10/28/2025
বিএনপির হাই কমান্ড, একটু ভেবে দেখবেন কি? -মতিউর রহমান লিটু
লন্ডনে বিএনপির রাজনীতি করে অনেক কলাগাছ রাতারাতি মূল্যবান সুন্দরী কাঠের মতো দামী বনে গেছে।
বহির্বিশ্ব রাজনীতিতে কি তাদের কি অবদান? কি তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা? দলের প্রতি কি অবদান? নেতা নেত্রীকে কতটা সম্মান এনে দিয়েছেন, আমরা কিন্তু কিছুই জানিনা!
মূলধারার রাজনীতিতে তাদেরকে আদৌ কেও চেনে কিনা সেটাও জানিনা! কিছু কিছু অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা বিলাতি কিছু নেতার ভুয়া সার্টিফিকেট, ভুয়া ডিগ্রি, ভুয়া রাজনীতিক কানেকশনের সংবাদ প্রকাশ করেছেন।
বিলাতীদের সম্পর্কে সম্মক ধারণা আমাদের নাই! কিন্তু বিলাতে যে বিএনপির একটা “বিলাতী সিন্ডিকেট" তৈরী হয়েছে সেটা আমরা সবাই জানি!
এই সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি একদম নস্যাৎ হয়ে গেছে, অথচ পৃথিবীর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য কিংবা বিলাতিরা নয়!
এক সময় বিলাতিরা বিশ্ব রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করলেও বর্তমানে আমেরিকান রাজনীতির কাছে ইয়োরোপীয় রাজনীতি একদম মুরগীর খোয়ার বনে গেছে!
আশ্চর্য্যজনক বিষয় কি জানেন? বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিকদল বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখাকে একদম নিষিদ্ধ বানিয়ে রেখেছে বিলাতি সিন্ডিকেটের বহুমুখী চক্রান্ত্রে!
অবশ্য কিছু মার্কিন নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির স্বার্থ না দেখে বিলাতী সিন্ডিকেটের পা চাটতে গিয়ে নব্য রাজাকারে পরিণত হয়েছে!
তারা বিলাতীদের পক্ষ নিয়ে- আমরা যারা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জন্য লড়াই করছি তাদেরকেই চ্যালেঞ্জ করে।
কি আর বলবো; বাংলাদেশের রাজাকার শুধু ৭১সালেই জন্ম হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেও তাদের অস্তিত্ব আছে!
সে যাইহোক; লন্ডনে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বসবাস করেন বলে সেখানের লোকজন কিছুটা গুরুত্ব পাওয়া উচিৎ কিন্তু সেটা একটা লিমিটের মধ্যে থাকা চাই!
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৮জন উপদেষ্টা বিলাতে বসবাস করে, বেগম জিয়ার ৩জন উপদেষ্টা বিলাতী, ৩জন আন্তর্জাতিক সম্পাদক যুক্তরাজ্যে, সর্বশেষ একজন যুগ্ম মহাসচিব যুক্ত হয়েছেন। এরা হলেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা!
এছাড়া অমুখ নেতা, পাতিনেতা, বিশেষ নেতা এগুলিরতো আর কোনো অভাব নাই!
মজার বিষয় হলো: বিলাতি সিন্ডিকেটের সবাই নিজেকে একেকজন তারেক রহমান মনে করে, আর বাকিরা সব সেকেন্ড ক্লাস বিএনপি বলে ধারণা পোষণ করে!
অথচ বিশ্বের সকল বিএনপির নেতাকর্মীরাই শহীদ জিয়ার আদর্শ নিয়ে বিএনপি করে- মোটা মাথার বিলাতি সিন্ডিকেট সেটা বুঝতেই চায়না!
দেখুন, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক তুড়িতে হাসিনা ভারতে পালিয়েছে অথচ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে নিয়ে বিলাতীদের কেন যে এতো চুলকানি সেটাই বুঝিনা! যৌক্তিক হিসাব মতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের আগে মূল্যায়ন করে তারপরে অন্য প্রবাসীদের নিয়ে ভাবা উচিত, তাই নয়কি?
আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ একটি সংগঠন তারপরেও যুক্তরাষ্ট্রে তারা মাটি কামড়ে সংগঠন চালায়, কারণ তারা জানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করতে হলে আমেরিকাই একমাত্র ভরসা, কিন্তু আমার বিএনপি?
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে নিষিদ্ধ করে ডিমে তা দিতে বসেছে, কপালে থাকলে একদিন বাচ্চা ফুঁটবেই!
রাজনীতি আবেগ দিয়ে হয়নারে ভাই, বাস্তবতা বুঝতে হয়।
বর্তমান রাজনীতির সমীকরণ হলো একটা নয় বরং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দু”টি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি একান্ত জরুরী।
যারা ইস্ট কোষ্টের কমিটিতে থাকবে তারা নিউইয়র্ক সহ আশেপাশের স্টেট গুলিতে লবিং চালাবে। যারা ওয়েস্ট কোস্টের নেতৃত্বে থাকবে তারা ক্যালিফোর্নিয়া- টেক্সাস সহ আশেপাশের স্টেটগুলিতে বিএনপির হয়ে মিছিল মিটিং কিংবা লবিং করবে।
তাই “যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ইস্টকোস্ট” এবং “যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ওয়েস্টকোস্ট গঠন এখন সময়ের দাবী!
হাতে একটু সময় নিয়ে বিএনপির হাই কমান্ড ভেবে দেখবেন কি?