11/23/2025
রিভিউতে ‘ভবিষ্যতের তত্ত্বাবধায়ক’!দলগুলোর কৌশলী অবস্থান?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও ফিরে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করতে এ ব্যবস্থার দাবি তুলেছিল বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ভবিষ্যতের জন্য পুনর্বহাল করল, দেখা গেল—যে দলগুলো আগে থেকে জোরালো দাবি জানাচ্ছিল, তারাই এখন বলছে—এখন নয়, ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হোক। আর এই অবস্থান বদল ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট হয়েছে—আগামী নির্বাচন নয়, বরং এর পরের চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর রিভিউ আবেদনে ‘প্রসপেকটিভ’, অর্থাৎ ভবিষ্যতের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলছেন—এ মুহূর্তে সংসদ না থাকায় সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পথই নেই। নির্বাচন যে তিন মাসের ভিতরে করতে হয়, তাও সম্ভব নয় বর্তমান পরিস্থিতিতে। যদিও এটিকে দুর্বল যুক্তি বলছেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। তার মতে, যেসব দল এত বছর তত্ত্বাবধায়কের দাবি তুলে এসেছে, এখন তারা আইনগত অবস্থান থেকেই সরে গেছে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যে আন্দোলনের ফল হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল, ২০১১ সালে সেই ব্যবস্থাকে আদালত ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে বাতিল করে। এরপর থেকেই বিএনপি-জামায়াতসহ অনেক দল ফের তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।
কিন্তু রিভিউ আবেদনে তারা নিজেরাই ভবিষ্যতের জন্য তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করায় এখন প্রশ্ন উঠছে, এই অবস্থান বদলের কারণ কী?
বিএনপির আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে; তাই এখনই তত্ত্বাবধায়ক দাবি করলে পরিস্থিতি জটিল হতো। উপরন্তু আদালত সংবিধানের যেসব ধারা পুনর্বহালের কথা বলেছে, সেগুলো বর্তমান সরকার বা সংসদ করতে পারবে না বলেও দাবি তার।
অন্যদিকে জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির মনে করেন—এখন যেন কোনো সাংবিধানিক বিতর্ক না তৈরি হয়, সে জন্যই আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে সিদ্ধান্ত কেবল ভবিষ্যতের জন্যই প্রযোজ্য।
আইনজীবী মনজিল মোরশেদের মতে, দলগুলো যেহেতু যুক্তিতর্কেই বলেছে ‘হবে, তবে এখন নয়’, আদালতও সেই অবস্থানকেই রায়ে প্রতিফলিত করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এই নতুন অবস্থান—ঠিক কেন এবং কার স্বার্থে—তা নিয়েই এখন চলমান আলোচনাই যেন ছাপিয়ে যাচ্ছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে।