07/24/2026
ছোটগল্প পর্ব - ১
পাহাড়ের চূড়ায় পৌছে গেল গাঁ এর সবচেয়ে মোটা ছেলে সাবিন।
টিলা এবং পাহাড়ঘেরা এই ছোট্ট গ্রামের নাম ‘যতরপুর’। গাছপালা ছায়াঘেরা এই গ্রামটি দেখতে না যতটা সুন্দর, তার চেয়ে বেশি ভয়ংকর এখানে থাকা গাঁ এর লোকজন। আর দশটি গ্রামের মতো এখানে কু সংস্কার বেশি। সাবিন ১০ বছর বয়সী ছোট্ট বালক । তার বাবা এখানের চৌকিদার মাক্সুদ মিয়া। বেচারা সারাদিন এলাকা পাহাড়া দেয় এবং রাতে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পরে। তার বউ গৃহিনী রাসনা বেগম ঘরের কাজকর্ম করে দিন পার করে।
এ বছর যতরপুর প্রাইমারি ইশকুলের পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলো সাবিন। তার সাথে থাকা সবার থেকে সে একটু অন্যরকম। আর্থিকভাবে তার পরিবার সচ্ছল না হলেও তার বাবা কখনো তাকে আর্থিক কষ্ট বুঝতে দেন নি। দাদার রেখে যাওয়া ছোট্ট টিনশেডের বাড়িতে থাকে ওরা। তার কোনো ভাইবোন নেই এজন্যে সে বেশিরভাগ সময় একা একা সময় কাটায়।
অজপাড়াগাঁ এর স্কুল শিক্ষক মাসুদ স্যার ইংরেজী পড়ান। তিনি এলাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ছাত্ররা তাকে বেশ ভালোবাসে। কিন্তু এবার উনার প্রোমোশন হয়ে যায় এবং তিনি শহরে পাড়ি জমান। তার বদলে এলেন রাশেদ স্যার। খুবই বদমেজাজি এবং তিরিক্ষি মেজাজঁকে ভদ্রলোক। ক্লাসে পড়া না পারলে শাস্তি নিশ্চিত। যদিও এসব ব্যাপারে সাবিন ও তার বন্ধুরা তেমন একটা মাথা ঘামায় না, তবুও এবারের স্যারের একটা বন্দোবস্ত করতেই হচ্ছে।
সাবিনের বন্ধুবান্ধব অনেক। তারা একসঙ্গে স্কুলের দক্ষিণ প্রান্তের মাঠে বসে আলোচনা করছে। এর ফাঁকে দলের লিডার রাফি বলে উঠলো, ‘নতুন স্যারের সাথে একটা ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা যায় এবং ইচ্ছেমতো ফাউল করে স্যারকে ইনজুর করা যায়।‘ বরফের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আফতাব। সে ভাবলেশহীন পলকে সবার দিকে তাকিয়ে আছে। একথা শুনার পর সে বললো, ‘স্যার শক্তিশালী মানুষ। তাকে এতো সহজে ইনজুর করা যাবে না। তাকে অন্য একটা উপায়ে আঘাত করতে হবে।‘ জামশেদ এতক্ষণ মাথা চুলকাচ্ছিলো। সে বলে উঠলো, ‘আরে এত কিছু করতে হবে না। তাকে আলুটিল্লায় নিয়ে ধাক্কা একটা মারলে হাতপা এমনিতেই ভেংগে যাবে এবং হাসপাতালে দিন কাটাবে, হা হাহা হা।‘ সাবিন একথায় একমত হতে না পেরে বলে উঠলো ,’এমন করলে আমাদের পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে।‘ শেষমেষ রাফি তাদেরকে থামালো। ‘তোদের দিয়ে কিচ্চু হবে না, আমরা কালকে এসে আবার মিটিং এ বসবো।’