08/09/2026
আজ আমি এমন একটি ইতিহাসের কথা বলছি যে ইতিহাস শুধু কয়েকটি দিনের নয়; এটি সাহসের ইতিহাস, আত্মত্যাগের ইতিহাস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ইতিহাস।
জুলাই বিপ্লব আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটি জাতি যখন অন্যায়, বৈষম্য ও অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কোনো শক্তিই তার কণ্ঠকে চিরদিন দমিয়ে রাখতে পারে না।
জুলাই কোন দল বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি না, জুলাই সাধারণ মানুষের, জুলাই বিপ্লব কে যারা বিক্রি করছে বা করতে চাইছে তাদের প্রতি ধিক্কার জানাই।
এই আন্দোলনের পথে যারা রাজপথে নেমেছিলেন, যারা নির্যাতন সহ্য করেছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন—তাদের প্রতি আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
জুলাইয়ের শহীদরা কোনো দলের সম্পত্তি নন। তারা আমাদের ইতিহাসের অংশ, আমাদের জাতির সন্তান।
একজন মা তার সন্তানকে হারিয়েছেন, একজন বাবা তার বুকের ধন হারিয়েছেন, কোনো পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয় মানুষ। সেই অশ্রুর মূল্য কোনোদিন পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
তাই জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত শিক্ষা হলো—
ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই হবে সবার আগে।
প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার হবে আমাদের পথ।
বিভেদ নয়, ঐক্য হবে আমাদের শক্তি।
ভয় নয়, সত্য বলার সাহস হবে আমাদের পরিচয়।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন তরুণ তার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে এগিয়ে যাবে; যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে ভয় পেতে হবে না; যেখানে মানুষের ভোট, মতামত ও মর্যাদা সম্মানের সঙ্গে রক্ষা করা হবে।
আজ আমাদের দায়িত্ব শুধু জুলাইকে স্মরণ করা নয়—জুলাইয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।
যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা তখনই হবে, যখন আমরা একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব।
আসুন, আমরা শপথ করি—
শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।
অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব না।
মানুষের অধিকারকে সম্মান করব।
এবং একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাই মিলে কাজ করব।
জুলাইয়ের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
জুলাইয়ের সকল আহত ও সংগ্রামী মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান।
জুলাই আমাদের সাহসের নাম।
জুলাই আমাদের আত্মত্যাগের নাম।
জুলাই আমাদের নতুন স্বপ্নের নাম।
সৈয়দ গৌছুল হোসেন
যুক্তরাষ্ট্র , নিউইয়র্ক।