Wisdom Islamic TV

Wisdom Islamic TV Wisdom Islamic TV an online based Education & Dawha channel, USA.

A Sister Concern Of "Wisdom World Peace Foundation" (A Non-Profit Chariatble Organization, USA)
--------------------------------------------
আসসালামুয়ালাইকুম,
আমাদের পেইজ-এ স্বাগতম। "উইজডম ইসলামিক টিভি" একটি অরাজনৈতিক অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা এবং দাওয়াহ চ্যানেল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান 'উইজডম ওয়ার্ল্ড পিস ফাউন্ডেশন' কর্তৃক পরিচালিত। আমাদের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী ইসলাম

ের বাণী ছড়িয়ে দেওয়া, সমাজের প্রচলিত অসঙ্গতি দূরীকরণে উৎসাহিত করণ এবং ইসলামের আলোকে সকলের জন্য অনুপ্রেরণামূলক বিষয়বস্তু তৈরির পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জনগণকে সচেতন ও শিক্ষিত করা।
--------------------------------------------
Assalamualaikum,
Welcome to our page. Wisdom Islamic TV is a non-political online education and dawah channel run by the 'Wisdom World Peace Foundation' a USA based non-profit charity. Our goal is to spread the message of Islam worldwide, to encourage the elimination of the prevailing inconsistencies in society and to create inspirational content for all in the light of Islam, as well as to make people aware and educated for the purpose of establishing peace and harmony in the world.
--------------------------------------------
السلام عليكم،
مرحبا بكم في صفحتنا. Wisdom Islamic TV هي قناة تعليمية غير سياسية عبر الإنترنت وتديرها مؤسسة Wisdom World Peace Foundation ، وهي مؤسسة خيرية غير ربحية مقرها الولايات المتحدة. هدفنا هو نشر رسالة الإسلام في جميع أنحاء العالم ، وتشجيع القضاء على التناقضات السائدة في المجتمع وخلق محتوى ملهم للجميع في ضوء الإسلام وكذلك توعية الناس وتثقيفهم لغرض إحلال السلام والوئام. في العالم.

07/16/2026
আল-কুরআনে নবীদের (আ.) জীবনকাহিনী ইতিহাস বর্ণনার জন্য নয়; বরং মানবজাতির জন্য হিদায়াত, শিক্ষা ও আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন কর...
07/16/2026

আল-কুরআনে নবীদের (আ.) জীবনকাহিনী ইতিহাস বর্ণনার জন্য নয়; বরং মানবজাতির জন্য হিদায়াত, শিক্ষা ও আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য অবশ্যই শিক্ষা রয়েছে। এটি কোনো মনগড়া কথা নয়; বরং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়ন, সবকিছুর বিশদ বিবরণ এবং ঈমানদারদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।”
— সূরা ইউসুফ, ১২:১১১

এমনই ৭টি অমূল্য শিক্ষা, যা নবীদের (আ.) জীবন থেকে পাওয়া গেছে। আর তা প্রতিটি মুমিনের জন্য অনুপ্রেরণার দিশা। নসিহাগুলো হলো—

১. হজরত আদম (আ.): ভুল হলে তাওবার পথেই ফিরে আসুন

মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু ভুলের পর আন্তরিক তাওবাই একজন বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য এনে দেয়। আল্লাহর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না।

কুরআনের নির্দেশ—
فَتَلَقَّىٰ آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
‘অতঃপর আদম তার রবের কাছ থেকে কিছু বাক্য শিখে নিলেন। তখন আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’
--(সুরা আল-বাকারা: আয়াত ৩৭)

২. হজরত নুহ (আ.): সত্যের দাওয়াতে ধৈর্য ধরুন-

মানুষ সত্য গ্রহণ না করলেও দাওয়াতের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। ধৈর্যই ইমানদারের অন্যতম বড় পরিচয়।

কুরআনের নির্দেশ—
فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا
‘তিনি তাদের মধ্যে এক হাজার বছরের পঞ্চাশ বছর কম সময় অবস্থান করেছিলেন।’

--(সুরা আল-আনকাবুত: আয়াত ১৪)

৩. হজরত ইবরাহিম (আ.): আল্লাহর জন্য ত্যাগ কখনো বৃথা যায় না-

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে ত্যাগ করা হয়, তার উত্তম প্রতিদান অবশ্যই আল্লাহ বান্দাকে দিয়ে দেন।
কুরআনের নির্দেশ—
قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
‘তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয়ই আমি সৎকর্মশীলদের এভাবেই প্রতিদান দিই।’

--(সুরা আস-সাফফাত: আয়াত ১০৫)

৪. হজরত ইয়াকুব (আ.): বিপদেও আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না-

প্রিয় মানুষ বা প্রিয় জিনিস হারিয়েও একজন মুমিন কখনো আশা হারান না। ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

কুরআনের নির্দেশ—
وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ
‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহর রহমত থেকে কেবল কাফির সম্প্রদায়ই নিরাশ হয়।’
--(সুরা ইউসুফ: আয়াত ৮৭)

৫. হজরত আইউব (আ.): কষ্টের সময় আল্লাহর কাছেই সাহায্য চান-

দুঃখ, রোগ কিংবা বিপদ— সব অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। ধৈর্য ও দোয়া কখনো বিফল হয় না।

কুরআনের নির্দেশ—
أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
‘নিশ্চয়ই আমাকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছে, আর আপনিই সর্বাধিক দয়ালু।’
--(সুরা আল-আম্বিয়া: আয়াত ৮৩)

৬. হজরত ইউনুস (আ.): ভুল হলে আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন-

ভুলের পর হতাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তার রহমত সীমাহীন।

কুরআনের নির্দেশ—
لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
‘আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’
--(সুরা আল-আম্বিয়া: আয়াত ৮৭)

৭. হজরত মুসা (আ.): আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে অসম্ভবও সম্ভব-
ভয় নয়, আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুলই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি। তার সাহায্যে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।

কুরআনের নির্দেশ—
‎كَلَّا ۖ إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ
‘কখনো নয়। নিশ্চয়ই আমার রব আমার সঙ্গে আছেন। তিনি অবশ্যই আমাকে পথ দেখাবেন।’

--(সুরা আশ-শুআরা: আয়াত ৬২)

হাদিসের আলোকে নবীদের অনুসরণের গুরুত্ব
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ—
‎إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا، وَإِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ
‘নিশ্চয়ই নবীরা (আ.) দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি; বরং তারা রেখে গেছেন জ্ঞান।’
-- (আবু দাউদ ৩৬৪১, তিরমিজি ২৬৮২)

* নবীদের (আ.) জীবন আমাদের শেখায়—
* ভুলের পর তাওবা করতে,
* সত্যের পথে অবিচল থাকতে,
* আল্লাহর জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে,
* বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে,
* আল্লাহর রহমতের ওপর আশা রাখতে এবং সব অবস্থায় তার ওপর পূর্ণ ভরসা করতে।

এসব শিক্ষা কেবল অতীতের ঘটনা নয়; বরং প্রতিটি যুগের মানুষের জন্য জীবন পরিচালনার চিরন্তন দিকনির্দেশনা। তাই আসুন, কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নবীদের আদর্শ অনুসরণ করে নিজেদের জীবন গড়ে তুলি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা অর্জনের চেষ্টা করি।



fans

মানুষের মন সুস্থ থাকলে চিন্তাধারা স্বচ্ছ হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা আসে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে। বিপরীতে মানসিকভাবে বিপর্যস...
07/15/2026

মানুষের মন সুস্থ থাকলে চিন্তাধারা স্বচ্ছ হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা আসে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে। বিপরীতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষ প্রতিনিয়ত দ্বিধা আর অনিশ্চয়তায় ভোগেন, অতীতের ব্যর্থতা তাকে কুরে কুরে খায়, তিনি সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
আজকের অস্থির সময়ে মানুষ প্রশান্তির খোঁজে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। ওষুধ সাময়িকভাবে উদ্বেগ-বিষণ্ণতা কমায়, কিন্তু অনেক সময় তা কেবল উপসর্গ দমন করে, রোগের মূল উৎপাটন করে না।

‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদ আসে না। আর যে আল্লাহর ওপর ইমান রাখে, আল্লাহ তার অন্তরকে সঠিক পথ দেখান।
-(কোরআন, সুরা তাগাবুন, আয়াত: ১১)

স্থায়ী প্রশান্তির জন্য প্রয়োজন চিন্তার পরিবর্তন আর আত্মিক উন্নয়ন। আর এই পথের সবচেয়ে জীবন্ত দৃষ্টান্ত মহানবীর নিজের জীবন।

রসুলল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আচরণ, তাঁর সিদ্ধান্ত, তাঁর মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক —সবকিছুতেই লুকিয়ে আছে মানসিক সুস্থতার সূত্র। এখানে সেরকম ৫টি শিক্ষার কথা বলা হলো।

১. বিপদে ‘তাওয়াককুল’

উদ্বেগের একটা বড় উৎস হলো যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা। নবীজি (সা.) নিজে জীবনভর অসংখ্য বিপদ, বিরোধিতা আর ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু প্রতিটি ধাপে তিনি বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে নিজের করণীয়টুকু করে গেছেন।

কোরআনে এই মানসিকতার ভিত্তি স্পষ্ট:

‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদ আসে না। আর যে আল্লাহর ওপর ইমান রাখে, আল্লাহ তার অন্তরকে সঠিক পথ দেখান।’ (সুরা তাগাবুন, আয়াত: ১১)

এখান থেকে বাস্তব শিক্ষা হলো, যা পরিবর্তনযোগ্য তাতে চেষ্টা করা, আর যা নয় তা নিয়ে অন্তরকে শান্ত রাখা। এই বিভাজনটাই দুশ্চিন্তা কমানোর প্রথম ধাপ।

২. অসীম ধৈর্য ও নরম আচরণ

নবীজির (সা.) খেদমতে দীর্ঘ দশ বছর কাটানো আনাস ইবনে মালিক (রা.) নিজেই সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর অসাধারণ সহনশীলতার কথা।

আনাস (রা.) বলেন, ‘আমি দশ বছর নবীজির খেদমত করেছি। আল্লাহর কসম, তিনি কখনো আমাকে ‘উহ্‌’ শব্দটিও বলেননি, আর কখনো বলেননি, “এটা কেন করলে” বা “এটা কেন করলে না।”’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৩৮)

একজন কিশোরের ছোট ছোট ভুলেও বিরক্তি প্রকাশ না করা, বকা বা কৈফিয়ত না চাওয়া—এই আচরণ প্রমাণ করে নবীজি কতটা শান্ত ও সহনশীল ছিলেন কাছের মানুষদের সঙ্গে।
যিনি নিজে ধৈর্যশীল, তাঁর সান্নিধ্যেই মানুষ নিরাপদ বোধ করে, মন খুলে কথা বলতে পারে। মানসিক প্রশান্তির জন্য এমন একজন মানুষ পাশে থাকা, যিনি বিচার না করে গ্রহণ করেন, আধুনিক মনোবিজ্ঞানেও এর গুরুত্ব স্বীকৃত।

সন্তানকে প্রকাশ্যে স্নেহ দেখানো, নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মাঝেও তার আরাম নিশ্চিত করা—এসব ছোট ছোট আচরণই একটি শিশুর মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে।

৩. শিশুদের চাপমুক্ত, স্নেহময় বেড়ে ওঠা
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের ব্যক্তিত্বের ভিত্তি তৈরি হয় শৈশবে।
রাসুল (সা.) দেড় হাজার বছর আগেই এই সত্য জীবনে ধারণ করেছিলেন।

একবার নবীজি (সা.) নাতনি উমামা বিনতে আবিল আসকে কাঁধে নিয়ে নামাজ পড়াচ্ছিলেন। রুকুতে গেলে নামিয়ে রাখতেন, দাঁড়ালে আবার কাঁধে তুলে নিতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৯৬)

আরেক বর্ণনায় দেখা যায়, নবীজি নাতি হাসানকে চুমু খাচ্ছিলেন। পাশে বসা আকরা ইবনে হাবিস বলে উঠলেন, ‘আমার দশটি সন্তান আছে, আমি কখনো তাদের কাউকে চুমু খাইনি।’

নবীজি (সা.) তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৯৭)

সন্তানকে প্রকাশ্যে স্নেহ দেখানো, নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মাঝেও তার আরাম নিশ্চিত করা—এসব ছোট ছোট আচরণই একটি শিশুর মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে।
একজন মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের মানসিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে শৈশবে সে কতটা নিরাপদ ও মূল্যবান বোধ করেছে তার ওপর। নবীজির এই আচরণ আজকের অভিভাবকদের জন্যও একটা জীবন্ত মডেল।

৪. দুর্বল ও অবহেলিতদের মর্যাদা দেওয়া
একবার সাহাবি আবু জর তাঁর এক দাসকে গালি দিয়ে বসেন। বিষয়টি জানতে পেরে নবীজি (সা.) তাঁকে বললেন, ‘তোমার মধ্যে এখনো জাহেলি যুগের অভ্যাস রয়ে গেছে। তারা (দাস-দাসী) তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনে দিয়েছেন।
সুতরাং যার অধীনে তার ভাই আছে, সে যেন তাকে নিজে যা খায় তা-ই খাওয়ায়, নিজে যা পরে তা-ই পরায়, আর সাধ্যের বাইরে কাজ না দেয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০)
এই ঘটনার পর আবু জর (রা.) সারা জীবন তাঁর দাসকে নিজের মতোই পোশাক পরাতেন।
দাম্পত্য জীবনেও তিনি ছিলেন স্ত্রীদের প্রতি অসীম যত্নশীল। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর প্রতি উত্তম আচরণ করে; আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীদের প্রতি সবচেয়ে উত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)
হিংসা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা হিংসা পুণ্যকে ঠিক সেভাবেই খেয়ে ফেলে, যেভাবে আগুন কাঠ বা ঘাস পুড়িয়ে ফেলে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯০৩
উপেক্ষিত বা অসম্মানিত বোধ করা মানুষের মনে গভীর অস্থিরতা তৈরি করে। নবীজি প্রমাণ করেছেন, কাউকে সম্মান দেওয়াটা শুধু নৈতিকতার বিষয় নয়, বরং তার মানসিক সুস্থতা রক্ষারও উপায়।
৫. হৃদয় থেকে হিংসা-অহংকার দূর করা

নবীজি (সা.) অনুসারীদের হিংসার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন,
‘হিংসা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা হিংসা পুণ্যকে ঠিক সেভাবেই খেয়ে ফেলে, যেভাবে আগুন কাঠ বা ঘাস পুড়িয়ে ফেলে।’
-(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯০৩)

হিংসা, অহংকার আর তুলনার মানসিকতা আজকের সামাজিক মাধ্যমের যুগে উদ্বেগ আর হতাশার অন্যতম বড় কারণ। নবীজির শেখানো পথ হলো, নিজের অন্তরকে অন্যের প্রাপ্তি নিয়ে অস্থির না করে কৃতজ্ঞতা আর সন্তুষ্টিতে স্থির রাখা।

নবীজির জীবন কোনো কাল্পনিক আদর্শ নয়, এটি বাস্তবে ধারণ করা একটি জীবন; যেখানে বিপদে তাওয়াক্কুল, মানুষের প্রতি সহানুভূতি, শিশুদের প্রতি স্নেহ, দুর্বলের প্রতি সম্মান আর অন্তরের পরিশুদ্ধি একসঙ্গে মিলে তৈরি করেছে এক গভীর মানসিক স্থিতিশীলতা।

আমরা যদি এই ৫ শিক্ষা জীবনে ধারণ করতে পারি, তবে আধুনিক জীবনের উদ্বেগ ও অস্থিরতা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:“যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল, সে আল্লাহর জিম্মায় (নিরাপত্তায়) চলে গেল। অতএব, আল্লাহ যেন তাঁর জি...
07/14/2026

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল, সে আল্লাহর জিম্মায় (নিরাপত্তায়) চলে গেল। অতএব, আল্লাহ যেন তাঁর জিম্মার ব্যাপারে তোমাদের কাছে কোনো দাবি না করেন। কারণ তিনি যার কাছে তাঁর জিম্মার ব্যাপারে দাবি করবেন, তাকে অবশ্যই পাকড়াও করবেন এবং তারপর তাকে জাহান্নামের আগুনে উপুড় করে নিক্ষেপ করবেন।”
— সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৬৫৭

হাদিসের ব্যাখ্যা

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজরের সালাতের মর্যাদা এবং মুসলিমের পারস্পরিক সম্পর্ক—উভয় বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

১. “আল্লাহর জিম্মায়” বলতে কী বোঝায়?

আরবি শব্দ “ذِمَّةُ اللهِ” (যিম্মাতুল্লাহ) অর্থ হলো—আল্লাহর অঙ্গীকার, আশ্রয়, হিফাজত ও নিরাপত্তা।

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে ফজরের সালাত আদায় করে, সে এমন একজন বান্দা, যার জন্য আল্লাহ বিশেষ নিরাপত্তা, করুণা ও তত্ত্বাবধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি কোনো জাদুকরী নিশ্চয়তা নয় যে তার জীবনে আর কোনো কষ্ট আসবে না; বরং এর অর্থ হলো, সে আল্লাহর বিশেষ হেফাজত ও অনুগ্রহের অধিকারী।

২. কেন বিশেষভাবে ফজরের নামাজ?

ফজরের সালাত এমন এক ইবাদত যা আদায় করতে হলে—

* ঘুমের আরাম ত্যাগ করতে হয়,
* আন্তরিক ঈমানের প্রমাণ দিতে হয়,
* দিনের শুরু হয় আল্লাহর স্মরণ দিয়ে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেছেন:

“মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে ভারী সালাত হলো এশা ও ফজরের সালাত।”
— সহীহ আল-বুখারী ও সহীহ মুসলিম

এ কারণে ফজরের সালাত একজন মানুষের ঈমানের দৃঢ়তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

৩. “আল্লাহ যেন তাঁর জিম্মার ব্যাপারে তোমাদের কাছে দাবি না করেন”

এ অংশটি বিশেষ সতর্কবাণী।

এর অর্থ, যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে আল্লাহর নিরাপত্তায় এসেছে, তার ওপর অন্যায়, নির্যাতন, হত্যা বা অবিচার করা অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ।

ইমাম আন-নববী (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন, এই হাদিস মানুষকে সতর্ক করছে—আল্লাহর আশ্রয়প্রাপ্ত বান্দার প্রতি কোনো ধরনের জুলুম করো না। যদি কেউ তা করে, তবে সে আল্লাহর বিচারের সম্মুখীন হবে।

৪. “তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন”

এটি জুলুমের ভয়াবহ পরিণতির বর্ণনা। এটি বোঝায় না যে ফজরের সালাত পড়লেই কেউ সব গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায়। বরং হাদিসটি জালিমদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কতা—আল্লাহর আশ্রয়প্রাপ্ত বান্দার ওপর অন্যায় করলে তার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।

আমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়

* ফজরের সালাতের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
* দিনের শুরু আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে করা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
* আল্লাহর আশ্রয়প্রাপ্ত মানুষের প্রতি জুলুম করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে।
* আল্লাহর নিরাপত্তা লাভের জন্য শুধু সালাত নয়, আন্তরিক ঈমান, তাকওয়া ও নেক আমলের ধারাবাহিকতাও জরুরি।
* এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাদের মর্যাদা দেন এবং তাদের প্রতি অবিচারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করবেন।

ফজরের সালাত কেবল দিনের প্রথম ফরজ ইবাদত নয়; এটি ঈমানের দৃঢ়তা, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর আনুগত্যের এক উজ্জ্বল প্রকাশ। যে ব্যক্তি ফজরের সালাতের জন্য ঘুম ছেড়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, সে আল্লাহর বিশেষ আশ্রয় ও অনুগ্রহ লাভের সুসংবাদ পায়। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত ফজরের সালাতকে জীবনের অপরিবর্তনীয় অংশ বানানো এবং সেই সঙ্গে আল্লাহর বান্দাদের অধিকার রক্ষা করে চলা।

ইয়া রব্বাল আলামীন আপনি আমদের কুরআনের আলকে জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করূন। আমীন।




fans

Address

Florida
Miami, FL
33032

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Wisdom Islamic TV posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Wisdom Islamic TV:

Shortcuts

Share