06/21/2026
॥ বাংলাদেশে আর আমেরিকায় নামাজ/রোজা পালনে বিরাট পার্থক্য ॥
১। বর্তমানে বাংলাদেশে এবং আমেরিকার মিনেসোটা স্টেটের মিনিয়াপলিস শহরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শুরুর সময় হচ্ছে নিম্নরূপঃ-
বাংলাদেশ মিনিয়াপলিস
ক) মাগরিব = ৬.৫২ ৯.০৮ মিনিটে।
খ) এশা = ৮.১৬ ১১.০১ মিনিটে।
গ) ফজর = ৩.৪৪ ৩.২৭ মিনিটে।
ঘ) যোহর = ১২.০০ ১.১৪ মিনিটে।
ঙ) আছর = ৪.৪০ ৫.২৪ মিনিটে।
২। মুসলমানগন এই দেশে শত প্রতিকুল পরিবেশকে মোকাবেলা করে উপরোক্ত সময় অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকেন। তাছাড়া ৭/৮ মাস শীতকালতো আছেই। সেই তুলনায় বাংলাদেশে খুব কম কষ্ট করতে হয়।
৩। এই জুন মাসে মিনিয়াপলিস শহরে বসবাসরত সকল ইমানদার মুসলমানকে প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘন্টা রোজা পালন করতে হয়। রাত ১১ টার পর ঈশা ও তারাবীর নামাজ আদায় করে ১২.৩০ টার পর ঘুমাতে হয়। আবার রাত ২.৩০ টায় সাহরীর জন্য উঠতে হয়। কারন ফজরের আজান হয় ৩.২৮ টায়। এত কষ্ট করেও তারা সময় মতন নামাজ ও রোজা পালন করে যাচ্ছেন।
৪। এবার একটু বাংলাদেশের দিকে তাকাই। সেখানেও শীত এবং গ্রীষ্মে রাত ও দিন বড় ছোট হয়। কিন্তু পার্থক্য ২ ঘন্টার বেশী হয় না। সেই হিসাবে কোন মৌসুমেই নামাজ ও রোজা পালন করা কঠিন নয়।
৬। অতএব রামাদান মাসে রাত ৯.৩০ টার মধ্যে সৌদিআরব থেকে হেলাল দেখার খবর পেয়ে বাংলাদেশের মানুষ অনায়াসেই ১১ টার মধ্যে ঈশা এবং তারাবীর নামাজ আদায় করতে পারেন। শেষ রাতে ৫.০০ টার মধ্যে সাহরী খেয়ে প্রথম দিনের ফরজ রোজা পালন করা খুবই সহজ ব্যাপার। কোন অজুহাত ছাড়াই অধিকাংশ আলেম ১ম ফরজ রোজা ছেড়ে দেন আর শেষটা হারাম রোজা করে ফেলেন। এইভাবে তাঁরা হাদিসের হুকুম না মেনে সবাইকে শক্ত গুনাহগার বানাচ্ছেন।
৭। যেই দুটো কারনে বাংলাদেশের আলেমগন অন্যায় ভাবে প্রথম ফরজ রোজা ছেড়ে দিয়ে থাকেন তা হচ্ছেঃ-
ক) তাঁরা নিজ দেশের সীমানায় চাঁদ (ক্বমার) না দেখা পর্যন্ত মাস শুরু করেন না, রোজা/ঈদও পালন করেন না! তাঁরা চান্দ্রমাসের দ্বিতীয় দিনকে প্রথম দিন মনে করে মাস শুরু করেন! ফলে তাদের হিসাবে ১/২ দিন আগে পূর্নীমা হয়ে যায়!! তাঁরা এটাকে ইসলামী হিসাব মনে করেন!? অথচ আল্লাহ মানবজাতিকে (সকল ধর্মের মানুষকে) ১২টা নতুন চাঁদ দিয়ে (হিসাবের সাহায্য) ১২টা মাস শুরু করতে বলেছেন। সূত্রঃ ২ঃ১৮৯ এবং ৫৫ঃ৫। তার মানে হচ্ছে চন্দ্র ও সূর্য সকল ধর্মের মানুষের জন্যই আল্লাহ দিয়েছেন।
মন্তব্যঃ এর ফলে রাসুল (সাঃ) এর মারফু হাদীসের হুকুম সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়। আর বাংলাদেশের চান্দ্রমাসের হিসাব মুসলিম উম্মাহর হিসাবের ১/২ দিন পরে শুরু হয়। কোরআন বলছে মাসকে পিছিয়ে দেওয়া কুফরী কাজ- ৯ঃ৩৭ । কিন্তু আলেমগন কোরআনও মানেন না এবং হাদিসও মানেন না। তাঁরা এত বিবেকহীন হয়ে গেলেন কেন?
খ) দূরত্ব বেশী বিধায় বাংলাদেশের আলেমগন সৌদিআরবের দেওয়া স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন না। কুরাইবের হাদীসের অনুসরনে তাঁরা তাহকীক করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তাছাড়া তাঁরা এমনও বলে থাকেন যে, সৌদিআরব যখন হেলাল দেখবে তার ২১ ঘন্টা পরে বাংলাদেশে “চাঁদ” দেখা যাবে!? কারন নিজ দেশের সিমায় চাঁদ না দেখা পর্যন্ত তাঁরা মাস শুরু করেন না !?
মন্তব্য-১ঃ রাসুল (সাঃ) কোন হাদীসেই স্বাক্ষ্যদাতাকে দূরত্ব নিয়ে কখনো প্রশ্ন করেননি; তাই আমরাও প্রশ্ন তুলতে পারি না। কারন বর্তমানে কার্যক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে, খবর আদান প্রদানে দূরত্ব কোনই ভুমিকা রাখে না। বিশ্বস্থ সূত্রে খবর পেলেই তা গ্রহন করতে আমরা বাধ্য। শরীয়ত প্রবর্তক যেটা করেছেন (দূরত্বের প্রশ্ন করেননি), আমদেরকেও তাই করতে হবে।
মন্তব্য-২ঃ ১৯৮৬ সালে OIC এর ফেকাহ একাডেমীর সিদ্বান্ত হচ্ছে যে, রোজা একটা বিশ্বজনীন এবাদত। তাই বিশ্বের যেকোন স্থানে হেলাল দেখা গেলে সকল মুসলিমকে তা মেনে নিতে হবে। আর হেলাল দেখা নিয়ে ইখতিলাফ ( ইখতিলাফুল মাতালিই) করা যাবে না। অথচ এই দেশের আলেমগন তা মানতে রাজী না।
মন্তব্য-৩ঃ সৌদিআরব যদি শুক্রবার সন্ধায় হেলাল দেখে, বংলাদেশ সেটা দেখে শনিবার সন্ধায়। ততক্ষনে দিন এবং তারিখ পরিবর্তন হয়ে যায়। একদিন পরে হেলাল ক্বামার হয়ে যায়। এটা হাদীস বিরোধী ও বিজ্ঞান বিরোধী কাজ, তথাপী তারা তা মানতে রাজী নয় !?
৮। এতেকরে অধিকাংশ মানুষের রোজা/ঈদ পালন করা ভুল হচ্ছে। তাদের প্রথম ফরজ রোজা ছুটে যাচ্ছে, শেষটা হারাম রোজা হচ্ছে এবং ঈদের নামাজও হচ্ছে না। রোজা এবং ঈদ নিয়ে এমন উদ্ভট কর্মকান্ডকে অত্যন্ত দুঃখজনক না বলে পারা যায় না! অথচ দেশের অধিকাংশ মানুষ এই ভুলের কোন প্রতিবাদ করছে না!? তাই প্রত্যেক জেলার অসংখ্য মানুষ বাধ্যহয়ে সৌদিআরবের সংবাদ নিয়ে একদিন আগে শরীয়ত মোতাবেক রোজা/ঈদ নির্ভুল ভাবে পালন করে যাচ্ছেন- আলহামদুলিল্লাহ।
নিবেদকঃ ইন্জিঃ মোহাম্মদ এনামুল হক।
মহাসচিবঃ হিজরী ক্যালেন্ডার বাস্তায়ন পরিষদ, বাংলাদেশ।
আমেরিকার মিনেসোটা স্টেটের মিনিয়াপলিস থেকে।