09/11/2026
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে দাম, কমছে বাড়ি বিক্রি ; ঋণের সুদও বেড়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো বাড়ি বিক্রির গতি আবারও কমেছে। গত আগস্টে দেশটিতে আগের মালিকানাধীন বাড়ি বিক্রি এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। একই সময়ে বাড়ির দাম ও বন্ধকী ঋণের সুদ বাড়তে থাকায় ক্রেতাদের জন্য আবাসন কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে পুরোনো বাড়ি বিক্রি ২ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এটি টানা তৃতীয় মাসে বাড়ি বিক্রি কমার ঘটনা। গত বছরের আগস্টের তুলনায়ও বিক্রি কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রির বার্ষিক গতি ২০২৩ সাল থেকে প্রায় ৪০ লাখের কাছাকাছি রয়েছে। অথচ ঐতিহাসিকভাবে স্বাভাবিক বিক্রির হার প্রায় ৫২ লাখ বাড়ি। এর আগে সর্বশেষ ৪০ লাখের নিচে নেমেছিল ২০২৫ সালের জুনে।
বাড়ি বিক্রির অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্ধকী ঋণের সুদের হার। ৩০ বছরের গৃহঋণের গড় সুদের হার চলতি সপ্তাহে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে উঠেছে, যা ১৪ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী এই হার শিগগিরই ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
অন্যদিকে, বিক্রি কমলেও বাড়ির দাম কমেনি। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ২৯ হাজার ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। আগস্ট মাসের হিসাবে এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ। টানা ৩৮ মাস ধরে দেশটিতে বাড়ির দাম বছরওয়ারি বেড়ে চলেছে।
তবে বাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় বাজারে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। আগস্টের শেষে অবিক্রিত বাড়ির সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ২০ হাজার, যা জুলাইয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং গত বছরের আগস্টের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
বর্তমান বিক্রির গতিতে এই মজুত প্রায় ৪ দশমিক ৯ মাসের চাহিদা মেটাতে পারে। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। সাধারণভাবে চার থেকে ছয় মাসের সরবরাহকে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাড়ির সরবরাহ বাড়ায় যারা বর্তমান সুদের হারেও বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখেন বা নগদ অর্থে কিনতে পারেন, তারা এখন তুলনামূলক বেশি বিকল্প পাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিক্রেতাদের সঙ্গে দাম ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে দর-কষাকষির সুযোগও বাড়ছে।
আগস্টে প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনা ক্রেতারা মোট বিক্রির ৩০ শতাংশ ছিলেন। গত জুলাইয়ে এ হার ছিল ২৯ শতাংশ এবং গত বছরের আগস্টে ২৮ শতাংশ। তবে ঐতিহাসিকভাবে মোট বাড়ি বিক্রির প্রায় ৪০ শতাংশই প্রথমবারের ক্রেতাদের হয়ে থাকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাড়ির দাম, বন্ধকী ঋণের সুদ, সম্পত্তি কর এবং বীমার খরচ কয়েক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় আবাসন এখনো অনেক মানুষের নাগালের বাইরে। ফলে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখছেন।