08/31/2026
নিউইয়র্ক সিটিতে একটি পুরোনো ম্যাট্রেস ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ঝামেলায় পড়েছেন এক বাংলাদেশি ইয়েলো ক্যাবচালক। তার দাবি অনুযায়ী, ম্যাট্রেসটি নির্ধারিত নিয়মে ফেলার পরিবর্তে কুইন্সের হলিস এলাকায় একটি ব্রিজের নিচে রেখে আসার পর সিটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি। এরপর তাকে মোট ৮ হাজার ডলারের জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং তার ইয়েলো ক্যাবটিও বাসা থেকে টো করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি কুইন্সের ২০২ স্ট্রিট ও ৯৯এভিনিউ এলাকার একটি রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই বাংলাদেশি ইয়েলো ক্যাবচালক তার বাসার পুরোনো একটি ম্যাট্রেস নিজের ক্যাবে করে রাতে ওই এলাকায় নিয়ে যান। পরে ব্রিজের নিচে রাস্তার পাশের দেয়ালের কাছে ম্যাট্রেসটি রেখে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
তার ধারণা ছিল, রাতের সময় হওয়ায় বিষয়টি হয়তো কারও নজরে পড়বে না। কিন্তু ওই এলাকায় থাকা নজরদারি ক্যামেরায় ঘটনাটি ধরা পড়ে বলে জানা গেছে।
এরপর ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে ব্যবহৃত ইয়েলো ক্যাবের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং ক্যাবের মেডেলিয়ন সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে চালক ও গাড়ির মালিকের পরিচয় বের করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন।
ব্যক্তিগত নামে ৪ হাজার, ক্যাবের নামে আরও ৪ হাজারঃ
সংশ্লিষ্ট চালকের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটির পর তার নামে ৪ হাজার ডলার এবং তার ইয়েলো ক্যাবের নামে আরও ৪ হাজার ডলার, অর্থাৎ মোট ৮ হাজার ডলারের জরিমানা বা সামনস ইস্যু করা হয়েছে।
এছাড়া, তার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ তার ইয়েলো ক্যাবটি বাসা থেকে টো করে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্যাবটি ফেরত দেওয়া হবে না বলেও তাকে জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করছেন এবং জরিমানার পরিমাণ কমানো বা বিষয়টির অন্য কোনো আইনি সমাধান করা যায় কি না, সে বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
গাড়ি ব্যবহার করে ডাম্পিং হলে ঝুঁকি অনেক বেশিঃ
নিউইয়র্ক সিটির Department of Sanitation (DSNY)-এর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কোনো রাস্তা, পাবলিক স্পেস, লট বা অন্য স্থানে বর্জ্য ফেলা বেআইনি। বিশেষ করে কোনো গাড়ি ব্যবহার করে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার ঘটনা গুরুতরভাবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে গাড়ির মালিক ও চালক উভয়কেই আইনগতভাবে দায়ী করা হতে পারে এবং গাড়ি জব্দ করার ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষের রয়েছে।
DSNY আরও জানিয়েছে, অবৈধ ডাম্পিং শনাক্ত করতে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের এক সরকারি ঘোষণায় DSNY জানায়, অবৈধ ডাম্পিংয়ের ঘটনায় $৪,০০০ থেকে শুরু হওয়া সামনস এবং ব্যবহৃত গাড়ি জব্দ করার ব্যবস্থা রয়েছে।
অর্থাৎ, রাতের বেলা কোনো নির্জন জায়গায় বর্জ্য ফেলে দিয়ে চলে গেলেই বিষয়টি নজরের বাইরে থাকবে, এমন ধারণা এখন আর নিরাপদ নয়।
ম্যাট্রেস ফেলারও নির্দিষ্ট নিয়ম আছেঃ
নিউইয়র্ক সিটিতে ম্যাট্রেস বা বক্স স্প্রিং সরাসরি রাস্তায় ফেলে যাওয়ার নিয়ম নেই। DSNY-এর নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাট্রেস ও বক্স স্প্রিং স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে এবং ব্যাগটি ভালোভাবে সিল করে নির্ধারিত ট্র্যাশ সংগ্রহের দিনে বাইরে রাখতে হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বেডবাগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো।
DSNY-এর তথ্য অনুযায়ী, সঠিকভাবে ম্যাট্রেস না ফেললে জরিমানাও হতে পারে।
তবে কোনো ম্যাট্রেস নির্ধারিত নিয়মে না রেখে রাস্তা বা অন্য কোনো পাবলিক স্থানে ফেলে চলে যাওয়া সাধারণ ভুলভাবে ম্যাট্রেস সেট-আউট করার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং অবৈধ ডাম্পিংয়ের আওতায় পড়তে পারে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাঃ
এই ঘটনা শুধু একজন ক্যাবচালকের ব্যক্তিগত সমস্যার বিষয় নয়। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই বাসা পরিবর্তন, নতুন আসবাব কেনা বা পুরোনো আসবাব ফেলার সময় সিটির নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নাও থাকতে পারেন।
একটি পুরোনো ম্যাট্রেস, সোফা, আসবাবপত্র কিংবা অন্য কোনো বড় বর্জ্য কোথায় এবং কীভাবে ফেলতে হবে, তা আগে জেনে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে নিজের গাড়ি, ট্যাক্সি বা অন্য কোনো যানবাহনে করে কোনো বর্জ্য নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে, ব্রিজের নিচে, খালি জায়গায় বা নির্জন স্থানে রেখে আসা থেকে সবাইকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
কয়েক ডলার বাঁচাতে বা কয়েক মিনিটের ঝামেলা এড়াতে গিয়ে হাজার হাজার ডলারের জরিমানা, গাড়ি জব্দ এবং আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি নেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।
নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি অনুরোধ: কোনো বড় বর্জ্য বা ম্যাট্রেস ফেলার আগে অবশ্যই NYC Department of Sanitation-এর বর্তমান নিয়ম দেখে নিন। নিয়ম মেনে ফেলুন, নিজের অর্থ, গাড়ি এবং ভবিষ্যৎ ঝামেলা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।