংকে জমা রাখে।
সময় হলেই ইন্টারেস্টসহ ফিরিয়ে দেয়।

তাই হাল ছাড়বেন না।আজ যেটা কঠিন লাগছে, কাল সেটা আপনার দক্ষতার পরিচয় হয়ে দাঁড়াবে।আর আপনি নিজেই অবাক হয়ে বলবেন
“আচ্ছা! এতদিন এটাই ছিল আমার অপেক্ষায়?”

প্রচেষ্টা কখনো ব্যর্থ হয় না।হয়তো দেরি হয়। কিন্তু আসে অবশ্যই আসে। 🌟

এক মহিলার ভাগ্য ছিল বড় অদ্ভুত। আল্লাহ তাকে প্রতিবারই পুত্রসন্তান দান করতেন, কিন্তু জন্মের কয়েক মাস পরেই সেই শিশু মারা যে...
01/04/2026

এক মহিলার ভাগ্য ছিল বড় অদ্ভুত। আল্লাহ তাকে প্রতিবারই পুত্রসন্তান দান করতেন, কিন্তু জন্মের কয়েক মাস পরেই সেই শিশু মারা যেত। এমনটা একবার নয়, দুবার নয়,পরপর বিশবার ঘটল।

প্রতিটি মৃত্যুর পর মহিলা ধৈর্য ধরতেন এবং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকতেন। কিন্তু বিশতম বাচ্চাটি মারা যাওয়ার পর তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল।

মাঝরাতে তিনি জীবন্ত লাশের মতো উঠে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। বুকভরা হাহাকার নিয়ে তিনি বলতে লাগলেন,

"হে আসমান-জমিনের মালিক! তোমার এই গুনাহগার বান্দী কী এমন অপরাধ করেছে? আমি নয় মাস পেটে ধরে, নিজের রক্ত পানি করে এদের বড় করি। কিন্তু যখনই আশার গাছে ফল ধরে, মাত্র কয়েক মাস তার মুখ দেখা আমার নসিব হয়। প্রতিমুহূর্তে আমার কলিজা ভয়ে কাঁপতে থাকে, আমার বাচ্চা বাঁচবে তো? হে দুঃখী মানুষের মনের খবর রাখা মাবুদ! আমার ওপর একটু দয়া করো।"

কাঁদতে কাঁদতে তিনি জায়নামাজেই ঘুমিয়ে পড়লেন। স্বপ্নে দেখলেন, তিনি এক বিশাল ও মনোরম বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন, বিশাল এক রাজপ্রাসাদ, যার ওপর তার নিজের নাম লেখা!

প্রাসাদের জাঁকজমক দেখে তিনি খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন। ভেতরে ঢুকে দেখলেন দুনিয়ার সব রকমের নেয়ামত সেখানে মজুদ। আর সবচেয়ে বড় চমক, তার সেই বিশটি মৃত সন্তান সেখানেই খেলা করছে! মাকে দেখে তারা খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠল।

তখন গায়েবী এক আওয়াজ এল,
"হে আমার বান্দী! দুনিয়ায় তোমার সন্তানদের মৃত্যুতে তুমি যে 'সবর' (ধৈর্য) করেছিলে, এই জান্নাত ও প্রাসাদ হলো তার প্রতিদান।
তোমার তো অনেক ইবাদত করার কথা ছিল। কিন্তু যেহেতু তুমি ইবাদতে অলস ছিলে, তাই আল্লাহ তোমাকে এই মুসিবত (সন্তান হারানোর কষ্ট) দিয়ে তার ক্ষতিপূরণ করে দিয়েছেন (এবং তোমাকে জান্নাতের এই উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন)।"

আনন্দের আতিশয্যে তার ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম থেকে ওঠার পর তার মনের সব দুঃখ-কষ্ট কর্পূরের মতো উবে গেল। তিনি ভেজা চোখে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বললেন:

"হে আল্লাহ! আমি সন্তুষ্ট। এখন যদি তুমি আমার কলিজা আরও ক্ষতবিক্ষত করো, আমার কোনো আপত্তি নেই। যদি শত বছরও আমাকে এমন কষ্টে রাখো, তবুও আমার কোনো অভিযোগ নেই। কারণ, আমার সামান্য ধৈর্যের বিনিময়ে তুমি যা দিয়েছ, তা আমার কল্পনারও বাইরে।"

মানুষকে সর্বাবস্থায় ধৈর্যের আঁচল আঁকড়ে ধরা উচিত। কারণ, বিপদে ধৈর্য ধারণই মানুষকে আল্লাহর সবচেয়ে কাছে নিয়ে যায় এবং এর প্রতিদান কল্পনাকেও হার মানায়।

📖 মাসনবী
✒️ আল্লামা জালালুদ্দীন রুমী রহ.

জান্নাত প্রত্যাশীর একটি দিন: (সারা দিনের কর্মনির্ঘণ্ট)▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬সময়গুলো ক্রমেই অতীতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একসময় আমাদ...
01/03/2026

জান্নাত প্রত্যাশীর একটি দিন: (সারা দিনের কর্মনির্ঘণ্ট)
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
সময়গুলো ক্রমেই অতীতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একসময় আমাদের জীবন সন্ধ্যা নেমে আসবে। এই ভরা যৌবনের সব রঙ, রস ও গন্ধ মুছে যাবে। কিন্তু তারপরও কি আমাদের অলসতা ও গাফলতির ঘুম ভেঙ্গেছে? আমরা কি সচেতন হয়েছি? পেরেছি কি আখিরাতে জন্য পর্যাপ্ত পাথেয় সংগ্রহ করতে?

উত্তর, অবশ্যই না। ঈমান ও আমলের দুর্বলতা আমাদেরকে গ্রাস করে নিয়েছে। দুনিয়ার রূপ-লাবণ্যে আমরা মুগ্ধ ও পাগলপারা। এভাবেই চলতে চলতে হঠাৎ একদিন সময়ের গতি থেমে যাবে। মৃত্যু দূত আমাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ে তুলে তুলে নিয়ে যাবে আমাদের রবের কাছে। তাই এখনই আমাদের সচেতন হওয়া অপরিহার্য।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. বলেন: "আমি এমন দিনের উপর অনুশোচনা করি, যেই দিনের সূর্য ডুবে গেছে, আমার জীবন থেকে একটি দিন কমে গেছে অথচ তাতে আমার আমল বৃদ্ধি পায় নি।”
সত্যিই মানুষের জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত কিন্তু কাজের পরিধি অনেক বেশি। তাই আখিরাতের চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করতে হলে এই সীমিত সময়কে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো আবশ্যক। তাহলে আল্লাহর রহমতে এ অল্প সময়ে বিশাল কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব-যার মাধ্যমে আমরা জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করে চীর সুখের নীড় জান্নাতে প্রবেশ করত: জীবনের অভীষ্ট লক্ষে পৌঁছতে পারব বলে আশা করি।
তাই একজন জান্নাত প্রত্যাশী ঈমানদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার সমন্বয়ে সারা দিনের ইবাদত-বন্দেগীর একটি প্রস্তাবিত কর্মনির্ঘণ্ট ও কর্মসূচী পেশ করা হল। কেউ এটি অনুসরণ করলে আশা করা যায়, জান্নাতের পথে চলা তার জন্য অনেক সহজ হবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এটি অনুসরণ করার তাওফিক করুন। আমীন।

◼ ক. রাতে ঘুমাতে যাওয়া থেকে নিয়ে ফজর পর্যন্ত:

১) ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে তাহাজ্জুদের সালাত এবং নফল রোযা রাখার নিয়ত করা।
২) আগেভাগে ঘুমিয়ে পড়া।
৩) ঘুমানের পূর্বে ওযু করা, দুআ ও যিকিরগুলো পাঠ করা। অত:পর ঘুমের আদবগুলোর প্রতি খেয়াল রেখে ঘুমিয়ে যাওয়া।
৪) ফজরের প্রায় আধাঘণ্টা পূর্বে ঘুম থেকে উঠে- ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার দুআগুলো পাঠ করা। অত:পর মিসওয়াক করার পর ওযু করা বা প্রয়োজন হলে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করা।
৫) তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করা। (দু রাকআত দু রাকআত করে ৮ রাকআত পড়া। অত:পর বিতর সালাত আদায় করা)
৬) নফল রোযা রাখার নিয়তে সেহরি খাওয়া।
বি:দ্র: নফল রোযা রাখার শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হল, এক দিন পর এক দিন রোযা রাখা। তা সম্ভব না হলে, সপ্তাহে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার- দু দিন, তাও সম্ভব না হলে আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ, তাও সম্ভব না হলে মাসের যে কোন দিন তিনটি রোযা রাখা। তিনটি রোযার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা সারা মাস রোযা রাখা সওয়াব দান করবেন।

◼ খ. ফজরের পর থেকে নিয়ে সূর্যোদয় পর্যন্ত:

৭) ফজরের আযান হলে আযানের জবাব দেয়া।
৮) ঘরে ফজরের দু রাকআত সুন্নত আদায় করা।
৯) অত:পর মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার দুআ পাঠ করা এবং মসজিদে যাওয়ার মর্যাদা ও ফযিলত মনের মধ্যে জাগ্রত রেখে আগেভাগে মসজিদে যাওয়া।
১০) মসজিদে প্রবেশের দুআ পাঠ করত: ডান পা আগে রেখে মসজিদে প্রবেশ করা এবং যথাসম্ভব ১ম কাতারে ঈমামের ডানপাশে সালাতের জন্য অবস্থান নেয়া।
১১) ঘরে ফজরের সুন্নত না পড়ে থাকলে মসজিদে তা আদায় করা। অন্যথায় বসার পূর্বে দু রাকআত তাহিয়াতুল মসজিদ (দুখুলুল মসজিদ) আদায় করা।
১২) অত:পর কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, ইস্তিগফার, দুআ ইত্যাদি পাঠরত অবস্থায় ফজরের ফরয সালাতের অপেক্ষা করা।
১৩) ফজরের সালাতের ইকামত হলে তাকবীরে তাহরিমা সহকারে অত্যন্ত ভয়-ভীতি, বিনয়, নম্রতা ও একাগ্রতার সাথে ফজরের সালাত শেষ করা।
১৪) সালাত শেষ করার পর যথাস্থানে বসা অবস্থায় সালাত পরবর্তী দুআ ও যিকিরগুলো পাঠ করা। অত:পর সেখানে বসেই সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সকালের আযকার সহ বিভিন্ন ধরণের দুআ, যিকির, তাসবীহ, তাহলীল, ইস্তিগফার কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি ইবাদতে লিপ্ত থাকা।
১৫) সূর্য উদিত হওয়ার ১৫/২০ মিনিট পর দু রাকআত সালাতুল ইশরাক আদায় করা। (এভাবে করলে একটি পূর্ণ হজ্জ ও উমরার সওয়াব অর্জিত হয় আল হামদুলিল্লাহ)
১৬) অত:পর আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দেয়া জীবিকা উপার্জন এবং তার নির্দেশের আলোকে দিন কাটানোর নিয়তে মসজিদ থেকে বের হওয়া। বের হওয়ার সময় মসজিদ থেকে বের হওয়ার দুআ পাঠ করত: বাম পা আগে রেখে মসজিদ থেকে বের হওয়া।

◼ গ. সূর্য উদিত হওয়ার পর থেকে নিয়ে সারাদিন:

এরপর দুনিয়াবি কাজ-কারবার করার পাশাপাশি সাধ্যানুযায়ী আল্লাহ ইবাদত-বন্দেগী করা।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দেশনা নিম্নরূপ:

১৭) পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাসময়ে জামায়াতের সাথে আদায় করা। মহিলারা তাদের ঘরে যথাসময়ে আওয়াল ওয়াক্তে (সালাতের ১ম সময়ে) সালাত আদায় করবে। আর পুরুষরা মসজিদে গিয়ে তাকবীরে তাহরিমা সহকারে ১ম কাতারে সালাত আদায় করবে।
১৮) ফরয সালাতের আগে-পরের সুন্নতগুলো গুরুত্ব সহকারে আদায় করা।
১৯) যোহর সালাতের প্রায় এক বা দেড় ঘণ্টা পূর্বে সালাতুয যোহা (চাশত/আওয়াবীন) এর সালাত আদায় করা।
এর পরিমাণ হল, সর্ব নিম্ন ২ রাকআত। তবে দু রাকআত দু রাকআত করে ৮ রাকআত পড়া অধিক উত্তম।
২০) সারা দিনে কমপক্ষে এক পারা কুরআন তিলাওয়াতের চেষ্টা করা (এতে এক মাসে এক খতম হবে ইনশাআল্লাহ)।
সেই সাথে কুরআনের কিছু অংশের তরজমা ও তাফসীর পড়া।
২১) আমলের নিয়তে কমপক্ষে ২/৩ টা হাদিস পাঠ করা। এ ক্ষেত্রে ঈমান, আমল, তাকওয়া, ইখলাস ইত্যাদি বৃদ্ধির জন্য রিয়াযুস সালেহীন এবং সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থদ্বয় অধিক উপযোগী। তবে ইচ্ছা ও আগ্রহের ভিত্তিতে অন্যান্য হাদিসগুলোও (যেমন সহীহুল বুখারী, মুসলিম ইত্যাদি) পাঠ করা যেতে পারে।
২২) কিছু আর্থিক দান করা বা কোন গরিব মানুষকে খাবার খাওয়ানো। (পরিমাণে অল্প হলেও নিয়মিত অব্যাহত রাখা আল্লাহর নিকট খুবই পছন্দনীয় আমল)
২৩) কোনও রোগী দেখতে যাওয়া।
২৪) কোথাও মৃত ব্যক্তির জানাযা হলে তাতে অংশ গ্রহণ করা এবং দাফন প্রক্রিয়ায় শরিক হওয়া।
২৫) নিকটাত্মীয় বা দীনী ভাই ও বন্ধুদের সাথে দেখা করা এবং তাদের খোঁজ-খবর নেয়া। (সহীহ হাদিসে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি একদিনে উপরোক্ত চারটি কাজ করলে মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন)
২৬) একাকী বা কাউকে সঙ্গে নিয়ে কবর যিয়ারত করতে যাওয়া। (একই কবরস্থান প্রতিদিন নিয়ম করে যিয়ারত করা ঠিক নয় বরং মাঝে-মধ্যে করা যেতে পারে)
২৭) লোকজনের মাঝে দাওয়াতি কাজ করা। এলাকার বেনামাযী ও গাফেল লোকদেরকে দ্বীনের পথে আহ্বান করা, অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতি কাজ করা, কাউকে পাপকর্ম বা শরিয়ত বিরোধী কাজ করতে দেখলে শক্তি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকলে তাতে বাধা দেয়া, তা সম্ভব না হলে মুখে নিষেধ করা। তাও সম্ভব না হলে উক্ত অন্যায় ও পাপকর্মকে অন্তরে ঘৃণা করা। এটি ন্যূনতম ঈমানের চিহ্ন।
২৮) মানুষের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে উত্তম চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো। যেমন: হাসিমুখে লোকদের সাথে দেখা করা, সালাম বিনিময় করা, সুন্দর ও মিষ্টি ভাষায় কথা বলা, বিনয় ও ভদ্রতা সুলভ আচরণ করা, মানুষের উপকারে অগ্রগামী থাকা, দ্বীনের কাজে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা ইত্যাদি।
২৯) অলসতা পরিত্যাগ করে জীবিকা উপার্জনে কষ্ট পরিশ্রম করা, পিতামাতার সেবা করা, স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে সুন্দর ও অভিভাবক সুলভ আচরণ করা এবং তাদেরকে দীনী তরবিয়ত (দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান দান করে তার উপর চলার জন্য প্রশিক্ষণ) দেয়া।

◼ ঘ. সন্ধ্যা থেকে নিয়ে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত:

৩০) আসর সালাতের পর থেকে নিয়ে সূর্যাস্তের মধ্যে সন্ধ্যার দুআ ও যিকিরগুলো পাঠ করা।
৩১) কোনও মসজিদে আলেমদের দরস/আলোচনা থাকলে বা কোথাও ভালো কোন আলেমের ওয়ায/বক্তৃতা থাকলে তা শুনতে যাওয়া অথবা কোন হক্কানি সুন্নতের অনুসারী আলেমের নিকট ইলম শিক্ষা ও দীনী বিষয়ে জানার জন্য গমন করা। অন্যথায় মোবাইল মেমরী বা ইন্টারনেট থেকে নির্ভরযোগ্য বড় আলেমদের আলোচনা শোনা।
৩২) নফল রোযা থাকলে সূর্য ডুবার পর ইফতার করা। তারপর মাগরিব সালাতের জন্য মসজিদে গমন করা এবং মাগরিবের আযান ও সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে দু রাকআত নফল পড়ার চেষ্টা করা যদি সুযোগ থাকে। (যদিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, আমাদের সমাজের অধিকাংশ মসজিদে এ সুযোগ নাই)
৩৩) মাগরিব ও ইশার সালাতের মধ্যবর্তী সময় কিছু নফল সালাত আদায় করা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সময়টুকুকে মানুষ অবহেলায় কাটিয়ে দেয় বলে নফল সালাত আদায়ে উৎসাহিত করেছেন।
৩৪) দীনী জ্ঞানার্জনের জন্য নির্ভরযোগ্য ও ভালো আলেমদের লিখিত বই-পুস্তক পাঠ করা।
৩৫) সারা দিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে আত্ম সমালোচনা করা এবং ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহর নিকট তওবা-ইস্তিগফার করা।
৩৬) অত:পর ইশার সালাতের পর একান্ত দরকার না হলে বা স্ত্রীর সাথে সময় কাটানো ছাড়া দুনিয়াবি কথা না বলে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সময়ে বরকত দান করুন এবং দিনরাতের পুরোটা সময়কে উপকারী ও সৎকর্মে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA

ইসলামে নফস (প্রবৃত্তি বা আত্মা)কে নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে বড় জিহাদ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “মুজাহিদ সেই ব্যক্তি যে আল...
01/03/2026

ইসলামে নফস (প্রবৃত্তি বা আত্মা)কে নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে বড় জিহাদ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “মুজাহিদ সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর আনুগত্যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।” (তিরমিজি, হাদিস: ১৬৭১; হাসান)। নীচে হাদিস ও সুন্নাহর আলোকে ১৫টি ব্যবহারিক উপায় উল্লেখ করা হলো:

১. নিয়তকে খাঁটি করা: সব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করুন। রাসূল (সা.) বলেছেন: “কাজসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।” (বুখারি, হাদিস: ১)। খাঁটি নিয়ত নফসের খেয়ালকে দমন করে।

২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথ আদায় করা: নামাজ গুনাহ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবুত: ৪৫)।

৩. রোজা রাখা: রোজা প্রবৃত্তি দমন করে। রাসূল (সা.) বলেছেন: “যে বিবাহ করতে সক্ষম নয়, সে রোজা রাখুক; কেননা তা প্রবৃত্তির জন্য ঢালস্বরূপ।” (বুখারি ও মুসলিম)।

৪. যিকির ও দোয়া করা: নিয়মিত যিকির নফসকে শান্ত করে। রাসূল (সা.) দোয়া করতেন: “হে আল্লাহ! আমার নফসকে তাকওয়া দান করো এবং তাকে পবিত্র করো; তুমিই সর্বোত্তম পবিত্রকারী।” (মুসলিম, হাদিস: ২৭২২)।

৫. মৃত্যুকে স্মরণ করা: মৃত্যুর চিন্তা নফসের লোভ দমন করে। রাসূল (সা.) বলেছেন: “মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করো; এটি প্রবৃত্তি নষ্ট করে।”

৬. দৃষ্টি নত রাখা: কুদৃষ্টি নফসকে উত্তেজিত করে। রাসূল (সা.) বলেছেন: “চোখের জিনা হলো কুদৃষ্টি।” (বুখারি ও মুসলিম)।

৭. ভালো সঙ্গ গ্রহণ করা: সৎ সঙ্গী নফসকে সঠিক পথে রাখে। রাসূল (সা.) বলেছেন: “ব্যক্তি তার বন্ধুর দ্বীনের ওপর থাকে।” (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৩৩)।

৮. পরিমিত খাওয়া-দাওয়া: অতিরিক্ত খাওয়া নফসকে শক্তিশালী করে। রাসূল (সা.) বলেছেন: “মানুষের পেটের চেয়ে খারাপ পাত্র আর নেই।” (তিরমিজি)।

৯. তাওবা ও ইস্তিগফার করা: গুনাহের পর তাওবা নফসকে পবিত্র করে। রাসূল (সা.) দিনে ৭০ বারের বেশি ইস্তিগফার করতেন।

১০. সদকা ও দান করা: দান লোভ দূর করে। আল্লাহ বলেন: “সদকা গুনাহসমূহ দূর করে দেয় যেমন পানি আগুন নিভিয়ে দেয়।” (তিরমিজি)।

১১. কুরআন তিলাওয়াত করা: কুরআন হৃদয়কে পবিত্র করে। রাসূল (সা.) বলেছেন: “কুরআন পাঠকারীর হৃদয়ে রহমত নাজিল হয়।”

১২. নফল ইবাদত বাড়ানো: নফল নামাজ, রোজা ইত্যাদি নফসকে দুর্বল করে।

১৩. শারীরিক পরিশ্রম করা: কাজে ব্যস্ত থাকলে নফসের খারাপ চিন্তা কমে।

১৪. আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) অর্জন করা: তাকওয়া নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। রাসূল (সা.) বলেছেন: “তাকওয়া এখানে (হৃদয়ে)।”

১৫. সৎকর্মের পর সৎকর্ম করা: গুনাহের পর ভালো কাজ নফসকে শুদ্ধ করে। রাসূল (সা.) বলেছেন: “ভালো কাজের অনুসরণ করো মন্দ কাজের পর; এটি তাকে মিটিয়ে দেবে।” (তিরমিজি)।

এই উপায়গুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে নফস ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে ইনশাআল্লাহ।
সাফল্যর জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছে চাইতে হবে!

🏞️ রাখালের সরল প্রার্থনা: আল্লাহর কাছে আন্তরিকতা মুখ্য 💖একদা আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আঃ) মরুভূমির পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন।...
01/03/2026

🏞️ রাখালের সরল প্রার্থনা: আল্লাহর কাছে আন্তরিকতা মুখ্য 💖

একদা আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আঃ) মরুভূমির পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি এক রাখালকে দেখতে পেলেন, যে গভীর আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে।

রাখাল বলছিল:

“হে আল্লাহ, তুমি কোথায়? আমি যদি তোমাকে পেতাম, তবে তোমার চুল আঁচড়ে দিতাম। তোমার কাপড় সেলাই করে দিতাম। তোমার জুতা পরিষ্কার করে দিতাম। তোমার হাত-পা ধুয়ে দিতাম। আমার সবটুকু দুধ তোমাকে পান করাতাম। হে আমার রব, আমার সব ভেড়া তোমার জন্য উৎসর্গ করতাম।”

মূসা (আঃ)-এর ভুল ধারণা
হযরত মূসা (আঃ) রাখালের এই কথা শুনে অবাক হয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন, এই লোকটিতো শিরক করছে, আল্লাহর সাথে মানুষের গুণাবলিকে অংশীদার করছে।

তিনি রাখালকে ধমক দিয়ে বললেন: “তুমি এইসব কী বলছ? আল্লাহ এই সবের অনেক উর্ধ্বে! এই সব মানুষের মতো কাজ আল্লাহর জন্য বলা চরম ভুল। তুমি এখনই তওবা কর, না হলে তোমার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে!”

রাখাল খুব ভয় পেলো। অনুশোচনায় তার বুক ফেটে যেতে লাগল। কাঁদতে কাঁদতে মাথা নিচু করে সে তার ভেড়া রেখেই দ্রুত সেখান থেকে চলে গেল।

আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী
এরপর আল্লাহর পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ হযরত মূসা (আঃ)-এর কাছে ওহী এলো:

“হে মূসা! তুমি কেন আমার বান্দাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিলে? পৃথিবীতে প্রত্যেক ব্যক্তি সেইভাবেই আমার ইবাদত করে, যা সে নিজের ভাষায় বোঝে। আমি তো বাহ্যিক প্রথা দেখি না, আমি দেখি মানুষের ভিতরের প্রেম এবং আন্তরিকতা। তার সরল আবেগপূর্ণ কথা আমার কাছে পৌঁছেছিল, কিন্তু তুমি তা প্রত্যাখ্যান করলে। তুমি কি মানুষকে (আমার দিকে) টেনে আনবে, নাকি দূরে সরিয়ে দিবে?”

নবী মূসা (আঃ) লজ্জিত হলেন। তিনি রাখালকে খুঁজে বের করলেন এবং আল্লাহর বার্তা তাকে জানালেন। রাখাল এই কথা শুনে অনেক খুশি হলো এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো।

শিক্ষা:
এই গল্প আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর কাছে ইবাদতের বাহ্যিক নিয়ম বা ভাষা নয়, বরং বান্দার হৃদয়ের সরল প্রেম ও আন্তরিকতা এবং তাঁর প্রতি থাকা গভীর ভক্তিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর মৃত্যুশয্যার শেষ মুহূর্তসমূহরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের মাত্...
01/02/2026

হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর মৃত্যুশয্যার শেষ মুহূর্তসমূহ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের মাত্র দুই বছর পর, হিজরি ১৩ সনের জমাদিউল আখির মাসের ২২ তারিখে (২৩ আগস্ট ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ), হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) অসুস্থতায় আক্রান্ত হন। তাঁর অসুস্থতা ধীরে ধীরে বেড়ে যায় এবং তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত হন। এ সময় তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নিযুক্ত করেন, যাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য অটুট থাকে।

মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর কন্যা হযরত আয়েশা (রা.)-এর সাথে কথা বলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কয়টি কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল। আয়েশা (রা.) বলেন, তিনটি সাদা কাপড়ে। তিনি বলেন, “আমার জন্য নতুন কাপড় কিনো না, জীবিতের চেয়ে মৃতের কাপড়ের প্রয়োজন কম। পুরাতন কাপড়ই যথেষ্ট।”

অসুস্থতার মধ্যেও তাঁর মনে ছিল আল্লাহর ভয় এবং পরকালের চিন্তা। কেউ কেউ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন যে, তিনি সর্বদা সৎকর্মশীল ছিলেন, কোনো চিন্তা করার দরকার নেই। কিন্তু তিনি বলেন, তিনটি কাজ করেছেন যা না করলেই ভালো হতো, তিনটি কাজ করেননি যা করলে ভালো হতো, এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তিনটি প্রশ্ন করেননি যা করলে ভালো হতো।

তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে দাফন হওয়া। তিনি ওসিয়ত করেন যে, তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস (রা.) তাঁকে গোসল দিবেন। মৃত্যুর পর তাঁর লাশ রওজা মোবারকের দরজায় নিয়ে গিয়ে অনুমতি চাওয়া হয়। অলৌকিকভাবে দরজা খুলে যায় এবং তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পাশে দাফন করা হয়—যা তাঁর রাসূলের সাথে অতুলনীয় বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার প্রমাণ।

(সহীহ বুখারী, মুসলিম, তারিখে তাবারী প্রভৃতি থেকে সংগৃহীত)

যাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "সিদ্দীক" উপাধি দিয়েছিলেন, যিনি ইসলামের জন্য সবকিছু কুরবান করেছিলেন, যিনি উম্মাহকে রিদ্দা যুদ্ধের সংকট থেকে রক্ষা করেছিলেন—সেই মহান সিদ্দীকে আকবর (রা.) মৃত্যুর মুহূর্তেও আল্লাহর ভয়ে কাঁপছিলেন এবং নিজের আমল নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন! অথচ আমরা ছোটখাটো পাপে ডুবে থেকেও কত নিশ্চিন্তে জীবন কাটাই!

এই ঘটনা আমাদের শেখায় যে, সত্যিকারের ঈমান হলো সর্বাবস্থায় আল্লাহর ভয়ে নিজেকে দায়বদ্ধ মনে করা, যত বড় মর্যাদাই অর্জন করি না কেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হযরত আবু বকর (রা.)-এর মতো তাকওয়া ও ঈমান দান করুন। আমীন।

ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়ার ঈমানী শক্তি ............................................................বিবি আছিয়া (আঃ) ছি...
01/02/2026

ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়ার ঈমানী শক্তি ............................................................
বিবি আছিয়া (আঃ) ছিলেন ধরিত্রীর রমণীকুলের এক সম্মানিত নারী, যিনি তখনকার যুগের সবচেয়ে অত্যাচারী বাদশাহ, আল্লাহর দুশমন ফেরাউনের স্ত্রী। রাজপ্রাসাদের সমস্ত আরাম, দাস-দাসীদের সেবা এবং মুকুটবিশিষ্ট সম্রাজ্ঞীর পদ তাঁকে ঈমানী আলো থেকে দূরে সরাতে পারেনি। ফেরাউনের সাম্রাজ্য ও ক্ষমতার অংশীদারিত্ব তাঁর চরিত্রকে কলুষিত করেনি; বরং তিনি হকের ওপর ছিলেন অটল।
মূসা (আঃ)-এর আশ্রয়
যখন ফেরাউনের সৈন্যরা শিশু মূসাকে সাগর থেকে কুড়িয়ে আনল, বিবি আছিয়া (আঃ) দেখলেন— শিশুটির চেহারা নূরের জ্যোতিতে জ্বলজ্বল করছে। আল্লাহ কুরআনে তাঁর কথা তুলে ধরেছেন:
“ফেরাউনের স্ত্রী বলল, এ শিশু আমার ও তোমার নয়নমণি, তাকে হত্যা করো না। এ আমাদের উপকারে আসতে পারে অথবা আমরা তাকে পুত্র করে নিতে পারি।” (সূরা কাসাস: ৯)
এভাবেই তিনিই ছিলেন অত্যাচারী ফেরাউনের কবল থেকে শিশু মূসা (আঃ)-এর বেঁচে থাকার উসিলা।
ঈমানের চ্যালেঞ্জ ও ভয়ানক শাস্তি
পরবর্তী সময়ে মূসা (আঃ) নবুয়ত লাভ করলেন এবং একত্ববাদের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন। যখন ফেরাউন জানতে পারল যে, তার স্ত্রী আছিয়া (আঃ) গোপনে মূসা (আঃ)-এর ওপর ঈমান এনেছেন, তখন সে রাগে আর ক্ষোভে কঠিন শাস্তির প্রতিজ্ঞা করল। সেই অহংকারী, যে নিজেকে ‘সেরা রব’ মনে করত, সে তার স্ত্রীকে হত্যা করতে উদ্যত হলো।
ফেরাউন সব মানুষকে একত্রিত করে তার স্ত্রী সম্পর্কে জানতে চাইল। সবাই তাঁর প্রশংসা করল। কিন্তু যখন ফেরাউন বলল যে, তিনি তাকে ছেড়ে অন্য রবের উপাসনা করেন, তখন তারা মুহূর্তেই মত পরিবর্তন করে তাঁকে হত্যা করার রায় দিল।
ফেরাউন তার সৈন্য-সামন্তকে আদেশ দিলে তারা বিবি আছিয়াকে শক্তভাবে হাত-পা বেঁধে উত্তপ্ত সূর্যের নিচে ফেলে রাখে।
জান্নাতের দিকে দৃষ্টি
এই চরম লাঞ্ছনার মুহূর্তে, যখন ফেরাউন তাঁর পিঠে বড় একটি পাথরখন্ড রাখার আদেশ করল, তখন বিবি আছিয়া (আঃ) অপমান বা কষ্টের কোনো পরোয়া করলেন না। তিনি আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে মিনতি করলেন:
"হে আমার পালনকর্তা! আপনার কাছে জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহনির্মাণ করুন আর আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে মুক্তি দিন জালেম সম্প্রদায় থেকে।" (সূরা তাহরিম: ১১)
তাঁর কামনা ছিল একটাই—প্রভুর সান্নিধ্য। আল্লাহ তা'আলা তাঁর দোয়া কবুল করলেন। ওরা তাঁর পিঠে পাথর রাখার আগেই, বিবি আছিয়া (আঃ) নিজ চোখে জান্নাতে তাঁর জন্য নির্মিত ঘর দেখে দেখে প্রভুর সান্নিধ্যে চলে গেলেন। ওরা পাথর নিক্ষেপ করেছিল প্রাণহীন এক নিথর দেহের ওপর।
শিক্ষা:
বিবি আছিয়া (আঃ) কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে সত্যের ওপর টিকে থাকার অনুপম এক উপমা। তিনি প্রমাণ করলেন, ঈমানী শক্তি জাগতিক কোনো প্রাচুর্য বা ক্ষমতার কাছে মাথা নত করে না। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও তাঁর একক সতআল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও তাঁর একক সত্তার ওপর অবিচল থাকার ফলস্বরূপ তিনি জান্নাতে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন।
(Collected)

Address

Miami, FL
33032

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Wisdom Islamic TV posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Wisdom Islamic TV:

Share

GREETINGS

Assalamualikum,

Welcome to my page . My videos are created to spread the message of Islam, answering misconceptions and making inspiring content for all to benefit from.

আসসালামু আলাইকুম,

আমার ফেসবুক পেজ এ আপনাকে স্বাগতম, আমার ভিডিওগুলি ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য, ভুল ধারণার জবাব দেওয়ার জন্য এবং সকলের উপকারের জন্য অনুপ্রেরণামূলক সামগ্রী তৈরি করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।