05/26/2026
"কার্ডিওমিকস্কোর" নামের একটি এআইভিত্তিক নতুন রক্ত পরীক্ষা মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক আগেই, প্রায় ১৫ বছর আগে পর্যন্ত পূর্বাভাস দিতে পারে। এই প্রযুক্তিটি তৈরি করেছেন দ্য ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের গবেষকরা। তবে এখানে "১৫ বছর আগে" কথাটির মানে এই নয় যে এআই কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করছে। এর অর্থ হলো, রোগটি শরীরে প্রকাশ পাওয়ার বা ধরা পড়ার অনেক আগেই এটি মানুষের রক্তে থাকা সূক্ষ্ম জৈবিক পরিবর্তনগুলো ধরে ফেলতে পারে। অর্থাৎ, রোগ শুরু হওয়ার আগেই শরীর যে বিপদের সংকেত দেয়, এটি তা চট করে চিনে নেয়।
এই এআই প্রযুক্তিটি মাত্র একবার রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর, হার্টের অনিয়মিত স্পন্দন (অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলিশন), করোনারি আর্টারি ডিজিজ, পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ এবং রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা (ভেনাস থ্রম্বোইম্বোলিজম)—এই ৬ ধরনের বড় হৃদরোগের ঝুঁকি মেপে দিতে পারে।
২০২২ সালে সারা বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ মানুষ হৃদরোগে মারা গেছেন, যা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় মৃত্যুর কারণ। সাধারণ চিকিৎসকেরা সাধারণত বয়স, রক্তচাপ, ধূমপানের অভ্যাস, কোলেস্টেরল এবং পারিবারিক ইতিহাস দেখে হৃদরোগের ঝুঁকি বোঝার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই এআই প্রযুক্তি রক্তের ভেতরে থাকা হাজার হাজার আণবিক তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে। এটি মূলত শরীরের রাসায়নিক পরিবর্তন, প্রোটিন এবং জিনগত তথ্য একসাথে মিলিয়ে মানুষের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করে।
এই গবেষণায় প্রোটিন ও মেটাবোলাইটস অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ জিন শুধু মানুষের জন্মগত ঝুঁকির ধারণা দেয়, যা কখনো বদলায় না। কিন্তু প্রোটিন ও শরীরের রাসায়নিক উপাদানগুলো মানুষের বর্তমান ও বাস্তব স্বাস্থ্য কেমন যাচ্ছে, তা পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেয়। এই পরীক্ষায় এআই হাজার হাজার মানুষের তথ্য ও প্রোটিনের ধরন বিশ্লেষণ করে একজন ব্যক্তির জন্য একটি ব্যক্তিগত ঝুঁকি স্কোর তৈরি করে, যা সাধারণ পরীক্ষার চেয়ে অনেক নিখুঁত।
তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি সরাসরি চিকিৎসাসেবায় ব্যবহার করা শুরু হলে, মানুষের রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে অনেক আগেই জানা যাবে। এর ফলে জীবনযাত্রার অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে সময়মতো রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে। রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা করার চেয়ে, রোগকে আগেই পূর্বাভাস দিয়ে আটকে দেওয়ার এই পদ্ধতি মানুষের আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কমিয়ে আনবে।
Samriddhi Erin Ohi
Team Science Bee