08/16/2026
স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে ২,৬০০ ডলার পাবেন অবৈধ অভিবাসীরা
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একদিকে চলছে গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রম; অন্যদিকে যারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে ফিরতে চান, তাদের জন্য আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রেখেছে সরকার।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন সরকার CBP Home অ্যাপের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে আগ্রহী যোগ্য অভিবাসীদের আর্থিক প্রণোদনা বাড়িয়ে ২,৬০০ ডলার করার ঘোষণা দেয়। এর পাশাপাশি নিজ দেশে ফেরার ভ্রমণ ব্যয়ও বহন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানরত যোগ্য ব্যক্তিরা অ্যাপের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ জানাতে পারেন। নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় যাচাই প্রক্রিয়া শেষে যোগ্য ব্যক্তিরা বিনামূল্যে ভ্রমণ এবং নির্ধারিত আর্থিক প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ পান।
তবে অ্যাপে নিবন্ধন করলেই সব ধরনের অভিবাসন আইনি পদক্ষেপ থেকে নিশ্চিত সুরক্ষা পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের অভিবাসন পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য আইনি পরিণতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
ধরপাকড়ের পাশাপাশি বাড়ছে কঠোরতা
স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রেপ্তার ও আটকের পাশাপাশি অভিবাসন কর্মকর্তাদের জন্য নতুন সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রতিরোধকারী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মকর্তাদের জন্য বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ গ্লাভস কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ধরনের সরঞ্জাম কেনায় সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় এমন সরঞ্জামের ব্যবহার অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
স্বেচ্ছায় ফিরলে কী সুবিধা?
মার্কিন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ব্যক্তিরা—
স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আবেদন করতে পারবেন;
নিজ দেশে ফেরার ভ্রমণ সহায়তা পাবেন;
নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ২,৬০০ ডলার আর্থিক প্রণোদনা পাবেন;
প্রস্থানের নির্ধারিত সময়ের আগে কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কম অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
সরকারের দাবি, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার এই ব্যবস্থা অভিবাসীদের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও পরিকল্পিত বিকল্প তৈরি করছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে জোরপূর্বক গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের প্রয়োজনও কমানো সম্ভব হবে।
নতুন ঘোষণা নয় ২,৬০০ ডলারের প্রণোদনা
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২,৬০০ ডলারের প্রণোদনাটি নতুন কোনো ঘোষণা নয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এর পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। কর্মসূচিটি চালু থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে চলমান কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
অর্থাৎ, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে একদিকে কঠোর ধরপাকড়, আটক ও বহিষ্কার, অন্যদিকে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে আর্থিক প্রণোদনা ও ভ্রমণ সহায়তা—দুই ধরনের পদক্ষেপই পাশাপাশি চলছে।