Deshi Tribune

Deshi Tribune Deshi Tribune is an online news portal dedicated to provide contents for Bangladeshis living abroad..
(2)

Deshi Tribune is an initiative to connect all the 10 million plus living non-resident Bangladeshi people around the world. It is creating stories and updates for the wellbeing of the Bangladeshi diasphora.

বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রি...
06/11/2026

বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতকালে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাংলাদেশের উন্নয়নে ডেনমার্কের অবদান ও মানসম্মত ওষুধ আমদানিতে ডেনমার্কের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়; যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টেকসই উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করবে।

সাক্ষাতে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেখতে ডেনমার্কের আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন। ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের উপপ্রধান অ্যান্ডার্স বি. কার্লসেন।

নেত্রকোনায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাতে জেলা শহরের মগরা নদীর মোক্তারপা...
06/10/2026

নেত্রকোনায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাতে জেলা শহরের মগরা নদীর মোক্তারপাড়া সেতুর দক্ষিণ পাশে জয়নগর এলাকায় অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভের কাছে আসেন। পরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রায় এক মিনিট বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিন যুবককে স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। সেখানে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’। পরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে তারা মোটরসাইকেলে চলে যান। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় হেলমেট ছিল।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল দিবাগত রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গুলিতে নেত্রকোনার ১৭ জন বাসিন্দা শহীদ হন। তাদের স্মরণে গণপূর্ত অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের নতুন মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে বাংলাদেশ!বিশ্বের ২১টি দেশের জন্য ২০২৬ সালে ৩.৮ বিলিয়ন ...
06/10/2026

যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের নতুন মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে বাংলাদেশ!
বিশ্বের ২১টি দেশের জন্য ২০২৬ সালে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল মানবিক সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা (OCHA)-এর সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দ্রুত, স্বচ্ছ ও আরও কার্যকরভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। নতুন কাঠামোর আওতায় যুদ্ধ, দুর্যোগ, খাদ্যসংকট ও শরণার্থী সংকটে আক্রান্ত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে জলবায়ু ঝুঁকি, রোহিঙ্গা সংকট এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবিক চ্যালেঞ্জগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
📌 ২১ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ইউক্রেন, সিরিয়া, সুদান, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, লেবানন, ভেনেজুয়েলাসহ আরও অনেক দেশ।
আপনার মতে, এই সহায়তা বাংলাদেশের কোন খাতে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগানো উচিত?
বিস্তারিত কমেন্টে ⬇️
— দেশি ট্রিবিউন

পুলিশের অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদারে ২১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য মোট ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ৩...
06/10/2026

পুলিশের অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদারে ২১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য মোট ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ পুলিশের অপারেশনাল কাজে ব্যবহারের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করে ২১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্রয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাব উত্থাপন করে।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, যানবাহনগুলো প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সরবরাহ করবে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১৮২ কোটি ৩২ লাখ টাকায় ক্রয়চুক্তি সম্পাদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, টহল কার্যক্রম, অপরাধ দমন এবং জরুরি অভিযানে পুলিশের যানবাহন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এসব পিকআপ কেনা হচ্ছে। নতুন যানবাহন যুক্ত হলে মাঠপর্যায়ে পুলিশের চলাচল ও অপারেশনাল কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব এসে গেছে। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ইতিমধ্যেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, ...
06/10/2026

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব এসে গেছে। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ইতিমধ্যেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে বিতর্কিত এবং সবচেয়ে রাজনৈতিক টুর্নামেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো — তিনটি দেশ মিলে আয়োজন করছে এই অভূতপূর্ব মহাযজ্ঞ, যেখানে মোট ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে এবং ১৬টি ভেন্যুতে মোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে। মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এই টুর্নামেন্ট, আর ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক ফাইনাল। কিন্তু মাঠের বাইরে যা ঘটছে, তা অনেক সময় মাঠের লড়াইকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে।

এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ও মর্মান্তিক ঘটনাটি হলো ইরান প্রশ্ন। ইরান জাতীয় দল, যারা "টিম মেল্লি" নামে পরিচিত, এই টুর্নামেন্টে গ্রুপ-জিতে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলবে। ইরানের প্রথম ম্যাচ ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। কিন্তু এই যাত্রাপথ ছিল কাঁটায় ভরা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে, যদিও এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বলবৎ আছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানসহ ১২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ রাখে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে "রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী পৃষ্ঠপোষক" হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর ফলে ইরানের হাজার হাজার সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশই করতে পারছেন না। এমনকি গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ ড্র অনুষ্ঠানেও ইরান যোগ দিতে পারেনি — কারণ তাদের ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি। ইরান ফুটবল ফেডারেশন এটিকে "খেলাধুলায় সবচেয়ে জঘন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ" বলে আখ্যায়িত করে, এবং বিষয়টি ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানায়।
পরবর্তীতে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান যে ইরানের খেলোয়াড়, কোচ ও প্রশিক্ষকদের ভিসা দেওয়া হয়েছে, তবে কিছু "সহায়ক কর্মীকে" ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবেদনের কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইরান দলকে টুর্নামেন্ট চলাকালীন মেক্সিকোতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তেহরানে দলের বিদায়ী মিছিলে সমর্থকরা "আমেরিকার মৃত্যু হোক" স্লোগান দিয়েছেন, আর ইরানের সমর্থকরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় ইরানের ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যে বিক্রি করা টিকিটও প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই বিশ্বকাপকে অনেকে ইতিমধ্যেই "ইতিহাসের সবচেয়ে রাজনৈতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট" বলছেন। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম "শান্তি পুরস্কার" (পিস প্রাইজ) প্রদান করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে এবং ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নৈতিক চ্যালেঞ্জও দাখিল হয়।

ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি ও অভিবাসন বিরোধী অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডা ও মেক্সিকোর সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে — অথচ তিনটি দেশ একসঙ্গে এই বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। বিশ্বকাপের মাঠেও আইস (ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টদের উপস্থিতির খবরে বিদেশী সমর্থকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতা ও ফুটবল সমর্থক গোষ্ঠীগুলো বিশ্বকাপ বর্জনের দাবি তুলেছেন, বিশেষত ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ও অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে। একটি আফ্রিকান দেশ ডিআর কঙ্গো ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে অংশ নিচ্ছে, এবং স্বাস্থ্য উদ্বেগ থেকে তিনটি আয়োজক দেশই ইবোলাসংক্রান্ত ভ্রমণ বিধিনিষেধ জারি করেছে। বিশ্বের বহু দেশ এই টুর্নামেন্টকে খেলাধুলার উৎসবের চেয়ে আমেরিকার ভূরাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শনী হিসেবে দেখছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ, অভিবাসন প্রয়োগ ও ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এই টুর্নামেন্টের বাজিকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাঠের বাইরের বিতর্ক সত্ত্বেও বিশ্বকাপ জেতার লড়াইয়ে ইউরোপীয় দলগুলো এগিয়ে। বাজির বাজারে স্পেন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে, তাদের পেছনেই রয়েছে ফ্রান্স। ইংল্যান্ড তৃতীয়, তারপর ব্রাজিল ও পর্তুগাল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে, তবে লিওনেল মেসি এই টুর্নামেন্টে খেলবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটেনি — যদিও পূর্বাভাস বাজারে ৯৩ শতাংশ মতামত হলো তিনি খেলবেন। ৩৮ বছর বয়সী মেসিকে হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে পেশিজনিত সমস্যায় বিশ্রামে রাখা হয়েছিল। ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আন্সেলত্তির তত্ত্বাবধানে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও রাফিনহাকে ঘিরে একটি শক্তিশালী দল গড়া হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ছন্দ তৈরির সময় কম। আয়োজক দল যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপ ডি'তে তুরস্ক, প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে, এবং ঘরের মাঠের সুবিধায় তারাও চমক দেখাতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই বিশ্বকাপের টিকিট মূল্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। ফিফার "ডাইনামিক প্রাইসিং" বা চাহিদানির্ভর মূল্য কাঠামোর আওতায় গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে সস্তা টিকিট মাত্র ৬০ ডলার থেকে শুরু হলেও, ফাইনালের টিকিটের দাম ইতিহাস তৈরি করেছে। এপ্রিলে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য ছিল ১০,৯৯০ মার্কিন ডলার — যা মূল বিডিং পর্যায়ে অনুমান করা ১,৫৫০ ডলারের চেয়ে সাত গুণ বেশি। দ্বিতীয় লটারি পর্বে নক-আউট ম্যাচের টিকিটের দাম ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ফিফার রিসেল সাইটে ফাইনালের টিকিট ৯,৫৩৮ ডলার থেকে শুরু করে ৫৭,৫০০ ডলার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। আয়োজক দেশের ম্যাচগুলো সবচেয়ে বেশি দামি — বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর খেলায় ক্যাটাগরি-১ টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া।
মোট বিক্রির তথ্যও চোখ কপালে তোলার মতো। ফিফার ঘোষণা অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ১০ লক্ষের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে, এবং ২১২টি দেশ ও অঞ্চলের মানুষ টিকিট কিনেছেন। শীর্ষ ক্রেতা দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো, তারপরেই রয়েছে ইংল্যান্ড, জার্মানি, ব্রাজিল, স্পেন, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচে মোট প্রায় ৭১ লক্ষ আসন রয়েছে। টিকিটের আকাশছোঁয়া দামে নিউইয়র্কের মেয়রসহ বহু জনপ্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো অবশ্য দাবি করেছেন যে এই মূল্য "বাজার দরের প্রতিফলন"। সবাই মিলে ৫০ কোটিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল টিকিটের জন্য।

১১ জুন যখন মেক্সিকো সিটির স্টেডিয়ামে বাঁশি বাজবে, তখন বিশ্বের চোখ কেবল মাঠের দিকে থাকবে না। ইরান-আমেরিকার রাজনৈতিক উত্তেজনা, ট্রাম্প-ইনফান্তিনোর বিতর্কিত সম্পর্ক, ভিসা সংকট, টিকিটের আগুনদামি মূল্য, ইবোলা আতঙ্ক — সব কিছু মিলিয়ে এটি হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল ও বহুমাত্রিক ফুটবল বিশ্বকাপ। কিন্তু ফুটবলের যাদু এত কিছুকে ছাপিয়ে যায় — আর সেই আশায়ই বুক বাঁধছে গোটা বিশ্ব। মেসি কি শেষবার বিশ্বকাপ তুলে ধরবেন? স্পেন কি নতুন ইতিহাস লিখবে? নাকি কোনো অপ্রত্যাশিত দল চমকে দেবে সবাইকে? উত্তর মিলবে ১৯ জুলাই, নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশী কর্মীদের জনপ্রিয় 'H-1B' ভিসার আবেদন ফি ১ লাখ ডলার করার নীতি অবৈধঘোষণা কর...
06/10/2026

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশী কর্মীদের জনপ্রিয় 'H-1B' ভিসার আবেদন ফি ১ লাখ ডলার করার নীতি অবৈধঘোষণা করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। গত সোমবার (৮ জুন) বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট জজ লিও সোরোকিন একরায়ে জানান, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এককভাবে এমন বিশাল অংকের ফি বা কর আরোপের কোনো আইনি কর্তৃত্ব ট্রাম্পপ্রশাসনের নেই। এর ফলে ট্রাম্পের জারি করা বিতর্কিত নীতিটি পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেল।

প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে 'অবৈধ ট‍্যাক্স' হিসেবে আখ্যা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত বোস্টনের বিচারক লিও সোরোকিন তার রায়ে বলেন, "H-1B ভিসার আবেদনের ওপর এই ধরণের অতিরিক্ত ফি চাপানোর কোনো আইনি বা অর্পিত ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই।" ট্রাম্প প্রশাসন আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে এটি একটি 'নিয়ন্ত্রণমূলক ফি' যা কোনো প্রকার ট্যাক্স নয়। তবে আদালত এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই অর্থের পরিমাণ এবং এর প্রয়োগের ধরণ বিশ্লেষণ করলে এটি পরিষ্কারভাবে একটি 'ট্যাক্স' এর সমতুল্য, প্রশাসন একে যে নামেই ডাকুক না কেন। কংগ্রেসের পূর্ব অনুমতি বা অনুমোদন ছাড়া নির্বাহী বিভাগ এককভাবে এই ট‍্যাক্স চাপাতে পারে না।

মামলার পটভূমি ও নেতিবাচক প্রভাব ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর (২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে) একটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোক্লেমেশনের মাধ্যমে নতুন H-1B ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে এই ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণের নিয়ম জারি করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এই কর্মসূচির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এর পর পরই, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ডেমোক্র্যাটিক দলপন্থী ২০টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি জোট এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে। তাদের দাবি ছিল, এই নিয়ম সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী এবং আইনবহির্ভূত।

সোমবার বিচারক সোরোকিন সেই রাজ্যগুলোর দাবির সাথে একমত পোষণ করে বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জনস্বাস্থ্য খাতগুলোতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশী কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা বড় সংকটে পড়েছিল।

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দাবি করেছিল যে তারা কেবল প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছিল। কিন্তু বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্টের ঘোষণা কোনো সংস্থাকে 'অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসিডিউর অ্যাক্ট' লঙ্ঘন করার অবাধ লাইসেন্স দেয় না। নতুন নীতি চালুর সময় সরকার সেই হাজার হাজার মানুষের ভাগ্যের কথা বিবেচনা করেনি যারা এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তনের কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

এই রায়ের ফলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগকর্তাদের মধ্যে বড় স্বস্তি ফিরে এসেছে। কারণ, পূর্বে প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানি এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি দক্ষ বিদেশী কর্মী স্পন্সর করার জন্য বিশাল আর্থিক বোঝা বহন করতে হচ্ছিল। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, তা নিয়ে এখনো মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্...
06/09/2026

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন সই করার পর ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, মামলার ৬৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় এবং ৩ পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্সসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, অধস্তন আদালতের দেওয়া কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এ জন্য বিচারিক আদালত মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠায়, যা ‘ডেথ রেফারেন্স’ নামে পরিচিত। হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স শুনানির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড বহাল, সংশোধন বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন।

এর আগে গত ৭ জুন রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর দুই আসামিকে কনডেম সেলে পাঠানো হয়।

রায়ে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, অর্থদণ্ডের অর্থ ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভিকটিমের পরিবারকে দিতে হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ওই দিনই শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২৪ মে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২ জুন মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মাত্র ৫ কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন করে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম বিচারপ্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আর মাত্র দু’দন দিন। তারপরই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল উৎসবে মেতে উঠবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামন...
06/09/2026

আর মাত্র দু’দন দিন। তারপরই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল উৎসবে মেতে উঠবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে। সেই উন্মাদনা থেকে পিছিয়ে নেই প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।

Advertisement
আরও দেখুন
রাজনীতি সংবাদ
বিনোদন সংবাদ
জাতীয় সংবাদ
নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, মিশিগান, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এখন বিশ্বকাপ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। চায়ের আড্ডা, রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টার, পারিবারিক আয়োজন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। কেউ টিকিট সংগ্রহ করছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার পরিকল্পনা করছেন, আবার কেউ অপেক্ষা করছেন জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ সরাসরি মাঠে বসে দেখার জন্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বসবাসরত বহু বাংলাদেশি ইতোমধ্যে বিভিন্ন ম্যাচের টিকিট সংগ্রহ করেছেন। বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনও করছে। অনেকেই পরিবার নিয়ে স্টেডিয়ামে যাবেন। কেউ আবার কয়েকশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রিয় দলের খেলা দেখতে ছুটবেন অন্য অঙ্গরাজ্যে।

নিউইয়র্কপ্রবাসী তরুন সরকারী চাকুরীজীবি মোফাচ্ছেল হক কাজল বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই আমরা যেন আবার কিশোর হয়ে হয়ে যাই। কাজের ব্যস্ততা, জীবনের চাপ কিছুদিনের জন্য ভুলে যাই। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, প্রিয় দল নিয়ে তর্ক করা, যেন ফিরে পাই পুরোনো বাংলাদেশকে।’

একই শহরের বাসিন্দা রওনক বলেন, ‘আমেরিকায় অনেক বড় বড় ক্রীড়া আয়োজন হয়। কিন্তু বিশ্বকাপের আবেগ সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে পৃথিবীর নানা দেশের মানুষ একসঙ্গে উৎসব করে। সেই উৎসবের অংশ হতে পারাটা আমাদের জন্যও বিশেষ গর্বের।’

নিউইয়র্কে বসবাসরত তরুণ বাংলাদেশি সামি ইতোমধ্যে একটি ম্যাচের টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে টেলিভিশনে বিশ্বকাপ দেখেছি। তখন কল্পনাও করিনি একদিন মাঠে বসে বিশ্বকাপ দেখব। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। এখন দিন গুনছি।’

প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানালেন বিশ্বকাপ এলেই তাদের মনে পড়ে দেশের ফুটবলের সোনালি দিনের কথা। আবাহনী-মোহামেডানের উত্তেজনাপূর্ণ দ্বৈরথ, চুন্নুর সৃজনশীলতা, আসলামের গোল, বাদল রায়ের মাঝমাঠের পারফরম‍্যান্স জীবন্ত হয়ে ওঠে স্মৃতির ভেতরে।

মিশিগানে বসবাসরত ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সময়ে আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচ মানেই ছিল উৎসব। স্টেডিয়ামে জায়গা পাওয়া যেত না। এখন বিশ্বকাপের খেলা দেখতে বসলে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। মনে হয়, ফুটবল আমাদের জীবনেরই একটা অংশ।’

প্রবাসী জীবনে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছেও বিশ্বকাপের আবেদন কম নয়। অনেক শিশু-কিশোর বাংলা বলতে না পারলেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স কিংবা জার্মানির খেলোয়াড়দের নাম অনর্গল বলতে পারে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের মধ্যেও বিশ্বকাপের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিংবা বড় হওয়া অনেক শিশু-কিশোরের কাছে ফুটবল মানেই লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। খেলার দিন প্রিয় তারকার জার্সি গায়ে চাপিয়ে তারা বসে পড়ে টেলিভিশনের সামনে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি কিংবা ডালাসের বাংলাদেশি পরিবারগুলোতে এখন প্রায়ই দেখা যায়, ছোট্ট শিশুরা মেসি কিংবা রোনালদোর নাম বলতে বলতে আনন্দে লাফিয়ে উঠছে।

নিউ জার্সিপ্রবাসী শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে ফুটবল বলতে মেসিকে বোঝে। কিন্তু আমি তাকে বাংলাদেশের ফুটবলের গল্পও বলি। চুন্নু, আসলাম, বাদল রায়দের কথা বলি। ওরা যেন নিজেদের শিকড়টাও জানতে পারে।’

বিশ্বকাপকে ঘিরে ব্যবসায়িক ব্যস্ততাও বেড়েছে। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, ব্রুকলিন, কুইন্স এবং নিউ জার্সির বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দেশের জার্সি, পতাকা, স্কার্ফ ও স্মারকসামগ্রী। দোকানিরা বলছেন, বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, ক্রেতার ভিড়ও তত বাড়ছে।

জ্যাকসন হাইটসের এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জানান, ‘সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি।’

বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনও বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে। কোথাও বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন, কোথাও পরিবারভিত্তিক মিলনমেলা, আবার কোথাও শিশু-কিশোরদের জন্য ফুটবল প্রতিযোগিতা।

ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যখন হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে উল্লাসে মেতে উঠবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা হয়তো তাদের মনে ভেসে উঠবে গ্রামের বাড়ির উঠোন, শহরের চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লার তর্ক, ছাদের ওপর উড়তে থাকা পতাকা আর রাতজাগা বিশ্বকাপের স্মৃতি।

বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে। আলো নিভে যাবে। গ্যালারি ফাঁকা হয়ে যাবে। কিন্তু থেকে যাবে কিছু ছবি, কিছু গল্প, কিছু উল্লাস আর কিছু অমূল্য স্মৃতি।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে...
06/09/2026

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

মঙ্গলবার (৯জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর মি. এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তা হারমানোশি বার্নার্ড।

জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় বাজেট, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিভিন্ন দিকসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ, সুশাসন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও অর্থবহ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।





Google News Logoবাংলা ট্রিবিউনের খবর পেতে গুগল নিউজে ফলো করুন
/এএইচএস/এমএএল/
জামায়াতে ইসলামীযুক্তরাষ্ট্ররাষ্ট্রদূতজামায়াত আমির
সম্পর্কিত
হরমুজে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ক্রু উদ্ধার
আইফোনের বিস্তারে কমছে জন্মহার, বলছে গবেষণা
খেলা দেখতে যাওয়া ট্রাম্পকে দুয়ো দিলেন দর্শকরা
সর্বশেষ খবর
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন
এবার মন্ত্রীও বললেন বাংলা-ইতিহাস-দর্শন বাদের খবরটি ‘ভিত্তিহীন’
শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে খেলবেন মেসি।
মেসিকে নিয়ে স্বস্তির খবর দিলেন স্ক্যালোনি
ইসলামী ব্যাংকের লোগো
নগদ টাকার সংকটে ইসলামী ব্যাংক, চাইলো ১০ হাজার কোটির তারল্য সহায়তা
রাশিয়া সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা
সর্বাধিক পঠিত
আবাসিক হোটেল থেকে সাবেক ইউপি সদস্য বিপুল চন্দ্র পালের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সেই নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
হোটেলে ইউপি সদস্যের লাশ, কীভাবে মৃত্যু হলো জানালেন সেই নারী
নির্বাচন কমিশনের(ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ
এনআইডি’র স্মার্টকার্ড প্রকল্প শেষ হচ্ছে নভেম্বরে
নেয়ামতপুর গ্রামে কবর খুঁড়তে গিয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে
কবর খুঁড়তে গিয়ে প্রাণ হারালেন ২ জন
সঞ্চয়পত্র (ফাইল ছবি)
খুলছে নতুন দিগন্ত, আসছে ইসলামী সঞ্চয়পত্র
এআই জেনারেটেড ছবি
বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
‘সবাইকে নিয়ে অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান’
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৪
বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বাংলা ট্রিবিউন
বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বাংলা ট্রিবিউন
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে একটি অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের যে আদর্শ জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে অনুসরণীয়।

সোমবার (৮ জুন) রাতে রাজধানীর বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ এবং তার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই সময় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছিল, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। এ সময় তিনি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘১৯৭১ সালে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান মিলে সবাই একসঙ্গে যুদ্ধ করেছি। ৭১ আমাদের অস্তিত্ব, ৭১ আমরা অস্বীকার করতে পারি না।’’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সততার নজিরবিহীন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সব ধর্মের মানুষদের নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। তার দেখানো পথ ধরে আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চাই।’’

এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।



/এএইচএস/এমএএল/
বিষয়:
বিএনপিমির্জা ফখরুলজিয়াউর রহমান
গুলশানে পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ, যা বললেন যুবদল সভাপতি
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ জুন ২০২৬, ০৪:৫১
গুলশানে যুবদলের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ
গুলশানে যুবদলের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ
রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করেছেন সদ্য ঘোষিত জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান না পাওয়া নেতারা। তাদের অভিযোগ, কমিটিতে ত্যাগীদের নয়, ‘মাইম্যান’দের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

তবে যুবদল সভাপতির দাবি, কমিটিতে যোগ্যদেরই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে এ কর্মসূচিতে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, বিগত ১৬ বছর জেল-জুলুম, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তারা নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাননি। তাদের পরিবর্তে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

পদবঞ্চিতদের দাবি, কমিটিতে ত্যাগ ও অবদানের মূল্যায়ন না করে ‘মাইম্যান’দের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অবিলম্বে পদবঞ্চিতদের যথাযথ মূল্যায়ন না করলে যুবদল সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পদবঞ্চিত নেতা বলেন, “যুবদলই আগামী দিনের বিএনপির মূলধারার নেতৃত্ব দেবে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।”

একই সময়ে নয়াপল্টনে সদ্য ঘোষিত কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংগঠনের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন।

এ সময় যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, হাইকমান্ডের নির্দেশনা মেনে যাচাই-বাছাই করে ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপর যাদের কমিটিতে রাখা সম্ভব হয়নি, তাদের জন্য চেষ্টা করা হবে। তাই কারও হতাশ হওয়ার কারণ নেই।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়। এতে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

তামিলনাড়ুর সবচেয়ে মূল্যবান এবং লাভজনক বিনিয়োগ কোনও সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা সরকারি খাতের বিশাল কোনও রাষ্ট্র...
06/09/2026

তামিলনাড়ুর সবচেয়ে মূল্যবান এবং লাভজনক বিনিয়োগ কোনও সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা সরকারি খাতের বিশাল কোনও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয়। এটি মূলত একটি নীরব রাষ্ট্রীয় করপোরেশন, যা ১৯৮৪ সালে একটি সাধারণ ঘড়ি নির্মাতা কোম্পানিতে ১০ কোটি রুপিরও কম পুঁজি বিনিয়োগ করেছিল। আর আজ চার দশক পর এসে সেই পুঁজিতে ভর করে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ লাখ কোটি রুপির মালিক হয়েছে।

এই করপোরেশনটির নাম তামিলনাড়ু ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (টিডকো)। আর সেই ঘড়ি নির্মাতা কোম্পানিটি হলো ভারতের বিখ্যাত ব্র্যান্ড টাইটান। এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘড়ির ব্যবসার চেয়েও বড় এক অবিশ্বাস্য বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর নতুন সিরিজ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া - এ টাইটান স্টোরি’-তে স্বাভাবিকভাবেই জেআরডি টাটা, জেরক্সেস দেশাই এবং একটি বিশ্বমানের ভারতীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলার পেছনের গল্পটি আলোয় এসেছে। কিন্তু এই পরিচিত টাটা কিংবদন্তির আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে এক কম আলোচিত মূল চরিত্র। সেটি হলো তামিলনাড়ুর শিল্প উন্নয়ন শাখা ‘টিডকো’। প্রতিষ্ঠানটি একাধারে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট, জমির মালিক, লাইসেন্স নেভিগেটর এবং দীর্ঘমেয়াদি শেয়ারহোল্ডার হিসেবে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি খুব ভালো করেই জানত যে, কখন ব্যবসায় হস্তক্ষেপ করতে হবে এবং কখন ব্যবসায়ীকে নিজের মতো কাজ করতে ছেড়ে দিতে হবে।

লাইসেন্স রাজের সেই জটিল ‘হ্যাক’

১৯৮৪ সালের সেই দিনগুলোতে ফিরে যাওয়া যাক। ভারত তখনও ‘লাইসেন্স রাজ’-এর কঠোর বেড়াজালে বন্দি। ঘড়িকে তখন বিলাসদ্রব্য হিসেবে গণ্য করা হতো এবং বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এইচএমটি’র। সেই সময়ে বড় পরিসরে ঘড়ি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হতো লাইসেন্স, বিদেশি প্রযুক্তির অনুমোদন, যন্ত্রপাতি আমদানির ছাড়পত্র এবং দিল্লির আমলাতন্ত্রের অন্তহীন অনুমতি।

টাটা গোষ্ঠীর কাছে পুঁজি, বিশ্বাসযোগ্যতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বৈশ্বিক সম্পর্ক সবই ছিল। অন্যদিকে তামিলনাড়ু সরকারের (টিডকো) কাছে ছিল জমি, লাইসেন্স ও এম জি রামচন্দ্রনের মতো এক রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যিনি রাজ্যে বড় কোনও শিল্প গড়তে উদগ্রীব ছিলেন।

এই দুই শক্তির মেলবন্ধনে এমন এক যৌথ উদ্যোগ গড়ে ওঠে, যা আজকের দিনে কল্পনা করাও কঠিন। কাগজে-কলমে প্রাথমিক চুক্তিটি সরাসরি টাটার সঙ্গেও ছিল না। দিল্লির আমলাতন্ত্রকে সতর্ক করা এড়াতে প্রকল্পটি প্রথমে জেরক্সেস দেশাই এবং মিনু মোদি পরিচালিত কুয়েস্টার ইনভেস্টমেন্টস-এর মাধ্যমে আসে। কেন্দ্রের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলার পরই কেবল টাটা গ্রুপ রাইটস ইস্যুর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যুক্ত হয়।

ততক্ষণে ব্যবসার মূল কাঠামোটি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। টিডকো ও টাটা ইন্ডাস্ট্রিজ যৌথভাবে এর সহ-উদ্যোক্তা হয়। কোম্পানির নাম দেওয়া হয় টাইটান, যা মূলত টাটা ইন্ডাস্ট্রিজ এবং তামিলনাড়ু নামের এক চমৎকার মিশ্রণ। তামিলনাড়ুর হোসুরের একটি শিল্পাঞ্চলে এর প্রথম কারখানা স্থাপন করা হয়।

রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও টাটার জাদু

দুই পক্ষের কাজের বিভাজন ছিল অস্বাভাবিক রকমের স্পষ্ট। তামিলনাড়ু সরকার জমি, অবকাঠামো ও লাইসেন্স সরবরাহ করে টিডকোর মাধ্যমে শেয়ার নেয়। আর টাটা নিয়ে আসে তাদের ব্র্যান্ডিং কৌশল, প্রযুক্তি, বিপণন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা সংস্কৃতি।

ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এই ভারসাম্য বজায় ছিল। কোম্পানির চেয়ারম্যানের পদটি বরাদ্দ থাকত তামিলনাড়ু সরকার মনোনীত একজন আইএএস কর্মকর্তার জন্য, আর টাটা গোষ্ঠী নিয়োগ করত ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি)। একপর্যায়ে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) বর্তমান গভর্নর শক্তিকান্ত দাসও টাইটানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এটি কেবল নামমাত্র কোনও পর্ষদ আসন ছিল না; বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং বেসরকারি কার্যকারিতার মধ্যে এক নিবিড় অংশীদারত্ব ছিল।

ব্যবসায়িক দিক থেকেও টাইটানের সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত সাহসী। ভারত যেখানে মেকানিক্যাল ঘড়ির বাজারে আটকে ছিল, টাইটান তখন কোয়ার্টজ ঘড়ির ওপর বাজি ধরে। তারা হোসুরে কারখানা তৈরি করে এবং বেঙ্গালুরুতে সদর দফতর স্থাপন করে, যা ছিল প্রতিভাবান কর্মীদের এক বড় উৎসস্থল এইচএমটির খুব কাছাকাছি।

কারখানার এই ভৌগোলিক অবস্থান কোম্পানিটিকে দারুণ সুবিধা দেয়। এইচএমটির সরকারি আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আটকে থাকা প্রতিভাবান প্রকৌশলী, সুপারভাইজার এবং পরিচালকদের টাইটান নিজেদের দিকে টেনে নেয়, যারা একটি গতিশীল কর্মসংস্কৃতির জন্য ক্ষুধার্ত ছিলেন। টাইটান তাদের কাজের স্বাধীনতা এবং ক্যারিয়ারের নতুন ছন্দ উপহার দেয়। ওদিকে জেরক্সেস দেশাই কেবল একটি কারখানাই গড়ছিলেন না, তৈরি করছিলেন একটি ব্র্যান্ড তৈরির যন্ত্র। বিজ্ঞাপনের একটি সাধারণ বানান ভুল থেকে শুরু করে রঙের প্রুফ পরীক্ষা, সবকিছুতেই তার নিখুঁত নজরদারি ছিল।

হোসুর কেবল কারখানার গল্প নয়

টাইটানের হাত ধরে হোসুর শহরেরও খোলনলচে বদলে যায়। সীমানা ঘেঁষা একটি সাধারণ শিল্পাঞ্চল থেকে এটি ধীরে ধীরে রূপ নেয় কাঁচামাল সরবরাহকারী, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আনুষঙ্গিক ইউনিট এবং শ্রমিকদের আবাসন সংস্থানে ঠাসা এক বিশাল শিল্প ইকোসিস্টেমে।

কোম্পানিটি নামক্কাল ও কৃষ্ণগিরির মতো জেলাগুলো থেকে দশম শ্রেণি পাস করা তরুণদের নিয়োগ দেয়, তাদের নিখুঁত কাজের প্রশিক্ষণ দেয় এবং একটি জাতীয় ব্র্যান্ডের মূল কারিগর বানিয়ে তোলে। ১৯৮৯ সালে টাইটান যখন বাজারে তাদের কোয়ার্টজ ঘড়ি নিয়ে আসে, প্রথম বছরই তারা লাভের মুখ দেখে। এটি কোনও ভাগ্য ছিল না; এটি ছিল সুযোগের সঠিক ব্যবহার, প্রতিভা ও রাষ্ট্র-সমর্থিত শিল্প পরিকল্পনার এক যৌথ ফসল।

গেম চেঞ্জার ‘তনিষ্ক’

তবে ব্যবসার মূল মোড় ঘোরে আরও পরে। ১৯৯৬ সালে ‘তনিষ্ক’ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে টাইটান অলঙ্কারের বাজারে প্রবেশ করে। স্থানীয় জুয়েলার্স এবং পারিবারিক স্বর্ণকারদের আধিপত্য থাকা একটি অসংগঠিত বাজারে এটি ছিল এক চরম অনিশ্চিত বাজি।

কিন্তু পণ্যের গুণগত মানের নিশ্চয়তা, আধুনিক ডিজাইন এবং ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর ভর করে টাইটান ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা জয় করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের জুয়েলারি পোর্টফোলিওতে যুক্ত হয় জয়া, মিয়া এবং ক্যারাটলেন। এর পাশাপাশি তারা চশমা ও ফ্যাশন অনুষঙ্গের ব্যবসাতেও নাম লেখায়, যা টাইটানকে টাটা গ্রুপের অন্যতম মূল্যবান একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিণত করে।

শেয়ার ধরে রাখার দূরদর্শিতা

এই পুরো যাত্রায় টিডকো একটি বিরল কাজ করেছে, তারা কখনও তাদের শেয়ার বিক্রি করেনি। আইপিও আসার পরও তারা শেয়ার ধরে রেখেছে, অর্থনৈতিক উদারীকরণের সময়েও ধরে রেখেছে। এমনকি টাইটানের বাজার মূলধন যখন ১ লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়ে ৪ লাখ কোটি রুপির দিকে এগিয়ে গেছে, তখনও তারা অবিচল ছিল। আজ টাইটানের প্রায় ২৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক টিডকো, যা স্বয়ং টাটা সন্সের চেয়েও বেশি। টিডকোর সম্পূর্ণ পোর্টফোলিও মূল্যের সিংহভাগই আসে এই একটিমাত্র কোম্পানির শেয়ার থেকে।

আজ ভারতের যেকোন প্রান্তে একটি তনিষ্কের চুড়ি বিক্রি হলে, একটি ফাস্টট্র্যাক ঘড়ি কেনা হলে কিংবা টাইটানের নতুন কোনও শোরুম চালু হলে তা কেবল টাটার সাফল্যের খতিয়ানই বাড়ায় না, সমানভাবে সমৃদ্ধ করে তামিলনাড়ু সরকারের কোষাগারকেও।

কেন এই মডেল আজও প্রাসঙ্গিক?

ঠিক এই কারণেই টাইটান কেবল একটি কর্পোরেট সাফল্যের গল্প নয়; এটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের একটি আদর্শ উদাহরণ।

একটি মাঝারি সারির রাষ্ট্রীয় করপোরেশন কীভাবে সঠিক বেসরকারি অংশীদার খুঁজে বের করে সামান্য কিন্তু অর্থপূর্ণ পুঁজি বিনিয়োগ করেছিল, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঠিক ব্যবহারে প্রকল্পের ঝুঁকি কমিয়েছিল, ব্যবস্থাপনার অধিকার সুরক্ষিত রেখেছিল এবং সবশেষে ধৈর্য ধরে মুনাফাকে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে দিয়েছিল, টাইটান তারই প্রমাণ।

আজকের যুগে যখন অনেক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কেবল স্বার্থের খেলা কিংবা স্বজনতোষণের হাতিয়ারে পরিণত হয়, সেখানে টাইটান গত ৪০ বছর ধরে প্রমাণ করে চলেছে যে, ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ না করেও রাষ্ট্র কীভাবে একজন নিয়মতান্ত্রিক এবং সফল বিনিয়োগকারী হতে পারে।

Address

New York, NY
11372

Opening Hours

Monday 10am - 9pm
Tuesday 10am - 9pm
Wednesday 10am - 9pm
Thursday 10am - 9pm
Friday 10am - 9pm
Saturday 10am - 9pm
Sunday 10am - 9pm

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Deshi Tribune posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share